গ্রীষ্ম ও বর্ষার সন্ধিক্ষণে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউটের একাডেমিক বিল্ডিংয়ের দেয়াল ও সিঁড়ির মাঝে দাঁড়িয়ে থাকা বিশাল কাঠগোলাপ গাছটি সাদা-হলুদের মায়াবী রঙে সেজে ওঠে। এর চারপাশের মৃদু সুবাস ও নান্দনিক সৌন্দর্য পথচারী এবং শিক্ষার্থীদের মন ছুঁয়ে যায়।

বিল্ডিংয়ের কাঠামোর মাঝে এই বিশালাকার গাছটি দেখে অনেকের মনেই কৌতূহল জাগে। চারুকলা বিভাগের প্রশাসনিক তথ্য এবং প্রিন্টমেকিং বিভাগের অধ্যাপক সৈয়দ আবুল বারক আলভী স্যারের ভাষ্যমতে, হাফ-সার্কেল ডিজাইনে নির্মিত এই ভবনের ফাঁকা অংশে নান্দনিকতার ছোঁয়া দিতে শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন নিজের হাতে তৎকালীন শিক্ষকদের সঙ্গে নিয়ে এই গাছটি রোপণ করেছিলেন।
ভবনটি নির্মাণের সময় তৎকালীন পাকিস্তান সরকারের চিফ ইঞ্জিনিয়ারকে স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল–স্থাপত্যের জন্য যেন কোনো প্রকৃতি ধ্বংস না হয়। জয়নুল আবেদিনের সেই দূরদর্শী ও প্রকৃতি সংবেদনশীল চিন্তার কারণেই খুব কম গাছ কেটে ভবনটি তৈরি করা হয়। সময়ের পরিক্রমায় সেই ছোট্ট চারাটি আজ এক বিশাল বৃক্ষে পরিণত হয়েছে। ইটের স্থাপত্য আর সবুজ প্রকৃতির এই মেলবন্ধন আজ চারুকলার অন্যতম প্রধান পরিচিতি ও সৌন্দর্যের প্রতীক হিসেবে হাজারো মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে চলেছে।
