তুমি কি জানো, পৃথিবীর সবচেয়ে ভারী অস্থিযুক্ত মাছগুলোর একটি হলো ওশান সানফিশ? একে অনেক সময় মোলা মোলা নামেও ডাকা হয়। দেখতে এতটাই অদ্ভুত যে, প্রথম দেখলে মনে হতে পারে, যেন মাছটির শরীরের অর্ধেক অংশ নেই!
ওশান সানফিশ পৃথিবীর বিভিন্ন উষ্ণ ও নাতিশীতোষ্ণ সমুদ্রে বাস করে। আটলান্টিক, প্রশান্ত ও ভারত মহাসাগরের অনেক জায়গায় এদের দেখা যায়। বেশির ভাগ সময় তারা সমুদ্রের খোলা জলে ঘুরে বেড়ায়।
এই মাছের জীবন শুরু হয় খুবই ছোট আকারে। একটি সদ্য ফোটা সানফিশের বাচ্চার দৈর্ঘ্য মাত্র কয়েক মিলিমিটার হয়, অর্থাৎ একটি ছোট চালের দানার কাছাকাছি! জন্মের সময় তাদের শরীরে ছোট ছোট কাঁটার মতো অংশ থাকে এবং তখন একটি লেজও দেখা যায়। কিন্তু বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে শরীরের গঠন বদলে যেতে থাকে। ধীরে ধীরে লেজটি প্রায় হারিয়ে যায় এবং শরীর গোল ও চ্যাপ্টা আকার ধারণ করে।
সানফিশের সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় হলো এর দ্রুত বৃদ্ধি। বিজ্ঞানীরা দেখেছেন, জন্মের পর একটি সানফিশ তার ওজন কয়েক কোটি গুণ পর্যন্ত বাড়াতে পারে। পৃথিবীর খুব কম প্রাণীই জীবনের শুরু থেকে এত বেশি বৃদ্ধি পায়।
বড় হলে একটি ওশান সানফিশের দৈর্ঘ্য তিন মিটার বা তারও বেশি হতে পারে। ওজন হতে পারে দুই টনেরও বেশি, অর্থাৎ একটি ছোট গাড়ির সমান! তাদের শরীর দেখতে অনেকটা বিশাল গোলাকার চাকতির মতো। পিঠ ও পেটের দিকে বড় দুটি পাখনা থাকে। এই পাখনাগুলো নেড়ে তারা পানির মধ্যে চলাফেরা করে।
সানফিশ সাধারণত জেলিফিশ, ছোট মাছ, প্ল্যাঙ্কটন এবং অন্যান্য নরমদেহী সামুদ্রিক প্রাণী খায়। খাবারের খোঁজে তারা কখনো গভীর পানিতে যায়, আবার কখনো সমুদ্রের ওপরের দিকে ভেসে ওঠে।
মজার বিষয় হলো, অনেক সময় সানফিশকে সমুদ্রের উপরিভাগে পাশ ফিরে ভেসে থাকতে দেখা যায়। দূর থেকে দেখলে মনে হয় যেন তারা রোদ পোহাচ্ছে। এই কারণেই ইংরেজিতে তাদের নাম হয়েছে ‘সানফিশ’ বা সূর্যমাছ।
অদ্ভুত চেহারা, ক্ষুদ্র বাচ্চা থেকে বিশাল আকারে বেড়ে ওঠা এবং শান্ত স্বভাব—সব মিলিয়ে ওশান সানফিশ সমুদ্রের সবচেয়ে বিস্ময়কর প্রাণীগুলোর একটি। তাই সমুদ্রের রহস্যময় জগতের কথা ভাবলে এই বিশাল সূর্যমাছের কথা নিশ্চয়ই মনে রাখা যায়!