ঢাকা ১৪ আষাঢ় ১৪৩৩, রোববার, ২৮ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
ডাচদের দুর্বলতা দেখিয়ে দিলেন মরক্কোর সাবেক কোচ ভুল চিকিৎসায় রোগীর মৃত্যু হলে ইসলামের বিধান কী? নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুতের দাবিতে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ আবারও ভেন্টিলেটরে মুস্তাফা মনোয়ার Slow and Steady Wins the Race বিষয়ক Story Writing নিয়ে আলোচনা, ৪র্থ পর্ব, এইচএসসির ইংরেজি ১ম পত্র মুন্সীগঞ্জে হ্যান্ডকাফসহ পালানো আ. লীগ নেতা গ্রেপ্তার কেপ ভার্দে কঠিন প্রতিপক্ষ, সতর্ক স্কালোনি বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের পর উরুগুয়ের চার্টার্ড ফ্লাইট বাতিল আক্কেলপুরে দিনমজুর শ্যামল হত্যার বিচারের দাবিতে মানববন্ধন ঠাকুরগাঁও প্রেসক্লাবের সহ-সাধারণ সম্পাদক হলেন নবীন হাসান জয়পুরহাটে স্ত্রী হত্যার অভিযোগে স্বামী আটক জাবির ৩৪৮ কোটি টাকার বাজেট পাস, গবেষণায় বরাদ্দ নেই দৌড়েই সেরে উঠলেন ওয়াসিম স্মৃতির ক্যানভাসে সাগরকন্যা কুয়াকাটা জুলাই গণঅভ্যুত্থান মামলা: সাবেক ডিএমপি কমিশনারসহ ৩ কর্মকর্তার মৃত্যুদণ্ড সাতক্ষীরায় ৭৩ কোটি টাকার মাদক ধ্বংস জামালপুরে সন্তান হত্যার অভিযোগে গ্রেপ্তার মা গ্যাসসংকট সমাধানে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করবে সরকার: বাণিজ্যমন্ত্রী বিশ্বমঞ্চে ইউআইইউ মার্স রোভার সুরের আকাশে নতুন ধূমকেতু রেইথস চারুকলার নান্দনিক কাঠগোলাপ সৌরভের হৃদয়ের খুব কাছে মেসি এ প্লাস মানুষ গড়াই আমাদের লক্ষ্য: এমপি মনজুর টুনটুনির পুকুর দরজার আশায় জমানো লাখ টাকা ফেরত পাননি অসহায় নারী অবাক করা এক মাছ ভাঙ্গায় অধিপত্য বিস্তার নিয়ে সংঘর্ষে আহত ৫০, মহাসড়কে যানজট সাশ্রয়ী মূল্যে নিম্ন আয়ের মানুষের আবাসনের ব্যবস্থা করবে সরকার: গণপূর্ত মন্ত্রী বুদ্ধিমান প্রজাপতি ও দুষ্টু ফড়িং নির্যাতিত নেতাকর্মীদের পুনর্বাসনে বাজেটে বরাদ্দ চাইলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

স্বপ্নে বিড়াল দেখা বন্ধু নাকি বিপদের সংকেত?

প্রকাশ: ২২ এপ্রিল ২০২৫, ০৬:৩০ পিএম
আপডেট: ২৩ এপ্রিল ২০২৫, ১২:১৫ পিএম
স্বপ্নে বিড়াল দেখা বন্ধু নাকি বিপদের সংকেত?
বিড়ালের ছবি । সংগৃহীত

স্বপ্নে বিড়াল দেখা একটি বহুল জিজ্ঞাসিত বিষয়। এর ব্যাখ্যা নিয়ে বিভিন্ন মত প্রচলিত আছে। কারও মতে, বিড়াল বিশ্বস্ত সেবক বা পাহারাদারের প্রতীক। আবার কেউ কেউ মনে করেন, এটি পরিবারের অভ্যন্তরে চুরির প্রবণতা নির্দেশ করে। এমনকি, মাদি বিড়ালকে অসৎ ও ধোঁকাবাজ নারীর ইঙ্গিত হিসেবেও দেখা হয়।

যদি স্বপ্নে কোনো বিড়ালকে আপনার আশপাশে ঘুরতে বা পাহারা দিতে দেখেন, অথবা কোনো জিনিস আকস্মিকভাবে নিয়ে যেতে দেখেন, তবে এর অর্থ হতে পারে প্রথমে আপনার ক্ষতি হবে, এর পর উপকার লাভ করবেন। যদি বিড়াল আপনাকে কামড়ায় বা আঁচড় দেয়, তবে সম্ভবত আপনার কোনো কর্মচারী আপনার বিশ্বাস ভঙ্গ করবে অথবা আপনি অসুস্থ হয়ে পড়বেন।

বিখ্যাত স্বপ্ন ব্যাখ্যাকার ইমাম ইবনে সীরীন (রহ.) স্বপ্নে বিড়াল দেখাকে রোগের বছর হিসেবে ব্যাখ্যা করতেন। যদি স্বপ্নে কোনো বুনো বিড়াল দেখেন, তবে তা কঠিন রোগের পূর্বাভাস হতে পারে। যদি বিড়ালটি পোষা ও শান্ত প্রকৃতির হয়, তবে তা সুখ ও শান্তির বছর নির্দেশ করে। বুনো মাদি বিড়াল দেখা কষ্টের বছর আসার লক্ষণ। কারণ এ ধরনের বিড়াল দুর্যোগপূর্ণ সময়ের ইঙ্গিত দেয়।

একটি বাস্তব ঘটনার মাধ্যমে এই ব্যাখ্যার গভীরতা উপলব্ধি করা যেতে পারে। জনৈক মহিলা ইমাম ইবনে সীরীনের কাছে এসে বললেন যে তিনি স্বপ্নে দেখেছেন একটি বিড়াল তার স্বামীর পেটে মুখ ঢুকিয়ে কিছু যেন বের করে খাচ্ছে। ইমাম ইবনে সীরীন এর ব্যাখ্যায় বললেন, যদি স্বপ্ন সত্য হয়, তবে বুঝতে হবে আপনার স্বামীর দোকানে কোনো হাবশী চোর প্রবেশ করবে এবং সে তিন শত ষোলো দিরহাম চুরি করবে। আশ্চর্যজনকভাবে, বাস্তবে তেমনটিই ঘটেছিল।

মহিলার বাড়ির পাশে বসবাসকারী এক হাবশীকে চুরির অভিযোগে ধরে আনা হয় এবং সে ইমাম ইবনে সীরীনের কাছে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য প্রেরিত হয়।আগন্তুক ব্যক্তি ইমাম ইবনে সীরীনকে জিজ্ঞাসা করেন যে তিনি কীভাবে এই স্বপ্নের ব্যাখ্যা করলেন। জবাবে ইমাম ইবনে সীরীন বলেন, স্বপ্নে বিড়াল হলো চোর, পেট হলো সম্পদ এবং বিড়ালের আহার করা হলো চুরি করা। তিনি আরবি অক্ষরের সংখ্যাগত মান ব্যবহার করে চুরি যাওয়া অর্থের পরিমাণ নির্ধারণ করেছিলেন। আরবিতে ‘আল-কাত্তু’ অর্থাৎ বিড়াল শব্দটি ছয়টি অক্ষর দিয়ে গঠিত, যার সংখ্যাগত মান ৬০+১০+৩০+১+৪০+১০০ = ৩১৬ দিরহাম।

বি.দ্র. এই ব্যাখ্যাগুলো মূলত মুহাম্মাদ ইবনে সীরীনের 'তাফসিরুল আহলাম' গ্রন্থের ওপর ভিত্তি করে সংকলিত।

 

লেখক : আলেম ও সাংবাদিক

ভুল চিকিৎসায় রোগীর মৃত্যু হলে ইসলামের বিধান কী?

প্রকাশ: ২৮ জুন ২০২৬, ০৩:১১ পিএম
ভুল চিকিৎসায় রোগীর মৃত্যু হলে ইসলামের বিধান কী?
ছবি: সংগৃহীত

জীবন বাঁচানোর তাগিদে আমরা চিকিৎসকের শরণাপন্ন হই কিন্তু কখনো কখনো সেই জীবনদাতার অনিচ্ছাকৃত ভুলেই নিভে যায় রোগীর জীবনপ্রদীপ ভুল চিকিৎসায় মৃত্যুর এমন ঘটনা হরহামেশাই খবরের শিরোনাম হয় কিন্তু আপনি কি জানেন, চিকিৎসাবিজ্ঞানের এই অনাকাঙ্ক্ষিত ভুলের ব্যাপারে ইসলামি শরিয়াহর অত্যন্ত সুনির্দিষ্ট আধুনিক আইনি কাঠামো রয়েছে? চিকিৎসকের দক্ষতা, অভিভাবকের অনুমতি এবং প্রেসক্রিপশনের ধরনের ওপর ভিত্তি করে এখানে নির্ধারিত হয় অপরাধ দণ্ড

ইসলামি ফিকাহর বিধান অনুযায়ী, একজন চিকিৎসক যদি প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাপ্রাপ্ত, দক্ষ অভিজ্ঞ হন, তবেই তার জন্য চিকিৎসা করা বৈধ এই ধরনের স্বীকৃত চিকিৎসক যদি রোগীর অভিভাবকের অনুমতি নিয়ে এবং চিকিৎসাবিজ্ঞানের সমস্ত স্বীকৃত নীতিমালা (Medical Protocol) মেনে চিকিৎসা করেন, আর এর পরও দুর্ভাগ্যবশত রোগীর মৃত্যু হয়–তবে সেই চিকিৎসকের ওপর কোনো ধরনের আইনি বা আর্থিক দায় বর্তাবে না একে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা হিসেবে বিবেচনা করা হবে

তবে দক্ষ চিকিৎসকও যদি রোগীর অভিভাবকের অনুমতি ছাড়া কিংবা স্বীকৃত নীতিমালার বাইরে গিয়ে খামখেয়ালিপূর্ণ চিকিৎসা করেন, তবে তাকে অবশ্যই দায় নিতে হবে এক্ষেত্রে:

সম্পূর্ণ ভুল পদ্ধতি হলে: তাকে পূর্ণদিয়তবা রক্তপণ (ক্ষতিপূরণ) দিতে হবে

আংশিক ভুল পদ্ধতি হলে: তাকে অর্ধেক দিয়ত দিতে হবে

বর্তমানে দেশে ভুয়া এবং অদক্ষ চিকিৎসকদের দৌরাত্ম্য বাড়ছে ইসলামি আইনের দৃষ্টিভঙ্গি এক্ষেত্রে অত্যন্ত কঠোর যিনি চিকিৎসার উপযুক্ত নন বা অদক্ষ, তার জন্য চিকিৎসা পেশায় আসাই সম্পূর্ণ নাজায়েজ বা হারাম

রাসুলুল্লাহ (সা.) সুনানে আবু দাউদের ৪৫৮৬ নম্বর হাদিসে স্পষ্ট উল্লেখ করেছেন, যে ব্যক্তি চিকিৎসাবিদ্যা না জেনে (অনভিজ্ঞ হওয়া সত্ত্বেও) কারও চিকিৎসা করে, (আর এতে রোগীর কোনো ক্ষতি হলে) তবে তাকেই এর ক্ষতিপূরণ দিতে হবে

তাই কোনো অদক্ষ ব্যক্তির চিকিৎসায় রোগীর মৃত্যু হলে, রোগীর অভিভাবকের অনুমতি থাকুক বা না থাকুক এবং তিনি নীতিমালা মানুন বা না মানুন–তাকে অপরাধী সাব্যস্ত করেপূর্ণ দিয়তবা ক্ষতিপূরণ দিতে হবে

ইসলামি আইনে অপরাধের প্রত্যক্ষ পরোক্ষ ভূমিকার ওপর ভিত্তি করে সাজার ভিন্নতা রয়েছে এই বিধানটি তখনই প্রযোজ্য হবে, যখন চিকিৎসায় ডাক্তারের হাত সরাসরি ব্যবহৃত হয়েছে; যেমন- সার্জারি বা অপারেশন করা, ইনজেকশন পুশ করা কিংবা নিজ হাতে রোগীকে ভুল ওষুধ খাওয়ানো

কিন্তু ডাক্তার যদি শুধু কাগজে প্রেসক্রিপশন লিখে দেন এবং পরে রোগী নিজে বা তার অভিভাবক বাজার থেকে এনে সেই ওষুধ সেবন করেন–তবে সেই ভুল ওষুধের কারণে মৃত্যু হলেও ডাক্তারের ওপর সরাসরিযামানবা দিয়ত ওয়াজিব হয় না তবে রাষ্ট্রীয় আইন অনুযায়ী অবহেলার জন্য তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া যাবে

চিকিৎসার মতো স্পর্শকাতর বিষয়ে ইসলামের এই সুষম ভারসাম্যপূর্ণ আইনি রূপরেখা একদিকে যেমন দক্ষ চিকিৎসকদের সুরক্ষা দেয়, অন্যদিকে রোগীদের অধিকার নিশ্চিত করে অদক্ষদের কঠোর শাস্তির মুখোমুখি করে

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক 

পবিত্র আশুরা আজ

প্রকাশ: ২৬ জুন ২০২৬, ০৮:৪৫ এএম
পবিত্র আশুরা আজ
ছবি: সংগৃহীত

আজ শুক্রবার পবিত্র আশুরা। সারা দেশে যথাযোগ্য মর্যাদা, ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও শোকের আবহে দিনটি পালিত হচ্ছে। হিজরি মুহাররম মাসের দশম দিনটি মুসলিম উম্মাহর কাছে এক অনন্য এবং তাৎপর্যপূর্ণ দিন। সৃষ্টির শুরু থেকে নানা ঐতিহাসিক ঘটনার স্মারক এই দিনটি। তবে সব ছাড়িয়ে ফোরাত নদীর তীরে কারবালার প্রান্তরে শেষ নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর দৌহিত্র হজরত হোসাইন (রা.) এর সপরিবারে শাহাদতবরণ বিশ্বব্যাপী মুসলমানদের কাছে এক চিরন্তন শোক ও ত্যাগের মহিমামর অনুষঙ্গ হিসেবে বিবেচিত। 

বিশ্বের অন্যান্য মুসলিম দেশের মতো বাংলাদেশের মুসলমানরাও আজ নফল নামাজ, কোরআন তিলাওয়াত, জিকির-আসকার ও রোজা পালনের মধ্য দিয়ে দিনটি অতিবাহিত করছেন। হাদিস শরিফে এসেছে, রমজানের পর মুহাররমের রোজাই সবচেয়ে উত্তম এবং আশুরার একটি রোজা পালনে বিগত এক বছরের গুনাহ মাফ হয়। এই পবিত্র দিনে শিয়া সম্প্রদায় রাজধানীর পুরাণ ঢাকার হোসেনি দালান থেকে ঐতিহ্যবাহী তাজিয়া মিছিল বের করে থাকে। 

ইসলামি ইতিহাস অনুযায়ী, মহান আল্লাহ তায়ালা এই ১০ মুহাররমের দিনেই আরশ, কুরসি, আসমান ও জমিন সৃষ্টি করেছেন। এই দিনেই প্রথম মানব হজরত আদম (আ.)-কে সৃষ্টি করা হয় এবং পরে দুনিয়ায় প্রেরণের পর এই দিনেই তার তাওবা কবুল করা হয়। এ ছাড়াও হজরত নূহ (আ.)-এর যুগের মহাপ্লাবনের পর তার কিস্তি জুদি পাহাড়ে ভেড়ে এবং হজরত মূসা (আ.)-এর নেতৃত্বে বনি ইসরাইলদের অত্যাচারী ফেরাউনের কবল থেকে অলৌকিকভাবে মুক্তি পাওয়ার মতো মহান সব ঘটনার সাক্ষী এই পবিত্র আশুরা।

পবিত্র আশুরা উপলক্ষে রাজধানীতে আয়োজিত তাজিয়া মিছিলসহ বিভিন্ন শোক কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। ডিএমপি কমিশনার জানিয়েছেন লালবাগ, ওয়ারী, রমনা, তেজগাঁও, মতিঝিল ও মিরপুরসহ ঢাকার বিভিন্ন বিভাগের ২৮টি ইমামবাড়া কর্তৃক মুহাররমের ১ তারিখ থেকে ১০ তারিখ পর্যন্ত মোট ৬৩টি তাজিয়া মিছিলের আয়োজন করা হয়েছে। প্রতিটি মিছিলের জন্য নির্দিষ্ট রুট নির্ধারণ এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় বিশেষ পুলিশি পাহারা নিশ্চিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে আতশবাজি বা যেকোনো ধরনের পটকা ব্যবহার সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ থাকবে বলে জানিয়েছে ডিএমপি।

পবিত্র আশুরা উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পৃথক বাণী দিয়েছেন।

রাষ্ট্রপতির বাণী: রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন কারবালার প্রান্তরে শাহাদতবরণকারী সব শহিদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করে বলেন, পবিত্র আশুরার শাশ্বত বাণী মানুষকে অন্যায়-অবিচার ও ক্ষমতার অপব্যবহারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী হতে শেখায় এবং সত্য, সুন্দর ও আলোর পথ দেখায়। তিনি একটি সাম্য, ন্যায়ভিত্তিক ও মানবিক সমাজ প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি মুসলিম উম্মাহর সংহতি কামনা করেন।

প্রধানমন্ত্রীর বাণী: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার বাণীতে ইমাম হোসাইন (রা.)-এর আপসহীন সংগ্রামকে স্মরণ করে বলেন, ইসলামের মূল শিক্ষা শান্তি, ন্যায়, সহমর্মিতা ও মানবকল্যাণের ওপর প্রতিষ্ঠিত। ইসলামে বিভেদ, হানাহানি, বিদ্বেষ কিংবা সামাজিক বৈরিতার কোনো স্থান নেই। তিনি আশুরার মহান শিক্ষা থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে সমাজে সম্প্রীতি, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও ভ্রাতৃত্ববোধ সুদৃঢ় করার আহ্বান জানান। কারবালার মর্মন্তুদ ঘটনা মানবজাতিকে শিখিয়েছে কীভাবে জুলুম, অন্যায় ও স্বৈরাচারের কাছে মাথা নত না করে সত্য ও ন্যায়ের আদর্শকে সমুন্নত রাখতে হয়। এই অবিনাশী শিক্ষা আজও সমগ্র মানবজাতির জন্য এক অন্তহীন প্রেরণার উৎস ধারণ করে আছে।

অভাবের চাদরে মোড়ানো এক জীবনযাপনের গল্প

প্রকাশ: ২৮ জুন ২০২৬, ১০:০০ এএম
আপডেট: ২৮ জুন ২০২৬, ১২:২০ পিএম
অভাবের চাদরে মোড়ানো এক জীবনযাপনের গল্প
ছবি: সংগৃহীত

আজকের বিলাসিতা ও প্রাচুর্যের যুগে দাঁড়িয়ে কি কল্পনা করা যায়, আল্লাহর প্রিয়তম রাসুলের মেহমানরা ক্ষুধার জ্বালায় অচেতন হয়ে পড়ে থাকতেন? কিংবা তিনি নিজে কখনো পেট পুরে গোশত-রুটি খেয়েছেন কেবল তখনই, যখন সামনে কোনো মেহমান থাকত? আসুন, ইতিহাসের পাতা থেকে মহানবি (সা.)-এর সাধারণ কিন্তু এক অনন্য জীবনযাপনের গল্প জেনে নিই।

রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর একনিষ্ঠ খাদেম ও আসহাবে সুফফার সদস্য হযরত আবু হুরায়রা (রা.)-এর জীবনের একটি ঘটনা পরবর্তী সময়ে ইসলামের ইতিহাসের এক জ্বলন্ত দলিল হয়ে দাঁড়ায়। এক বর্ণনায় এসেছে, মোহাম্মদ ইবনে সীরীন (রহ.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা একদিন আবু হুরায়রা (রা.)-এর কাছে উপস্থিত ছিলাম। তখন তাঁর পরিধানে ছিল কাতানের (মূল্যবান তিসি বা পাটের সুতার) দুটি কাপড়।

তিনি তার একটি দিয়ে নাক পরিষ্কার করছিলেন আর (নিজের অতীত মনে করে) বলছিলেন, ‘বাহ, বাহ! আবু হুরায়রা আজ কাতানের কাপড় দিয়ে নাক সাফ করছে! অথচ এমন এক সময় ছিল যখন আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর মিম্বর এবং আয়েশা (রা.)-এর হুজরার পাশে ক্ষুধার জ্বালায় অজ্ঞান হয়ে পড়ে থাকতাম। আর আগন্তুকরা আমাকে মৃগী রোগী মনে করে ঘাড়ে পা দিয়ে চাপ দিত। অথচ আমার কোনো উন্মাদনা ছিল না, কেবল প্রচণ্ড ক্ষুধাই ছিল এর কারণ।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৭৩২৪)

মেহমানের অবস্থা দেখেই মেজবানের অবস্থা অনুমান করা যায়। আসহাবে সুফফার সদস্যরা ছিলেন রাসুল (সা.)-এর সার্বক্ষণিক মেহমান। মেহমানরা যখন ক্ষুধার তীব্রতায় সংজ্ঞা হারাতেন, তখন মেজবান তথা স্বয়ং আল্লাহর রাসুল (সা.)-এর ঘরে যে কী পরিমাণ খাদ্যাভাব ছিল, তা সহজেই অনুমেয়।

রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর ত্যাগ ও আতিথেয়তার আরেকটি অনন্য দিক ফুটে ওঠে মালিক ইবনে দীনার (রহ.)-এর এই বর্ণনায়। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) কখনো ‘যাফাফ’ ছাড়া তৃপ্তিসহকারে রুটি এবং গোশত ভক্ষণ করেননি। মালিক ইবনে দীনার বলেন, আমি এক বেদুইনকে জিজ্ঞেস করলাম, ‘যাফাফ’ কী? সে বলল, ‘মানুষের সঙ্গে একত্রে (মেহমান নিয়ে) পানাহার করা।’ (মুসনাদে আহমাদ, ১৩৮৮৬; সহিহ ইবনে হিব্বান, ৬৩৫৯)

রাসুলুল্লাহ (সা.) নিজের জন্য কখনো আয়েশ বা তৃপ্তির আয়োজন করেননি। তবে যখন কোনো মেহমান আসত, তখন মেহমান যেন সংকোচ বোধ না করে পেট ভরে খেতে পারে, সে জন্য তিনি নিজে মেহমানের সঙ্গে তৃপ্তিসহকারে খেতেন। এটিই ছিল তাঁর অতুলনীয় আতিথেয়তা ও মনস্তাত্ত্বিক উদারতা।

রাসুল (সা.)-এর জীবনযাপন আমাদের শেখায় যে, অভাব মানেই দীনতা নয়, বরং ত্যাগের মাধ্যমেও জীবনের সর্বোচ্চ শিখরে পৌঁছানো সম্ভব। আজকের ভোগবাদী সমাজে তাঁর এই অনাড়ম্বর জীবনদর্শন আমাদের আত্মশুদ্ধির এক মহাসড়ক দেখাতে পারে।

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক 

২৮ জুন  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি

প্রকাশ: ২৮ জুন ২০২৬, ০৭:০০ এএম
২৮ জুন  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি
জুন, ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচির ছবি

প্রতিদিন সময়মতো পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করা ফরজ। নামাজ (সালাত) ইসলাজুনর পাঁচটি স্তম্ভের মধ্যে একটি এবং ইসলাজুনর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফরজ ইবাদত।

আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে জিজ্ঞাসা করলাম, (হে আল্লাহর রাসুল!) আল্লাহর কাছে সবচেয়ে বেশি প্রিয় আমল কোনটি? রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, ‘নামাজ (বুখারি ও মুসলিম)

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা সেভাবে নামাজ আদায় করো, যেভাবে আমাকে নামাজ আদায় করতে দেখেছ।’ (বুখারি, ৬৩১)

সঠিকভাবে নামাজ আদায় করতে হলে, নামাজের সময় জানতে হবে।

 

আজ ২৮ জুন ২০২৬, রবিবার। ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সূচি তুলে ধরা হলো— 

জোহর

১২.০৪ মিনিট

আসর

৪.৪০ মিনিট

মাগরিব

৬.৫৩ মিনিট

এশা

৮.১৯ মিনিট

 

ফজর (২৯ জুন)

.৪৫মিনিট

 

 

বিভাগীয় শহরের জন্য উল্লিখিত সময়ের সঙ্গে যেসব বিভাগে সময় যোগ-বিয়োগকরতে হবে।

বিয়োগ

চট্টগ্রাম: ৫ মিনিট

সিলেট: ৬ মিনিট

যোগ

খুলনা: ৩ মিনিট

রাজশাহী: ৭ মিনিট

রংপুর: ৮ মিনিট

বরিশাল: ১ মিনিট

 

সূত্র: ইসলামিক ফাউন্ডেশন

যে ৩টি কাজে আল্লাহ অসন্তুষ্ট হন

প্রকাশ: ২৭ জুন ২০২৬, ০৭:০০ পিএম
যে ৩টি কাজে আল্লাহ অসন্তুষ্ট হন
ছবি: সংগৃহীত

বর্তমান যুগে আমরা অনেকেই বাহ্যিক কিছু আচার-অনুষ্ঠানকে ধর্ম মনে করে আত্মতৃপ্তিতে ভুগি। কিন্তু সমাজকে পাশ কাটিয়ে কেবল ব্যক্তিকেন্দ্রিক ধর্মচর্চায় আল্লাহর পূর্ণ সন্তুষ্টি আসে না। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত এক চমৎকার নির্দেশনায় রাসুলুল্লাহ (সা.) আল্লাহর সন্তুষ্টি ও অসন্তুষ্টির তিনটি করে ক্ষেত্র নির্ধারণ করে দিয়েছেন, যা যেকোনো সভ্য সমাজের মূল ভিত্তি হতে পারে।

যে ৩টি কাজে আল্লাহ সন্তুষ্ট হন:

১. আল্লাহর নিখাদ ইবাদত করা এবং তাঁর সার্বভৌমত্বে বিন্দুমাত্র অংশীদার বা শিরক না করা।

২. আল্লাহর দেওয়া জীবনবিধানকে সামগ্রিকভাবে ও শক্তভাবে আঁকড়ে ধরা এবং নিজেদের মধ্যে দলাদলি বা বিভেদ সৃষ্টি না করা।

৩. সমাজ ও রাষ্ট্রের দায়িত্বশীল বা নেতাদের জন্য আন্তরিকভাবে কল্যাণ কামনা করা ও তাঁদের সৎকাজে সহযোগিতা করা।

বিপরীতভাবে, বর্তমান সোশ্যাল মিডিয়া বা আমাদের যাপিত জীবনের দিকে তাকালে দেখা যায়, আমরা অবলীলায় এমন কিছু কাজ করে যাচ্ছি যা স্রষ্টাকে অসন্তুষ্ট করে।
যে ৩টি কাজে আল্লাহ অসন্তুষ্ট হন:

১. আজকের দিনে ফেসবুক-ইউটিউবে ট্রোল করা, গুজব ছড়ানো বা মানুষের চরিত্র হনন করা নিত্যদিনের ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। অপ্রয়োজনীয় ও অর্থহীন কথা বলার এই প্রবণতা আল্লাহকে অসন্তুষ্ট করে।

২. অপচয় ও সম্পদের অপব্যবহার করা।

৩. কোনো গঠনমূলক উদ্দেশ্য ছাড়া কেবল তর্কের খাতিরে বা অন্যকে বিপদে ফেলার জন্য অনর্থক খুঁতখুঁতে প্রশ্ন করা।

আমরা যদি আজকের বাংলাদেশের সামাজিক অস্থিরতা, রাজনৈতিক কাদা ছোড়াছুড়ি আর পারিবারিক ভাঙনের দিকে তাকাই, তবে দেখব এই প্রতিটি সংকটের মূলে রয়েছে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর নির্দেশিত এই বার্তাগুলোর অনুপস্থিতি। অন্যের ভালো দেখে হিংসা না করে তার জন্য কল্যাণ কামনা করা, গুজবে কান না দিয়ে অনর্থক কথা বলা বন্ধ করা এবং সমাজের ঐক্য ধরে রাখা আজ সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি।

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক