ঢাকা ১৩ আষাঢ় ১৪৩৩, শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
প্রখ্যাত চক্ষু বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক রবিউল হোসেন আর নেই হাতীবান্ধায় পুলিশ কর্মকর্তাদের কুপিয়ে পালাল আসামি হুমায়ুন কবীর বালুর হত্যাবার্ষিকীতে স্মরণসভা, বিচার বাস্তবায়নের দাবি বিশ্বকাপের লজিস্টিকস নিয়ে ক্ষুব্ধ তারেমি তিন পদে কর্মী খুঁজছে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান হুয়াওয়ে রেস্তোরাঁয় রয়ে গেল শিশুসন্তান, ৬ ঘণ্টা পর ফিরে এল পাকিস্তানি পরিবার আমরা দেশের মানুষের জন্য খেলি: জিজো আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় আইনজীবীদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ: বাণিজ্যমন্ত্রী হাম উপসর্গে আরও ৬ শিশুর মৃত্যু এ বছর এইচএসসি পরীক্ষা হবে নকলমুক্ত: খন্দকার মারুফ সিঁথির ‘বসন্তের কোকিল’-এ অলংকারের নাচ বিবিসিসিআই-এর দ্বিবার্ষিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত মাদকাসক্তির কারণ ও প্রতিকার বিষয়ক প্রবন্ধ রচনা, ১ম পর্ব, এইচএসসির বাংলা ২য় পত্র গৃহশান্তি বজায় রাখতে বাংলাদেশে ওয়াটারএইডের ৪০ বছর, লোগো উন্মোচন দিয়ে উদ্‌যাপন শুরু সরকারি স্বাস্থ্যসেবায় আসবে দেশের সব প্রতিবন্ধী শিশু: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী নিউজিল্যান্ডকে উড়িয়ে সমালোচকদের জবাব গার্সিয়ার নিত্যপণ্যের দাম স্থিতিশীল আছে, মূল্যস্ফীতি কমতে গ্রামীণ অর্থনীতিতে গুরুত্ব দিচ্ছি: খাদ্য প্রতিমন্ত্রী জাহানারা ইমামকে ‘জাহান্নামের ইমাম’ বললেন রাকসুর সংস্কৃতি সম্পাদক The Ant and the Dove বিষয়ক Story Writing নিয়ে আলোচনা, ৩য় পর্ব, এইচএসসির ইংরেজি ১ম পত্র এই গরমে চুলের খুশকি দূর করতে চুয়াডাঙ্গার শ্বাসনালীতে দুধ আটকে ৩ মাসের শিশুর মৃত্যু রাত জেগে খেলা দেখার সময় যা খাবেন এবং যা এড়িয়ে চলবেন মালয়েশিয়া-চীন সফরে দেশের মানুষের স্বার্থ নিয়ে কথা বলেছি: প্রধানমন্ত্রী রাজশাহীতে আশুরা উপলক্ষে বিনামূল্যে চিকিৎসা ও চোখের ছানি অপারেশন ক্যাম্প সংসদকে বাইপাস করে কোনো সিদ্ধান্ত মানা হবে না: বিরোধীদলীয় নেতা বকশীগঞ্জে বন্য হাতির আক্রমণে ১ জনের মৃত্যু দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে চীন-মালয়েশিয়া গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে: স্থানীয় সরকার মন্ত্রী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে প্রফেশনাল মাস্টার্স ইন গভর্ন্যান্স স্টাডিজ প্রোগ্রামে ভর্তি তথ্য আধ্যাত্মিক ধনী হওয়ার সহজ সমীকরণ

প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া-চীন সফর নিয়ে সংসদে ধন্যবাদ প্রস্তাব গৃহীত

প্রকাশ: ২৭ জুন ২০২৬, ০১:১১ পিএম
আপডেট: ২৭ জুন ২০২৬, ০১:১৭ পিএম
প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া-চীন সফর নিয়ে সংসদে ধন্যবাদ প্রস্তাব গৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মালয়েশিয়া এবং চীন সফরের সাফল্যের জন্য জাতীয় সংসদে ধন্যবাদ প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়েছে।

শনিবার (২৭ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের ১৬তম কার্যদিবসে কণ্ঠভোটের মাধ্যমে প্রস্তাবটি পাস হয়।

স্পিকার হাফিজ আহমদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে বেলা ১১টায় অধিবেশন শুরু হলে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমানের ২১ থেকে ২৬ জুন পর্যন্ত মালয়েশিয়া ও চীন সফরের সাফল্যের জন্য ধন্যবাদ প্রস্তাব উত্থাপন করেন। 

প্রস্তাব উপস্থাপনকালে মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী দায়িত্ব গ্রহণের চার মাসের মধ্যেই দুটি গুরুত্বপূর্ণ বন্ধু রাষ্ট্র সফর করে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছেন। 

তিনি জানান, সফরকালে চীনের সঙ্গে ১৭টি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর হয়েছে এবং উভয় দেশের সঙ্গে অর্থনীতি, বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে। পাশাপাশি রোহিঙ্গা সংকট সমাধানেও ইতিবাচক বার্তা পাওয়া গেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

ধন্যবাদ প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সফর বাংলাদেশের স্বাধীন ও ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতির বাস্তব প্রতিফলন। মালয়েশিয়ার সঙ্গে শ্রমবাজার, জ্বালানি ও বিনিয়োগ এবং চীনের সঙ্গে অবকাঠামো, বাণিজ্য ও রপ্তানি সম্প্রসারণের বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। ভবিষ্যতের কূটনৈতিক সম্পর্কের জন্য এই সফর একটি নতুন মানদণ্ড স্থাপন করেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান প্রস্তাবের প্রতি সমর্থন জানিয়ে বলেন, স্বাধীন ও স্বার্থভিত্তিক পররাষ্ট্রনীতি বাস্তবায়নে বিরোধী দল সরকারের পাশে থাকবে। তবে বিদেশের সঙ্গে সম্পাদিত গুরুত্বপূর্ণ চুক্তিগুলো সংসদে উপস্থাপনের মাধ্যমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি।একই সঙ্গে দেশের অর্থনৈতিক স্বার্থ, রপ্তানি সম্প্রসারণ ও জনশক্তি বাজার বহুমুখীকরণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

আলোচনা শেষে স্পিকার বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক মালয়েশিয়া ও চীন সফর বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিতে নতুন দিগন্তের সূচনা করেছে। এর মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা আরও শক্তিশালী হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

পরে স্পিকার ধন্যবাদ প্রস্তাবটি কণ্ঠভোটে দিলে সরকারি ও বিরোধী দলের সদস্যদের সমর্থনে তা সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়। সংসদের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সফল সফরের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে অভিনন্দন ও ধন্যবাদ জানানো হয়।

এলিস/অন্তরা/

আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় আইনজীবীদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ: বাণিজ্যমন্ত্রী

প্রকাশ: ২৭ জুন ২০২৬, ০৪:৫১ পিএম
আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় আইনজীবীদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ: বাণিজ্যমন্ত্রী
বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, এমপি। ছবি: খবরের কাগজ

আইনের শাসন, ন্যায়বিচার এবং সামাজিক শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় আইনজীবীদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেছেন বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, এমপি।

তিনি বলেন, ‘একটি রাষ্ট্রে বিচারহীনতার পরিবেশ সৃষ্টি হলে সামাজিক চুক্তি ও আইনের শাসন দুর্বল হয়ে পড়ে। সংবিধানে বর্ণিত মৌলিক অধিকার- সমতা, বৈষম্যহীনতা, জীবন ও ব্যক্তিস্বাধীনতা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতাসহ নাগরিক অধিকার বাস্তবায়নে আইনজীবীরা অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন।’

শনিবার (২৭ জুন) সিলেট জেলা আইনজীবী সমিতিতে যোগদানকারী নবীন আইনজীবীদের কর্মশালা ও নবীনবরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। 

মন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশের বিচার বিভাগ ও আইনজীবী সমাজের রয়েছে গৌরবোজ্জ্বল ঐতিহ্য। স্বাধীনতার পর থেকে বিভিন্ন প্রতিকূল সময়ে বহু বিচারপতি ও আইনজীবী ব্যক্তিগত ও পেশাগত ঝুঁকি নিয়েও আইনের শাসন ও ন্যায়বিচার সমুন্নত রাখতে দৃঢ় ভূমিকা পালন করেছেন। সিলেটের আইনজীবী ও বিচারকরাও এ ঐতিহ্যে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছেন। তিনি অতীতের বিভাজন ভুলে দেশের উন্নয়ন ও বিচারব্যবস্থার অগ্রযাত্রায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।’

খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, ‘সিলেট জেলা আইনজীবী সমিতির জন্য নতুন ভবন নির্মাণের পাশাপাশি আইনজীবীদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে একটি আধুনিক ও নিয়মিত প্রশিক্ষণব্যবস্থা গড়ে তোলা প্রয়োজন। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), আইনবিষয়ক গবেষণা, কেস স্টাডি বিশ্লেষণ এবং আদালতে কার্যকর উপস্থাপনার ওপর ধারাবাহিক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আইনজীবীদের সক্ষমতা আরও বৃদ্ধি করা সম্ভব। এ ধরনের উদ্যোগ ভবিষ্যতে দক্ষ আইনজীবী ও বিচারক তৈরিতে সহায়ক হবে।’

মন্ত্রী বলেন, নির্বাচনি প্রচারণার সময় অনলাইন জুয়া প্রতিরোধকে অন্যতম অগ্রাধিকার হিসেবে ঘোষণা করেছিলাম। এ লক্ষ্যে অনলাইন জুয়া নিয়ন্ত্রণে কঠোর শাস্তির বিধান রেখে নতুন আইন জাতীয় সংসদে উত্থাপন করা হয়েছে, যা সংসদীয় প্রক্রিয়া শেষে শিগগিরই পাস হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে মাদক-সংক্রান্ত অপরাধের দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠনের উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন।’

তিনি বলেন,  ‘একটি সমৃদ্ধ, নিরাপদ ও মানবিক সমাজ গড়ে তুলতে সরকার, বিচার বিভাগ, আইনজীবী এবং সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন। এ সময় তিনি আইনজীবীদের ঐক্য, পেশাগত উৎকর্ষ ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান।’

সিলেট জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট গোলাম ইয়াহ-ইয়া চৌধুরী সুহেলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মো. জুবায়ের বখত জুবের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন- ভারপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ এরফান উল্লাহ, বিভাগীয় স্পেশাল জজ এম. আলী আহমদ, চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. হাসাম ইমাম, সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সুদীপ্ত তালুকদার, মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সাইফুল ইসলাম, জেলা আইনজীবী সমিতির নেতারা, রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ এবং গণমাধ্যমকর্মীরা।

রিফাত/

হাম উপসর্গে আরও ৬ শিশুর মৃত্যু

প্রকাশ: ২৭ জুন ২০২৬, ০৪:৪৮ পিএম
হাম উপসর্গে আরও ৬ শিশুর মৃত্যু
খবরের কাগজ গ্রাফিকস

গত ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গ নিয়ে আরও ৬ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ৭৮৯ জনের শরীরে হাম ও এর উপসর্গ পাওয়া গেছে।

শনিবার (২৭ জুন) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাম বিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, গত একদিনে হামের উপসর্গ নিয়ে শুধু ময়মনসিংহ বিভাগেই ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। পাশাপাশি এ সময়ে ঢাকা ও খুলনা বিভাগে হামের উপসর্গে আরও ২ জনের মৃত্যু হয়েছে। সবমিলিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে শনিবার পর্যন্ত সারা দেশে হাম ও উপসর্গে মোট ৭০৮ জনের মৃত্যু হয়েছে।

এদিকে সারা দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৪৫ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে। পাশাপাশি এই সময়ে আরও ৭৪৪ জনের মধ্যে রোগটির উপসর্গ দেখা গেছে। এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে শনিবার পর্যন্ত মোট ৯৮ হাজার ২৬৬ জনের শরীরে হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে। সেই সঙ্গে এই সময়ে মোট ১১ হাজার ৫৯৪ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে শনিবার পর্যন্ত সারা দেশে হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে মোট ৮১ হাজার ৯৫৫ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে এ পর্যন্ত সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ৭৮ হাজার ২৮৭ জন ছাড়পত্র পেয়েছেন।

এসএন/

সরকারি স্বাস্থ্যসেবায় আসবে দেশের সব প্রতিবন্ধী শিশু: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী

প্রকাশ: ২৭ জুন ২০২৬, ০৩:৫২ পিএম
আপডেট: ২৭ জুন ২০২৬, ০৪:৪৮ পিএম
সরকারি স্বাস্থ্যসেবায় আসবে দেশের সব প্রতিবন্ধী শিশু: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী
ছবি: খবরের কাগজ

দেশের গ্রাম ও শহরের সব প্রতিবন্ধী শিশুকে সরকারি স্বাস্থ্যসেবার আওতায় আনতে বিশেষ প্রকল্প নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত।

তিনি জানান, বিশেষ শিশুদের এই সেবা উপজেলা পর্যায়ে পৌঁছে দিতে একটি বড় প্রকল্প প্রস্তুত করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। আগামী বাজেটে প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠীর জন্য সুনির্দিষ্ট বরাদ্দও রাখা হচ্ছে।

শনিবার (২৭ জুন) সকালে রাজধানীর কড়াইল বস্তিতে সিএসএফ সেন্টারের সেবা কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

‘প্রতিটি শিশুর সম্ভাবনার বিকাশে প্রতিবন্ধিতা নিরূপণ, পুনর্বাসন ও অন্তর্ভুক্তিমূলক স্বাস্থ্যসেবা’- এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে কেন্দ্রটি তার আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করেছে।

সমাজের প্রতিটি পিছিয়ে পড়া মানুষের মানবিক উন্নয়ন ও সম-অধিকার নিশ্চিত করাই আসল অগ্রগতি বলে মন্তব্য করে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ’সরকার তার নীতি প্রণয়ন, বাজেট এবং ব্যবস্থাপনায় আমূল পরিবর্তন এনে দেশের প্রতিটি প্রতিবন্ধী মানুষকে অন্য সকল নাগরিকের সমতুল্য অধিকার নিশ্চিত করতে কাজ করে যাচ্ছে।’

স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ’আমরা অনেক সময় উন্নয়ন বলতে বুঝি অনেক টাকা হওয়া কিংবা বড় বড় বিল্ডিং বানানো। কিন্তু শুধু বিল্ডিং দিয়ে তো সমাজের আসল উন্নয়ন হবে না, মানবিক উন্নয়ন হবে না। মানুষ হিসেবে যদি আমরা উন্নত হতে চাই, তবে সমাজে যে মানুষটির সামান্য অসুবিধা বা প্রতিবন্ধিতা আছে, তার প্রতি আমাদের মমত্ববোধ থাকতে হবে। অন্যথায় কেবল ইটের দালানকোঠার উন্নয়ন হবে, সমাজের প্রকৃত রূপান্তর ঘটবে না।’

সরকারকে একটি অত্যন্ত ‘মানবিক সরকার’ হিসেবে উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী জানান, জন্মগতভাবে বিভিন্ন অসুখ-বিসুখে আক্রান্ত শিশুরা যাতে অবহেলায় হারিয়ে না যায়। সমাজের মূলস্রোতে মিশে লেখাপড়া, কর্মসংস্থান ও স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারে, সেজন্য রাষ্ট্র তার কাঠামোতে স্থায়ী পরিবর্তন আনছে। আগামী ৩০ জুনে পাস হতে যাওয়া নতুন জাতীয় বাজেটে প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠী এবং প্রতিবন্ধিতা নিরূপণ ও হ্রাসের জন্য সুনির্দিষ্ট ও বিশেষ অর্থনৈতিক বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

 প্রতিবন্ধী শিশুদের জন্য কেবল স্বাস্থ্যসেবাই নয়, বরং শিক্ষাক্ষেত্রেও সম-অধিকার নিশ্চিত করতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে দীর্ঘমেয়াদী উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের সাধারণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুরা যাতে অন্য সব স্বাভাবিক শিশুদের মতোই সমান মর্যাদা নিয়ে পড়াশোনা করার সুযোগ পায়, সেজন্য শিক্ষকদের উন্নত প্রশিক্ষণ দেওয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। পাশাপাশি ওই স্কুলগুলোর পরিবেশ ও অবকাঠামো বিশেষ শিশুদের উপযোগী করে গড়ে তুলতে সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

কড়াইল বস্তির সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জোবায়দা রহমান এই কড়াইলে এসে যে 'শিশু স্বর্গ' কর্মসূচির উদ্বোধন করেছিলেন, সেই মানবিক উদ্যোগটি বছরব্যাপী সচল থাকবে। দেশের শীর্ষস্থানীয় বিভিন্ন চিকিৎসাকেন্দ্র ও ইনস্টিটিউট থেকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা নিয়মিত এই সিএসএফ সেন্টারে এসে প্রান্তিক শিশুদের চিকিৎসাসেবা প্রদান করবেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক ডা. জালাল উদ্দিন মুহাম্মদ রুমী, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইমরুল কায়েস চৌধুরী ও সিএসএফ সেন্টারের জেনারেল সেক্রেটারী আবু ঈসা মোহাম্মদ মঈন উদ্দিন বক্তব্য রাখেন।

জয়ন্ত সাহা/খাদিজা রুমি/

নিত্যপণ্যের দাম স্থিতিশীল আছে, মূল্যস্ফীতি কমতে গ্রামীণ অর্থনীতিতে গুরুত্ব দিচ্ছি: খাদ্য প্রতিমন্ত্রী

প্রকাশ: ২৭ জুন ২০২৬, ০৩:৪৪ পিএম
নিত্যপণ্যের দাম স্থিতিশীল আছে, মূল্যস্ফীতি কমতে গ্রামীণ অর্থনীতিতে গুরুত্ব দিচ্ছি: খাদ্য প্রতিমন্ত্রী
খাদ্য ও জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী/ ছবি: সংগৃহীত

খাদ্য ও জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী বলেছেন, বর্তমানে বাজারে চালসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম স্থিতিশীল রয়েছে। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সরকার গ্রামীণ অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। গ্রামীণ অর্থনীতি যত বেশি গতিশীল হবে, মূল্যস্ফীতি ততই নিয়ন্ত্রণে আসবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

শনিবার (২৭ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, প্রস্তাবিত বাজেট দেশের মানুষের জীবনমান উন্নয়ন এবং টেকসই অর্থনৈতিক ভিত্তি সুদৃঢ় করার লক্ষ্যেই প্রণয়ন করা হয়েছে। সরকার ব্যাংকিং খাতের শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা, জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং দীর্ঘমেয়াদি সংরক্ষণ ব্যবস্থার উন্নয়নে কাজ করছে।

দ্রব্যমূল্য প্রসঙ্গে আব্দুল বারী বলেন, হঠাৎ করে চালের দাম বেড়েছে—এমন দাবি ওঠার পর সরকার বাজার পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেছে। বাস্তবে চালের বাজারসহ অন্যান্য নিত্যপণ্যের মূল্য স্থিতিশীল রয়েছে। একই সঙ্গে গ্রামীণ অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ ইতোমধ্যে ইতিবাচক ফল দিচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, কৃষি খাতে বৈচিত্র্য আনতে দেশে এখন আঙুর, স্ট্রবেরি ও অ্যাভোকাডোর মতো উচ্চমূল্যের ফলের চাষও সম্প্রসারিত হচ্ছে। মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানো গেলে দেশের অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে।

জনপ্রশাসনের বিষয়ে তিনি বলেন, সুশাসন প্রতিষ্ঠায় নিয়োগ ও পদায়নে সততা, দক্ষতা ও মেধাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। দক্ষ ও সৎ প্রশাসন ছাড়া বাজেটের সফল বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। অতীতের দুর্বলতা কাটিয়ে প্রশাসনিক সক্ষমতা পুনর্গঠনে সরকার কাজ করছে।

তিনি আরও বলেন, বাজেটের একটি টাকাও যাতে অপচয় না হয়, সে বিষয়ে কঠোর নজরদারি রাখা হচ্ছে। সরকারি অর্থ যথাযথভাবে ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলে কর্মসংস্থান বাড়বে, জাতীয় আয় বৃদ্ধি পাবে এবং উন্নত দেশের কাতারে পৌঁছানোর লক্ষ্য অর্জন আরও সহজ হবে।

এলিস/এএফ

মালয়েশিয়া-চীন সফরে দেশের মানুষের স্বার্থ নিয়ে কথা বলেছি: প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশ: ২৭ জুন ২০২৬, ০৩:২৩ পিএম
মালয়েশিয়া-চীন সফরে দেশের মানুষের স্বার্থ নিয়ে কথা বলেছি: প্রধানমন্ত্রী
ছবি: সংগৃহীত

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, বাংলাদেশের মানুষ আমাদের দায়িত্ব দিয়েছে তাদের স্বার্থ দেখার। মালয়েশিয়া ও চীন সফরে আমি দেশের ও দেশের মানুষের স্বার্থ নিয়ে কথা বলেছি এবং সেই স্বার্থ রক্ষার চেষ্টা করেছি।

তিনি বলেন, এখানে আমাদের ব্যক্তিগত কোনো বিষয় নেই। এ সফরে যদি ভালো কিছু অর্জিত হয়ে থাকে, তবে সেটি বাংলাদেশের অর্জন। এটি দেশের মানুষের অর্জন।

শনিবার (২৭ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশন (বাজেট অধিবেশন)-এর ১৬তম কার্যদিবসে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মালয়েশিয়া ও চীন সফরের অভূতপূর্ব সাফল্যের জন্য উত্থাপিত ধন্যবাদ জ্ঞাপন প্রস্তাব সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হলে সংসদ নেতা এসব কথা বলেন।

বেলা ১১টায় শুরু হওয়া সংসদের বৈঠকে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম সভাপতিত্ব করেন।

গত ২১ থেকে ২৬ জুন পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মালয়েশিয়া ও চীনে তার প্রথম সরকারি ছয় দিনের সফর করেন।

জাতীয় সংসদের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীর সফল রাষ্ট্রীয় সফরের জন্য তাকে অভিনন্দন ও ধন্যবাদ জানানো হয়। জবাবে প্রধানমন্ত্রী সংসদ সদস্যদের আন্তরিক শুভেচ্ছা জানান।

তিনি বলেন, ‘যে কারণে সংসদের পক্ষ থেকে আমাকে ধন্যবাদ জানানো হয়েছে, সে জন্য আমি সকল সদস্যকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই। আমাদের দলের অবস্থান থেকে আমরা একটি স্লোগান ব্যবহার করি সেটি হলো, ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট বা বাংলাদেশ প্রথম।’

প্রধানমন্ত্রী সংসদের সব সদস্যকে, বিশেষ করে বিরোধীদলীয় নেতাকে ধন্যবাদ জানান।

তিনি বলেন, ‘বিরোধীদলীয় নেতাকেও ধন্যবাদ জানাই। তিনিও দেশের মানুষের পক্ষে কাজ করার জন্য উৎসাহ দিয়েছেন।’

এর আগে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ধন্যবাদ জ্ঞাপন প্রস্তাবটি উত্থাপন করেন। পরে প্রস্তাবটি সংসদে বিস্তারিত আলোচনার পর কণ্ঠভোটে গৃহীত হয়।

প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে সরকারি ও বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা সফরটিকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি ও অর্থনৈতিক কূটনীতির ক্ষেত্রে একটি যুগান্তকারী ঘটনা হিসেবে বর্ণনা করেন।

আলোচনায় অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান প্রধানমন্ত্রীর ২১ থেকে ২৬ জুনের দুই দেশ সফরের কৌশলগত গুরুত্ব তুলে ধরেন।

প্রস্তাবটি কণ্ঠভোটে দেওয়ার আগে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম বলেন, ‘আলোচনাগুলো স্পষ্টভাবে ইঙ্গিত দেয় যে প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক মালয়েশিয়া ও চীন সফর বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিতে একটি নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে।’ সূত্র: বাসস