দেশে মাদক সংক্রান্ত প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধ দমনে বিচারিক কার্যক্রম জোরদার এবং ট্রাইব্যুনাল গঠনের বিধান রেখে ‘মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ (সংশোধন) আইন, ২০২৬’ বিল জাতীয় সংসদে উত্থাপন করা হয়েছে। একই অধিবেশনে ‘সাইবার নিরাপত্তা (সংশোধন) আইন, ২০২৬’ বিল উত্থাপনের মাধ্যমে বিদ্যমান সাইবার নিরাপত্তা আইনের ২০ নম্বর ধারা বিলুপ্তির প্রস্তাব আনা হয়।
শনিবার (২৭ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের ১৬তম দিনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ (সংশোধন) আইন, ২০২৬ বিলটি উত্থাপন করেন। বিলটি উত্থাপনের পর আপত্তি ওঠায় তা যাচাই-বাছাইয়ের জন্য সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়।
বিলে বলা হয়, দেশে মাদকাসক্তি ও সংশ্লিষ্ট অপরাধ দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় মামলার জট তৈরি হয়েছে এবং সাধারণ আদালতে বিচার নিষ্পত্তি দীর্ঘায়িত হচ্ছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় অপরাধপ্রবণ এলাকায় পৃথক ‘মাদকদ্রব্য অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল’ গঠনের বিধান যুক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি সাইবার স্পেসে সংঘটিত মাদক অপরাধ দমনে প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থা সংযোজন করা হয়েছে।
এছাড়া সীমান্ত এলাকায় মাদক পাচার রোধে অভিযান জোরদার, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের জন্য আগ্নেয়াস্ত্রের প্রাধিকার এবং ডগ স্কোয়াড গঠনের বিধানও বিলটিতে রাখা হয়েছে। এর আগে গত ১৮ জুন মন্ত্রিসভা এ খসড়ার অনুমোদন দেয়।
অন্যদিকে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম সাইবার নিরাপত্তা (সংশোধন) আইন, ২০২৬ বিল উত্থাপন করেন। এতে বিদ্যমান আইনের ২০ নম্বর ধারা—যেখানে সাইবার স্পেসে জুয়া সংক্রান্ত অপরাধ ও দণ্ডের বিধান ছিল—তা বিলুপ্ত করার প্রস্তাব করা হয়।
বিলে উল্লেখ করা হয়, জুয়া ও বেটিং সংক্রান্ত অপরাধ দমনে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আলাদা ‘জুয়া প্রতিরোধ আইন, ২০২৬’ প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে। ফলে একই বিষয় একাধিক আইনে না রেখে সাইবার নিরাপত্তা আইন থেকে সংশ্লিষ্ট ধারা বাদ দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।
তবে বিলের কপি সময়মতো না পাওয়ায় বিরোধী দলের নেতা অসন্তোষ প্রকাশ করেন। পরে স্পিকার বিলটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
এলিস/এসএন