ঢাকা ১৪ আষাঢ় ১৪৩৩, রোববার, ২৮ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
দৌড়েই সেরে উঠলেন ওয়াসিম স্মৃতির ক্যানভাসে সাগরকন্যা কুয়াকাটা জুলাই গণঅভ্যুত্থান মামলা: সাবেক ডিএমপি কমিশনারসহ ৩ কর্মকর্তার মৃত্যুদণ্ড সাতক্ষীরায় ৭৩ কোটি টাকার মাদক ধ্বংস জামালপুরে সন্তান হত্যার অভিযোগে গ্রেপ্তার মা গ্যাসসংকট সমাধানে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করবে সরকার: বাণিজ্যমন্ত্রী বিশ্বমঞ্চে ইউআইইউ মার্স রোভার সুরের আকাশে নতুন ধূমকেতু রেইথস চারুকলার নান্দনিক কাঠগোলাপ সৌরভের হৃদয়ের খুব কাছে মেসি এ প্লাস মানুষ গড়াই আমাদের লক্ষ্য: এমপি মনজুর টুনটুনির পুকুর দরজার আশায় জমানো লাখ টাকা ফেরত পাননি অসহায় নারী অবাক করা এক মাছ ভাঙ্গায় অধিপত্য বিস্তার নিয়ে সংঘর্ষে আহত ৫০, মহাসড়কে যানজট সাশ্রয়ী মূল্যে নিম্ন আয়ের মানুষের আবাসনের ব্যবস্থা করবে সরকার: গণপূর্ত মন্ত্রী বুদ্ধিমান প্রজাপতি ও দুষ্টু ফড়িং নির্যাতিত নেতাকর্মীদের পুনর্বাসনে বাজেটে বরাদ্দ চাইলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ষষ্ঠ শ্রেণিতে চালুর উদ্যোগ ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’নামে নতুন বই জনবল নেবে মধুমতি ব্যাংক, আবেদন করুন অনলাইনে বিশ্বকাপ ফুটবলের সোনার কাপের  ইতিহাস রাঙামাটির ছোটহরিনা সীমান্তে পাচারের সময় ৭১ বস্তা সার জব্দ ঈশ্বরদীতে ৩০৮৯৪ শিশু  পাবে ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাপসুল ব্রাজিলের বিপক্ষে আন্ডারডগ মানসিকতা নিয়েই লড়তে চায় জাপান সংসদে ৫০০ ও ১০০০ টাকার নোট বাতিলের প্রস্তাব হিলিতে ভিটামিন এ প্লাস ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন ধামরাইয়ে দুই প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বেহাল দশা, বিপাকে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা সিলেট সীমান্ত থেকে ডেটোনেটর, এক্সপ্লোসিভ ও ওয়ান শুটার জব্দ চকরিয়ায় মাইক্রোবাস-মোটরসাইকেল সংঘর্ষে ২ যুবক নিহত ব্যবস্থাপনার ধারণা অধ্যায়ের ১০টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর, ২য় পর্ব, এইচএসসির ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ২য় পত্র

বিশ্বকাপ ফুটবলের সোনার কাপের  ইতিহাস

প্রকাশ: ২৮ জুন ২০২৬, ০১:০৭ পিএম
বিশ্বকাপ ফুটবলের সোনার কাপের  ইতিহাস
বিশ্বকাপ ফুটবলের স্বর্ণনির্মিত ট্রফি।

১৯৩০ সালে উরুগুয়েতে যাত্রা শুরু করা বিশ্বকাপ ফুটবল ২০২৬ সালে পা রেখেছে ২৩তম আসরে। জাতীয় মর্যাদা ও সম্মানের প্রতীক স্বর্ণনির্মিত এই ট্রফিটি ঘিরে বিশ্ববাসীর উন্মাদনা দিন দিন বাড়ছে।
ইতিহাসে ১৯৩০ থেকে ১৯৭০ সাল পর্যন্ত এক ফুট উঁচু ডানাওয়ালা পরীর প্রতিকৃতিযুক্ত ট্রফিটি ‘জুলেরিমে কাপ’ নামে পরিচিত ছিল। ১৯৫৮ ও ১৯৬২ সালে  পরপর দুইবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল ব্রাজিল। এরপর ১৯৭০ সালে মেক্সিকো বিশ্বকাপে ইতালিকে ৪-১ গোলে হারিয়ে ব্রাজিল তৃতীয়বারের মতো শিরোপা নিশ্চিত করে। এর ফলে নিয়ম অনুযায়ী ব্রাজিল এই কাপটি চিরতরে নিজেদের করে নেয়। এরপর ১৯৭৪ সাল থেকে চালু হয় বর্তমান ‘ফিফা কাপ’, যার উচ্চতা ১২ ইঞ্চি এবং ওজন ১১ পাউন্ড। ব্রাজিল জুলেরিমে কাপ নিয়ে যাওয়ার পর ফিফা নিয়ম পরিবর্তন করে। নতুন নিয়মে কোনো দেশ তিনবার চ্যাম্পিয়ন হলেও মূল ট্রফিটি আর চিরতরে কাউকে দেওয়া হয় না। ফলে জুলেরিমে কাপের বিলুপ্তি ঘটলেও ফিফা কাপ বিলুপ্ত হওয়ার কোনো সুযোগ নেই।
১৯৩০ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত মোট ৮০টি দেশ বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছে এবং মোট ম্যাচের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৬৮। ইতিহাসে একমাত্র দল হিসেবে ব্রাজিল প্রতিটি বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছে এবং সর্বোচ্চ ১১৪টি ম্যাচ খেলার রেকর্ড ধরে রেখেছে। অন্যদিকে, ম্যাচ খেলার সংখ্যায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে জার্মানি।

টুনটুনির পুকুর

প্রকাশ: ২৮ জুন ২০২৬, ০১:৪১ পিএম
টুনটুনির পুকুর
এঁকেছেন মাসুম

এক ছিল ছোট্ট গ্রাম, নাম তার আনন্দপুর। সেই গ্রামের এক প্রান্তে ছিল একটা সুন্দর পুকুর। কিন্তু পুকুরটার কোনো নাম ছিল না। তবে তোমরা চাইলে আমরা পুকুরটার একটা নাম দিতে পারি, যেমন ধরো, কানা পুকুর। 
সেই কানা পুকুরের পানি ছিল কাচের মতো পরিষ্কার। সেই পানিতে সাঁতার কাটত লাল-নীল মাছের দল। পুকুরের ধারে ছিল বড় বড় আম গাছ, আর সেই গাছের ডালে বাস করত ছোট্ট টুনটুনি পাখি। টুনটুনি যখনই মন খারাপ করত, তখনই পুকুরের দিকে তাকিয়ে গান গাইত। পুকুর যেন টুনটুনির দুঃখের বন্ধু ছিল।
গ্রামের বাচ্চারা রোজ দুপুরে পুকুরের ধারে খেলতে আসত। কেউ ডুব দিত শীতল পানিতে, কেউ বা পুকুরের পাড়ে বসে পানি ছুঁয়ে খেলত। পুকুরটা ছিল গ্রামের সবার খুব প্রিয়।
একদিন গ্রামে এল এক অচেনা লোক। তার নাম ছিল ঘোটন চৌধুরী। ঘোটন চৌধুরী খুব ধনী ছিলেন, কিন্তু তার ছিল শুধু টাকা জমানোর চিন্তা। তিনি গ্রামের সব পুকুর ভরাট করে সেখানে বড় বড় ঘরবাড়ি বানাতে চাইলেন। তিনি ভাবলেন, ‘পুকুর তো শুধু শুধু জায়গা নষ্ট করছে। এখানে বাড়ি বানালে আমি অনেক টাকা পাব।’ 
প্রথমেই তিনি আনন্দপুরের সেই সুন্দর পুকুরটা ভরাট করতে চাইলেন। গ্রামের মানুষরা খুব মন খারাপ করল। বাচ্চারা কাঁদছিল, ‘আমাদের পুকুরটা নষ্ট করে দিও না! আমরা দুপুরে এই পুকুরে সাঁতার কাটি, গোসল করি।’  
টুনটুনি পাখি গাছের ডালে বসে সব দেখল। সে দেখল, বড় বড় গাড়ি এসে পুকুরে মাটি ফেলছে। পুকুরের পানি কমে আসছে। মাছেরা ছটফট করছে। টুনটুনির বুকটা ব্যথায় ভরে গেল। সে ভাবল, ‘আমার বন্ধু পুকুরটা মরে যাচ্ছে!’ 
টুনটুনি উড়তে উড়তে গেল এক জ্ঞানী প্যাঁচার কাছে। প্যাঁচা মশাই সব শুনে বললেন, ‘মানুষকে বোঝাতে হবে পুকুর কেন দরকার। পুকুর শুধু পানির জায়গা নয়, পুকুর হলো গ্রামের প্রাণ।’ 
টুনটুনি আবার গ্রামের কাছে ফিরে এল। সে দেখল, বাচ্চারা আর পুকুরের কাছে খেলা করে না। পুকুরটা প্রায় অর্ধেক ভরাট হয়ে গেছে। টুনটুনি তখন একটা বুদ্ধি বের করল।
সে রোজ সকালে পুকুরের ধারে উড়ে যেত। তারপর নিজের ছোট চঞ্চু দিয়ে মাটি থেকে একটা করে পানির ফোঁটা তুলে আনত। সেই ফোঁটাগুলো সে পুকুরের শুকনো অংশে ফেলত। গ্রামের মানুষ আর ঘোটন অবাক হয়ে দেখল।
একজন বলল, ‘আহা রে! ছোট্ট পাখিটা এই পুকুর বাঁচানোর চেষ্টা করছে!’ 
আরেক বৃদ্ধ লোক বলল, ‘আমরা এত বড় হয়েও যা বুঝিনি, এই ছোট্ট পাখিটা সেটাই বোঝাচ্ছে।’
টুনটুনির এই চেষ্টা দেখে গ্রামের সবার মন বদলে গেল। তারা বুঝতে পারল, পুকুর শুধু পানির জন্য নয়, পরিবেশের জন্যও খুব দরকার। পুকুর না থাকলে গরম বেড়ে যাবে, মাছেরা বাঁচবে না, আর গ্রামের সৌন্দর্যও নষ্ট হবে।
সবাই মিলে ঘোটন চৌধুরীর কাছে গেল। তারা বলল, ‘চৌধুরী, আপনি পুকুরটা ভরাট করবেন না। আমরা পুকুরটা যেমন আছে তেমনই রাখতে চাই...।’ 
ঘোটন চৌধুরী সবার কথা শুনে খুব লজ্জা পেলেন। তিনি বুঝলেন, টাকা দিয়ে সব হয় না। ভালোবাসা আর পরিবেশের মূল্য অনেক বেশি। তিনি পুকুর ভরাট করা বন্ধ করে দিলেন। শেষে তিনি হাত জোড় করে বললেন, ‘আপনারা আজ আমার চোখ খুলে দিলেন, নয়তো আমি খুব বড় একটা ভুল করতে যাচ্ছিলাম। আপনাদের সবাইকে ধন্যবাদ।’ 
কিছুদিনের মধ্যেই পুকুরটা আবার আগের মতো সুন্দর হয়ে উঠল। মাছেরা আবার সাঁতার কাটতে শুরু করল। আর টুনটুনি পাখি প্রতিদিন পুকুরের ধারে বসে আনন্দে গান গায়। সে জানে, তার বন্ধু পুকুরটা বেঁচে গেছে।

অবাক করা এক মাছ

প্রকাশ: ২৮ জুন ২০২৬, ০১:৩২ পিএম
অবাক করা এক মাছ
সানফিশ।

তুমি কি জানো, পৃথিবীর সবচেয়ে ভারী অস্থিযুক্ত মাছগুলোর একটি হলো ওশান সানফিশ? একে অনেক সময় মোলা মোলা নামেও ডাকা হয়। দেখতে এতটাই অদ্ভুত যে, প্রথম দেখলে মনে হতে পারে, যেন মাছটির শরীরের অর্ধেক অংশ নেই!
ওশান সানফিশ পৃথিবীর বিভিন্ন উষ্ণ ও নাতিশীতোষ্ণ সমুদ্রে বাস করে। আটলান্টিক, প্রশান্ত ও ভারত মহাসাগরের অনেক জায়গায় এদের দেখা যায়। বেশির ভাগ সময় তারা সমুদ্রের খোলা জলে ঘুরে বেড়ায়।
এই মাছের জীবন শুরু হয় খুবই ছোট আকারে। একটি সদ্য ফোটা সানফিশের বাচ্চার দৈর্ঘ্য মাত্র কয়েক মিলিমিটার হয়, অর্থাৎ একটি ছোট চালের দানার কাছাকাছি! জন্মের সময় তাদের শরীরে ছোট ছোট কাঁটার মতো অংশ থাকে এবং তখন একটি লেজও দেখা যায়। কিন্তু বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে শরীরের গঠন বদলে যেতে থাকে। ধীরে ধীরে লেজটি প্রায় হারিয়ে যায় এবং শরীর গোল ও চ্যাপ্টা আকার ধারণ করে।
সানফিশের সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় হলো এর দ্রুত বৃদ্ধি। বিজ্ঞানীরা দেখেছেন, জন্মের পর একটি সানফিশ তার ওজন কয়েক কোটি গুণ পর্যন্ত বাড়াতে পারে। পৃথিবীর খুব কম প্রাণীই জীবনের শুরু থেকে এত বেশি বৃদ্ধি পায়।
বড় হলে একটি ওশান সানফিশের দৈর্ঘ্য তিন মিটার বা তারও বেশি হতে পারে। ওজন হতে পারে দুই টনেরও বেশি, অর্থাৎ একটি ছোট গাড়ির সমান! তাদের শরীর দেখতে অনেকটা বিশাল গোলাকার চাকতির মতো। পিঠ ও পেটের দিকে বড় দুটি পাখনা থাকে। এই পাখনাগুলো নেড়ে তারা পানির মধ্যে চলাফেরা করে।
সানফিশ সাধারণত জেলিফিশ, ছোট মাছ, প্ল্যাঙ্কটন এবং অন্যান্য নরমদেহী সামুদ্রিক প্রাণী খায়। খাবারের খোঁজে তারা কখনো গভীর পানিতে যায়, আবার কখনো সমুদ্রের ওপরের দিকে ভেসে ওঠে।
মজার বিষয় হলো, অনেক সময় সানফিশকে সমুদ্রের উপরিভাগে পাশ ফিরে ভেসে থাকতে দেখা যায়। দূর থেকে দেখলে মনে হয় যেন তারা রোদ পোহাচ্ছে। এই কারণেই ইংরেজিতে তাদের নাম হয়েছে ‘সানফিশ’ বা সূর্যমাছ।
অদ্ভুত চেহারা, ক্ষুদ্র বাচ্চা থেকে বিশাল আকারে বেড়ে ওঠা এবং শান্ত স্বভাব—সব মিলিয়ে ওশান সানফিশ সমুদ্রের সবচেয়ে বিস্ময়কর প্রাণীগুলোর একটি। তাই সমুদ্রের রহস্যময় জগতের কথা ভাবলে এই বিশাল সূর্যমাছের কথা নিশ্চয়ই মনে রাখা যায়!

বিশ্বকাপ ফুটবলের সোনার কাপের  ইতিহাস

প্রকাশ: ২৮ জুন ২০২৬, ০১:০৭ পিএম
বিশ্বকাপ ফুটবলের সোনার কাপের  ইতিহাস
বিশ্বকাপ ফুটবলের স্বর্ণনির্মিত ট্রফি।

১৯৩০ সালে উরুগুয়েতে যাত্রা শুরু করা বিশ্বকাপ ফুটবল ২০২৬ সালে পা রেখেছে ২৩তম আসরে। জাতীয় মর্যাদা ও সম্মানের প্রতীক স্বর্ণনির্মিত এই ট্রফিটি ঘিরে বিশ্ববাসীর উন্মাদনা দিন দিন বাড়ছে।
ইতিহাসে ১৯৩০ থেকে ১৯৭০ সাল পর্যন্ত এক ফুট উঁচু ডানাওয়ালা পরীর প্রতিকৃতিযুক্ত ট্রফিটি ‘জুলেরিমে কাপ’ নামে পরিচিত ছিল। ১৯৫৮ ও ১৯৬২ সালে  পরপর দুইবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল ব্রাজিল। এরপর ১৯৭০ সালে মেক্সিকো বিশ্বকাপে ইতালিকে ৪-১ গোলে হারিয়ে ব্রাজিল তৃতীয়বারের মতো শিরোপা নিশ্চিত করে। এর ফলে নিয়ম অনুযায়ী ব্রাজিল এই কাপটি চিরতরে নিজেদের করে নেয়। এরপর ১৯৭৪ সাল থেকে চালু হয় বর্তমান ‘ফিফা কাপ’, যার উচ্চতা ১২ ইঞ্চি এবং ওজন ১১ পাউন্ড। ব্রাজিল জুলেরিমে কাপ নিয়ে যাওয়ার পর ফিফা নিয়ম পরিবর্তন করে। নতুন নিয়মে কোনো দেশ তিনবার চ্যাম্পিয়ন হলেও মূল ট্রফিটি আর চিরতরে কাউকে দেওয়া হয় না। ফলে জুলেরিমে কাপের বিলুপ্তি ঘটলেও ফিফা কাপ বিলুপ্ত হওয়ার কোনো সুযোগ নেই।
১৯৩০ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত মোট ৮০টি দেশ বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছে এবং মোট ম্যাচের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৬৮। ইতিহাসে একমাত্র দল হিসেবে ব্রাজিল প্রতিটি বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছে এবং সর্বোচ্চ ১১৪টি ম্যাচ খেলার রেকর্ড ধরে রেখেছে। অন্যদিকে, ম্যাচ খেলার সংখ্যায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে জার্মানি।

ঈদের ছড়া

প্রকাশ: ২২ মে ২০২৬, ০২:১২ পিএম
ঈদের ছড়া
এঁকেছেন মাসুম

লাল গরু

আবদুল লতিফ 

বাবার সাথে গেল খোকা 
ঈদের পশুর হাটে 
নানান রকম পশু দেখে 
খোকার সময় কাটে। 

নানান রঙের নানান পশু 
নানান রকম শিং 
কারও গলায় ঘণ্টা বাজে 
টুংটাং টিংটিং।

টুকটুকে লাল একটা গরু 
শিং দুটো তার বাঁকা 
খুব সুন্দর দেখতে যেন 
রংতুলিতে আঁকা।

এমন গরু দেখে খোকার 
জুড়ায় দুই নয়ন 
সেই গরুটা দেখে বাবারও 
ভরে ওঠে মন।

লাল গরুটা কিনে নিয়ে 
ফিরল বাড়ি শেষে 
ফিরল বাড়ি বাবা-ছেলে
খুশির নায়ে ভেসে।

 


কোরবানির পশু কেনা

মুহাম্মদ রফিক ইসলাম 

 

গেল খোকা
পশুর হাটে 
          ঈদের খুশি মনে,
লাল গরুটা
পছন্দ খুব
         দেখে জনে জনে।
খোকা বলে
কিনতে হবে
         এই গরুটা ভালো, 
ইয়া বড়
শিং আছে তার
         লেজখানি যার কালো।
মুচকি হেসে
বলেন বাবা
         নাও তাহলে এটা,
মনের খায়েশ 
পূর্ণ হলেই 
         আল্লাহ খুশি, ব্যাটা।

 

 


ঈদ এলে 

মো. দিদারুল ইসলাম 

 

ঈদ এলে ছেলে-বুড়ো রাত করে ভোর,
খুকুমণি হাতে তোলে মেহেদির ফোঁড়।

ঈদ এলে শহরের অলিগলি ফাঁকা,
অনেকেই ছেড়ে যায় রাজধানী ঢাকা।

ঈদ এলে সারা গাঁয়ে পড়ে যায় ধুম,
খোকনের চোখজুড়ে নাহি থাকে ঘুম।

ঈদ এলে গরিবের মনে নাই সুখ,
আঁখি সদা জলে ভরা দুখ আর দুখ।

ঈদ এলে উঁচু-নিচু ভেদাভেদ নাই,
সকলেই মিলেমিশে ঈদগাহে যাই।

 


ঈদ এল গাই চলো!

শ্যামল বণিক অঞ্জন 

 

খুশির পরাগে সাজে প্রজাপতি মন
উল্লাসে শোরগোলে মাতোয়ারা ক্ষণ! 
আকাশের কোণে হাসে এক ফালি চাঁন
ঈদ এল গাই চলো সাম্যেরই গান!
কোলাকুলি গলাগলি বুকে রাখি বুক
ঈদে থাক সকলেরই হাসিভরা মুখ!

রেজার লাল গরু

প্রকাশ: ২২ মে ২০২৬, ০২:০৪ পিএম
রেজার লাল গরু
এঁকেছেন মাসুম

ফুরফুরে বাতাস আর কাঁচা মাটির গন্ধে রেজার মনটা বেশ ফুরফুরে হয়ে আছে। বাবা সরকারি চাকরি করেন বলে সারা বছর ইটের দেয়ালে বন্দি থাকতে হয়। কিন্তু এবারের ঈদটা একদম অন্যরকম। ফুলপুরে দাদাবাড়ি মানেই অন্য এক জগৎ। রেজার বাপ-দাদারা খাঁটি ‘ধানিপানি’ গেরস্ত। উঠানভর্তি ধানের গোলা আর গোয়ালভর্তি গরু–এসব দেখেই রেজা বড় হয়েছে গল্পের ছলে।
গ্রামে আসার পর থেকে রেজার দিন কাটছে চাচাতো ভাই মাহিরের সঙ্গে। ওরা দুজনেই ক্লাস ফাইভে পড়ে, যেন হরিহর আত্মা। মাঠ-ঘাট আর বন-বাদাড় চষে বেড়ানোই এখন ওদের প্রধান কাজ। ঈদের দুদিন আগে শুরু হলো আসল উত্তেজনা–গরু কেনা।
হাটে গিয়ে রেজার সে কী আনন্দ! চারদিকে শত শত গরু। এর মধ্যেই হঠাৎ এক কাণ্ড ঘটল। একটা গরুর খুব কাছ দিয়ে যাওয়ার সময় সপাৎ করে রেজা একটা লাথি খেল। ব্যথা যতটা না লেগেছে, তার চেয়ে লজ্জা পেল বেশি। মাহির তো হেসেই কুটিপাটি! শেষমেশ চাচা এসে রেজার ধুলো ঝেড়ে দিয়ে হাসিমুখে বললেন, ‘আরে পাগলা। গরু তো একটু-আধটু গুঁতা-লাথি মারবেই। সাবধানে থাকতে হয়।’
অনেক খোঁজাখুঁজির পর বাবা আর চাচা মিলে বিশালাকার একটা লাল টুকটুকে বলদ কিনলেন। যেমন তার শিং, তেমনি তার গায়ের রং। রেজা শুরু থেকেই তার ফোনে ছবি তুলছিল। হাটে যাওয়া, দরদাম করা, আর শেষে লাল গরুর সঙ্গে বীরের মতো দাঁড়িয়ে ছবি তোলা–কিছুই বাদ রাখল না সে।
বাড়ি ফিরে এসেই রেজার নতুন মিশন শুরু হলো। বাবা, চাচা-চাচি, আর দাদা-দাদিকে নিয়ে উঠোনে একটা দারুণ ফ্যামিলি সেলফি তুলল। তার পর সেই বিশাল গরুর ছবির সঙ্গে ক্যাপশন দিয়ে ফেসবুকে পোস্ট করল–‘এবার কোরবানিতে জেলার সবচেয়ে বড় গরু কোরবানি দিচ্ছি আমরা!’
পোস্ট দেওয়া মাত্রই লাইক আর কমেন্টের বন্যা বয়ে গেল। মুহূর্তেই ছবিটা ভাইরাল। এমনকি দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ সেই ‘বিশাল’ গরু দেখতে রেজার দাদাবাড়িতে ভিড় জমাতে লাগল। রেজা তো খুশিতে আত্মহারা!
কিন্তু গোল বাধল ঈদের আগের রাতে। চারদিকে চমৎকার জোছনা ফুটেছে। উঠোনটা যেন রুপালি আলোয় ভেসে যাচ্ছে। রেজার দাদা, যিনি স্থানীয় মসজিদের ইমাম, সবাইকে নিয়ে সেই উঠানে বসলেন। তবে আজ দাদাকে বেশ গম্ভীর দেখাচ্ছে।
দাদা রেজার দিকে তাকিয়ে শান্ত গলায় বললেন, ‘দাদুভাই, তুমি নাকি ফেসবুকে আমাদের কোরবানির খবর ছড়িয়ে দিয়েছ?’
রেজা গর্বের সঙ্গে বলল, ‘হ্যাঁ দাদা! সবাই বলছে আমাদের গরুটা নাকি জেলার সেরা।’
দাদা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললেন, ‘রেজা, কোরবানি তো কোনো প্রতিযোগিতা নয়। এটা একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য। গরু কত বড় হলো, দাম কত হলো–এসব জাহির করার নাম কোরবানি নয়। আমরা যদি মনে লৌকিকতা রাখি, তবে সেই ত্যাগের কোনো মূল্য নেই। লোক দেখানো ইবাদতকে ইসলামে পছন্দ করা হয়নি।’
দাদার কথাগুলো রেজার মনে তীরের মতো বিঁধল। সে বুঝতে পারল, সে নিজের অজান্তেই একটা পবিত্র বিষয়কে স্রেফ প্রচারের আলোয় নিয়ে এসেছে। নিজের ভুল বুঝতে পেরে রেজার চোখের কোণ ভিজে উঠল। সে তখনই ফোনটা বের করল এবং সবার সামনেই ফেসবুক থেকে সেই ভাইরাল হওয়া পোস্ট আর ছবিগুলো ডিলিট করে দিল।
জোছনা রাতে দাদা আশীর্বাদের হাত রেজার মাথায় বুলিয়ে দিলেন। রেজা বুঝতে পারল, বড় গরু কেনায় নয়, মনের অহংকার বিসর্জন দেওয়াতেই কোরবানির আসল সার্থকতা।