রাঙামাটির বরকল ছোটহরিনা সীমান্তে বিজিবির অভিযানে ভারতে পাচারের সময় ৭১ বস্তা সার জব্দ করা হয়েছে। এগুলোর মধ্যে ৩৬ বস্তা ইউরিয়া সার, যার পরিমাণ ১ হাজার ৮০০ কেজি, ৮ বস্তা টিএসপি সার, যার পরিমাণ ৪০০ কেজি এবং ২৭ বস্তা জৈব সার, যার পরিমাণ ১ হাজার ৩৫০ কেজি।
রবিবার (২৮ জুন) সকালে সীমান্ত এলাকায় ছোটহরিনা ব্যাটালিয়নের (১২ বিজিবি) সদস্যরা একটি নৌকায় তল্লাশি চালিয়ে সার জব্দ করেন।
বিজিবি সূত্র জানায়, অভিযানে পাচারের সঙ্গে জড়িত কাউকে আটক করা হয়নি। তবে সীমান্ত এলাকায় জড়িত চক্রকে শনাক্ত করতে বিজিবি তৎপর।
বিজিবি জানায়, সীমান্ত দিয়ে সারসহ বিভিন্ন পণ্যের অবৈধ পাচার রোধে নিয়মিত টহল ও গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। দেশের স্বার্থ ও সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও চলমান থাকবে।
জিয়াউর রহমান/থিওটোনিয়াস
পাবনার ঈশ্বরদীতে ২০২৬ সালের জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইনের আওতায় এবার ৩০ হাজার ৮৯৪ জন শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে।
রবিবার (২৮ জুন) সকাল সাড়ে ৯টায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনুষ্ঠানিকভাবে এই ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন করা হয়।
জনস্বাস্থ্য পুষ্টি ও জাতীয় পুষ্টি সেবা অধিদপ্তর, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় ভিটামিন এ প্লাস ক্যাম্পেইন বাস্তবায়ন করছে ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স।
ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন উদ্বোধন করেন ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ডা. ইব্রাহিম হোসেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের প্রশাসনিক কর্মকর্তা সৈয়দ ফরহাদ উদ্দীন, পাবনা জেলা স্যানিটারি ইন্সপেক্টর মাহমুদ আলম, ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডা. স্বপ্নীল হোসেন, আসাদুজ্জামান সুজন, পরিসংখ্যান কর্মকর্তা নাজনীন আফরোজ, স্যানিটারি ইন্সপেক্টর আব্দুল্লাহ আল মামুন, স্বাস্থ্য পরিদর্শক মিজানুর রহমান, সিনিয়র স্টাফ নার্স রেহেনা খাতুন প্রমুখ।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, স্থায়ী কেন্দ্র উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ উপজেলার ১৬৮টি কেন্দ্রে ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন চলছে।
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিসংখ্যান কর্মকর্তা নাজনীন আফরোজ জানান, এ বছর উপজেলায় ৩০ হাজার ৮৯৪ শিশুকে ভিটামিন এ প্লাস ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে। এর মধ্যে ৬ থেকে ১১ মাস বয়সী ৪ হাজার ৪৪৯ শিশুকে একটি করে নীল এবং ১২ থেকে ৫৯ মাস বয়সী ৩১ হাজার ৪৪৫ শিশুকে একটি করে লাল রঙের ভিটামিন ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে।
জাহাঙ্গীর/খাদিজা রুমি/
দিনাজপুরের হিলিতে অন্ধত্ব প্রতিরোধসহ শিশুদের পুষ্টিহীনতা দূরীকরণের লক্ষ্যে ভিটামিন এ প্লাস ক্যাম্পেইন শুরু হয়েছে।
রবিবার (২৮ জুন) বেলা ১১টায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপেক্স চত্বরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জর্জ মিত্র চাকমা ভিটামিন এ প্লাস ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন করেন।
এ সময় উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. তানভীর হাসনাত রবিন, হাকিমপুর থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাকির হোসেন উপস্থিত ছিলেন।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. তানভীর হাসনাত বলেন, তিনটি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভাসহ মোট ৯৭টি কেন্দ্রে ৬ থেকে ১১ মাস বয়সের শিশুকে একটি করে নীল রঙের ক্যাপসুল ও ১২ থেকে ৫৯ মাস বয়সে শিশুকে একটি করে লাল রঙের ভিটামিন এ প্লাস ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে।
উপজেলায় মোট ১৩ হাজার ৫১০ জন শিশুকে ভিটামিন এ প্লাস ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে।
কুদ্দুস আলী খান/তামান্না রুপা/
ঢাকার ধামরাই উপজেলার সানোড়া ইউনিয়নের ১৪৪নং বাওজা এবং ১৫০নং চান্দখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নতুন ভবন অনুমোদনের আগেই পুরোনো পাকা ভবন ভেঙে ফেলায় চরম বিপাকে পড়েছে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।
নতুন ভবনের আশায় ভবন দুটি ভেঙে ফেলায় বছরের পর বছর পেরিয়ে গেলেও কোনো বরাদ্দ বা অনুমোদন মেলেনি। ফলে রোদ, গরম আর বৃষ্টির মধ্যেই টিনের ঘরে কষ্ট করে পাঠদান চালাতে হচ্ছে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ১৯৭৪ সালে প্রতিষ্ঠিত বাওজা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাকা ভবনটি নতুন ভবনের আশায় তিন বছর আগে ভেঙে ফেলা হয়েছে। বর্তমানে সিলিংবিহীন একটি ছোট দুচালা টিনের ঘরে ক্লাস করছে শিক্ষার্থীরা। প্রচণ্ড গরমে এই ঘরে ক্লাস করা খুবই কষ্টকর। অন্যদিকে বর্ষায় সামান্য বৃষ্টিতেই ঘরে পানি ঢুকে।
একই অবস্থা চান্দখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের। ভবনটি ২০২৪ সালের নভেম্বরে ভাঙা হয়। এই বিদ্যালয়ের ৩৩ শতাংশ জায়গার মধ্যে মাত্র ১৩ শতাংশ দখলে থাকায় শিক্ষার্থীদের খেলাধুলার জায়গাও নেই।
দুই বিদ্যালয়েরই ওয়াশ ব্লক ব্যবহারের অযোগ্য। এমন পরিবেশের কারণে বিদ্যালয় দুটির শিক্ষার্থী কমছে। বাওজা বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সংখ্যা ৭৬ থেকে কমে ৫৬ এবং চান্দখালী বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সংখ্যা ১৭৫ থেকে কমে ১১৮ জনে দাঁড়িয়েছে।
বাওজা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাহফুজুর রহমান ও চান্দখালী বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নাজমা আক্তার বলেন, ‘ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ও শিক্ষা অফিসে বারবার লিখিতভাবে জানিয়েও কোনো সুরাহা মেলেনি। এমনকি উপজেলা শিক্ষা অফিসার একদিনের জন্যও বিদ্যালয় দুটি পরিদর্শনে আসেননি।’
এ বিষয়ে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মুহাম্মদ মোবাখখারুল ইসলাম মিজান ভবন নির্মাণে কিছুটা জটিলতার কথা স্বীকার করে বিষয়টি দেখার আশ্বাস দিয়েছেন।
অন্যদিকে, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আল মামুন জানান, বিষয়টি আগে জানা থাকলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া যেত, তবে এখন কীভাবে দ্রুত এই সমস্যার সমাধান করা যায় তা তিনি খতিয়ে দেখছেন।
রুহুল আমিন/খাদিজা রুমি/
সিলেটের সীমান্তবর্তী জকিগঞ্জ উপজেলার বারোঠাকুরী ইউনিয়নের সোনাসার এলাকায় যৌথ অভিযানে ১১টি ডেটোনেটর, ১১টি এক্সপ্লোসিভ (বিস্ফোরক) ও একটি ওয়ান শুটার গান জব্দ করা হয়েছে।
শনিবার (২৭ জুন) রাত ১০টার দিকে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) এসব জব্দ করে।
১৯ বিজিবি জানায়, জকিগঞ্জ ব্যাটালিয়নের (১৯ বিজিবি) অধীন বিয়াবাইল বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকার শূন্যরেখা থেকে প্রায় দেড় কিলোমিটার বাংলাদেশের অভ্যন্তরে যৌথ অভিযান চালানো হয়। অভিযানে সোনাসার ব্রিকস ফিল্ড এলাকা থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় ১১টি ডেটোনেটর, ১১টি এক্সপ্লোসিভ (বিস্ফোরক) ও একটি ওয়ান শুটার গান জব্দ করা হয়। এ ঘটনায় কাউকে আটক করা যায়নি।
এ বিষয়ে বিজিবির জকিগঞ্জ ব্যাটালিয়নের কমান্ডিং অফিসার লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. জুবায়ের আনোয়ার খবরের কাগজকে বলেন, জব্দ করা বিস্ফোরকগুলো চোরাচালানের মাধ্যমে বাংলাদেশে আনা হয়েছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, বিজিবির গোয়েন্দা তৎপরতা, আভিযানিক কার্যক্রম ও সতর্ক অবস্থানের কারণেই এই চোরাচালান প্রতিহত করা সম্ভব হয়েছে।
থিওটোনিয়াস/