তিন দিনের চীন সফরে দেশটির প্রেসিডেন্ট, প্রধানমন্ত্রী, শীর্ষ রাজনৈতিক নেতা ও ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের সঙ্গে একাধিক বৈঠক করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সফরকালে তিনি দালিয়ানে অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের ‘সামার দাভোস ২০২৬’ সম্মেলনেও অংশ নেন।
সফরের শেষ দিনে শুক্রবার (২৬ জুন) বেইজিংয়ে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী। বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন আলোচনার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।
তিস্তা প্রকল্পে চীনের আগ্রহ
মাহদী আমিন জানান, দুই নেতার আলোচনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল তিস্তা নদী ব্যবস্থাপনা প্রকল্প। এ প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাই ও কারিগরি সহায়তা দিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে চীন।
বিসিআইএম করিডোর ও আঞ্চলিক সংযোগ
বাংলাদেশ-চীন-ভারত-মায়ানমার (বিসিআইএম) অর্থনৈতিক করিডোর, চট্টগ্রাম বন্দরকে আঞ্চলিক ট্রানজিট হাব হিসেবে গড়ে তোলা এবং মোংলা বন্দরের আধুনিকায়নের মাধ্যমে আঞ্চলিক যোগাযোগ বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।
এ ছাড়া বাংলাদেশ, মায়ানমার ও চীনকে যুক্ত করে একটি অর্থনৈতিক করিডোর গড়ে তোলার প্রস্তাবও আলোচনায় আসে।
বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও শিল্প স্থানান্তর
দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান বাণিজ্য ঘাটতি কমানো, চীনা বিনিয়োগ বৃদ্ধি, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং চীনের শিল্প স্থানান্তর প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশকে যুক্ত করার বিষয়ে গুরুত্ব দিয়েছেন দুই দেশের শীর্ষ নেতারা।
সড়ক, সেতু ও রেলওয়ে অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি আনোয়ারা বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল, মোংলা অর্থনৈতিক অঞ্চল, পরিবেশবান্ধব উন্নয়ন এবং জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দিয়েছে চীন।
১৩ সমঝোতা স্মারক, ৪ অতিরিক্ত চুক্তি
সফরের অন্যতম বড় অর্জন হিসেবে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে ১৩টি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) এবং চারটি অতিরিক্ত চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।
এ ছাড়া স্বাস্থ্য, শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন ও মানবসম্পদ উন্নয়নে সহযোগিতা বাড়াতে একটি যৌথ কর্মপরিকল্পনা (জয়েন্ট অ্যাকশন প্ল্যান) নিয়েও সমঝোতা হয়েছে।
যৌথ ইশতেহার ও চীনের বার্তা
দুই দেশের শীর্ষ নেতাদের বৈঠকের ভিত্তিতে ১৬ দফার একটি যৌথ ইশতেহার প্রকাশ করা হয়েছে। এতে পারস্পরিক সার্বভৌমত্ব, স্বাধীনতা ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রতি সম্মান এবং দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত অংশীদারত্ব আরও জোরদারের অঙ্গীকার করা হয়েছে।
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বিশ্ব পরিস্থিতি যেভাবেই পরিবর্তিত হোক না কেন, বাংলাদেশ-চীন বন্ধুত্বের ভিত্তি অটুট থাকবে। একই সঙ্গে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে বেইজিং।
রোহিঙ্গা ও ব্রিকস নিয়ে আশ্বাস
মাহদী আমিন জানান, রোহিঙ্গাসংকট সমাধানে বাংলাদেশের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছে চীন। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে সহযোগিতা অব্যাহত রাখা এবং ব্রিকসের সদস্যপদ অর্জনের ক্ষেত্রেও বাংলাদেশকে সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে দেশটি।
তিন দিনের সফর শেষে শুক্রবার রাতে ঢাকায় ফিরে আসেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
অমিয়/