ঢাকা ১৪ আষাঢ় ১৪৩৩, রোববার, ২৮ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
উৎসব-দুশ্চিন্তার কেন্দ্রে সালাহ ফিনিক্স সামিট ২০২৬-এর সমাপনী দিনে সাইবার নিরাপত্তা জোরদারে গুরুত্বারোপ সাঁজোয়া যানের দুর্ঘটনায় ৬ বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী আহত, সবাই আশঙ্কামুক্ত ওয়াশিংটনের ফ্রেমওয়ার্ক চুক্তি প্রত্যাখ্যান করল হিজবুল্লাহ সংসদে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ ও সাইবার নিরাপত্তা আইনের সংশোধনী বিল তৃণমূলের মানুষের কল্যাণেই এ বাজেট, বাস্তবায়নে আত্মবিশ্বাসী সরকার: সমবায় প্রতিমন্ত্রী কুমিল্লায় যুবক হত্যা: ৯৯৯-এ ফোন করা প্রতিবেশী নারী আটক জর্ডানের বিপক্ষে কেমন হতে পারে আর্জেন্টিনা একাদশ টাঙ্গাইলকে সিটি করপোরেশনে উন্নীত করুন: এমপি আবদুস সালাম রোমে একই পরিবারের তিন বাংলাদেশি খুন, পরকীয়ার জেরের দাবি জিআই পণ্য টাঙ্গাইলের তাঁত শিল্প রক্ষায় সহজ শর্তে ঋণের দাবি প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রীর সময় চাহিয়া লজ্জা দিবেন না: স্পিকার ফুলগাজীতে সড়ক দুর্ঘটনা: মা-মেয়েসহ প্রাণ গেল ৩ জনের বরগুনায় জলবায়ু সচেতনতায় তরুণদের ক্যাম্প পাগলা মসজিদের দানবাক্সে নতুন রেকর্ড, ৪৩ বস্তায় মিলল ১৫ কোটি ৯০ লাখ টাকা রাঙামাটিতে প্রথমবারের মতো জেলা প্রশাসক গোল্ড কাপ প্রমীলা ফুটবল টুর্নামেন্ট শুরু ১০ দফা দাবিতে সিলেটে জাতীয় মুক্তি কাউন্সিলের সমাবেশ বিএনপি-জামায়াতকে বাদ দিয়ে তৃতীয় শক্তির নতুন জোটের ইঙ্গিত মান্নার জটিল রোগে আক্রান্ত জুবায়ের, সহায়তার আবেদন পরিবারের তিস্তা প্রকল্প, রোহিঙ্গা সমস্যা ও ব্রিকসে বাংলাদেশকে সহায়তা করবে চীন: পররাষ্ট্রমন্ত্রী গাজীপুরে আবারও পুলিশ-শ্রমিক সংঘর্ষ, আহত ১২ যাকাত টেলিভিশন চালুর দাবি, ইসলামী ব্যাংকের উন্নয়নের ওপর জোর পার্থর প্রতিটি মন্ত্রণালয়কে ‘ডিসেবিলিটি ইনক্লুসিভ’ করা হবে: স্বাস্থ্যপ্রতিমন্ত্রী ‘বাংলাদেশ কি মুসলমানের জন্য স্বাধীন হয়েছে, না সব জাতি-ধর্মের মানুষের জন্য?’ কক্সবাজার সৈকতে গোসলে নেমে পর্যটক নিখোঁজ এইচএসসি পরীক্ষার সব কক্ষে সিসিটিভি বসানোর নির্দেশ শিক্ষামন্ত্রীর কোম্পানীগঞ্জে কোটি টাকার ভারতীয় জিরা জব্দ, আটক ১ ডিজিটাল সাংবাদিকতায় এআই ও ফ্যাক্টচেক দক্ষতায় পিআইবির প্রশিক্ষণ মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতা বাড়ানোর জোর দাবি এমপি জয়নুল আবেদিনের যে ৩টি কাজে আল্লাহ অসন্তুষ্ট হন

ফিনিক্স সামিট ২০২৬-এর সমাপনী দিনে সাইবার নিরাপত্তা জোরদারে গুরুত্বারোপ

প্রকাশ: ২৭ জুন ২০২৬, ১১:১৩ পিএম
ফিনিক্স সামিট ২০২৬-এর সমাপনী দিনে সাইবার নিরাপত্তা জোরদারে গুরুত্বারোপ
ছবি: সংগৃহীত

ডিজিটাল সহনশীলতা বৃদ্ধি, সাইবার সক্ষমতা জোরদার ও উদীয়মান অর্থনীতিগুলোর মধ্যে সহযোগিতা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে আয়োজিত দেশের অন্যতম বৃহৎ প্রযুক্তি প্ল্যাটফর্ম ‘ফিনিক্স সামিট ২০২৬’ শেষ হয়েছে। ‘ক্লোজিং দ্য সাইবার গ্যাপ ইন ইমার্জিং ইকোনোমিকস’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত পাঁচ দিনব্যাপী এই আয়োজনের সমাপনী অনুষ্ঠান আজ শনিবার রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে (বিসিএফসিসি) অনুষ্ঠিত হয়।

সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। এতে সরকারি নীতিনির্ধারক, প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ, গবেষক, শিল্পখাতের প্রতিনিধি ও শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। সামিটের মূল কনফারেন্সে সাইবার নিরাপত্তা, জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো সুরক্ষা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং বৈশ্বিক সাইবার হুমকি মোকাবিলা নিয়ে প্যানেল আলোচনা করেন দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞরা।

তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন তাঁর বক্তব্যে বলেন, ‘সম্প্রতি চীন সফরে তাদের নীতিনির্ধারকদের সাথে প্রযুক্তি বিষয়ে আমাদের আলোচনা হয়েছে। কীভাবে তাদের জ্ঞান, অভিজ্ঞতা, প্রযুক্তিগত দক্ষতা ও সফট পাওয়ার কাজে লাগানো যায় সে বিষয়ে আমাদের প্রধানমন্ত্রী চিন্তা করছেন। আমাদের দেশের জনসংখ্যার বড় অংশই নবীন। এই ডেমোগ্রাফিক বাস্তবতা আমাদের জন্য বড় সুবিধা হতে পারে, যদি আমরা তা পরিকল্পিতভাবে কাজে লাগাতে পারি। এই আয়োজন থেকে বোঝা যাচ্ছে আমাদের তরুণদের মধ্যে বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। এই আয়োজনের উদ্যোক্তাদের আমি বিশেষ ধন্যবাদ জানাই।’

আয়োজক প্রতিষ্ঠান দ্য টিম ফিনিক্স গ্রুপের (টিটিপিজি) প্রতিষ্ঠাতা ও চিফ অব রিসার্চ এএসএম শামীম রেজা বলেন, ‘ফিনিক্স সামিট ঢাকা ২০২৬ বাংলাদেশের সাইবার নিরাপত্তা ইকোসিস্টেমকে আরও শক্তিশালী ও সমন্বিত করার একটি যৌথ উদ্যোগ। গত কয়েকদিনে দেশ-বিদেশের নীতিনির্ধারক, সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ, গবেষক, শিক্ষার্থী ও প্রযুক্তি পেশাজীবীদের অংশগ্রহণ আমাদের প্রত্যাশাকে ছাড়িয়ে গেছে। এই সামিটে যে জ্ঞান-বিনিময়, সহযোগিতার সুযোগ এবং নতুন ধারণার সৃষ্টি হয়েছে, তা আগামী দিনে বাংলাদেশের ডিজিটাল নিরাপত্তা ও সহনশীলতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। আমরা বিশ্বাস করি, এখান থেকে তৈরি হওয়া সংযোগ ও উদ্যোগগুলো ভবিষ্যতে আরও নিরাপদ ডিজিটাল বাংলাদেশ গঠনের পথকে সুদৃঢ় করবে।’

সমাপনী অনুষ্ঠানে সাইবার নিরাপত্তা শিল্পে আজীবন নেতৃত্ব ও অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ফাইবার অ্যাট হোমের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা (সিআইও) সুমন আহমেদ সাবিরকে আজীবন সম্মাননা প্রদান করা হয়।

এ ছাড়া ভবিষ্যৎ প্রজন্মের নারীদের অনুপ্রাণিত করার স্বীকৃতিস্বরূপ বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশনস কোম্পানি লিমিটেডের (বিটিসিএল) উপমহাব্যবস্থাপক (ডোমেইন) জয়ীতা সেন রিম্পীকে বিশেষ সম্মাননা প্রদান করা হয়। 

উল্লেখ্য, গত ২৩ জুন থেকে শুরু হওয়া সামিটের প্রথম তিন দিনে বাংলাদেশ কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে বিভিন্ন টেকনিক্যাল কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। এর মধ্যে ন্যাশনাল সাইবার সিকিউরিটি এজেন্সির (এনসিএসএ) সহযোগিতায় ‘প্র্যাক্টিক্যাল সাইবার ইনভেস্টিগেশন’ কর্মশালা বিশেষভাবে অংশগ্রহণকারীদের আকর্ষণ করে। এছাড়া ‘ডেভসেকঅপস ফর প্র্যাকটিশনার্স’, ‘মাস্টার অ্যাপ্লিকেশন সিকিউরিটি: ভালনারেবিলিটি ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড পেনিট্রেশন টেস্টিং’ এবং ‘র‍্যানসামওয়্যার মেকানিক্স’ শীর্ষক কর্মশালায় অংশগ্রহণকারীরা হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন।

ব্র্যাক ব্যাংক পিএলসির পৃষ্ঠপোষকতায় (পাওয়ার্ড বাই) আয়োজিত এই সামিটে ১০ হাজারের বেশি অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন সেশন, কর্মশালা, প্রদর্শনী ও নেটওয়ার্কিং কার্যক্রমে যুক্ত হন। সামিটে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ৭৩টি স্টল অংশ নেয়। এতে, ক্লাব পার্টনার হিসেবে ১৮টি বিশ্ববিদ্যালয় ও নলেজ পার্টনার হিসেবে দেশি-বিদেশি ৩টি প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়। 

সামিটটি সফল করতে সার্বিক সহযোগিতা করেছে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়, আইসিটি বিভাগ এবং এনসিএসএ। আয়োজনের পাওয়ার্ড বাই স্পন্সর ব্র্যাক ব্যাংক পিএলসি ও ইন অ্যাসোসিয়েশন উইথ স্পন্সর হিসেবে রয়েছে এক্সেনটেক পিএলসি। গোল্ড স্পন্সর হিসেবে রয়েছে ব্যাংক এশিয়া, ইস্টার্ন ব্যাংক পিএলসি (ইবিএল), ম্যাগনাস কর্পোরেশন, সান্স ইনস্টিটিউট, এমজিএইচ, মোহাম্মদ অ্যান্ড সন্স ও মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ। সিলভার স্পন্সর হিসেবে রয়েছে সিটি ব্যাংক পিএলসি ও ম্যাক্সক্রিট। এছাড়াও, ব্রোঞ্জ স্পন্সর হিসেবে রয়েছে এগ্রোশিফট, গোল্ড কিনেন, এপনিক, বিজিআই, সাইহাম নিট কম্পোজিট লিমিটেড, সিটিজেনস ব্যাংক, বেঙ্গল ইনফোসেক লিমিটেড ও অরেঞ্জ সল্যুশন লিমিটেড। সাইবার সিকিউরিটি নলেজ পার্টনার হিসেবে রয়েছে এপনিক, সান্স ইনস্টিটিউট ও রিসিকিউরিটি। পাশাপাশি, ফেলোশিপ পার্টনার হিসেবে ফ্ল্যাক্সঅপ্টিক্স জিএমবিএইচ ও স্ট্র্যাটেজিক পার্টনার হিসেবে এসসিআইটিপি ও আইএসপিএবি রয়েছে।

সুপার কম্পিউটিংয়ের লড়াইয়ে শীর্ষে চীন

প্রকাশ: ২৫ জুন ২০২৬, ০৬:০৭ পিএম
সুপার কম্পিউটিংয়ের লড়াইয়ে শীর্ষে চীন
ছবি: সংগৃহীত

২০১৭ সালের পর এই প্রথম বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুতগতির সুপার কম্পিউটারের তালিকায় শীর্ষস্থান ফিরে পেয়েছে চীন। দেশটির ‘লাইনশাইন’ নামের একটি নতুন সুপার কম্পিউটার এই গৌরব অর্জন করেছে। এটি যুক্তরাষ্ট্রের লরেন্স লিভারমোর ন্যাশনাল ল্যাবরেটরির ‘এল ক্যাপিটান’ সুপার কম্পিউটারকে পেছনে ফেলেছে।

আন্তর্জাতিক সুপার কম্পিউটার র‍্যাংকিং ‘টপ৫০০’-এর তথ্য অনুযায়ী, লাইনশাইন সুপার কম্পিউটারটি সেকেন্ডে ২ দশমিক ১৯৮ এক্সাফ্লপস গতিতে কাজ করতে পারে। এর আগে শীর্ষে থাকা এল ক্যাপিটানের গতি ছিল ১ দশমিক ৮০৯ এক্সাফ্লপস। শুধু সিপিইউ (সেন্ট্রাল প্রসেসিং ইউনিট) ব্যবহার করে ২ এক্সাফ্লপসের বেশি গতি অর্জন করা বিশ্বের প্রথম সুপার কম্পিউটার এটি।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তিগত নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও চীন এই সাফল্য পেয়েছে। কারণ, অন্যান্য শীর্ষ মডেলের মতো এটি জিপিইউর (গ্রাফিক্স প্রসেসিং ইউনিট) ওপর নির্ভরশীল নয়। এতে একটি বিশেষ ধরনের ৩০৪-কোর প্রসেসর ব্যবহার করা হয়েছে। এর মোট কোর সংখ্যা ১৩ দশমিক ৭৯ মিলিয়ন, যা ১ দশমিক ৫৫ গিগাহার্টজ গতিতে চলে। এই কম্পিউটারটি চালাতে ৪২ দশমিক ২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ প্রয়োজন হয়।

টপ৫০০-এর অন্যতম আয়োজক ড. জ্যাক ডনগ্যারা নিউইয়র্ক টাইমসকে বলেন, ‘এটি একটি চমৎকার সিস্টেম। জিপিইউর ওপর নির্ভর না করে তারা এই ব্যবস্থা তৈরি করে আমাদের ছাড়িয়ে গেছে।’

নতুন এই তালিকায় বিশ্বের পাঁচটি সুপার কম্পিউটার ‘এক্সাস্কেল’ বা অতি উচ্চগতির স্তর অতিক্রম করেছে। এর মধ্যে একটি চীনের, তিনটি যুক্তরাষ্ট্রের এবং একটি জার্মানির। তালিকায় তৃতীয় স্থানে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ওক রিজ ন্যাশনাল ল্যাবরেটরির ‘ফ্রন্টিয়ার’ (১ দশমিক ৩৫৩ এক্সাফ্লপস)। চতুর্থ স্থানে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রেরই ‘অরোরা’ (১ দশমিক ০১২ এক্সাফ্লপস)। আর জার্মানির জ্যুলিশ সুপারকম্পিউটিং সেন্টারের ‘জুপিটার বুস্টার’ রয়েছে পঞ্চম স্থানে।

টপ৫০০ জানিয়েছে, এবারের তালিকায় প্রযুক্তির বৈচিত্র্য দেখা গেছে। বিভিন্ন সুপার কম্পিউটারে ইনটেল, এএমডি এবং এনভিডিয়ার মতো ভিন্ন ভিন্ন কোম্পানির চিপ ব্যবহার করা হয়েছে। শীর্ষ স্তরের কম্পিউটিংয়ের জন্য এখন কোনো একক প্রযুক্তির ওপর নির্ভর করা হচ্ছে না। নির্মাতারা বিভিন্ন ধরনের সিপিইউ, জিপিইউ ও নিজস্ব প্রযুক্তির প্রসেসর ব্যবহার করছেন।

সাধারণত সরকারি বিধিনিষেধের কারণে চীন তাদের সুপার কম্পিউটারের নকশা গোপন রাখে। তবে লাইনশাইন সুপার কম্পিউটারটি কোনো সরকারি অনুদান ছাড়া ব্যক্তিগত অর্থায়নে তৈরি করা হয়েছে। তাই এর নির্মাতারা এটি পরীক্ষার জন্য টপ৫০০-এর কাছে জমা দিতে পেরেছেন। তবে প্রসেসরটি কোন কোম্পানি তৈরি করেছে বা এতে কী ধরনের চিপ প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে, তা এখনো প্রকাশ করা হয়নি।

বিশ্ববাজারে চীনা থ্রিডি প্রিন্টারের রপ্তানি দ্বিগুণ বেড়েছে

প্রকাশ: ২৪ জুন ২০২৬, ০৬:০৯ পিএম
বিশ্ববাজারে চীনা থ্রিডি প্রিন্টারের রপ্তানি দ্বিগুণ বেড়েছে
চায়নিজ থ্রিডি প্রিন্টার।

প্রযুক্তিগত অগ্রগতি, রপ্তানি বৃদ্ধি এবং ব্যবহারক্ষেত্রের সম্প্রসারণের ফলে চীনের থ্রিডি প্রিন্টিং শিল্প দ্রুত বিকাশের নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করেছে। এই প্রযুক্তি এখন মহাকাশ, রোবটিক্স, ভোক্তা ইলেকট্রনিক্সসহ বিভিন্ন শিল্পে ব্যাপক উৎপাদনের অংশ হয়ে উঠছে। একই সময়ে চীনের থ্রিডি প্রিন্টার রপ্তানিও বেড়েছে দ্বিগুণের বেশি। সম্প্রতি চীনের নিংসিয়া হুই স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলের উন্নত থ্রিডি প্রিন্টিং কাস্টিং প্রযুক্তি এবার পূর্বাঞ্চলীয় ফুচিয়ান প্রদেশে সফলভাবে স্থানান্তরিত হয়েছে। এই প্রযুক্তি চীনের স্মার্ট কাস্টিং খাতে নতুন শিল্পায়নের দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
চীনের নিংসিয়া হুই স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলের উন্নত থ্রিডি প্রিন্টিংভিত্তিক ঢালাই প্রযুক্তি এখন পূর্বাঞ্চলীয় ফুচিয়ান প্রদেশে শিল্পোন্নয়নের নতুন সম্ভাবনা তৈরি করছে। একই সঙ্গে বৈশ্বিক বাজারে চীনা থ্রিডি প্রিন্টারের চাহিদাও বাড়ছে দ্রুত। চলতি বছরের প্রথম চার মাসে দেশটির থ্রিডি প্রিন্টার রপ্তানি বেড়েছে একশ শতাংশেরও বেশি।

নিংসিয়ার রাজধানী ইনছুয়ানের একটি কোম্পানি ফুচিয়ানের নানআন শহরে একটি আধুনিক স্মার্ট কাস্টিং কারখানা স্থাপন করেছে। কোম্পানিটি চীনের অন্যতম শীর্ষ স্মার্ট ফাউন্ড্রি প্রতিষ্ঠান, যারা সম্পূর্ণ উৎপাদন প্রক্রিয়ায় থ্রিডি প্রিন্টিং প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে।
নানআন সিটি শিল্প ও তথ্যপ্রযুক্তি ব্যুরোর পরিচালক হুয়াং চিয়া জানালেন, ‘কোম্পানিটির থ্রিডি প্রিন্টিং স্মার্ট ফ্যাক্টরি নানআন শহরের প্রযুক্তিগত শূন্যতা পূরণ করেছে। একই সঙ্গে এটি ফুচিয়ানের শিল্পসম্পদকে কাজে লাগিয়ে নিংসিয়ার যন্ত্রপাতি শিল্পের সরবরাহ ব্যবস্থাও শক্তিশালী করেছে।’
স্থানীয় শিল্পচেইনের ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠানটি এখন শুধু পণ্য বিক্রি করছে না, বরং সম্পূর্ণ উৎপাদন লাইন সরবরাহ করছে। 
এদিকে বৈশ্বিক বাজারেও চীনা থ্রিডি প্রিন্টারের জনপ্রিয়তা দ্রুত বাড়ছে। চীনের কাস্টমস প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত দেশটি ২৪ লাখ ৬০ হাজার থ্রিডি প্রিন্টার রপ্তানি করেছে, যার মোট মূল্য ৬১০ কোটি ইউয়ানের বেশি।
চীনা ভোক্তা-পর্যায়ের থ্রিডি প্রিন্টার ইউরোপ, উত্তর আমেরিকা, লাতিন আমেরিকা এবং এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পাচ্ছে।
শেনচেন থুওচু টেকনোলজি কোম্পানির পণ্য পরামর্শক শি তি জানালেন, ‘গত বছর আমাদের মোট আয়ের প্রায় ৭০ শতাংশ এসেছে বিদেশি বাজার থেকে। ইউরোপ ও আমেরিকা এখনও প্রধান বাজার হলেও লাতিন আমেরিকা এবং এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল দ্রুত উদীয়মান বাজারে পরিণত হচ্ছে।’
প্রযুক্তিগত উন্নয়নের ফলে চীনে আগে যেসব পণ্য তৈরি করতে শিল্পমানের থ্রিডি প্রিন্টার প্রয়োজন হতো, এখন সেগুলোর অনেকগুলোই ভোক্তা-পর্যায়ের যন্ত্র দিয়ে তৈরি করা সম্ভব হচ্ছে।  বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দ্রুত সেবা, উন্নত কর্মক্ষমতা এবং প্রতিযোগিতামূলক মূল্যই চীনের থ্রিডি প্রিন্টার শিল্পের মূল শক্তি। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম চার মাসে শুধু শেনচেন থেকেই ৫ দশমিক ২৪ বিলিয়ন ইউয়ান মূল্যের থ্রিডি প্রিন্টার রপ্তানি হয়েছে, যা জাতীয় মোট রপ্তানির প্রায় ৮৬ শতাংশ। সূত্র: সিএমজি

বাজারে আসছে ভালভের নতুন স্টিম মেশিন

প্রকাশ: ২৪ জুন ২০২৬, ০৫:০২ পিএম
বাজারে আসছে ভালভের নতুন স্টিম মেশিন
ছবি: সংগৃহীত

ভিডিও গেম নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ভালভ তাদের নতুন গেমিং কনসোল ‘স্টিম মেশিন’-এর আগাম বুকিং শুরু করেছে। একই সঙ্গে ডিভাইসটির দামও প্রকাশ করেছে প্রতিষ্ঠানটি। কন্ট্রোলার বা রিমোট ছাড়া ৫১২ জিবি সংস্করণের স্টিম মেশিনের প্রাথমিক দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ হাজার ৪৯ ডলার। কন্ট্রোলারসহ এই সংস্করণের একটি বান্ডেল কিনতে খরচ হবে ১ হাজার ১২৮ ডলার। আলাদাভাবে কিনলে এই কন্ট্রোলারের দাম পড়বে ৯৯ ডলার। তবে এখন আলাদা অর্ডার করলে ২০২৭ সালের আগে তা সরবরাহ নাও করা হতে পারে। এ ছাড়া ২ টিবি স্টোরেজ সংস্করণের স্টিম মেশিনের দাম ১ হাজার ৩৪৯ ডলার। আর কন্ট্রোলারসহ এর দাম পড়বে ১ হাজার ৪২৮ ডলার।

কালোবাজারি ঠেকাতে প্রথম চালানের জন্য লটারি পদ্ধতি চালু করেছে ভালভ। এতে অংশ নিতে গ্রাহকের একটি সচল স্টিম অ্যাকাউন্ট থাকতে হবে এবং চলতি বছরের ২৭ এপ্রিলের আগে সেখান থেকে অন্তত একটি কেনাকাটা করার রেকর্ড থাকতে হবে। ২৫ জুন পর্যন্ত বুকিংয়ের জন্য আবেদন করা যাবে। মূলত বট এবং দ্রুতগতির ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের অনৈতিক সুবিধা বন্ধ করতে এই স্বচ্ছ পদ্ধতি বেছে নিয়েছে ভালভ।

আবেদনকারীদের মধ্য থেকে লটারির মাধ্যমে একটি রিজার্ভেশন ও অপেক্ষমাণ তালিকা তৈরি করা হবে। ২৯ জুন থেকে নির্বাচিত গ্রাহকদের ই-মেইল পাঠানো শুরু হবে। ভালভ জানিয়েছে, তারা প্রতিটি পরিবারের জন্য কেবল একটি ডিভাইসের আবেদন যাচাই করবে। প্রাথমিকভাবে উত্তর আমেরিকা, যুক্তরাজ্য, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও অস্ট্রেলিয়ায় এটি সরবরাহ করা হবে। জাপান, তাইওয়ান ও হংকংয়ে এর বিক্রির দায়িত্বে রয়েছে কোমোডো। তবে দক্ষিণ কোরিয়ায় এটি পাওয়া যাবে না।

স্টোরেজ বাদে সব সংস্করণের স্টিম মেশিনের কনফিগারেশন একই রাখা হয়েছে। এতে রয়েছে সেমি-কাস্টম এএমডি জেন ৪ প্রসেসর এবং এএমডি আরডিএনএ৩ গ্রাফিক্স। সঙ্গে থাকছে ১৬ জিবি ডিডিআর৫ র‍্যাম এবং ৮ জিবি জিডিডিআর৬ ভিআর‌্যাম । এর মাইক্রোএসডি স্লটের মাধ্যমে স্টোরেজ বাড়ানো যাবে। সংযোগের জন্য ডিভাইসটিতে দুটি ইউএসবি ২.০, দুটি ইউএসবি ৩.২ এবং একটি ইউএসবি-সি পোর্ট রয়েছে। ডিসপ্লেপোর্ট ১.৪ এবং এইচডিএমআই ২.০ পোর্টের মাধ্যমে এটি ডিসপ্লেতে যুক্ত করা যাবে। এটি ব্লুটুথ ৫.৩ এবং ওয়াই-ফাই ৬ই সমর্থন করে। প্রায় ৬ ইঞ্চির একটি চারকোনা বাক্সের আকারে তৈরি হয়েছে এই শক্তিশালী মিনি পিসি।

সরাসরি মোবাইলেই মিলবে স্যাটেলাইট ইন্টারনেট

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬, ০৪:৪৭ পিএম
সরাসরি মোবাইলেই মিলবে স্যাটেলাইট ইন্টারনেট
ছবি: সংগৃহীত

মহাকাশে সফলভাবে তিনটি ‘ব্লক ২ ব্লুবার্ড’ স্যাটেলাইট পাঠিয়েছে এএসটি স্পেসমোবাইল। গত ১৭ জুন যুক্তরাষ্ট্রের কেপ কানাভেরাল থেকে স্পেসএক্সের ফ্যালকন ৯ রকেটের সাহায্যে ৮, ৯ এবং ১০ নম্বর ব্লুবার্ড স্যাটেলাইট তিনটি উৎক্ষেপণ করা হয়। এর মাধ্যমে সাধারণ স্মার্টফোনে সরাসরি স্যাটেলাইট ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সেবা দেওয়া সম্ভব হবে।

এই ইন্টারনেট প্রযুক্তিতে কোনো অতিরিক্ত সিম কার্ড, বিশেষ হ্যান্ডসেট ও বাড়ির ছাদে ডিশ অ্যান্টেনার প্রয়োজন হবে না। যুক্তরাষ্ট্রের এটিঅ্যান্ডটি এবং ভেরাইজন গ্রাহকরা প্রথম এই আধুনিক সেবা পাবেন।

সাধারণ স্মার্টফোন সাধারণত শূন্য দশমিক ২ থেকে ২ ওয়াট শক্তিতে রেডিও সংকেত পাঠায়। এই সংকেত কেবলমাত্র কয়েক কিলোমিটার দূরের মোবাইল টাওয়ারে পৌঁছাতে সক্ষম। অন্যদিকে কৃত্রিম উপগ্রহ বা স্যাটেলাইটগুলো পৃথিবী থেকে শত শত কিলোমিটার উঁচুতে ঘণ্টায় ১৭ হাজার মাইল বেগে ছুটে চলে। এই বিশাল দূরত্বের কারণে সাধারণ ফোন থেকে সংকেত আদান-প্রদান করা অত্যন্ত কঠিন। প্রকৌশলীরা একে ‘লিংক বাজেট’ সমস্যা বলে থাকেন। এই সমস্যার একমাত্র সমাধান স্যাটেলাইটের অ্যান্টেনা অনেক বড় করা।

নতুন প্রতিটি ব্লুবার্ড স্যাটেলাইটে প্রায় ২ হাজার ৪০০ বর্গফুটের অ্যান্টেনা রয়েছে। এটি এখন পর্যন্ত পৃথিবীর নিম্ন কক্ষপথে থাকা সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক যোগাযোগ অ্যান্টেনা। এটি এই প্রতিষ্ঠানের আগের ব্লক ১ স্যাটেলাইটের চেয়ে প্রায় তিন গুণ বড়। বিশাল এই অ্যান্টেনার কারণে স্যাটেলাইটগুলো মোবাইল থেকে আসা অতিক্ষীণ সংকেতও সহজে শনাক্ত করতে পারবে। এর পর সেই সংকেত গ্রাউন্ড স্টেশনের মাধ্যমে মোবাইল অপারেটরের মূল নেটওয়ার্কে পাঠিয়ে দেবে।

এই স্যাটেলাইটগুলোর মূল চালিকাশক্তি তাদের নিজস্ব ‘এএসটি ৫০০০’ চিপ। এটি তৈরিতে বিজ্ঞানীদের ১৫০ বছর সমমানের সম্মিলিত গবেষণা করতে হয়েছে। প্রতিটি স্যাটেলাইট সেকেন্ডে প্রায় ২০০ মেগাবিট (এমবিপিএস) সর্বোচ্চ গতিতে ডেটা সরবরাহ করতে পারবে। এটি আগের সংস্করণের চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ গতি। সাধারণ ৪জি ও ৫জি স্মার্টফোন কোনো ধরনের সফটওয়্যার বা ফার্মওয়্যার আপডেট ছাড়াই সরাসরি এই স্যাটেলাইটের সঙ্গে যুক্ত হতে পারবে। মহাকাশে থাকা এই স্যাটেলাইটগুলো মূলত ভাসমান মোবাইল টাওয়ার হিসেবে কাজ করবে।

যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল কমিউনিকেশনস কমিশন (এফসিসি) এএসটি স্পেসমোবাইলকে ২০৩০ সালের মধ্যে ১২৪টি স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে। বর্তমানে মহাকাশে তাদের মোট ১০টি কার্যকর স্যাটেলাইট রয়েছে। ২০২৬ সালের মধ্যে তারা ৪৫টি স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। বিশ্বের প্রায় ৬০টি মোবাইল নেটওয়ার্ক অপারেটরের সঙ্গে তাদের চূড়ান্ত বাণিজ্যিক চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। এর ফলে বিশ্বজুড়ে প্রায় ৩০০ কোটি গ্রাহক এই প্রযুক্তির সুবিধা পাবেন। বিশেষ করে দুর্গম অঞ্চল, সমুদ্র এবং যেখানে প্রথাগত মোবাইল টাওয়ার নেই, সেখানে এই প্রযুক্তি জরুরি যোগাযোগ সচল রাখবে।

এই সফল উৎক্ষেপণটি প্রতিষ্ঠানের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। কারণ চলতি বছরের এপ্রিল ও মে মাসে তারা পরপর দুটি বড় ধাক্কা খেয়েছে। ১৯ এপ্রিল ব্লু অরিজিনের নিউ গ্লেন রকেটের কারিগরি ত্রুটির কারণে তাদের ব্লুবার্ড ৭ স্যাটেলাইটটি ধ্বংস হয়ে যায়। এতে তাদের প্রায় সাড়ে ১৫ কোটি ডলারের আর্থিক ক্ষতি হয়। এর পর মে মাসে এক পরীক্ষামূলক বিস্ফোরণে নিউ গ্লেন রকেটের উৎক্ষেপণ কেন্দ্রটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ফলে স্পেসএক্সের ফ্যালকন ৯ রকেটের ওপর এখন পুরো ভরসা করতে হচ্ছে প্রতিষ্ঠানটিকে।

স্পেসএক্সের নিজস্ব স্টারলিংক প্রযুক্তির সঙ্গে এর বড় পার্থক্য রয়েছে। স্টারলিংক ছোট আকারের অনেক স্যাটেলাইট ব্যবহার করে। তারা বর্তমানে শুধু টেক্সট আদান-প্রদানের সুবিধা দিচ্ছে। তবে এএসটি স্পেসমোবাইলের অ্যান্টেনা স্টারলিংকের চেয়ে ৩৫ থেকে ৪০ গুণ বড়। এ কারণে তারা সরাসরি সাধারণ ফোনে উচ্চগতির ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট ও ভয়েস কল দিতে পুরোপুরি সক্ষম। ২০২৭ সালের প্রথমার্ধের মধ্যে এই বাণিজ্যিক সেবা পুরোদমে চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির। প্রত্যন্ত অঞ্চলের যেসব মানুষের কোনো নেটওয়ার্ক নেই, তাদের জন্য এই প্রযুক্তি যোগাযোগব্যবস্থায় এক যুগান্তকারী ও নতুন বিপ্লব নিয়ে আসবে।

মিডজার্নি আনছে নতুন আলট্রাসনিক বডি স্ক্যানার

প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৬, ০২:০৬ পিএম
মিডজার্নি আনছে নতুন আলট্রাসনিক বডি স্ক্যানার
ছবি: সংগৃহীত

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির মাধ্যমে ছবি তৈরির জন্য মিডজার্নি বেশ পরিচিত। তবে এবার তারা সম্পূর্ণ ভিন্ন ও অপ্রত্যাশিত একটি প্রকল্পে হাত দিয়েছে। তারা এমন একটি অত্যাধুনিক মেডিকেল স্ক্যানার তৈরি করছে, যা মাত্র ৬০ সেকেন্ডের মধ্যে মানুষের পুরো শরীর স্ক্যান করতে পারবে।

এই ঘোষণা মিডজার্নির সাধারণ কাজের গণ্ডির এতটাই বাইরে যে অনেকে এটিকে নিছক রসিকতা ভেবেছিলেন। তবে এটি পুরোপুরি বাস্তব। সম্প্রতি প্রতিষ্ঠানটি নতুন প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছে। কাজের পরিধি বাড়াতে ‘মিডজার্নি মেডিকেল’ নামের উদ্যোগ নিয়েছে। এই উদ্যোগের প্রথম হার্ডওয়্যার পণ্য হতে যাচ্ছে স্ক্যানার। তারা এমন একটি যন্ত্রের স্বপ্ন দেখেছে, যা এমআরআই-এর মতো শক্তিশালী এবং স্পা-তে যাওয়ার মতোই আরামদায়ক হবে।

স্ক্যানিং প্রক্রিয়াটি বেশ অভিনব। ব্যবহারকারী একটি প্ল্যাটফর্মে দাঁড়ানোর পর তাকে প্রতি সেকেন্ডে দুই ইঞ্চি করে পানিতে ডুবিয়ে দেওয়া হবে। এ সময় শরীর একটি রিঙের ভেতর দিয়ে যাবে। রিংটিতে বালুকণার সমান প্রায় পাঁচ লাখ সেন্সর থাকবে। এগুলো থেকে আলট্রাসনিক তরঙ্গ বের হবে এবং প্রতিফলিত হয়ে ফিরে আসবে। মিডজার্নি প্রযুক্তিটিকে ডলফিনের শব্দতরঙ্গের সাহায্যে অবস্থান নির্ণয়ের সঙ্গে তুলনা করেছে। স্ক্যানিং শেষে শরীরের একটি ত্রিমাত্রিক মানচিত্র তৈরি হবে। এটি বর্তমানের এমআরআইয়ের মতো হলেও কাজ করবে প্রায় ১০০ গুণ বেশি গতিতে। এমআরআইয়ে যেখানে ৬০-৯০ মিনিট লাগে, সেখানে এটি এক মিনিটেরও কম সময় নেবে।

যন্ত্রটি তৈরিতে পোর্টেবল আলট্রাসাউন্ড নির্মাতা বাটারফ্লাই নেটওয়ার্কের সঙ্গে কাজ করছে মিডজার্নি। ২০২৫ সালের নভেম্বরে তাদের মধ্যে একটি চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। প্রকল্পটির নেতৃত্বে আছেন মিডজার্নির হার্ডওয়্যার বিভাগের প্রধান আহমাদ আব্বাস। তিনি আগে অ্যাপল ভিশন প্রো তৈরিতে কাজ করেছেন।

আগামী ১২ মাস মিডজার্নি স্ক্যানারের অ্যালগরিদম উন্নত করার কাজ করবে। ২০২৭ সালে সান ফ্রান্সিসকোতে প্রথম স্ক্যানারযুক্ত স্পা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে তাদের। এর পর যন্ত্রটির সক্ষমতার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসনের অনুমোদন নেওয়া হবে। ২০২৮ সালে কাস্টম সিলিকন ব্যবহার করে উন্নত তৃতীয় প্রজন্মের স্ক্যানার আনার লক্ষ্য রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির।

২০৩১ সালের মধ্যে বিশ্বজুড়ে ৫০ হাজার স্ক্যানার চালুর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে মিডজার্নি। তাদের প্রত্যাশা, দ্রুত রোগ নির্ণয়ের মাধ্যমে বিশ্বের ৩০ শতাংশ মৃত্যু ও ৫০ শতাংশ চিকিৎসা ব্যয় কমানো সম্ভব হবে।