জামালপুরের মেলান্দহে একমাত্র শিশু সন্তানকে হত্যার অভিযোগে মাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
রবিবার (২৮ জুন) সকালে উপজেলার ভাবকী গোয়ালবাড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার (২৭ জুন) রাতে হুমায়ুন কবির (২৫), শ্রাবন্তী আক্তার (২০) দম্পতির একমাত্র ৯ মাস বয়সী শিশু সন্তান শাওন রাতের খাবার খেয়ে ঘুমিয়ে যায়। সকালে হুমায়ুন কবিরের ঘুম ভাঙলে তাকিয়ে দেখেন ঘরের সামনের এবং পিছনের দুটি দরজাই খোলা। বিছানায় স্ত্রী শ্রাবন্তী আক্তার ও শিশু সন্তান শাওন নেই। এরপর তিনি তাদেরকে খুঁজাখুঁজি শুরু করেন।
খুঁজাখুঁজির এক পর্যায়ে পার্শ্ববর্তী বেপারীপাড়া এলাকায় তার এক স্বজন বাড়ির পাশে পুকুরে ভাসমান অবস্থায় শিশু শাওনকে দেখতে পায়। সেখানে শিশু শাওনের মা শ্রাবন্তী আক্তারকেও দেখতে পায়। পরে শিশুটিকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করে ও হুমায়ুন কবিরের স্বজনরা শ্রাবন্তী আক্তারকে ধরে এনে বাড়ির পাশে বিদ্যুতের খুঁটিতে বেঁধে রাখেন।
অভিযুক্ত শ্রাবন্তী আক্তার জানান, রাত সাড়ে তিনটার দিকে এক ব্যক্তি ঘরের দরজায় টোকা দিলে উঠে দরজা খুলে দেয়। এ সময় মুখোশ পরা ব্যক্তি তার মুখে রুমাল দিয়ে অজ্ঞান করে অটোরিকশায় তুলে নিয়ে ভাবকী বাজার এলাকায় নিয়ে নামিয়ে দেয়। অটোরিকশা থেকে নামানোর পর কিছুটা জ্ঞান ফিরে পাওয়ার পর শ্বশুরবাড়ির লোকজন আমাকে ধরে এনে বেঁধে রাখে।
হুমায়ুন কবির বলেন, ‘এর আগেও কয়েকবার আমার স্ত্রী পালিয়ে গিয়েছে। সে অনেক ছেলের সঙ্গে ফোনে কথা বলে। তার বাবার বাড়ি এবার আসার সময় মোবাইল রেখে আসছে। আমার স্ত্রী আমার শিশুকে হত্যা করেছে। এর আগেও কয়েকবার বিচার সালিস হয়েছে। ওই আমার ছেলেকে মেরে ফেলছে।’
মেলান্দহ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওবায়দুর রহমান বলেন, ‘খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। অভিযুক্ত নারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য শিশুর মরদেহ মর্গে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। এ বিষয়ে আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।’
আসমাউল আসিফ/আজহার/