বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের মারাত্মক ভুলের কারণে হামের প্রাদুর্ভাব দেখতে হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার।
তিনি বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের সমালোচনা করে বলেন, ‘হামের প্রাদুর্ভাব দেখা গেছে। আর এটি হয়েছে বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের মারাত্মক ভুলের কারণে। তারা ভুল করে হোক কিংবা অদূরদর্শিতার কারণে হোক, ২০২৪-২৫ সালে যে হামের টিকা দেওয়ার কথা ছিল, তা দিতে ব্যর্থ হয়েছিল। আর সে কারণেই হামের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে।’
রবিবার (২৮ জুন) দুপুরে গোপালগঞ্জে ‘ভিটামিন এ প্লাস’ ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন শেষে এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
দেশের সব নাগরিকের জন্য ইলেকট্রনিক স্বাস্থ্য কার্ড ইস্যু করা হবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী আরও বলেন, ‘সারা দেশে ইউনিয়ন পর্যায়ে প্রাইমারি হেলথ কেয়ার ইউনিট চালু করা হবে। আগামী ২ থেকে ৩ বছরের মধ্যে প্রতিটি ইউনিয়ন ও পৌরসভায় এটি চালু করা হবে। দেশের প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করা হবে। আর গোপালগঞ্জকে দক্ষিণাঞ্চলের স্বাস্থ্য হাবে পরিণত করা হবে।’
এর আগে ‘ভিটামিন এ খাওয়ান, শিশু মৃত্যুর ঝুঁকি কমান’ এই প্রতিপাদ্যে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি শিশুদের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাইয়ে কার্যক্রমের শুভ সূচনা করেন।
এ সময় গোপালগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য ড. কে এম বাবর উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন- জেলা প্রশাসক মো. আরিফ-উজ-জামান, পুলিশ সুপার মো. হাবীবুল্লাহ, গোপালগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. মোহাম্মদ মজিবুর রহমান, গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক জীবিতেষ বিশ্বাস, ইউনিসেফ বরিশাল ফিল্ড অফিসের চিফ ডা. মো. কাওসার হোসেন, গোপালগঞ্জ চক্ষু হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক শাহিন ইকবাল এবং গোপালগঞ্জ মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. গোলাম মোরশেদ।
পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে প্রধান অতিথি শিশুদের অপুষ্টিজনিত অন্ধত্ব রোধ এবং রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়াতে এই ক্যাম্পেইনের গুরুত্ব তুলে ধরেন। পাশাপাশি জেলার সব শিশুকে এই ক্যাম্পেইনের আওতায় আনার আহ্বান জানান।
এ বছর গোপালগঞ্জ জেলার ৭টি স্থায়ী কেন্দ্র ও ১ হাজার ৬৭৬টি অস্থায়ী কেন্দ্রে ১ লাখ ৭৬ হাজার ৫৬০ জন শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে।
বাদল সাহা/রিফাত/