ঢাকা ১৪ আষাঢ় ১৪৩৩, রোববার, ২৮ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
কোনো বিষয়ে ভয় অনুভব করলে যে আমলটি করবেন সৌদি আরবে তেল কোম্পানির হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত, ১৪ আরোহী সবাই নিহত নায়ক-নায়িকা খোঁজার বিচারক তারা মানবস্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে প্লাস্টিকের ক্ষতিকর প্রভাব উদ্বেগজনক তিস্তার পানি বিপৎসীমার ৭ সেন্টিমিটার ওপরে, নিম্নাঞ্চলে বন্যার শঙ্কা তোপের মুখে শ্রদ্ধার ‘ইথা’ ফ্রান্সে উড়োজাহাজ বিধ্বস্তে প্রশিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ নিহত ১১ তাসকিন ও মিমের সঙ্গে মেতে উঠলেন ওয়ালটনের ২৪ ক্রেতা সোনারগাঁ মেঘনা নদীতে বিআইডব্লিউটিএর ড্রেজিং, চাঁদা না পেয়ে অপপ্রচারের অভিযোগ প্রাথমিক বৃত্তির ফল জুলাইয়ের দ্বিতীয় সপ্তাহে ফয়’স লেকের প্রবেশমুখে গ্যাস পাইপলাইনে আগুন, আতঙ্কে এলাকাবাসী রূপচর্চায় পাকা আম মেটলাইফ বাংলাদেশ-এর আবারও ‘গ্রেট প্লেস টু ওয়ার্ক’ স্বীকৃতি অর্জন গোপালগঞ্জে ১৩০০ কৃষকের মাঝে কৃষি উপকরণ বিতরণ নদীতে নিখোঁজ বৃদ্ধার মরদেহ ৪ ঘন্টা পর উদ্ধার শিশুকে নিরাপদ রাখতে অভিভাবকের করণীয় ৩ জেলায় নিয়োগ দিচ্ছে প্রাণ গ্রুপ মাদকাসক্তির কারণ ও প্রতিকার বিষয়ক প্রবন্ধ রচনা, ২য় পর্ব, এইচএসসির বাংলা ২য় পত্র মাদারগঞ্জ-সারিয়াকান্দি নৌরুটে দ্বিতীয় যমুনা সেতুর দাবিতে মানববন্ধন আয়নাতে ওই ঘর দেখবে যখন সিলেটে ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন শুরু ৪৭তম বিসিএসের চূড়ান্ত ফল প্রকাশ বর্তমান প্রজন্মই দেশের ভবিষ্যৎ: প্রধানমন্ত্রী ক্লিন ক্যাম্পাস গড়তে সবার সহযোগিতা চাইলেন ইবি ভিসি রাজশাহীতে ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন শুরু রমনা পার্কটি বাঁচান বিকাশ ও মাস্টারকার্ডের অংশীদারত্বে দেশে রেমিট্যান্স আসবে আরও সহজে ও দ্রুত সাংবাদিকতার রূপ ও রূপান্তর দুর্যোগ প্রস্তুতিতে বাংলাদেশের করণীয় হাম উপসর্গে আরও চার শিশুর মৃত্যু

শিশুকে নিরাপদ রাখতে অভিভাবকের করণীয়

প্রকাশ: ২৮ জুন ২০২৬, ০৫:৪৯ পিএম
শিশুকে নিরাপদ রাখতে অভিভাবকের করণীয়

সমাজে শিশু নির্যাতন ও সহিংসতার মতো ভয়াবহ ঘটনা আমাদের প্রতিনিয়ত নাড়া দেয় এবং এক ধরনের নিরাপত্তাহীনতার অনুভূতি তৈরি করে। শিশুরা যেহেতু শারীরিক, মানসিক ও সামাজিকভাবে দুর্বল, তাই তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখন শুধু পারিবারিক দায়িত্ব নয়, বরং একটি সামাজিক ও নৈতিক দায়বদ্ধতা। একটি নিরাপদ শৈশবই ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সুস্থ, আত্মবিশ্বাসী ও মানবিক করে গড়ে তোলে। লিখেছেন রোদসী 

শিশুর সঙ্গে বিশ্বাসভিত্তিক সম্পর্ক গড়ে তোলা
শিশুর নিরাপত্তার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হলো তার সঙ্গে খোলামেলা ও বিশ্বাসের সম্পর্ক তৈরি করা। অনেক পরিবারে দেখা যায়, শিশুর কথা গুরুত্ব দিয়ে শোনা হয় না বা ভয় দেখিয়ে নিয়ন্ত্রণ করা হয়, যার ফলে শিশু নিজের সমস্যা বা অস্বস্তি প্রকাশ করতে পারে না। অথচ শিশুকে এমন পরিবেশ দিতে হবে যেখানে সে নির্দ্বিধায় তার অনুভূতি, ভয়, অস্বস্তি বা কোনো খারাপ অভিজ্ঞতার কথা বলতে পারে।
প্রতিদিনের ছোট ছোট কথোপকথন যেমন স্কুল কেমন গেল, কার সঙ্গে খেলল, কী ভালো বা খারাপ লাগল এসব অভ্যাস শিশুর মানসিক নিরাপত্তা তৈরি করে।

শরীরের সীমানা ও নিরাপত্তা শিক্ষা দেওয়া
শিশুকে তার শরীর সম্পর্কে বয়স অনুযায়ী সহজ ভাষায় শিক্ষা দেওয়া অত্যন্ত জরুরি। তাকে বোঝাতে হবে কোন ধরনের স্পর্শ গ্রহণযোগ্য এবং কোনটি অস্বস্তিকর বা অনুচিত। এই শিক্ষা ভয় দেখিয়ে নয়, বরং আত্মসচেতনতা তৈরির মাধ্যমে দিতে হবে।
শিশুকে শেখাতে হবে, যদি কেউ তাকে এমনভাবে স্পর্শ করে বা এমন কিছু বলে যা তাকে অস্বস্তিতে ফেলে, তাহলে সে যেন সঙ্গে সঙ্গে বিশ্বাসযোগ্য বড়দের বিশেষ করে বাবা-মা বা শিক্ষককে জানায়। শিশুকে এই বার্তা দিতে হবে যে, সে কোনো অবস্থাতেই দোষী নয় এবং সব সময় সাহায্য পাওয়া সম্ভব।

অপরিচিত ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি সম্পর্কে সচেতনতা
শিশুকে অপরিচিত মানুষের বিষয়ে সতর্কতা শেখানো প্রয়োজন, তবে আতঙ্ক তৈরি না করে। তাকে বোঝাতে হবে যে, সব অপরিচিত মানুষ খারাপ নয়, কিন্তু কিছু পরিস্থিতিতে সতর্ক থাকা জরুরি।
যেমন কেউ যদি তাকে ডেকে নেয়, কোনো উপহার দেয় বা একা কোথাও যেতে বলে, তাহলে সে যেন আগে অভিভাবকের অনুমতি নেয়। একই সঙ্গে ‘না বলা’ শেখানোও গুরুত্বপূর্ণ শিশু যেন আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে অস্বস্তিকর প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করতে পারে।

দৈনন্দিন চলাফেরা ও নিরাপদ রুটিন
শিশুর দৈনন্দিন রুটিন যতটা সম্ভব নির্দিষ্ট ও নিয়ন্ত্রিত হওয়া উচিত। স্কুলে যাওয়া-আসার পথ, সময় এবং সঙ্গী সম্পর্কে অভিভাবকের স্পষ্ট ধারণা থাকা দরকার। অচেনা পরিবেশে শিশুকে একা না পাঠানো এবং নির্ভরযোগ্য পরিবহন বা দায়িত্বশীল প্রাপ্তবয়স্কের সঙ্গে যোগাযোগ নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ।
শিশুকে তার আশপাশের নিরাপদ স্থান যেমন পুলিশ স্টেশন, পরিচিত দোকান বা প্রতিবেশীর বাড়ি সম্পর্কে ধারণা দেওয়া যেতে পারে, যাতে জরুরি পরিস্থিতিতে সে সাহায্য নিতে পারে।

ডিজিটাল নিরাপত্তা ও অনলাইন ঝুঁকি
বর্তমান যুগে শিশুদের নিরাপত্তা শুধু বাস্তব জগতে নয়, ডিজিটাল দুনিয়াতেও নিশ্চিত করতে হয়। মোবাইল, ইন্টারনেট ও সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে অনেক সময় অচেনা ব্যক্তি শিশুদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করে। তাই অভিভাবকদের উচিত শিশুর অনলাইন কার্যক্রম নজরদারি করা, বয়স উপযোগী কনটেন্ট নিশ্চিত করা এবং অচেনা ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ বিষয়ে পরিষ্কার নির্দেশনা দেওয়া।

আচরণগত পরিবর্তন পর্যবেক্ষণ
শিশুর আচরণে হঠাৎ পরিবর্তন যেমন অতিরিক্ত ভয় পাওয়া, চুপচাপ হয়ে যাওয়া, ঘুমের সমস্যা বা নির্দিষ্ট কোনো জায়গা বা ব্যক্তিকে এড়িয়ে চলা এসব লক্ষণকে গুরুত্ব সহকারে নিতে হবে। অনেক সময় শিশু সরাসরি কিছু না বললেও তার আচরণেই অস্বস্তির ইঙ্গিত পাওয়া যায়। অভিভাবকের দায়িত্ব হলো বিচার না করে ধৈর্যসহকারে শিশুর কথা শোনা এবং প্রয়োজন হলে বিশেষজ্ঞ সহায়তা নেওয়া।

সামাজিক দায়িত্ব ও সম্মিলিত প্রতিরোধ
শিশু নিরাপত্তা শুধু পরিবারের দায়িত্ব নয়, এটি পুরো সমাজের সম্মিলিত দায়িত্ব। প্রতিবেশী, শিক্ষক, সামাজিক প্রতিষ্ঠান সবাইকে শিশুদের প্রতি আরও সংবেদনশীল হতে হবে। কোনো সন্দেহজনক আচরণ বা ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি দেখলে তা উপেক্ষা না করে যথাযথ কর্তৃপক্ষকে জানানো উচিত।

রূপচর্চায় পাকা আম

প্রকাশ: ২৮ জুন ২০২৬, ০৬:০৬ পিএম
রূপচর্চায় পাকা আম

গ্রীষ্মকাল মানেই পাকা আমের মৌসুম, আর এই সময়টা শুধু স্বাদের জন্য নয়–ত্বক ও চুলের যত্নের জন্যও দারুণ একটি সুযোগ। ফলের রাজা আমে রয়েছে ভিটামিন-এ, ভিটামিন-সি, ভিটামিন-ই, বিটা-ক্যারোটিন, অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট এবং নানা ধরনের মিনারেল; যা ত্বককে ভেতর থেকে পুষ্টি জোগায়। প্রাচীনকাল থেকেই ঘরোয়া রূপচর্চায় পাকা আম ব্যবহৃত হয়ে আসছে, আর আধুনিক স্কিন কেয়ার ট্রেন্ডেও এখন এটি আবার জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। লিখেছেন রোদসী 

ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়াতে পাকা আম
পাকা আমের সবচেয়ে বড় উপকারিতা হলো এটি ত্বকের প্রাকৃতিক উজ্জ্বলতা বাড়াতে সাহায্য করে। এতে থাকা ভিটামিন-সি ত্বকের কোলাজেন উৎপাদন বাড়ায়, ফলে ত্বক হয় টানটান ও সতেজ। নিয়মিত ব্যবহারে মুখের নিস্তেজতা দূর হয়ে আসে প্রাকৃতিক গ্লো। বিশেষ করে যারা রোদে বের হন বেশি, তাদের ত্বকে ট্যান বা ডালনেস কমাতে আমের ফেসপ্যাক বেশ কার্যকর।

আমের পাল্প সরাসরি মুখে লাগালে তা হালকা এক্সফোলিয়েশনের কাজ করে, মৃত কোষ দূর করে নতুন কোষ গঠনে সাহায্য করে। ফলে ত্বক আরও মসৃণ ও উজ্জ্বল দেখায়। তবে খুব বেশি সময় না রেখে ১০-১৫ মিনিটের মধ্যেই ধুয়ে ফেলা ভালো, যাতে ত্বকে অতিরিক্ত স্টিকিনেস না থাকে।

শুষ্ক ও রুক্ষ ত্বকের প্রাকৃতিক সমাধান
শুষ্ক ত্বকের জন্য পাকা আম এক ধরনের প্রাকৃতিক ময়েশ্চারাইজার হিসেবে কাজ করে। আমে থাকা প্রাকৃতিক শর্করা ও পানি ত্বককে ভেতর থেকে আর্দ্র রাখে। বিশেষ করে শীতের শেষ বা গরমের শুষ্ক সময়ে আমের ফেসপ্যাক ত্বককে কোমল ও হাইড্রেটেড রাখতে সাহায্য করে।

শুষ্ক ত্বকের জন্য আম, দুধ ও মধু মিশিয়ে একটি প্যাক তৈরি করা যেতে পারে। দুধ ত্বক নরম করে, মধু আর্দ্রতা ধরে রাখে, আর আম ত্বকে পুষ্টি জোগায়। এই কম্বিনেশন নিয়মিত ব্যবহার করলে ত্বকের রুক্ষতা অনেকটাই কমে আসে।

ব্রণ, দাগ ও ইনফ্ল্যামেশন কমাতে সহায়ক
পাকা আমে থাকা অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ও ভিটামিন ত্বকের প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে। যাদের ব্রণের সমস্যা আছে, তাদের ক্ষেত্রে আমের সঙ্গে অল্প হলুদ বা গোলাপজল মিশিয়ে ব্যবহার করলে তা ত্বককে শান্ত করে এবং লালচে ভাব কমাতে সাহায্য করে।

নিয়মিত ব্যবহারে ব্রণের দাগ ধীরে ধীরে হালকা হতে পারে। তবে খুব সেনসিটিভ বা অ্যালার্জি প্রবণ ত্বকে প্রথমে অল্প জায়গায় টেস্ট করে নেওয়া জরুরি, কারণ প্রাকৃতিক হলেও কিছু ক্ষেত্রে প্রতিক্রিয়া হতে পারে।

ঘরোয়া ফেসপ্যাকের নানা ব্যবহার
পাকা আম দিয়ে ঘরে খুব সহজেই একাধিক ফেসপ্যাক তৈরি করা যায়। কিছু জনপ্রিয় কম্বিনেশন হলো–
আম + দই: ত্বক পরিষ্কার ও হালকা এক্সফোলিয়েশনের জন্য
আম + মধু: গভীর ময়েশ্চার ও উজ্জ্বলতার জন্য
আম + দুধ + বেসন: ট্যান দূর করে ত্বক ফর্সা ও মসৃণ করতে
আম + অ্যালোভেরা জেল: সংবেদনশীল ত্বক শান্ত করতে
এই ফেসপ্যাকগুলো সপ্তাহে ১-২ বার ব্যবহার করলে ত্বকের টেক্সচার উন্নত হয় এবং প্রাকৃতিক গ্লো বাড়ে। 

চুলের যত্নেও পাকা আম
শুধু ত্বক নয়, চুলের যত্নেও পাকা আম অত্যন্ত উপকারী। রুক্ষ, শুষ্ক ও প্রাণহীন চুলের জন্য আমের হেয়ার মাস্ক দারুণ কাজ করে। আমের পাল্পের সঙ্গে নারকেল তেল, দই বা অল্প মধু মিশিয়ে স্ক্যাল্পে লাগালে চুল হয় নরম, মসৃণ ও উজ্জ্বল।
এটি চুলের ভাঙা কমাতে সাহায্য করে এবং স্ক্যাল্পকে পুষ্টি জোগায়। গরমে ঘাম ও ধুলোবালির কারণে চুলে যে রুক্ষতা তৈরি হয়, তা কমাতেও আমের হেয়ার প্যাক কার্যকর ভূমিকা রাখে।

সতর্কতা ও সঠিক ব্যবহার
যদিও পাকা আম প্রাকৃতিক ও উপকারী, তবে অতিরিক্ত ব্যবহার করা উচিত নয়। সপ্তাহে ১-২ বারের বেশি ফেসপ্যাক ব্যবহার করলে ত্বকে স্টিকিনেস বা ব্রণ বাড়তে পারে। এছাড়া ব্যবহারের পর ভালোভাবে পরিষ্কার পানি দিয়ে মুখ ধোয়া জরুরি।

/এমটি 

আয়নাতে ওই ঘর দেখবে যখন

প্রকাশ: ২৮ জুন ২০২৬, ০৫:৩৪ পিএম
আয়নাতে ওই ঘর দেখবে যখন

ঘর সাজানোর অনুষঙ্গ হিসেবে আয়নার ব্যবহার অনেক পুরোনো। প্রয়োজনের পাশাপাশি এটি এখন হয়ে উঠেছে ঘরের সৌন্দর্য বাড়ানোর অন্যতম জনপ্রিয় উপকরণ। সঠিক জায়গায় এবং মানানসই নকশার আয়না ঘরের সৌন্দর্য যেমন বাড়ায়, তেমনি ঘরকে আরও উজ্জ্বল, প্রশস্ত ও প্রাণবন্ত দেখাতেও সাহায্য করে। তাই ঘর সাজাতে আয়না হতে পারে সহজ অথচ দারুণ কার্যকর একটি উপায়। লিখেছেন মুশফিরাত 

ঘরকে বড় দেখানোর সহজ কৌশল
ছোট ঘরকে তুলনামূলক বড় ও খোলামেলা দেখাতে আয়নার ব্যবহার বেশ কার্যকর। সঠিক জায়গায় একটি বড় আয়না রাখলে আলো প্রতিফলিত হয়ে ঘরে তৈরি হয় গভীরতার অনুভূতি, ফলে জায়গা বাস্তবের তুলনায় আরও প্রশস্ত মনে হয়। বিশেষ করে ড্রয়িংরুম, ডাইনিং স্পেস কিংবা ছোট বেডরুমের দেয়ালে বড় আয়না ব্যবহার করলে পুরো ঘরেই আসে একটি উন্মুক্ত ও আরামদায়ক আবহ। অনেকেই ছোট অ্যাপার্টমেন্টে দেয়ালের এক পাশে লম্বা আয়না ব্যবহার করেন, যা জায়গাকে আরও পরিপাটি ও বিস্তৃত দেখাতে সাহায্য করে। অল্প সাজের মধ্যেও এমন একটি আয়না ঘরের সৌন্দর্যে এনে দিতে পারে বড় পরিবর্তন।

আলো বাড়াতে আয়নার ব্যবহার
ঘরের সৌন্দর্য অনেকটাই নির্ভর করে আলোর ওপর। আর আলোকে আরও সুন্দরভাবে ছড়িয়ে দিতে আয়না হতে পারে দারুণ একটি উপায়। জানালার পাশে বা বিপরীত দিকে আয়না রাখলে বাইরের প্রাকৃতিক আলো প্রতিফলিত হয়ে পুরো ঘরে ছড়িয়ে পড়ে। এতে দিনের বেলায় ঘর আরও উজ্জ্বল, সতেজ ও প্রাণবন্ত দেখায়। শুধু দিনের আলো নয়, সন্ধ্যায় ল্যাম্প, ওয়াল লাইট বা ঝাড়বাতির আলোও আয়নায় প্রতিফলিত হয়ে ঘরে তৈরি করে উষ্ণ ও নান্দনিক পরিবেশ। বিশেষ করে আলো কম আসে এমন ঘরে আয়নার ব্যবহার ঘরকে আরও আলোকিত ও আরামদায়ক করে তুলতে পারে। সুন্দর আলো আর মানানসই আয়নার সমন্বয়ে খুব সহজেই ঘরের পরিবেশে আনা যায় নতুনত্ব।

ডেকোরেটিভ আয়নায় বাড়ুক নান্দনিকতা
এখন বাজারে বিভিন্ন ডিজাইন, আকৃতি ও ফ্রেমের আয়না পাওয়া যায়। গোল, ডিম্বাকৃতি, আয়তাকার কিংবা জ্যামিতিক নকশার আয়না সবই ঘরের সাজে নতুনত্ব আনে। কাঠের ফ্রেম, ধাতব ফিনিশ কিংবা মিনিমাল ডিজাইনের আয়না ঘরের স্টাইলের সঙ্গে মিলিয়ে বেছে নেওয়া যায়। অনেক সময় একটি সুন্দর আয়নাই দেয়ালের প্রধান আকর্ষণ হয়ে ওঠে।

কোন ঘরে কেমন আয়না
ঘরের ধরন অনুযায়ী আয়না বেছে নিলে সৌন্দর্য আরও ভালোভাবে ফুটে ওঠে। ড্রয়িংরুমে বড় বা মাঝারি আকারের নান্দনিক ফ্রেমের আয়না বেশ মানিয়ে যায়। এতে ঘর উজ্জ্বল ও পরিপাটি দেখায়। শোবার ঘরে ড্রেসিং আয়নার পাশাপাশি ছোট ডেকোরেটিভ আয়না বা আলমারির দরজায় ফুল-লেন্থ আয়না ব্যবহার করা যায়। ডাইনিং স্পেসে আয়না রাখলে আলো প্রতিফলিত হয়ে জায়গাটি আরও প্রাণবন্ত লাগে। আবার প্রবেশপথ বা করিডোরে একটি মানানসই আয়না ব্যবহারিক সুবিধার পাশাপাশি ঘরের সৌন্দর্যও বাড়ায়।

কিছু বিষয় মাথায় রাখুন
ঘর সাজাতে আয়না ব্যবহার করার আগে কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন, যা পুরো ইন্টেরিয়রের সৌন্দর্য ও ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে। প্রথমেই ঘরের আকার ও দেয়ালের পরিসর ভালোভাবে বুঝে নেওয়া জরুরি। ছোট ঘরে খুব বড় আয়না ব্যবহার করলে তা ভারী ও অস্বস্তিকর লাগতে পারে, আবার বড় ঘরে ছোট আয়না দিলে সেটি হারিয়ে যেতে পারে। তাই জায়গার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আয়নার সঠিক মাপ নির্বাচন করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

আয়না কোথায় স্থাপন করা হচ্ছে, সেটিও একটি বড় বিষয়। আলো আসে এমন জায়গা, বিশেষ করে জানালার পাশে বা বিপরীত দেয়ালে আয়না রাখলে ঘরে প্রাকৃতিক আলো আরও ভালোভাবে ছড়িয়ে পড়ে। এতে ঘর শুধু উজ্জ্বলই হয় না, বরং একটি সতেজ ও প্রাণবন্ত পরিবেশ তৈরি হয়। তবে এমন জায়গায় আয়না রাখা উচিত নয় যেখানে সরাসরি চোখে অস্বস্তিকর আলো প্রতিফলিত হয় বা অতিরিক্ত ঝলকানি তৈরি হয়।

আয়নার ফ্রেম নির্বাচনেও ঘরের সামগ্রিক সাজের সঙ্গে মিল রাখা খুব জরুরি। আধুনিক মিনিমাল ইন্টেরিয়রের জন্য সিম্পল বা ফ্রেমবিহীন আয়না ভালো মানায়, অন্যদিকে ক্লাসিক বা কাঠের আসবাবপত্রের সঙ্গে কাঠের ফ্রেমের আয়না বেশি মানানসই হয়। ঘরের ডিজাইনের সঙ্গে না মিলিয়ে আলাদা স্টাইলের আয়না ব্যবহার করলে পুরো সাজে অসামঞ্জস্য দেখা দিতে পারে।

গৃহশান্তি বজায় রাখতে

প্রকাশ: ২৭ জুন ২০২৬, ০৪:১৪ পিএম
গৃহশান্তি বজায় রাখতে

ব্যস্ততা, দায়িত্ব আর প্রতিদিনের নানা চাপের ভেতরেও একটি শান্তিপূর্ণ ঘর মানুষের সবচেয়ে বড় আশ্রয়। কিন্তু ছোটখাটো ভুল বোঝাবুঝি, সময়ের অভাব, মতের অমিল কিংবা পারস্পরিক যোগাযোগের ঘাটতি অনেক সময় পরিবারের পরিবেশকে অশান্ত করে তুলতে পারে। অথচ একটু সচেতনতা, সহনশীলতা আর আন্তরিক চেষ্টা থাকলে ঘরের পরিবেশকে সহজেই রাখা যায় আনন্দময় ও শান্ত। লিখেছেন তাসকিন 

কথা বলুন খোলামেলা, শুনুন মন দিয়ে
পরিবারে শান্তি বজায় রাখার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো পারস্পরিক যোগাযোগ। অনেক সময় আমরা নিজের কথা বলতে চাই, কিন্তু অন্যের কথা শুনতে আগ্রহী হই না। এতে ভুল বোঝাবুঝি বাড়ে। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিয়মিত কথা বলা, তাদের অনুভূতির গুরুত্ব দেওয়া এবং মন দিয়ে শোনা এই অভ্যাস সম্পর্ককে আরও আন্তরিক করে তোলে। কেউ কোনো বিষয়ে কষ্ট পেলে বা ভিন্নমত জানালে তা ধৈর্যের সঙ্গে শুনুন। তর্কে জেতার চেয়ে সম্পর্ক ধরে রাখা বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

ছোট বিষয়ে ধৈর্য ধরুন
একসঙ্গে থাকতে গেলে মতের অমিল থাকবেই। সবার অভ্যাস, চিন্তা ও পছন্দ এক রকম হবে না এটাই স্বাভাবিক। তাই ছোট ছোট বিষয় নিয়ে অতিরিক্ত প্রতিক্রিয়া দেখানো বা মুহূর্তের রাগকে বড় ঝগড়ায় রূপ দেওয়ার বদলে একটু সময় নিয়ে ভাবুন। অনেক সমস্যাই ধৈর্য ধরলে সহজে সমাধান হয়ে যায়। রাগের মুহূর্তে বলা একটি কথা দীর্ঘদিনের সম্পর্কেও দূরত্ব তৈরি করতে পারে। তাই আবেগের চেয়ে বোঝাপড়াকে গুরুত্ব দিন।

দায়িত্ব ভাগ করে নিন
পরিবার মানে শুধু একসঙ্গে থাকা নয়, একে অন্যের দায়িত্বও ভাগ করে নেওয়া। ঘরের ছোট-বড় কাজ, প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত কিংবা কোনো বিশেষ আয়োজন সবকিছু একজনের ওপর চাপিয়ে না দিয়ে ভাগ করে নিলে চাপ কমে এবং সম্পর্কেও স্বস্তি আসে। এতে পরিবারে সবার অংশগ্রহণ বাড়ে এবং পারস্পরিক সহযোগিতার অনুভূতি তৈরি হয়। দায়িত্ব ভাগ করে নেওয়ার মধ্যেই তৈরি হয় সম্মান ও নির্ভরতার জায়গা।

সময় দিন পরিবারের মানুষদের
এক ছাদের নিচে থাকলেই যে সময় দেওয়া হয়, বিষয়টি এমন নয়। ব্যস্ত জীবনে পরিবারের সদস্যদের জন্য আলাদা করে কিছু সময় রাখা খুব জরুরি। একসঙ্গে বসে চা খাওয়া, রাতের খাবারের টেবিলে গল্প করা, ছুটির দিনে কোথাও ঘুরে আসা কিংবা ঘরে বসেই কিছু সময় গল্পে কাটানো এসব ছোট মুহূর্ত সম্পর্ককে গভীর করে। প্রযুক্তির ব্যস্ততার মাঝেও প্রিয়জনদের জন্য সময় বের করা গৃহশান্তির বড় চাবিকাঠি।

সম্মান আর কৃতজ্ঞতার চর্চা করুন
পরিবারের মানুষদের প্রতি ভালোবাসা থাকলেও আমরা অনেক সময় সেটি প্রকাশ করি না। অথচ একটি ধন্যবাদ, ছোট্ট প্রশংসা বা আন্তরিক কৃতজ্ঞতা সম্পর্ককে অনেক সুন্দর করে তোলে। পরিবারের প্রতিটি সদস্যের কাজ ও অবদানকে সম্মান করা প্রয়োজন। কারও পরিশ্রমকে স্বীকৃতি দিলে সে আরও আগ্রহ ও ভালোবাসা নিয়ে পাশে থাকতে চায়। পারস্পরিক সম্মান গৃহশান্তির সবচেয়ে শক্ত ভিত্তি।

ইতিবাচক পরিবেশ তৈরি করুন
ঘরের পরিবেশ মানুষের মনকে গভীরভাবে প্রভাবিত করে। তাই অযথা নেতিবাচক আলোচনা, তুলনা বা সমালোচনার বদলে ইতিবাচক বিষয় নিয়ে কথা বলুন। হাসিখুশি পরিবেশ, আন্তরিকতা আর একে অন্যকে উৎসাহ দেওয়ার অভ্যাস পরিবারে সুন্দর আবহ তৈরি করে। সমস্যার সময়ও একে অন্যের পাশে থাকার মনোভাব বাড়ির পরিবেশকে নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক করে তোলে। 

পরিবারই মানুষের প্রথম ও সবচেয়ে আপন ঠিকানা। বাইরে পৃথিবী যত ব্যস্ত বা কঠিনই হোক, ঘরে যদি শান্তি থাকে তবে মন অনেক বেশি স্থির থাকে। তাই গৃহশান্তি বজায় রাখা কোনো একদিনের কাজ নয়; এটি প্রতিদিনের যত্ন, সম্মান, বোঝাপড়া আর ভালোবাসার চর্চা। ছোট ছোট ইতিবাচক অভ্যাসই একটি ঘরকে শুধু থাকার জায়গা নয়, বরং সত্যিকারের শান্তির আশ্রয়ে পরিণত করতে পারে।

এই গরমে চুলের খুশকি দূর করতে

প্রকাশ: ২৭ জুন ২০২৬, ০৩:৩২ পিএম
এই গরমে চুলের খুশকি দূর করতে

গ্রীষ্মকাল মানেই তীব্র তাপপ্রবাহ, ঘাম, ধুলাবালি এবং মাথার ত্বকে অতিরিক্ত তৈলাক্তভাব। এই সময় অনেকেরই চুলে খুশকির সমস্যা বেড়ে যায়। তাই গরমের সময় চুল ও মাথার ত্বকের সঠিক যত্ন নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিছু সহজ অভ্যাস ও নিয়ম মেনে চললে খুশকির সমস্যা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। লিখেছেন রোদসী 

মাথার ত্বক পরিষ্কার রাখুন
গরমে অতিরিক্ত ঘামের কারণে মাথার ত্বকে ময়লা, ধুলোবালি ও তেল জমে যায়। এসব উপাদান খুশকির সমস্যা বাড়িয়ে দিতে পারে। তাই নিয়মিত চুল পরিষ্কার রাখা প্রয়োজন। তবে প্রতিদিন শ্যাম্পু ব্যবহার না করে সপ্তাহে দুই থেকে তিনবার মাইল্ড বা খুশকিনাশক শ্যাম্পু ব্যবহার করা ভালো। বাইরে থেকে ফিরে চুলে ঘাম জমে থাকলে পরিষ্কার পানি দিয়ে ধুয়ে নিতে পারেন।

সঠিক শ্যাম্পু নির্বাচন করুন
খুশকি দূর করার ক্ষেত্রে সঠিক শ্যাম্পু নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাজারে বিভিন্ন ধরনের অ্যান্টি-ড্যানড্রাফ শ্যাম্পু পাওয়া যায়। জিংক পাইরিথিওন, কেটোকোনাজল, সেলেনিয়াম সালফাইড বা স্যালিসাইলিক অ্যাসিডসমৃদ্ধ শ্যাম্পু খুশকি নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হতে পারে। তবে যেকোনো পণ্য ব্যবহারের আগে নিজের মাথার ত্বকের ধরন সম্পর্কে ধারণা থাকা জরুরি। অতিরিক্ত রাসায়নিকযুক্ত শ্যাম্পু ব্যবহারে কখনো কখনো সমস্যা আরও বেড়ে যেতে পারে। 

চুলে অতিরিক্ত তেল ব্যবহার করবেন না
অনেকেই মনে করেন বেশি তেল ব্যবহার করলে খুশকি কমে যায়। বাস্তবে বিষয়টি সব সময় সত্য নয়। গরমকালে অতিরিক্ত তেল মাথার ত্বকে জমে গিয়ে খুশকির জন্য দায়ী ছত্রাকের বৃদ্ধি বাড়াতে পারে। তাই প্রয়োজনের তুলনায় বেশি তেল ব্যবহার না করাই ভালো। তেল ব্যবহার করলে কয়েক ঘণ্টা পর শ্যাম্পু করে চুল পরিষ্কার করে ফেলুন।

স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস বজায় রাখুন
চুলের স্বাস্থ্য অনেকাংশে নির্ভর করে খাদ্যাভ্যাসের ওপর। পর্যাপ্ত পুষ্টির অভাব থাকলে খুশকির সমস্যা বাড়তে পারে। প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় শাকসবজি, ফলমূল, মাছ, ডিম, বাদাম এবং প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার রাখুন। ভিটামিন বি, জিংক ও ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড মাথার ত্বকের সুস্থতা বজায় রাখতে সাহায্য করে। পাশাপাশি পর্যাপ্ত পানি পান করাও জরুরি।

ভেজা চুল বেঁধে রাখবেন না
গরমে অনেকেই গোসলের পর ভেজা চুল বেঁধে রাখেন বা হিজাব, ক্যাপ কিংবা হেলমেট ব্যবহার করেন। এতে মাথার ত্বকে আর্দ্রতা দীর্ঘসময় আটকে থাকে এবং ছত্রাক বৃদ্ধির পরিবেশ তৈরি হয়। ফলে খুশকির সমস্যা আরও বেড়ে যেতে পারে। তাই চুল সম্পূর্ণ শুকানোর পর বেঁধে রাখা উচিত।

চিরুনি ও তোয়ালে পরিষ্কার রাখুন
ব্যক্তিগত ব্যবহার্য সামগ্রী পরিষ্কার না রাখলেও খুশকির সমস্যা বাড়তে পারে। নিয়মিত চিরুনি, হেয়ার ব্রাশ, তোয়ালে ও বালিশের কভার পরিষ্কার করা প্রয়োজন। অন্যের চিরুনি বা তোয়ালে ব্যবহার না করাই ভালো। এতে মাথার ত্বকের বিভিন্ন সংক্রমণ থেকেও সুরক্ষা পাওয়া যায়।

ঘরোয়া কিছু উপায়
খুশকি নিয়ন্ত্রণে কিছু ঘরোয়া উপায়ও কার্যকর হতে পারে। লেবুর রস, অ্যালোভেরা জেল কিংবা দই অনেকেই ব্যবহার করে থাকেন। অ্যালোভেরা মাথার ত্বককে শীতল রাখতে সাহায্য করে এবং চুলকানি কমাতে পারে। তবে যেকোনো উপাদান ব্যবহারের আগে অ্যালার্জি আছে কি না, তা পরীক্ষা করে নেওয়া উচিত।

মানসিক চাপ কমান
অতিরিক্ত মানসিক চাপও খুশকির অন্যতম কারণ হতে পারে। স্ট্রেসের কারণে শরীরের বিভিন্ন হরমোনের ভারসাম্য পরিবর্তিত হয়, যা মাথার ত্বকের সমস্যাকে বাড়িয়ে দিতে পারে। তাই পর্যাপ্ত ঘুম, নিয়মিত ব্যায়াম এবং মানসিক প্রশান্তির জন্য সময় বের করা প্রয়োজন।

কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন
যদি দীর্ঘদিন অ্যান্টি-ড্যানড্রাফ শ্যাম্পু ব্যবহার করেও খুশকি না কমে, মাথার ত্বকে লালচে ভাব, তীব্র চুলকানি, ক্ষত বা অতিরিক্ত চুল পড়ার সমস্যা দেখা দেয়, তাহলে অবশ্যই চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত। অনেক সময় খুশকির মতো দেখতে সমস্যা সেবোরিক ডার্মাটাইটিস, সোরিয়াসিস বা অন্য কোনো ত্বকের রোগের লক্ষণও হতে পারে।

রাত জেগে খেলা দেখার সময় যা খাবেন এবং যা এড়িয়ে চলবেন

প্রকাশ: ২৭ জুন ২০২৬, ০৩:২৬ পিএম
রাত জেগে খেলা দেখার সময় যা খাবেন এবং যা এড়িয়ে চলবেন

বিশ্বকাপের রাত মানেই উত্তেজনা, আবেগ আর টানা কয়েক ঘণ্টা জেগে খেলা দেখার উচ্ছ্বাস। কিন্তু এই আনন্দঘন সময়টিতে অনিয়ন্ত্রিত খাবার খাওয়া ও কম ঘুম শরীরের ওপর চাপ ফেলে। তাই সঠিক খাদ্যাভ্যাস অনুসরণ করলে খেলার আনন্দ যেমন বাড়ে, তেমনি শরীরও থাকে সুস্থ ও সতেজ। লিখেছেন রোদসী 

হালকা ও পুষ্টিকর স্ন্যাকসের গুরুত্ব
রাত জেগে খেলা দেখার সময় ভারী ও তৈলাক্ত খাবার এড়িয়ে হালকা স্ন্যাকস বেছে নেওয়া সবচেয়ে ভালো। এসব খাবার সহজে হজম হয় এবং শরীরকে অতিরিক্ত ক্লান্ত করে না।
হালকা স্ন্যাকস শরীরে ধীরে ধীরে এনার্জি সরবরাহ করে, ফলে দীর্ঘ সময় সতেজ থাকা সহজ হয়। একই সঙ্গে এগুলো প্রয়োজনীয় পুষ্টি বজায় রাখে এবং হঠাৎ দুর্বলতা বা অলসতা আসা থেকে শরীরকে রক্ষা করে।

পপকর্ন ও রোস্টেড বাদাম: সহজ কিন্তু কার্যকর বিকল্প
কম তেল ও কম লবণ দিয়ে তৈরি পপকর্ন একটি দারুণ স্ন্যাকস হতে পারে। এতে ক্যালোরি কম এবং ফাইবার বেশি থাকে, যা দীর্ঘ সময় ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণে রাখে। অন্যদিকে রোস্টেড বাদাম, আখরোট বা কাজু স্বাস্থ্যকর ফ্যাট ও প্রোটিন সরবরাহ করে, যা শরীরকে এনার্জি ধরে রাখতে সাহায্য করে।

ফলমূল: প্রাকৃতিক এনার্জির উৎস
বিশ্বকাপ দেখার দীর্ঘ রাতগুলোতে ফলমূল হতে পারে সবচেয়ে নিরাপদ, সহজপাচ্য এবং স্বাস্থ্যকর খাদ্য নির্বাচন। আপেল, কলা, আঙুর, কমলা বা নাশপাতির মতো ফল শরীরে প্রয়োজনীয় ভিটামিন, মিনারেল এবং প্রাকৃতিক শর্করা সরবরাহ করে, যা দ্রুত এনার্জি জোগায়। বিশেষ করে রাত জেগে থাকলে শরীরে ক্লান্তি ধীরে ধীরে জমে, আর এই সময় ফলমূল সেই ক্লান্তি কমিয়ে সতেজতা ফিরিয়ে আনে। 
ফলের মধ্যে থাকা প্রাকৃতিক সুগার শরীরকে ভারী না করে ধীরে ধীরে শক্তি দেয়, ফলে দীর্ঘ সময় খেলা দেখার ক্ষেত্রে মনোযোগ ও উদ্দীপনা বজায় থাকে। আগে থেকেই ফল কেটে ছোট বক্সে বা পাত্রে রেখে দিলে খাওয়াও সহজ হয় এবং অপ্রয়োজনীয় স্ন্যাকস খাওয়ার প্রবণতাও কমে যায়। 

দই ও ইয়োগার্ট: হালকা ও হজমবান্ধব খাবার
দই বা ইয়োগার্ট রাত জেগে খেলার সময় একটি আদর্শ স্বাস্থ্যকর স্ন্যাকস হিসেবে কাজ করে। এতে থাকা প্রোবায়োটিক উপাদান হজম প্রক্রিয়াকে উন্নত করে এবং পেটকে হালকা রাখতে সাহায্য করে, যা দীর্ঘ সময় জেগে থাকার ক্ষেত্রে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। 
এ ছাড়া দইয়ে থাকা ক্যালসিয়াম ও প্রোটিন শরীরের শক্তি ধরে রাখতে সহায়তা করে এবং ক্লান্তি কমায়। চাইলে এতে সামান্য মধু, ফল বা বাদাম মিশিয়ে আরও সুস্বাদু ও পুষ্টিকর করে নেওয়া যায়। এই ছোট পরিবর্তনগুলো শুধু স্বাদই বাড়ায় না, বরং স্বাস্থ্যগত উপকারও নিশ্চিত করে।

সঠিক পানীয় নির্বাচন: হাইড্রেশনই মূল চাবিকাঠি
দীর্ঘ সময় জেগে থাকলে শরীর ডিহাইড্রেটেড হয়ে যায়, তাই পর্যাপ্ত পানি পান করা অত্যন্ত জরুরি। লেবু পানি বা ডিটক্স ওয়াটার শরীরকে সতেজ রাখে এবং ক্লান্তি দূর করে। তবে অতিরিক্ত চা, কফি বা এনার্জি ড্রিংক এড়িয়ে চলা উচিত, কারণ এগুলো ঘুমের ব্যাঘাত ঘটাতে পারে।

যা এড়িয়ে চলা ভালো
রাত জেগে বিশ্বকাপ খেলা দেখার সময় কিছু খাবার ও পানীয় এড়িয়ে চলা শরীরের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। চিপস, ফাস্টফুড, অতিরিক্ত তেল-চর্বিযুক্ত খাবার এবং সফট ড্রিংকস সাময়িকভাবে স্বাদ ও আনন্দ দিলেও এগুলো শরীরে দীর্ঘমেয়াদে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
এ ধরনের খাবার সাধারণত উচ্চ ক্যালোরি ও কম পুষ্টিগুণসম্পন্ন হয়, যা হজমে সময় নেয় এবং পাকস্থলীতে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে। ফলে দ্রুত ক্লান্তি, অস্বস্তি, পেট ভারী ভাব এবং কখনো কখনো অ্যাসিডিটির সমস্যাও দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে দীর্ঘ সময় জেগে থাকার সময় এসব খাবার শরীরকে আরও অলস ও ভারী করে তোলে, যার কারণে খেলা উপভোগের মনোযোগও কমে যায়।