ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলায় গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) হেফাজতে ছাত্রলীগকর্মী মির্জা ইশতিয়াক আহমেদ প্রান্তকে (২৮) আটকের ২ মিনিট ৩৯ সেকেন্ডের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) রাত থেকে বিভিন্ন ফেসবুক আইডিতে প্রান্তকে আটকের ২ মিনিট ৩৯ সেকেন্ডের একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে।
মির্জা ইশতিয়াক আহমেদ প্রান্ত মধুখালী উপজেলা সদরের গোন্দারদিয়া এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। তিনি ফরিদপুর আইন কলেজের শিক্ষার্থী এবং স্থানীয় ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলে জানা গেছে।
ভিডিওতে দেখা যায়, ২১ জুন বিকালের দিকে মধুখালী উপজেলার পৌরসদরের গোন্দারদিয়া এলাকায় নিজ বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন প্রান্ত। তখন তার পরনে ছিল লুঙ্গি, কাধে ল্যাপটপের ব্যাগ। এ সময় সেখানে উপস্থিত কয়েকজন ব্যক্তি প্রান্তকে ঘিরে ধরেন।
লাল রঙের টিশার্ট পরিহিত এক ব্যক্তি প্রথমে ইশতিয়াক আহমেদ প্রান্তর গতিরোধ করেন এবং তার সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করেন। পরে সাদা টিশার্ট পরিহিত আরেক ব্যক্তি এসে প্রান্তকে ধরে তল্লাশি শুরু করেন। এরপর প্রান্তকে দুই হাত দিয়ে কান ধরে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। এ সময় সাদা টিশার্ট পরিহিত এক ব্যক্তিকে গালি দিয়ে প্রান্তকে থাপ্পড় দিতে দেখা যায়। এ সময় লাল টিশার্ট পরা অপর ব্যক্তি তাকে থামিয়ে দিয়ে বলেন, ‘মারিস না’। ভিডিওতে ৪৩ সেকেন্ডের সময় ছাইরঙের চেক শার্ট পরা আরেক ব্যক্তিকে মোবাইলে বলতে শোনা যায়, লাঠি নিয়ে মরিচবাজার এলাকায় আসেন, দ্রুত আসেন। পরে তাকেও ইশতিয়াকের দেহ তল্লাশির কাজে অংশ নিতে দেখা যায়।
ভিডিওতে দেখা যায় একটি সাদা রঙের মাইক্রোবাস ঘটনাস্থলে আসে। সেখান থেকে নারী সদস্যসহ আরও কয়েকজন এসে অভিযানে যুক্ত হন। ভিডিওর দুই মিনিট সাত সেকেন্ডের সময় ছাইরঙের শার্ট পরা ব্যক্তিকে কিছু একটা দেখিয়ে ‘এই যে এক টোপলা’ বলতে শোনা যায়। তবে ভিডিওতে দেখা যায়, ওই বস্তুটি ইশতিয়াককে তল্লাশির স্থান থেকে কিছুটা দূরে ছিল।
এ ব্যাপারে ইশতিয়াকের মা খাদিজা আক্তার অভিযোগ করে বলেন, ‘আটকের পর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সদস্যরা আমার ছেলেকে নিয়ে বাড়িতে যান। সেখানে নারী সদস্য দিয়ে আমাকেও তল্লাশি করা হয়। পরে বাড়িঘর তল্লাশি করে আমার ছেলেকে নিয়ে যাওয়া হয়। রাতে ৬৫ হাজার টাকা দিলে আমার ছেলেকে ছেড়ে দেওয়া হবে বলে তাদের এক আত্মীয়ের সঙ্গে ডিবি পুলিশের কথা হয়েছিল। পরে ডিবি জানায়, এ ছেলে ছাত্রলীগ করে, আজ তাকে ছাড়া হবে না। পরদিন সকালে এক লাখ টাকা নিয়ে ফরিদপুরে যেতে বলা হয়।’
খাদিজা আক্তার আরও বলেন, ‘সকালে আমি এক লাখ টাকা নিয়ে ফরিদপুরে যাই। পরে শুনি আমার ছেলেকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। হাসপাতালে গিয়ে আমার ছেলের মরদেহ পাই। আমার ছেলেকে আমার সামনে থেকে জীবিত নিয়ে গেল, পরে তার মরদেহ পেলাম।’
তবে ইশতিয়াকের মৃত্যুর পর গত ২২ জুন ফরিদপুরের পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম বলেন, মাদকবিরোধী অভিযানে ইশতিয়াক আহমেদ প্রান্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। হেফাজতে থাকা অবস্থায় অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে প্রথমে ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতাল এবং পরে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সে মারা যায়।
তিনি আরও জানান, প্রাথমিকভাবে তারা জেনেছেন, মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণের কারণে ইশতিয়াক আহমেদ প্রান্তের মৃত্যু হয়েছে। তার শরীরে আঘাতের কোনও চিহ্ন পাওয়া যায়নি এবং পুলিশ হেফাজতে কোনো ধরনের শারীরিক নির্যাতন করা হয়নি।
এনকেবি নয়ন/খাদিজা রুমি/