ঢাকা ১৪ আষাঢ় ১৪৩৩, রোববার, ২৮ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
ভেনিজুয়েলায় ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা ১৪০০ ছাড়াল, নিখোঁজ ৭০ হাজার বেঙ্গল কমার্শিয়াল ব্যাংক ও এসএসএল কমার্জের মধ্যে চুক্তি সই টেকনাফে ২ কোটি টাকার ইয়াবা জব্দ ডাচদের দুর্বলতা দেখিয়ে দিলেন মরক্কোর সাবেক কোচ ভুল চিকিৎসায় রোগীর মৃত্যু হলে ইসলামের বিধান কী? নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুতের দাবিতে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ আবারও ভেন্টিলেটরে মুস্তাফা মনোয়ার Slow and Steady Wins the Race বিষয়ক Story Writing নিয়ে আলোচনা, ৪র্থ পর্ব, এইচএসসির ইংরেজি ১ম পত্র মুন্সীগঞ্জে হ্যান্ডকাফসহ পালানো আ. লীগ নেতা গ্রেপ্তার কেপ ভার্দে কঠিন প্রতিপক্ষ, সতর্ক স্কালোনি বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের পর উরুগুয়ের চার্টার্ড ফ্লাইট বাতিল আক্কেলপুরে দিনমজুর শ্যামল হত্যার বিচারের দাবিতে মানববন্ধন ঠাকুরগাঁও প্রেসক্লাবের সহ-সাধারণ সম্পাদক হলেন নবীন হাসান জয়পুরহাটে স্ত্রী হত্যার অভিযোগে স্বামী আটক জাবির ৩৪৮ কোটি টাকার বাজেট পাস, গবেষণায় বরাদ্দ নেই দৌড়েই সেরে উঠলেন ওয়াসিম স্মৃতির ক্যানভাসে সাগরকন্যা কুয়াকাটা জুলাই গণঅভ্যুত্থান মামলা: সাবেক ডিএমপি কমিশনারসহ ৩ কর্মকর্তার মৃত্যুদণ্ড সাতক্ষীরায় ৭৩ কোটি টাকার মাদক ধ্বংস জামালপুরে সন্তান হত্যার অভিযোগে গ্রেপ্তার মা গ্যাসসংকট সমাধানে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করবে সরকার: বাণিজ্যমন্ত্রী বিশ্বমঞ্চে ইউআইইউ মার্স রোভার সুরের আকাশে নতুন ধূমকেতু রেইথস চারুকলার নান্দনিক কাঠগোলাপ সৌরভের হৃদয়ের খুব কাছে মেসি এ প্লাস মানুষ গড়াই আমাদের লক্ষ্য: এমপি মনজুর টুনটুনির পুকুর দরজার আশায় জমানো লাখ টাকা ফেরত পাননি অসহায় নারী অবাক করা এক মাছ ভাঙ্গায় অধিপত্য বিস্তার নিয়ে সংঘর্ষে আহত ৫০, মহাসড়কে যানজট

জয়পুরহাটে স্ত্রী হত্যার অভিযোগে স্বামী আটক

প্রকাশ: ২৮ জুন ২০২৬, ০২:৩২ পিএম
আপডেট: ২৮ জুন ২০২৬, ০২:৪৮ পিএম
জয়পুরহাটে স্ত্রী হত্যার অভিযোগে স্বামী আটক
জয়পুরহাট সদর উপজেলার দূর্গাদহ ঢুলিপাড়া এলাকায় পারিবারিক কলহের জেরে গৃহবধূ বন্দনা রানি দাসের রহস্যজনক মৃত্যুর পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও তদন্তে পুলিশ। ছবি: খবরের কাগজ

জয়পুরহাট সদর উপজেলার দূর্গাদহ ঢুলিপাড়া এলাকায় গৃহবধূ বন্দনা রানী দাস হত্যার অভিযোগে স্বামী রাজকুমার দাসকে আটক করেছে পুলিশ। নিহতের পরিবারের দাবি, পারিবারিক কলহের জেরে স্বামী রাজকুমার তাকে হত্যা করেছে। 

রবিবার (২৮ জুন) দুপুরে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য জয়পুরহাটে জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

পুলিশ ও এলাকাবাসী জানায়, রাজকুমার দাস বিভিন্ন সময় তার স্ত্রীকে নির্যাতন করতেন। গত রাতে সেলাই মেশিন কিনে চাইলে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া হয়। এ ঘটনায় স্বামী তার স্ত্রীকে মারধরও করেন। পরে ভোরে ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পান গৃহবধুর শ্বশুর। এ সময় পরিবারের লোকজন মরদেহ নামিয়ে স্থানীয়দের খবর দেন। এরপর পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়।

বন্দনার বাবার পরিবারের সদস্য ও এলাকাবাসীরা জানায়, রাজকুমারের অন্য মেয়ের সঙ্গে পরকীয়ায় আসক্ত। এ কারণে স্ত্রীকে বিভিন্ন সময় নির্যাতন করতেন। এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড।

নিহতের বোন সাধনা বলেন, ‘আমার বোনের স্বামী অন্য মেয়ের চক্করে পড়ে আমার বোনকে মেরে ফেলেছে। আমার বোনের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। সে আত্মহত্যা করেনি। তাকে হত্যা করা হয়েছে।’

নিহতের স্বামী রাজকুমার দাস হত্যার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘আমার স্ত্রী সেলাই মেশিন কিনে চেয়েছিল। কিন্তু আমার কাছে টাকা না থাকায় পরে দিতে চেয়েছি। এ নিয়ে কথাকাটাকাটি ও ধাক্কাধাক্কি হয়েছে। পরে ঘুমিয়ে যাওয়া পর রাত তিনটার দিকে জানতে পারি সে গলায় ফাঁস দিয়েছে। আমি তাকে হত্যা করিনি‘’

জয়পুরহাট থানার উপ-পরিদর্শক আনোয়ার হোসেন জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, মরদেহ নিচে নামানো। আমরা মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠিয়েছি। মরদেহে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়া গেলে মৃত্যুর আসল রহস্য জানা যাবে। 

সাগর কুমার/আজহার/

হরিরামপুরে সহিংসতার ঘটনায় ঘুরেফিরে এক নাম

প্রকাশ: ২৮ জুন ২০২৬, ০৮:৫১ এএম
আপডেট: ২৮ জুন ২০২৬, ০৮:৫৬ এএম
হরিরামপুরে সহিংসতার ঘটনায় ঘুরেফিরে এক নাম
ছবির বামে কাইয়ুম মোল্লা ও ডানে মোল্লা শাহীন

মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলায় গত দেড় বছরে ঘটে যাওয়া একের পর এক হামলা, সংঘর্ষ, মারধর, ভাঙচুর, বিচার-সালিশে প্রভাব বিস্তার ও প্রতিপক্ষকে ভয়ভীতি প্রদর্শনের ঘটনায় বারবার আলোচনায় এসেছে উপজেলা যুবদলের সদস্যসচিব আবু সাদাত শাহীন ওরফে মোল্লা শাহীন এবং তার ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের নাম।

স্থানীয় বাসিন্দা, রাজনৈতিক কর্মী ও ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, রাজনৈতিক আধিপত্য প্রতিষ্ঠাকে কেন্দ্র করে মোল্লা শাহীনের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা একটি প্রভাবশালী বলয় দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় অস্থিরতা ও আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি করেছে। অনেকেই প্রকাশ্যে মুখ না খুললেও ব্যক্তিগতভাবে একই ধরনের অভিযোগ তুলে ধরছেন।

তাদের দাবি, সাম্প্রতিক সময়ে হরিরামপুরে সংঘটিত অধিকাংশ আলোচিত সহিংস ঘটনার নেপথ্যে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে শাহীন ও তার অনুসারীদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। এসব ঘটনার জেরে থানায় একাধিক অভিযোগ ও মামলা হয়েছে।

সম্প্রতি বিচার-সালিশকে কেন্দ্র করে চালা ইউনিয়ন পরিষদে উপজেলা যুবদল সদস্য কাজী সালাউদ্দিন শিমুলকে মারধরের অভিযোগ ওঠে মোল্লা শাহীন, কাইয়ুম মোল্লা, মুকুলসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় গত ৫ জুন শিমুল বাদী হয়ে শাহীন, কাইয়ুম, মুকুলসহ ১১ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা করেন। মামলার অধিকাংশ আসামি বর্তমানে পলাতক বলে জানিয়েছে পুলিশ।

শিমুল অভিযোগ করেন, ‘শাহীন এলাকায় প্রভাব বিস্তারের জন্য সাধারণ মানুষ ও নিজ দলের নেতা-কর্মীদের ওপরও মারধর, চাপ ও হুমকি দিয়ে থাকেন।’ তিনি জানান, গত ৩ জুন একটি পারিবারিক বিরোধের সালিশে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করলে তাকে প্রকাশ্যে মারধর করা হয়। তার দাবি, ‘শাহীন নিজের বলয় শক্তিশালী করতে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের সাবেক নেতা-কর্মীদেরও সম্পৃক্ত করেছেন। তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী কাইয়ুম একসময় বয়রা ইউনিয়ন যুবলীগের সহসভাপতি ছিলেন।’

স্থানীয়দের অভিযোগ, কেবল প্রতিপক্ষ নয়, মোল্লা শাহীনের কর্মকাণ্ডে তার নিজ দলের অনেক নেতা-কর্মীও ক্ষুব্ধ। তাদের দাবি, শাহীনের নির্দেশ বা অবস্থানের বাইরে গেলে ভয়ভীতি প্রদর্শন, হামলা কিংবা সামাজিকভাবে হেনস্তার শিকার হতে হয়। এ ধরনের অভিযোগ একাধিক নেতা-কর্মী ও স্থানীয় ব্যক্তির কাছ থেকে পাওয়া গেছে।

বলড়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির যুববিষয়ক সম্পাদক তারিকুল ইসলাম তারেকও শাহীনের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ তুলেছেন। তিনি বলেন, ‘কোরবানির ঈদের পরদিন গভীর রাতে মোল্লা শাহীনের নেতৃত্বে কাইয়ুম, শাহরুখসহ কয়েকজন তার বাড়িতে হামলা চালান। হামলাকারীরা বাড়ির দরজা-জানালা ভাঙচুরের পাশাপাশি তিনটি মোটরসাইকেলও ভাঙচুর করেন। বিষয়টি স্থানীয় সংসদ সদস্যকে জানানো হয়েছে।’

এর আগে রাজনৈতিক বিরোধের জেরে বয়রা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক জাহিদুর রহমান তুষারের ওপরও হামলার অভিযোগ ওঠে। তুষার জানান, শাহীন ও তার সহযোগীরা তাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে গুরুতর আহত করেন। ঘটনার পর দীর্ঘ সময় তাকে চিকিৎসা নিতে হয়েছে। এ ঘটনায় করা একটি মামলা বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।

শাহীনের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত কাইয়ুম মোল্লার বিরুদ্ধেও বিভিন্ন সময়ে হামলা ও নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় কয়েকজন ভুক্তভোগী তার বিরুদ্ধে মারধর, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও সহিংস কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ করেছেন।

উপজেলার চালা ইউনিয়নের দড়িকান্দি রাজরা গ্রামের ওষুধ ব্যবসায়ী সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘২০২৪ সালের ২০ নভেম্বর সন্ধ্যায় কাইয়ুম, শাহরুখসহ ১৫-২০ জন আমার দোকানে হামলা চালিয়ে আমাকে মারধর করে। ক্যাশবাক্স থেকে টাকা নিয়ে যায়। এ ঘটনায় করা মামলাটি বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। এসবের মূলে আছে শাহীনের আশকারা।’

একই গ্রামের প্রবাসীর স্ত্রী চায়না বেগমের অভিযোগ, ‘একই দিন আমার দশম শ্রেণিতে পড়ুয়া ছেলে সোহানের সঙ্গে কাইয়ুম মোল্লার ছেলের কথা-কাটাকাটি হয়। এ ঘটনার জেরে কাইয়ুম ও তার সহযোগীরা আমার ছেলেকে মারধর করেন। পরে এ ঘটনায় কাইয়ুম মোল্লাসহ ১৮ জনের নাম উল্লেখ করে একটি মামলা করা হয়। এখনো ভয়ে থাকি আমাদের আবার কোনো ক্ষতি না করে।’

এ বিষয়ে কাইয়ুম মোল্লা বলেন, ‘আমি মাটি ব্যবসায়ী। কারও না কারও সঙ্গে আমাকে ব্যবসা করতে হয়। এখন শাহীন ভাইয়ের সঙ্গে থেকে ব্যবসা করছি। ব্যবসায়িক দ্বন্দ্বের কারণে যাদের স্বার্থে আঘাত লাগছে, তারাই আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ ও মামলা করেছেন।’ আপনি ইউনিয়ন যুবলীগের সহসভাপতি কি না, এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘আমি বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে আগে থেকেই জড়িত।’

উপজেলা যুবদলের সদস্যসচিব মোল্লা শাহীন বলেন, ‘আমার ব্যাপারে যে অভিযোগগুলো আনা হয়েছে সেগুলোর সঙ্গে আমি জড়িত নই। আর কাইয়ুম একজন ড্রেজার ব্যবসায়ী। তার সঙ্গে আমার কোনো সম্পর্ক নেই। একটি মহল নিজেরা মারামারি করে আমার নামে অপপ্রচার করছে।’

জেলা যুবদলের সদস্যসচিব তুহিনুর রহমান বলেন, ‘হরিরামপুরে একের পর এক যেসব ঘটনা ঘটছে, সেসব বিষয়ে আমরা অবগত হয়েছি। সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য এগোচ্ছি। মানুষকে যারা নির্যাতন করছেন, তিনি যত বড় নেতাই হোন না কেন, তাকে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হবে।’

হরিরামপুর থানার ওসি মোহাম্মদ আফজাল হোসাইন বলেন, ‘আমি অল্প কয়েক দিন হয় এসেছি। সম্প্রতি শিমুলকে মারধরের ঘটনায় একটা মামলা হয়েছে। মামলার অধিকাংশ আসামি পলাতক। আর কিছু ঘটনা ঘটলেও ভুক্তভোগীরা কোনো অভিযোগ দেননি। আর যেখানেই কোনো সহিংসতার ঘটনা ঘটছে, পুলিশ দ্রুত সেখানে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনছে।’ এসব ঘটনায় ভুক্তভোগীদের দ্রুত পুলিশের শরণাপন্ন হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

মহাখালীতে পাওনা টাকার বিরোধে হামলা, ছুরিকাঘাতে আহত ৩

প্রকাশ: ২৭ জুন ২০২৬, ০৬:৩৭ পিএম
আপডেট: ২৮ জুন ২০২৬, ০৮:৩৩ এএম
মহাখালীতে পাওনা টাকার বিরোধে হামলা, ছুরিকাঘাতে আহত ৩
ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর বনানীতে পাওনা টাকা আদায়কে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের হামলায় ছুরিকাঘাতে একই পরিবারের তিনজন আহত হয়েছেন।

শনিবার (২৭ জুন) ভোর সাড়ে ৪টার দিকে মহাখালী ওয়্যারলেস শিশুমেলা স্কুলের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

আহতদের উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

আহতরা হলেন— সুমন মিয়া (৪৫), তার স্ত্রী সোনিয়া (৩৮) ও সোনিয়ার ভাই রাসেল (৪০)।

আহতদের স্বজনদের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, ভোর সাড়ে ৪টার দিকে মহাখালী টিঅ্যান্ডটি কলোনির বাসিন্দা সুমন মিয়ার সঙ্গে আরিফ নামে এক ব্যক্তির পাওনা টাকা পরিশোধের বিষয়ে সাক্ষাতের কথা ছিল।

পূর্বনির্ধারিত সময় অনুযায়ী সুমন তার স্ত্রী ও শ্যালককে নিয়ে ঘটনাস্থলে যান। অন্যদিকে, আরিফ সাত থেকে আটজন সহযোগী নিয়ে সেখানে উপস্থিত হন। একপর্যায়ে পাওনা টাকা নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে তীব্র বাগ্‌বিতণ্ডা শুরু হয়। পরে আরিফ ও তার সহযোগীরা সুমন, সোনিয়া ও রাসেলকে মারধর করেন। এ সময় ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে তাদের গুরুতর জখম করা হয়।

তাদের চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে রক্তাক্ত অবস্থায় তিনজনকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সকালে ঢামেক হাসপাতালে নেওয়া হয়। বর্তমানে তারা সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বনানী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. জানে আলম বলেন, তাদের মধ্যে টাকা-পয়সার দেনা-পাওনা নিয়ে বিরোধ ছিল। এ ছাড়া অন্য কোনো কারণ রয়েছে কি না, তা তদন্তের পর জানা যাবে। হামলাকারীদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

এসএন/

ফেনীতে চাল কেটে ঘরে ঢুকে প্রবাসীর স্ত্রীকে হত্যা

প্রকাশ: ২৭ জুন ২০২৬, ০৬:০৬ পিএম
আপডেট: ২৭ জুন ২০২৬, ০৬:০৮ পিএম
ফেনীতে চাল কেটে ঘরে ঢুকে প্রবাসীর স্ত্রীকে হত্যা
ছবি: সংগৃহীত

ফেনীর ফুলগাজী উপজেলা উপজেলার আমজাদহাটে কাজল আক্তার (৩০) নামে এক গৃহবধূর হাত-পা বাঁধা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। 

শনিবার (২৭ জুন) সকালে ইউনিয়নের দক্ষিণ তালবাড়িয়া গ্রামের ইসমাইল মাস্টারের বাড়ির একটি বসতঘর থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

নিহত কাজল আক্তার কুয়েতপ্রবাসী নুরুল আমিনের স্ত্রী। তিনি তিন সন্তানের জননী।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার গভীর রাতে দুর্বৃত্তরা ঘরের চালের টিন কেটে ভেতরে প্রবেশ করে। এরপর কাজল আক্তারের হাত-পা বেঁধে মুখে টেপ দিয়ে পেঁচিয়ে দেয়। পরে মাথায় আঘাতপ্রাপ্ত অবস্থায় তাকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়।

ঘটনার সময় ঘরে তার তিন বছর বয়সী সন্তান ছিল। অন্য দুই সন্তান স্থানীয় একটি হেফজ মাদরাসায় পড়ালেখা করে সেখানে ছিলো তারা।

সকালে স্থানীয়রা বিষয়টি জানতে পেরে পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।

নিহতের স্বজনরা ঘটনাটিকে রহস্যজনক বলে দাবি করেছেন। তারা দ্রুত ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন এবং জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।

ফুলগাজী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম মিজানুর রহমান জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। ঘরের আলামত দেখে প্রাথমিকভাবে এটি চুরি বা ডাকাতির ঘটনা বলে মনে হচ্ছে না। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত চলছে। প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

তোফায়েল আহাম্মদ নিলয়/এসএন

রাঙামাটিতে গৃহবধূ হত্যার রহস্য উদঘাটন, ভাতিজা ও নাতি গ্রেপ্তার

প্রকাশ: ২৫ জুন ২০২৬, ০১:৪৯ পিএম
আপডেট: ২৫ জুন ২০২৬, ০১:৫৭ পিএম
রাঙামাটিতে গৃহবধূ হত্যার রহস্য উদঘাটন, ভাতিজা ও নাতি গ্রেপ্তার
ছবি: খবরের কাগজ

রাঙামাটির বরকল উপজেলার বরুনাছড়ি এলাকায় সংঘটিত গৃহবধূ হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন করে দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

গ্রেপ্তার আসামিদের মধ্যে একজন নিহত আয়েশা বেগমের আপন ভাতিজা, অন্যজন দুঃসম্পর্কের নাতি।

গ্রেপ্তার আসামিদের কাছ থেকে হত্যাকাণ্ডের পর লুট হওয়া নগদ ১ লাখ ৯৯ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেপ্তাররা হলেন- সোহাগ (১৭) ও ওমর আলী (১৯)।

তারা উভয়েই বরনাছড়ি (ইসলামপুর) এলাকার বাসিন্দা।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সকালে রাঙামাটি পুলিশ সুপার কার্যালয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার মুহাম্মদ আব্দুর রকিব।

পুলিশ সুপার জানান, গত ২১ জুন বিকেলে বরকল থানাধীন বরনাছড়ি (ইসলামপুর) এলাকায় নিজ বসতঘরে নিহত হন গৃহবধূ আয়েশা বেগম (৪৯)। ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে এবং সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে ময়নাতদন্তের জন্য রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালে পাঠায়। এ ঘটনায় ব্যবহৃত একটি ইট ও একটি হাতুড়ি আলামত হিসেবে জব্দ করা হয়।

এ ঘটনায় নিহতের স্বামী আশরাফ আলী বাদী হয়ে বরকল থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। মামলাটি করার পর বরকল থানা পুলিশ ও গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশের সমন্বয়ে বিশেষ তদন্ত ও অভিযান পরিচালনা করা হয়। তদন্তের একপর্যায়ে গত ২৪ জুন সকালে মামলার সংশ্লিষ্ট দুই আসামিকে তাদের নিজ নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। 

গ্রেপ্তারের পর জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে লুট হওয়া অর্থও উদ্ধার করা হয়। এরমর সোহাগের বাড়ির হাঁস-মুরগির ঘরের পাশে মাটির নিচে পলিথিনে মোড়ানো অবস্থায় ১ লাখ ৬ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়। এছাড়া ওমর আলীর বাড়ির দক্ষিণ পাশের কলাবাগানের মাটির নিচে লুকিয়ে রাখা প্লাস্টিকের ব্যাগ থেকে আরও ৯৩ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়। গ্রেপ্তার আসামিদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন।

পুলিশ সুপার মুহাম্মদ আব্দুর রকিব বলেন, ঘটনার পরপরই পুলিশ গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত কার্যক্রম শুরু করে। তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের সমন্বয়ে অল্প সময়ের মধ্যেই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন এবং জড়িতদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে।

জিয়াউর জুয়েল/খাদিজা রুমি/ 

সালথায় হাত-পা কাটা যুবকের মরদেহ উদ্ধার

প্রকাশ: ২৫ জুন ২০২৬, ১২:১৬ পিএম
আপডেট: ২৫ জুন ২০২৬, ১২:২৯ পিএম
সালথায় হাত-পা কাটা যুবকের মরদেহ উদ্ধার
ছবি: খবরের কাগজ

ফরিদপুরে সালথায় একটি সড়ক থেকে হাত-পা কাটা অবস্থায় পান্নু ফকির ওরফে জামু ফকির (৪২) নামে এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার যদুনন্দী ইউনিয়নের কুমারকান্দা এলাকার একটি সড়কে মরদেহটি পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা সালথা থানায় খবর দেন।

পরে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

নিহত পান্নু ফকির উপজেলার কুমারকান্দা গ্রামের রহমান ফকিরের ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার (২৪ জুন) রাতে একটি জমিজমা সংক্রান্ত সালিশে গিয়েছিলেন পান্নু ফকির। সালিশ শেষে বাড়ি ফেরার পথে দুর্বৃত্তদের কবলে পড়েন তিনি।

প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, রাস্তার পাশের একটি পাটখেতে তাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। পরে মরদেহটি সড়কে ফেলে যায়।

স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, গভীর রাতে হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়ে থাকতে পারে। সকালে পথচারীরা মরদেহ দেখতে পেয়ে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। খবর দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে ঘটনাস্থলে উৎসুক জনতার ভিড় জমে।

সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বাবলুর রহমান খান বলেন, এ ঘটনায় জড়িতদের খুঁজে বের করা হবে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজে পাঠানো হয়েছে।

ফরিদপুরের সহকারী পুলিশ সুপার (নগরকান্দা সার্কেল) মুহম্মদ আল ফাহাদ বলেন, ’একটি পাটখেতে হত্যার পর মরদেহটি সড়কের ওপর ফেলে রাখা হয়। নিহত ব্যক্তি বুধবার (২৪ জুন) রাতে জমিজমা সংক্রান্ত একটি সালিশ থেকে বাড়ি ফিরছিলেন। তার শরীরে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। হত্যার পেছনে জমিজমা বিরোধের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’

তিনি আরও জানান, হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদঘাটন এবং জড়িতদের শনাক্ত করতে পুলিশ কাজ শুরু করেছে। বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে আরও বিস্তারিত জানা যাবে।

 এনকেবি নয়ন/খাদিজা রুমি/