এক জয়, দুই ড্রয়ে ইতিহাস গড়েছে মিসর। প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের মঞ্চে নকআউট পর্বে খেলার টিকিট কেটেছে দলটি। বলা বাহুল্য, ১৯৩৪ সালে নকআউটভিত্তিক বাছাইপর্বে ফিলিস্তিনকে হারিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছিল তারা। তখন কোনো গ্রুপপর্ব ছিল না। সেই অর্থে গ্রুপপর্বের বাধা টপকে এবারই প্রথম নকআউটে মিসর। তাদের উৎসবের কেন্দ্রে মোহাম্মদ সালাহ। আবার দুশ্চিন্তার কেন্দ্রেও সালাহ।
৮ বছর পর বিশ্বকাপে ফেরা এবং ইতিহাস গড়ে নকআউটে ওঠা, সবকিছুই সালাহর কৃতিত্ব। এ নিয়ে কোনো তর্ক নেই। তারকা এই ফুটবলারই উৎসবের রাতে চোট বাধিয়েছেন। শুক্রবার রাতে ইরানের সঙ্গে ১-১ ড্রয়েও পরের রাউন্ড নিশ্চিত করে মিসর। ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে সালাহ আবেদন জানান তাকে মাঠ থেকে তুলে নিতে। ৫৭ মিনিটে তাকে তুলে স্ট্রাইকার আহমেদ সায়েদ জিজোকে নামান কোচ হোসাম হাসান। সেই থেকে সালাহকে নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা।
দ্বিতীয়ার্ধের ১২ মিনিটে বদলি হওয়ার সময় সালাহকে স্পষ্টভাবেই হতাশ দেখাচ্ছিল। তবে হাসান বলেছেন, সমস্যাটি কতটা গুরুতর, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়। যদিও প্রাথমিকভাবে বিষয়টি গুরুতর বলে মনে হচ্ছে না। ম্যাচ শেষে মিসরের কোচ বেইন স্পোর্টসকে বলেন, ‘সে নিজেই মাঠ থেকে উঠতে চেয়েছিল। কোনো খেলোয়াড় যদি নিজে বদলি হতে চায়, তা হলে তার মানে সে কিছু একটা অনুভব করেছে। সমস্যাটা কী, সেটা আমরা নিশ্চিত হব। আমরা তার অবস্থা মূল্যায়ন করব।’
হাসান জানান, চোট পাওয়ার পর বাঁ দিকের ডিফেন্ডার আহমেদ ফাতুহর অবস্থাও পরীক্ষা করে দেখা হবে। একই সঙ্গে তিনি আশা প্রকাশ করেন, ইরানের বিপক্ষে ম্যাচটি মিস করা মিডফিল্ডার হামদি ফাথি আগামী শুক্রবার অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে মিসরের শেষ ৩২-এর ম্যাচের আগেই সুস্থ হয়ে উঠবেন। সব মিলিয়ে ফিটনেস নিয়ে উদ্বেগ থাকলেও দলের গভীরতা নিয়ে আত্মবিশ্বাসী হাসান। তার দল গোল ব্যবধানে শীর্ষে থাকা বেলজিয়ামের সমান পাঁচ পয়েন্ট নিয়ে ‘জি’ গ্রুপে দ্বিতীয় হয়েছে।
সালাহ চোটের আগেই মিসরকে এগিয়ে নিয়ে ইতিহাস গড়েন মাহুমদ সাবের। তিনি ৪ মিনিট ২৬ সেকেন্ডে গোল করেন, যা ফিফা বিশ্বকাপ ইতিহাসে কোনো মিসরীয় ফুটবলারের করা দ্রুততম গোল। আর মাঠে নেমেই ইতিহাসের পাতায় নাম তোলেন সালাহ। দেশের হয়ে সর্বোচ্চ ৫ বিশ্বকাপ ম্যাচ খেলার রেকর্ড এখন তার দখলে। তাদের কীর্তির রাতটা ইরানের জন্য ছিল দুর্ভাগ্যের। দলটির একটি গোল বাতিল হয় অফসাইডের কারণে। আর অধিনায়ক মেহদি তারেমি মিস করেন পেনাল্টি।
এক কথায়–নকআউটে ওঠার পথে ভাগ্যের ছোঁয়াও পেয়েছে মিসর। ঐতিহাসিক এই প্রাপ্তির পর জিজো বলেন, ‘শেষ ৩২-এ খেলার যোগ্যতা অর্জন করার পর আমি কতটা আনন্দিত, তা ভাষায় প্রকাশ করতে পারছি না। আমরা মাঠে নিজেদের সবকিছু উজাড় করে দিই শুধু মিসরের সাধারণ মানুষের জন্য। আমরা তাদের মুখে হাসি ফোটাতে চাই।’
পরের রাউন্ডে অস্ট্রেলিয়ার মুখোমুখি–এ নিয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘অস্ট্রেলিয়া? কোনো সমস্যা নেই, যা কিছু ঘটে ভালোর জন্যই ঘটে। আমরা দারুণ পারফর্ম করে ইতিবাচক ফল পেয়েছি এবং সুন্দরভাবে পরের রাউন্ডে পা রেখেছি। আগামীকাল (আজ) থেকেই আমরা পরবর্তী ম্যাচের প্রস্তুতি শুরু করব।’
পরবর্তী যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত হোসাম হাসানও। বেশ আত্মবিশ্বাসী কণ্ঠে মিসর কোচ বলেন, ‘আমার দলে যোদ্ধারা আছে। আমার কাছে এমন মিসরীয় খেলোয়াড় আছে, যারা তাদের ওপর রাখা বিশ্বাসের মর্যাদা দেওয়ার যোগ্য।’