দেশে কলকারখানার উৎপাদন সক্ষমতা বাড়াতে এবং অর্থনৈতিক স্থবিরতা কাটাতে গ্যাস সংকট সমাধানে অন্তর্বর্তী সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে বলে জানান শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির।
তিনি বলেন, বিগত ১৭ বছরে দেশে নতুন উদ্যোক্তা তৈরির হার ছিল অত্যন্ত কম। মূলত গ্যাসের অপ্রতুলতার কারণে শিল্পকারখানাগুলো তাদের পূর্ণ উৎপাদন সক্ষমতা কাজে লাগাতে পারেনি, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে দেশের অর্থনীতিতে এবং বৃদ্ধি পেয়েছে আয় বৈষম্য।
রবিবার (২৮ জুন) বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) মিলনায়তনে আন্তর্জাতিক ‘ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগ দিবস’ (এমএসএমই দিবস) উপলক্ষে আয়োজিত এক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এসএমই ফাউন্ডেশন ও বিডা যৌথভাবে এই সভার আয়োজন করে।
বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির বলেন, দেশের অর্থনীতিতে বর্তমানে এমএসএমই খাতের অবদান ৩৪ শতাংশ। অর্থনীতির প্রাণ হিসেবে পরিচিত এই খাত যত বেশি গতিশীল হবে, দেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধিও তত বেশি ত্বরান্বিত হবে। এই খাতের টেকসই সম্প্রসারণের লক্ষ্যে সরকার বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনের (বিসিক) বিদ্যমান শিল্পনগরীগুলোর পাশাপাশি আরও নতুন নতুন আধুনিক শিল্প পার্ক গড়ে তোলার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ গুরুত্ব পায় নারী উদ্যোক্তাদের অর্থায়নের সংকট। বক্তারা বলেন, দেশের জামানতবিহীন ঋণ নীতি থাকা সত্ত্বেও ব্যাংকগুলোর জটিল প্রক্রিয়ার কারণে অধিকাংশ নারী উদ্যোক্তা প্রয়োজনীয় ঋণ সুবিধা পাচ্ছেন না। ক্ষুদ্র ও মাঝারি খাতের মোট ঋণের একটি বড় অংশ নারী উদ্যোক্তাদের জন্য বরাদ্দ থাকলেও আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও কাগজপত্রের জটিলতায় তা উচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাচ্ছে না। নারী উদ্যোক্তাদের টিকিয়ে রাখতে এবং নতুন উদ্যোক্তা তৈরিতে স্বল্প সুদে এবং অত্যন্ত সহজ শর্তে প্রাতিষ্ঠানিক ব্যাংক ঋণ নিশ্চিত করার জোর দাবি জানানো হয়।
সেমিনারে বক্তারা বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা ও উচ্চ মূল্যস্ফীতির সময়ে দেশের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য কাঁচামালের সহজলভ্যতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে বর্তমান কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ডিজিটাল প্রযুক্তির যুগে দেশের উদ্যোক্তাদের বৈশ্বিক বাজারের উপযোগী করে দক্ষ হিসেবে গড়ে তোলার ওপর জোর দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিডা ও এসএমই ফাউন্ডেশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প খাতের শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ী এবং নারী উদ্যোক্তারা।
সাগুফতা/অন্তরা/