ফরিদপুরের ভাঙ্গায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে আশপাশের অন্তত ১৬টি গ্রামবাসীর মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সংঘর্ষ এখনও চলমান রয়েছে। এতে কমপক্ষে অর্ধশতাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন এবং ফরিদপুর-বরিশাল মহাসড়কে যানচলাচল বন্ধ রয়েছে।
রবিবার (২৮ জুন) সকাল ৮টার দিকে উপজেলার হামিরদী ও মানিকদাহ ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে প্রথমে ধাওয়া পাল্টাধাওয়া ও পরে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে একাধিক থানার পুলিশ কাজ করছে।
পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, পুকুরিয়া বাসস্ট্যান্ডে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে হামেরদী ইউনিয়নের ১১ গ্রামের সঙ্গে পাশের মানিকদহ ইউনিয়নের পুকুরিয়া মৌজার পাঁচ গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে বিরোধ ছিল। পরে শনিবার সন্ধ্যায় মহেশ্বরদী গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল কালাম পুকুরিয়া বাসস্ট্যান্ডে গেলে তাকে বেধড়ক মারা হয়। এর জেরে রবিবার সকাল আটটার দিকে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। এরপর দুই পক্ষ ইট ছুড়ে মারতে থাকেন এবং দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালান। এ ঘটনায় মহাসড়ক অবরোধ করা হয়।
প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, এ সংঘর্ষে অন্তত অর্ধশতাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছে। এদের মধ্যে সাংবাদিক ও পুলিশ সদস্যও রয়েছেন।
পুলিশ জানায়, ফরিদপুর-ভাঙ্গা-বরিশাল মহাসড়কের পুকুরিয়া বাসস্ট্যান্ডের দখলকে কেন্দ্র করে মানিকদাহ ইউনিয়নের সুলতান মাতুব্বর ও হামিরদী ইউনিয়নের সিরু মোল্লার সমর্থকদের মধ্যে আজ সকালে পুকুরিয়া বাসস্ট্যান্ডে সংঘর্ষ হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে একাধিক টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। কিন্তু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি। একই সঙ্গে মহাসড়কের দুই পাশে যানবাহন আটকে পড়ায় যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।
ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান খবরের কাগজকে জানান, সংঘর্ষ ঠেকানোর চেষ্টা এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে পুলিশ কাজ করছে। ফরিদপুর থেকে অতিরিক্ত পুলিশ চেয়ে পাঠানো হয়েছে।
এ বিষয়ে ভাঙ্গা হাইওয়ে পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হেলালউদ্দিন খবরের কাগজকে বলেন, আমাদের একাধিক টিম ঘটনাস্থলে আছে। তবে শত শত গ্রামবাসী মহাসড়কে উঠে পড়েছেন। এজন্য আমরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পারছি না।
উল্লেখ্য, দুপুর একটায় এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত সংঘর্ষ অব্যাহত রয়েছে এবং মহাসড়কে সকল ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে।
এনকেবি নয়ন/থিওটোনিয়াস