ঢাকা ১৩ আষাঢ় ১৪৩৩, শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
জটিল রোগে আক্রান্ত জুবায়ের, সহায়তার আবেদন পরিবারের তিস্তা প্রকল্প, রোহিঙ্গা সমস্যা ও ব্রিকসে বাংলাদেশকে সহায়তা করবে চীন: পররাষ্ট্রমন্ত্রী গাজীপুরে আবারও পুলিশ-শ্রমিক সংঘর্ষ, আহত ১২ যাকাত টেলিভিশন চালুর দাবি, ইসলামী ব্যাংকের উন্নয়নের ওপর জোর পার্থর প্রতিটি মন্ত্রণালয়কে ‘ডিসেবিলিটি ইনক্লুসিভ’ করা হবে: স্বাস্থ্যপ্রতিমন্ত্রী ‘বাংলাদেশ কি মুসলমানের জন্য স্বাধীন হয়েছে, না সব জাতি-ধর্মের মানুষের জন্য?’ কক্সবাজার সৈকতে গোসলে নেমে পর্যটক নিখোঁজ এইচএসসি পরীক্ষার সব কক্ষে সিসিটিভি বসানোর নির্দেশ শিক্ষামন্ত্রীর কোম্পানীগঞ্জে কোটি টাকার ভারতীয় জিরা উদ্ধার, আটক ১ ডিজিটাল সাংবাদিকতায় এআই ও ফ্যাক্টচেক দক্ষতায় পিআইবির প্রশিক্ষণ মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতা বাড়ানোর জোর দাবি এমপি জয়নুল আবেদিনের যে ৩টি কাজে আল্লাহ অসন্তুষ্ট হন পানি খাইয়ে ছাগল ফুলিয়ে বিক্রির অভিযোগ, মালিককে খুঁজছে প্রশাসন স্ত্রীর সঙ্গে অভিমান, ট্রেনে কাটা পড়ে বৃদ্ধের মৃত্যু ফাইনালে যেতে যে পথ পাড়ি দিতে হবে স্পেনকে মহাখালীতে পাওনা টাকার বিরোধে হামলা, ছুরিকাঘাতে আহত ৩ তেলিয়াপাড়া সীমান্তে বিএসএফের পুশইনের চেষ্টা, প্রতিহত করেছে বিজিবি বিশ্বকাপের মঞ্চের পর সঞ্জয়–নোরার নতুন ধামাকা ‘চ্যাম্পিয়ান’ স্টার্টআপ গঠনের ১০টি মৌলিক নীতি সম্ভাব্য ফাইনালের পথ জেনে গেল আর্জেন্টিনা জমির বদলে ফ্ল্যাট পেলেও ১৫% কর: প্রত্যাহারের দাবি রেডার ফেনীতে চাল কেটে ঘরে ঢুকে প্রবাসীর স্ত্রীকে হত্যা ইউনিকো হসপিটালে ন্যাশনাল ওয়ার্কশপ অন ক্রিটিক্যাল কেয়ার নার্সিং অনুষ্ঠিত রূপায়ণ সিটি উত্তরা পরিদর্শন করলেন রিহ্যাব নেতারা জুলাইয়ে ৪ রাশির আর্থিক ভাগ্য উজ্জ্বল? কী বলছে প্রচলিত জ্যোতিষশাস্ত্র রাফিজ হত্যা মামলায় প্রধান আসামি লাল্টু গ্রেপ্তার, উদ্ধার হত্যায় ব্যবহৃত রশি মাদারীপুরে বিনামূল্যে চক্ষু ক্যাম্প, সেবা নিলেন দেড় হাজার রোগী ফেনীতে যুবলীগ কর্মীকে কুপিয়ে হত্যা প্রখ্যাত চক্ষু বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক রবিউল হোসেন আর নেই হাতীবান্ধায় পুলিশ কর্মকর্তাদের কুপিয়ে পালাল আসামি

জাহানারা ইমামকে ‘জাহান্নামের ইমাম’ বললেন রাকসুর সংস্কৃতি সম্পাদক

প্রকাশ: ২৭ জুন ২০২৬, ০৩:৪৩ পিএম
আপডেট: ২৭ জুন ২০২৬, ০৫:০৪ পিএম
জাহানারা ইমামকে ‘জাহান্নামের ইমাম’ বললেন রাকসুর সংস্কৃতি সম্পাদক
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক জায়িদ হাসান জোহা। ছবি: খবরের কাগজ

বাংলাদেশে ‘শহিদ জননী’ হিসেবে সম্মানিত জাহানারা ইমামের মৃত্যুবার্ষিকীকে ‘জাহান্নামের ইমামের মরণদিবস’ হিসেবে মন্তব্য করেছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক জায়িদ হাসান জোহা।

শনিবার (২৭ জুন) নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একটি পোস্ট শেয়ার করে এই মন্তব্য করেন তিনি।

ফেসবুক পোস্টের ক্যাপশনে জোহা লেখেন, ‘জাহান্নামের ইমামের মরণদিবস আজ। রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতে বাস্তবায়ন করেছিল বিদেশি নকশা।’

পোস্টটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তা নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়েছে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ফেসবুক গ্রুপ ও ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্ট থেকে অনেকে এর সমালোচনা করেন।

জোহার পোস্টের সমালোচনা করে শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল কাফী এক পোস্টে লেখেন, ‘রাকসুর অপসংস্কৃতি সম্পাদক জোহা শহীদ জননী জাহানারা ইমামকে ‘জাহান্নামের ইমাম' বলে ফতোয়া দিয়েছে। কারণ জাহানারা ইমামই প্রথম ওদের জাতির পিতা রাজাকারকূলের শিরোমণি গোলাম আজমকে গণ আদালতে ফাঁসি দিয়েছিলো। এটাই আমাদের গত ৫৫ বছরের রাজনৈতিক খেসারত যে জোহার মতো যুদ্ধাপরাধীর উত্তরসূরিরা দেশের ২য় বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রপ্রতিনিধি নির্বাচিত হয়, শহীদের মাকে নিয়ে বাজে কথা বলার সাহস পায়।’

পপুলেশন ও সায়েন্স ও হিউম্যান রিসোর্স ডেভেলপমেন্ট বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী আমানউল্লাহ খান আমান সমালোচনা করে লিখেছেন, ‘রাবিতে যারা ছাত্ররাজনীতি করে তারা খুবই আনস্মার্ট। ক্যাম্পাসে এতক্ষণ প্রতিবাদমুখর হওয়া উচিত ছিল। রাকসুর অপসংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদকের পদ বাতিলের দাবিতে রাকসুর সভাপতিকে ৪৮ ঘন্টার আল্টিমেটাম দেওয়া উচিত। তারা বাংলাদেশে থেকে এদেশের ইতিহাস কটাক্ষ করবে এটা মেনে নেওয়া যায় না।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে জায়িদ হাসান জোহা বলেন, ‘‘বিগত সময়ে তথাকথিত ‘যুদ্ধাপরাধীর’ নামে যেই হত্যাকাণ্ড হয়েছিল সেই গ্রাউন্ডটা জাহানারা ইমামের হাত ধরে তৈরি হয়েছিল। বাংলাদেশে মব কালচারের গোড়াপত্তনকারী জাহানারা ইমামকে জাহান্নামের ইমাম বলেছি। আমি কোনো শহিদের মা'কে নিয়ে বাজে মন্তব্য করিনি। তবে এখানে কোনোভাবে মুক্তিযুদ্ধ কিংবা মুক্তিযোদ্ধাদের হেয় করা হয়নি।‘শহিদের মা’ পরিচয় কারো ‘খুনী’ পরিচয় মুছে দিতে পারে না।’’

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশের একজন প্রখ্যাত লেখিকা, শিক্ষাবিদ ও রাজনৈতিক কর্মী। বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় তার বড় ছেলে শাফী ইমাম রুমি দেশের স্বাধীনতার জন্য যুদ্ধ করতে গিয়ে শহীদ হন। মুক্তিযুদ্ধে তার পরিবারের এই অসামান্য আত্মত্যাগের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি বাংলাদেশে ‘শহীদ জননী’ হিসেবে পরিচিত ও সম্মানিত।

১৯৯২ সালে স্বাধীনতাবিরোধী ও যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিচারের দাবিতে গড়ে ওঠা আন্দোলনে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তার নেতৃত্বে গঠিত হয় ‘একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি’, যা দেশজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে। তার রচিত ‘একাত্তরের দিনগুলি’ গ্রন্থটি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক সাহিত্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দলিল হিসেবে বিবেচিত হয়।

শাকিবুল হাসান/আজহার/

জাহানারা ইমামকে ‘জাহান্নামের ইমাম’ বললেন রাকসুর সংস্কৃতি সম্পাদক

প্রকাশ: ২৭ জুন ২০২৬, ০৩:৪৩ পিএম
আপডেট: ২৭ জুন ২০২৬, ০৫:০৪ পিএম
জাহানারা ইমামকে ‘জাহান্নামের ইমাম’ বললেন রাকসুর সংস্কৃতি সম্পাদক
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক জায়িদ হাসান জোহা। ছবি: খবরের কাগজ

বাংলাদেশে ‘শহিদ জননী’ হিসেবে সম্মানিত জাহানারা ইমামের মৃত্যুবার্ষিকীকে ‘জাহান্নামের ইমামের মরণদিবস’ হিসেবে মন্তব্য করেছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক জায়িদ হাসান জোহা।

শনিবার (২৭ জুন) নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একটি পোস্ট শেয়ার করে এই মন্তব্য করেন তিনি।

ফেসবুক পোস্টের ক্যাপশনে জোহা লেখেন, ‘জাহান্নামের ইমামের মরণদিবস আজ। রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতে বাস্তবায়ন করেছিল বিদেশি নকশা।’

পোস্টটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তা নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়েছে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ফেসবুক গ্রুপ ও ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্ট থেকে অনেকে এর সমালোচনা করেন।

জোহার পোস্টের সমালোচনা করে শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল কাফী এক পোস্টে লেখেন, ‘রাকসুর অপসংস্কৃতি সম্পাদক জোহা শহীদ জননী জাহানারা ইমামকে ‘জাহান্নামের ইমাম' বলে ফতোয়া দিয়েছে। কারণ জাহানারা ইমামই প্রথম ওদের জাতির পিতা রাজাকারকূলের শিরোমণি গোলাম আজমকে গণ আদালতে ফাঁসি দিয়েছিলো। এটাই আমাদের গত ৫৫ বছরের রাজনৈতিক খেসারত যে জোহার মতো যুদ্ধাপরাধীর উত্তরসূরিরা দেশের ২য় বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রপ্রতিনিধি নির্বাচিত হয়, শহীদের মাকে নিয়ে বাজে কথা বলার সাহস পায়।’

পপুলেশন ও সায়েন্স ও হিউম্যান রিসোর্স ডেভেলপমেন্ট বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী আমানউল্লাহ খান আমান সমালোচনা করে লিখেছেন, ‘রাবিতে যারা ছাত্ররাজনীতি করে তারা খুবই আনস্মার্ট। ক্যাম্পাসে এতক্ষণ প্রতিবাদমুখর হওয়া উচিত ছিল। রাকসুর অপসংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদকের পদ বাতিলের দাবিতে রাকসুর সভাপতিকে ৪৮ ঘন্টার আল্টিমেটাম দেওয়া উচিত। তারা বাংলাদেশে থেকে এদেশের ইতিহাস কটাক্ষ করবে এটা মেনে নেওয়া যায় না।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে জায়িদ হাসান জোহা বলেন, ‘‘বিগত সময়ে তথাকথিত ‘যুদ্ধাপরাধীর’ নামে যেই হত্যাকাণ্ড হয়েছিল সেই গ্রাউন্ডটা জাহানারা ইমামের হাত ধরে তৈরি হয়েছিল। বাংলাদেশে মব কালচারের গোড়াপত্তনকারী জাহানারা ইমামকে জাহান্নামের ইমাম বলেছি। আমি কোনো শহিদের মা'কে নিয়ে বাজে মন্তব্য করিনি। তবে এখানে কোনোভাবে মুক্তিযুদ্ধ কিংবা মুক্তিযোদ্ধাদের হেয় করা হয়নি।‘শহিদের মা’ পরিচয় কারো ‘খুনী’ পরিচয় মুছে দিতে পারে না।’’

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশের একজন প্রখ্যাত লেখিকা, শিক্ষাবিদ ও রাজনৈতিক কর্মী। বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় তার বড় ছেলে শাফী ইমাম রুমি দেশের স্বাধীনতার জন্য যুদ্ধ করতে গিয়ে শহীদ হন। মুক্তিযুদ্ধে তার পরিবারের এই অসামান্য আত্মত্যাগের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি বাংলাদেশে ‘শহীদ জননী’ হিসেবে পরিচিত ও সম্মানিত।

১৯৯২ সালে স্বাধীনতাবিরোধী ও যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিচারের দাবিতে গড়ে ওঠা আন্দোলনে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তার নেতৃত্বে গঠিত হয় ‘একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি’, যা দেশজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে। তার রচিত ‘একাত্তরের দিনগুলি’ গ্রন্থটি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক সাহিত্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দলিল হিসেবে বিবেচিত হয়।

শাকিবুল হাসান/আজহার/

জাবিতে সিনেট অধিবেশনের ৩ ঘণ্টা আগে নতুন দুই শিক্ষার্থী-প্রতিনিধি মনোনয়ন

প্রকাশ: ২৭ জুন ২০২৬, ০২:১৭ পিএম
আপডেট: ২৭ জুন ২০২৬, ০২:৪৫ পিএম
জাবিতে সিনেট অধিবেশনের ৩ ঘণ্টা আগে নতুন দুই শিক্ষার্থী-প্রতিনিধি মনোনয়ন
জাকসুর সমাজসেবা সম্পাদক আহসান লাবিব ও কার্যনির্বাহী সদস্য আবু তালহা। ছবি: খবরের কাগজ

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) ৪৩তম সিনেট অধিবেশন শুরুর প্রায় তিন ঘণ্টা আগে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জাকসু) থেকে নতুন দুই শিক্ষার্থী-প্রতিনিধিকে সিনেট সদস্য হিসেবে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। নতুন মনোনীত দুজন হলেন জাকসুর সমাজসেবা সম্পাদক আহসান লাবিব ও কার্যনির্বাহী সদস্য আবু তালহা।

এর আগে জাকসু মনোনীত সহসভাপতি (ভিপি) ও সাধারণ সম্পাদক (জিএস)-এর ছাত্রত্ব শেষ হওয়ায় তাদের সদস্যপদ নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়। বিষয়টি নিয়ে গত কয়েক দিন ধরে নতুন প্রতিনিধি মনোনয়ন দেওয়া হবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা ছিল।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, আইনি কোনো বাধা না থাকায় এবং শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে নতুন প্রতিনিধি মনোনয়নের দাবি ওঠার পর সিনেট অধিবেশন শুরুর মাত্র তিন ঘণ্টা আগে জাকসুর পক্ষ থেকে নতুন দুই প্রতিনিধির নাম চূড়ান্ত করা হয়।

নতুন মনোনয়নের বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. কামরুল আহসান বলেন, 'দুটি পদ শূন্য হওয়ায় জাকসুর সঙ্গে বৈঠক করে নতুন দুইজনকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।'

আমানউল্লাহ খান/আজহার/ 

৩৩ বছর পর জাকসু, ভিপি-জিএস ছাড়াই জাবির সিনেট অধিবেশন আজ

প্রকাশ: ২৭ জুন ২০২৬, ১১:২০ এএম
আপডেট: ২৭ জুন ২০২৬, ১১:৪২ এএম
৩৩ বছর পর জাকসু,  ভিপি-জিএস ছাড়াই  জাবির সিনেট অধিবেশন আজ
ছবি: সংগৃহীত

৩৩ বছর পর নির্বাচিত জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জাকসু) থাকলেও পূর্ণাঙ্গ শিক্ষার্থী প্রতিনিধিত্ব ছাড়াই শনিবার (২৭ জুন) অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৩তম সিনেট অধিবেশন। জাকসু মনোনীত পাঁচ শিক্ষার্থী প্রতিনিধির মধ্যে সহসভাপতি (ভিপি) ও সাধারণ সম্পাদক (জিএস)-এর ছাত্রত্ব শেষ হওয়ায় তারা আর সিনেট সদস্য হিসেবে থাকছেন না। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী পর্ষদ সিনেটে আনুষ্ঠানিকভাবে শূন্য পদের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৬টিতে।

তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষক ও সিনেটসংশ্লিষ্ট ব্যক্তির দাবি, কাগজে-কলমে শূন্য পদের সংখ্যা ১৬ হলেও কার্যত অকার্যকর সদস্যের সংখ্যা ৫০-এরও বেশি।

তাদের ভাষ্য, ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিগত সরকারের সময়ে দায়িত্বে থাকা এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার অভিযোগে অভিযুক্ত, প্রশাসনিক শাস্তির মুখে পড়া বা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম থেকে বিচ্ছিন্ন অনেকেই এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে সিনেট সদস্য হিসেবে তালিকাভুক্ত রয়েছেন। তাদের কেউ দীর্ঘদিন ধরে সিনেটের কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছেন না, কেউ বিশ্ববিদ্যালয়ে আসছেন না, আবার কেউ দেশের বাইরে অবস্থান করছেন। ফলে কার্যকর সদস্যসংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে বলে দাবি তাদের।

এ অবস্থায় নির্ধারিত সময়ে সিনেটের কোরাম পূরণ হবে কি না, তা নিয়েও সংশ্লিষ্টদের মধ্যে সংশয় রয়েছে। গত বছরের ৪২তম সিনেট অধিবেশনেও কোরাম পূরণে নির্ধারিত সময়ের প্রায় এক ঘণ্টা অতিবাহিত হয়েছিল। একই অধিবেশনে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের মুখে কয়েকজন শিক্ষক সভাস্থল ত্যাগ করেন। এরপর থেকে সিনেটের তালিকাভুক্ত কয়েকজন সদস্য কোনো অধিবেশনেই অংশ নেননি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, সিনেটের মোট সদস্যসংখ্যা ৯৪। এর মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব, প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব, অর্থ মন্ত্রণালয়ের একজন অতিরিক্ত সচিব, স্পিকার কর্তৃক মনোনীত পাঁচজন সংসদ সদস্য, চারজন কলেজ অধ্যক্ষ এবং দুইজন রেজিস্টার্ড গ্র্যাজুয়েট প্রতিনিধির পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে। সম্প্রতি জাকসু মনোনীত ভিপি ও জিএসের ছাত্রত্ব শেষ হওয়ায় শূন্য পদের সংখ্যা বেড়ে ১৬টিতে পৌঁছেছে।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ১৯৭৩-এর ১৯(২) ধারা অনুযায়ী, শিক্ষার্থী সদস্যদের মেয়াদ এক বছর। একই ধারার দ্বিতীয় শর্তে বলা হয়েছে, কোনো শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রত্ব হারালে তিনি সিনেট সদস্যপদও হারাবেন।

জাকসুর সাধারণ সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম বলেন, 'গত বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত জাকসুর কার্যনির্বাহী সভায় জাকসুর সভাপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. কামরুল আহসান আমাদের জানিয়েছেন, ছাত্রত্ব শেষ হওয়ায় আমরা দুজন আর সিনেট সদস্য থাকছি না। এরপর আমরা জাকসুর পক্ষ থেকে নতুন দুজন শিক্ষার্থী প্রতিনিধিকে মনোনয়নের দাবি জানাই। কিন্তু উপাচার্য আইনের ব্যাখ্যা দিয়ে জানান, নতুন করে মনোনয়নের সুযোগ নেই। আমরা মনে করি, সুযোগ থাকা সত্ত্বেও এ ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিত্ব থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে।'

ছাত্রত্ব শেষ হওয়া দুই প্রতিনিধির জায়গায় জাকসু নতুন করে কাউকে মনোনয়ন দিতে পারবে কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে উপাচার্য বলেন, 'চলে গেল মানে চলে গেল।'

তবে সিনেটের শূন্য পদগুলোতে নির্বাচন বা মনোনয়ন প্রক্রিয়া কবে শুরু হবে, সে বিষয়ে একাধিকবার জানতে চাওয়া হলেও উপাচার্য কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা উল্লেখ করেননি। তিনি শুধু বলেন, দ্রুত প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষক মনে করছেন, দীর্ঘদিন ধরে সিনেটের গুরুত্বপূর্ণ পদগুলো শূন্য থাকা এবং কার্যত অকার্যকর সদস্যসংখ্যা বাড়তে থাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী পর্ষদে অংশীজনের পূর্ণাঙ্গ প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত হচ্ছে না। তাদের মতে, গণতান্ত্রিক প্রতিনিধিত্ব ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে দ্রুত শূন্য পদগুলো পূরণ এবং কার্যকর প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

আমানউল্লাহ খান/আজহার/

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন অন্যায় করেছে ডা. এ বি এম আবদুল্লাহর আজীবন নিয়োগ বাতিল

প্রকাশ: ২৬ জুন ২০২৬, ০৯:৫৬ এএম
ডা. এ বি এম আবদুল্লাহর আজীবন নিয়োগ বাতিল

বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক হিসেবে ডা. এ বি এম আবদুল্লাহর আজীবন নিয়োগ বাতিল করা হয়েছে। সেই সঙ্গে ওই পদে দায়িত্ব পালনকালে তার উত্তোলিত সব বেতন-ভাতা ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। বুধবার বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ডা. মো. মোস্তফা কামালের সই করা এক অফিস আদেশে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়।

আদেশে বলা হয়, ২০২৪ সালের ২০ জুন সিন্ডিকেটের ৯২তম বাজেট অধিবেশনে আলোচ্যসূচি-বহির্ভূত এক সদস্যের প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে ‘ইমেরিটাস অধ্যাপক নিয়োগ অধ্যাদেশ’ সংশোধন করা হয়। এই সভায় অধ্যাপক ডা. এ বি এম আবদুল্লাহকে আজীবন মেয়াদে ইমেরিটাস অধ্যাপক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়, যা ছিল বিধিবহির্ভূত। ফলে ওই নিয়োগ অনুমোদনযোগ্য নয়।

এ প্রেক্ষাপটে, গত ১৩ জুন অনুষ্ঠিত ৯৯তম সিন্ডিকেট সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, অধ্যাপক ডা. এ বি এম আবদুল্লাহর ইমেরিটাস অধ্যাপক হিসেবে পাওয়া আজীবন নিয়োগ বাতিল করা হয়েছে। 

নোটিশে একই সঙ্গে ২০২৪ সালের ২০ জুন থেকে ইমেরিটাস অধ্যাপক পদের বিপরীতে তার নেওয়া সব বেতন-ভাতাও ফেরত দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এই সিদ্ধান্তের বিষয়ে জানতে চাইলে অধ্যাপক এ বি এম আবদুল্লাহ বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যা করেছে, তা অন্যায়। আমার ওপর অবিচার করা হয়েছে। পৃথিবীর কোথাও এভাবে সম্মানের পদ ছিনিয়ে নেওয়ার নজির নেই।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি ৫০ বছর ধরে চিকিৎসাসেবা দিয়ে আসছি, আমার ছাত্ররা স্বনামখ্যাত অধ্যাপক। জীবনের শেষ সময়ে কারও এমন আচরণ আমার প্রত্যাশিত ছিল না। কী কারণে, কাদের ইন্ধনে এমনটা করা হয়েছে, তা তারাই ভালো জানেন।’

উল্লেখ্য, কাউকে ইমেরিটাস অধ্যাপক নিয়োগ করা হলে তাতে শর্ত থাকে। সেই শর্ত অনুসারে ডা. এ বি এম আবদুল্লাহ আজীবনের জন্য এই পদে নিয়োগ পেয়েছিলেন।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের আকস্মিক মানববন্ধন

প্রকাশ: ২৬ জুন ২০২৬, ০৯:৩৪ এএম
আপডেট: ২৬ জুন ২০২৬, ১০:১৪ এএম
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের আকস্মিক মানববন্ধন
ছবি: খবরের কাগজ

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) প্রধান ফটকের (ডেইরি গেট) সামনে প্রকাশ্যে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা। কর্মসূচি থেকে সংগঠনটির পক্ষ থেকে ৬ দফা দাবি উত্থাপন করা হয়।

আজ বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সন্ধ্যা সাতটার দিকে কর্মসূচি পালনের কয়েকটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। তবে এই মানববন্ধন ঠিক কখন অনুষ্ঠিত হয়েছে, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

এদিকে ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ছবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে ব্যানার ও পোস্টার হাতে কয়েকজনকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে। এই ঘটনার পর থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের এভাবে প্রকাশ্যে কর্মসূচি পালনের নিন্দা ও ক্ষোভ জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দিচ্ছেন অনেক শিক্ষার্থী। তারা ক্যাম্পাসে নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর শঙ্কা প্রকাশ করেছেন

যোগাযোগ করা হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) জেফরুল হাসান চৌধুরী বলেন, ’বিষয়টি আমরা মাত্রই জানতে পেরেছি। তবে ঘটনাটি কখন ঘটেছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। আমরা সিসিটিভি ফুটেজ দেখে বিস্তারিত বলতে পারব।’

এবিষয়ে জাতীয় ছাত্রশক্তির জাবি সংসদের সভাপতি জিয়া উদ্দিন আয়ান বলেন, জুলাই হামলায় অভিযুক্ত নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা জাবির প্রধান ফটকে প্রকাশ্যে কর্মসূচি পালন করে গেল, অথচ নিরাপত্তা শাখা বলছে তারা কিছুই জানে না! প্রশাসন ও প্রক্টরকে বারবার জানানোর পরও সিসিটিভি ফুটেজ চেক বা কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। প্রশাসনের এই রহস্যজনক নিষ্ক্রিয়তা ও প্রশ্রয়ের কারণেই হামলাকারীরা আজ মেইন গেটে আসার সাহস পেয়েছে।

​যেখানে অপরাধীদের আইনের আওতায় আনার কথা, সেখানে বিচার প্রক্রিয়া দুর্বল করে তাদের পুনর্বাসনের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। ক্যাম্পাসের এই নড়বড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং জুলাইয়ের বিচারের নামে এমন প্রহসনের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে ধিক্কার জানাই- বলেন তিনি।

নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের আকস্মিক এই কর্মসূচিকে সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য চরম হুমকি বলে মনে করছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের আহ্বায়ক জহির উদ্দিন বাবর।

তিনি বলেন, ’ফ্যাসিস্টের দোসর ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল সবসময়ই ঐক্যবদ্ধ এবং তাদের প্রতিহত করার জন্য প্রস্তুত। ক্যাম্পাসের ভেতরে ও আশেপাশে যেখানেই নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের দেখা যাবে, সেখানেই তাদের কঠোরভাবে প্রতিরোধ করা হবে।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক নিরাপত্তা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে ছাত্রদলের এই নেতা আরও বলেন, ’আমরা গণ-অভ্যুত্থানের পর থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা শাখা ও প্রক্টরিয়াল টিম পুনর্গঠনের দাবি জানিয়ে আসছি। কিন্তু প্রশাসন আমাদের কথায় কর্ণপাত করছে না। নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা এখনো বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা অফিসসহ প্রশাসনের কাছাকাছি অবস্থান করছে। এর ফলে তারা শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সংবেদনশীল তথ্য বাইরে পাচার করে দিচ্ছে, যা ক্যাম্পাসের নিরাপত্তার জন্য বড় ঝুঁকি।’

আমানউল্লাহ/খাদিজা রুমি/