বর্তমান তথ্যপ্রযুক্তির যুগে সংবাদমাধ্যমের যেমন বিকাশ ঘটেছে, তেমনি সাংবাদিকতার ধরনেও এসেছে হরেকরকম বৈচিত্র্য। এক সময় সাংবাদিক বলতে কেবল খবরের কাগজ কিংবা টেলিভিশনের চশমা পরা, গম্ভীর স্বভাবের পেশাদার মানুষদের বোঝাত। কিন্তু এখন সেই চেনা রূপের বাইরেও নানা পদের সাংবাদিকের দেখা মেলে। মূলধারার পেশাদার সাংবাদিকদের অনেকেই রোদ-বৃষ্টি মাথায় নিয়ে মাঠপর্যায়ে ঘুরে সত্য উন্মোচনে ব্যস্ত থাকেন। আবার কেউ কেউ কেবল শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষে বসে টেবিল টক বা কলাম লিখেই নিজেদের দায়িত্ব সারেন। মফস্বল বা গ্রামীণ সাংবাদিকরা স্থানীয় মানুষের সুখ-দুঃখ আর অধিকারের কথা তুলে ধরতে প্রতিনিয়ত লড়াই করেন, যাদের অনেকেরই কষ্টের তুলনায় পারিশ্রমিক সামান্য।
এদিকে ডিজিটাল বিপ্লবের ফলে ‘স্মার্টফোন সাংবাদিকতা’র প্রসার ঘটেছে। এখন একটি স্মার্টফোন ও ইন্টারনেট সংযোগ থাকলেই যে কেউ ঘটনাস্থল থেকে লাইভ বা ভিডিও প্রচার করতে পারেন। এতে যেমন অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে আসছে, তেমনি কিছু ‘ইউটিউব’ ও ‘ফেসবুক সাংবাদিক’ ভিউ-লাইকের আশায় ভিত্তিহীন বা বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে সাংবাদিকতার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছেন। আবার কিছু ভুঁইফোড় কার্ডধারী সাংবাদিকও প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করেন। তাই প্রকৃত ও সৎ সাংবাদিকদের চেনা কঠিন হয়ে পড়েছে। তবে রূপ বা মাধ্যম যাই হোক, শেষ পর্যন্ত সমাজ ও দেশের কল্যাণে সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ তথ্য তুলে ধরাই হোক সব ধরনের সাংবাদিকের মূল লক্ষ্য।
ওসমান গনি
সাংবাদিক ও কলামিস্ট, কুমিল্লা
[email protected]
