ঢাকা ১৪ আষাঢ় ১৪৩৩, রোববার, ২৮ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
তাসকিন ও মিমের সঙ্গে মেতে উঠলেন ওয়ালটনের ২৪ ক্রেতা সোনারগাঁ মেঘনা নদীতে বিআইডব্লিউটিএর ড্রেজিং, চাঁদা না পেয়ে অপপ্রচারের অভিযোগ প্রাথমিক বৃত্তির ফল জুলাইয়ের দ্বিতীয় সপ্তাহে ফয়’স লেকের প্রবেশমুখে গ্যাস পাইপলাইনে আগুন, আতঙ্কে এলাকাবাসী রূপচর্চায় পাকা আম মেটলাইফ বাংলাদেশ-এর আবারও ‘গ্রেট প্লেস টু ওয়ার্ক’ স্বীকৃতি অর্জন গোপালগঞ্জে ১৩০০ কৃষকের মাঝে কৃষি উপকরণ বিতরণ নদীতে নিখোঁজ বৃদ্ধার মরদেহ ৪ ঘন্টা পর উদ্ধার শিশুকে নিরাপদ রাখতে অভিভাবকের করণীয় ৩ জেলায় নিয়োগ দিচ্ছে প্রাণ গ্রুপ মাদকাসক্তির কারণ ও প্রতিকার বিষয়ক প্রবন্ধ রচনা, ২য় পর্ব, এইচএসসির বাংলা ২য় পত্র মাদারগঞ্জ-সারিয়াকান্দি নৌরুটে দ্বিতীয় যমুনা সেতুর দাবিতে মানববন্ধন আয়নাতে ওই ঘর দেখবে যখন সিলেটে ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন শুরু ৪৭তম বিসিএসের চূড়ান্ত ফল প্রকাশ বর্তমান প্রজন্মই দেশের ভবিষ্যৎ: প্রধানমন্ত্রী ক্লিন ক্যাম্পাস গড়তে সবার সহযোগিতা চাইলেন ইবি ভিসি রাজশাহীতে ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন শুরু রমনা পার্কটি বাঁচান বিকাশ ও মাস্টারকার্ডের অংশীদারত্বে দেশে রেমিট্যান্স আসবে আরও সহজে ও দ্রুত সাংবাদিকতার রূপ ও রূপান্তর দুর্যোগ প্রস্তুতিতে বাংলাদেশের করণীয় হাম উপসর্গে আরও চার শিশুর মৃত্যু সাবেক এমপি নূর মোহাম্মদ রিমান্ডে এনসিটি-সিসিটি ইস্যুতে বন্দর রক্ষা কমিটির সমাবেশ ১ জুলাই ফরিদপুরে মিলছে না উৎপাদন খরচ,পানিতে পেঁয়াজ ফেলছেন কৃষকরা স্মার্টথিংস এপিআই ব্যবহারের খরচ বাড়াচ্ছে স্যামসাং পানি খাইয়ে ছাগল মোটাতাজা দেখানোর অভিযোগে চাঁন বাদশা আটক নাটোরে আম পাড়তে গিয়ে প্রাণ গেল বৃদ্ধের ঢাকায় শেষ হলো দুই দিনব্যাপী ‘গ্রিন মার্কেট ফেয়ার’

যুদ্ধবিরতির মধ্যেও জীবন বাঁচাতে লড়ছেন গাজার নারীরা

প্রকাশ: ২৯ অক্টোবর ২০২৫, ০৩:১৮ এএম
যুদ্ধবিরতির মধ্যেও জীবন বাঁচাতে লড়ছেন গাজার নারীরা
ফিলিস্তিনি নারী রাশা আবু সিবাকা

ইসরায়েলি গণহত্যার দুই বছর অল্পের জন্য পার করেছেন ফিলিস্তিনি নারী রাশা আবু সিবাকা। চারবার বোমা হামলা থেকে বেঁচে গিয়েছেন তিনি, এমনকি দুইবার হামলার পর ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে তাকে টেনে বের করা হয়েছিল। কিন্তু দুঃখজনকভাবে, যুদ্ধবিরতির পরও সেই যুদ্ধের ভয়াবহ পরিণতি তাকে কেড়ে নিতে পারে।

যুদ্ধের সময়ই আবু সিবাকার স্টেজ-৩ স্তন ক্যান্সার ধরা পড়ে। ইসরায়েলের হামলায় গাজার চিকিৎসা খাত সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় এবং চিকিৎসা নিতে বিদেশে যাওয়ার পথ বন্ধ থাকায় তিনি তার জরুরি চিকিৎসা পাচ্ছেন না। আবু সিবাকা বলেন, এই পরিস্থিতিতে তার প্রায়ই মনে হয় তিনি মারা যেতে চলেছেন। তিনি বলেন, প্রতিদিন আমি আমার সন্তানদের জড়িয়ে ধরতাম এবং চুমু খেতাম, কারণ আমি মনে করতাম এটাই আমার শেষ দিন।

দীর্ঘদিন ইসরায়েলি কারাগারে থাকার পর মুক্তি পাওয়া আরেক ফিলিস্তিনি নারী মেরভাত সারহান, যিনি সেখানে মারধর ও ইলেকট্রিক শক সহ্য করার কথা জানিয়েছেন, তিনি এবং আবু সিবাকা যুদ্ধবিরতির পরেও ইসরায়েলের যুদ্ধের কারণে ফিলিস্তিনিদের জীবনে নেমে আসা করুণ দুর্দশার কথা তুলে ধরেছেন। আবু সিবাকা বলেন, আমি চাই সারা বিশ্ব আমাদের গল্প জানুক।

চিকিৎসা বন্ধ, জীবন স্থবির

মধ্য গাজার নুসেইরাত শরণার্থী শিবিরে আল জাজিরার সঙ্গে কথা বলার সময় আবু সিবাকা জানান, যুদ্ধের কারণে তার স্বাস্থ্যের মারাত্মক ক্ষতি হয়েছে। তিনি বিশ্বাস করেন, অবিরাম বোমা ও রকেট হামলার ফলে সৃষ্ট বিষাক্ত নিঃসরণ থেকেই তার ক্যান্সার হয়েছে। তিনি বলেন, আমার প্রায়ই শ্বাস নিতে কষ্ট হয়।

আবু সিবাকা বলেন, যুদ্ধের কারণে গাজার স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়ায় তিনি প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পাচ্ছেন না। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, যুদ্ধের কারণে এবং ক্রসিং বন্ধ থাকায় এখানে কোনো চিকিৎসা বা বিকল্প চিকিৎসার ব্যবস্থা নেই। এখানকার সবকিছু ‘স্থবির’ হয়ে আছে।

শারীরিক স্বাস্থ্যের ক্ষতির পাশাপাশি, চিকিৎসা নিশ্চিত করার পথ খুঁজতে গিয়ে তার মানসিক স্বাস্থ্যেরও চরম অবনতি হয়েছে। তিনি বলেন, আমার মানসিক স্বাস্থ্য পুরোপুরি ভেঙে গেছে। আমি আগে এমন ছিলাম না। আমি জীবনকে ভালোবাসতাম।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) তত্ত্বাবধানে গুরুতর অসুস্থ রোগীদের খুব অল্প সংখ্যককে চিকিৎসার জন্য বাইরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। তবে WHO জানিয়েছে, গত বৃহস্পতিবার ৪১ জনকে সরিয়ে নেওয়া হলেও, যাদের জরুরিভাবে স্থানান্তর প্রয়োজন, সেই ১৫ হাজার রোগীর তুলনায় এই সংখ্যা খুবই নগণ্য। বর্তমান হারে রোগী স্থানান্তর চলতে থাকলে পুরো প্রক্রিয়া শেষ করতে প্রায় এক দশক সময় লাগবে।

যুদ্ধবিরতিতে লোকজনের চলাচলের জন্য রাফা ক্রসিং খুলে দেওয়ার কথা থাকলেও ইসরায়েল তা বন্ধ রেখেছে। আবু সিবাকা এবং গাজার অন্যান্য ক্যান্সার রোগীরা দ্রুত ক্রসিং খোলার দাবি জানিয়েছেন, যাতে তারা বিদেশে গিয়ে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিয়ে দ্রুত সুস্থ হতে পারেন।

স্বামীর হত্যাকাণ্ড, কারাগারে নির্যাতন

অন্যদিকে, খান ইউনিসে মেরভাত সারহান প্রায় পাঁচ মাস ইসরায়েলি হেফাজতে থাকার পর তার বিপর্যস্ত জীবন পুনর্গঠনের লড়াই করছেন। তিনি জানান, ইসরায়েলি জেরা চলাকালীন তাকে মারধর, ইলেকট্রিক শক এবং এমনকি সন্তানদের মেরে ফেলার হুমকিও দেওয়া হয়েছিল।

যুদ্ধবিরতির অধীনে ইসরায়েলের সঙ্গে সর্বশেষ বন্দি বিনিময়ে মুক্তি পাওয়া দুই ফিলিস্তিনি নারীর মধ্যে সারহান ছিলেন একজন। তার দুঃস্বপ্ন শুরু হয়েছিল মে মাসের এক ভোরে, যখন ইসরায়েলি বিশেষ বাহিনী নারীদের ছদ্মবেশে তার ও তার স্বামীর শোবার ঘরে প্রবেশ করে। সারহান জানান, সেনারা পুরো বাড়িতে লুটপাট চালায় এবং ‘‘তোমরা তাদের কোথায় লুকিয়ে রেখেছ? জিম্মিরা কোথায়?’’ এমন প্রশ্ন করতে থাকে।

সারহান জানান, তারা জিম্মিদের সম্পর্কে কোনো কিছু জানেন না বলার পরই ইসরায়েলি সেনারা তাদের ভীত-সন্ত্রস্ত সন্তানদের সামনেই তার স্বামীকে হত্যা করে। এরপর তাকে হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়।

সারহান জানান, সামরিক জিজ্ঞাসাবাদে তার স্বামীর পরিচিতি সম্পর্কে জানতে চাওয়া হয় এবং তাকে মারধর ও শক দেওয়া হয়। তাকে জানানো হয় যে তার ছেলেকে ছেড়ে দেওয়া হবে, কিন্তু তাকে ইসরায়েলের আশকেলন কারাগারে পাঠানো হয়। সেখানে এক মাস ধরে তাকে মানুষের থাকার অনুপযোগী অন্ধকার একক সেলে রাখা হয়েছিল। এই সময়ে তাকে প্রতিদিন জেরা করা হতো এবং তারা আমার সন্তানদের মেরে ফেলার, আমাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়ার এবং আর কখনও সন্তানদের দেখতে পাব না বলে হুমকি দিত।

অন্যান্য ফিলিস্তিনি বন্দিদের সঙ্গে মুক্তি পাওয়ার পর সারহান এখন তার স্বামীকে ছাড়া নতুন করে জীবন গড়ার দিকে মনোযোগ দিয়েছেন। মুক্তিপ্রাপ্ত অনেক ফিলিস্তিনির শরীরেই নির্যাতন ও নিপীড়নের চিহ্ন দেখা গেছে। অধিকার গোষ্ঠীগুলো জানিয়েছে, ইসরায়েলি কারাগারগুলোতে বছরের পর বছর ধরে বন্দিদের ওপর নির্যাতনের অভিযোগ রয়েছে। সূত্র: আল জাজিরা

মাহফুজ/

 

লক্ষ্য ছিল ১৫ হাজার প্রাণহানি! মুম্বাইয়ে মহররমের অনুষ্ঠানে বিষাক্ত ক্যাপসুলসহ এক ব্যক্তি গ্রেপ্তার

প্রকাশ: ২৮ জুন ২০২৬, ০৩:৫৪ পিএম
আপডেট: ২৮ জুন ২০২৬, ০৪:২৩ পিএম
লক্ষ্য ছিল ১৫ হাজার প্রাণহানি! মুম্বাইয়ে মহররমের অনুষ্ঠানে বিষাক্ত ক্যাপসুলসহ এক ব্যক্তি গ্রেপ্তার
ফাইয়াজ প্রেমজিকে মুম্বাইয়ের বাইকুল্লা এলাকা থেকে আটক করা হয়েছে। ছবি: এনডিটিভি

ভারতের মুম্বাইয়ের বাইকুল্লা এলাকায় মহররমের মিছিলে অংশ নেওয়া মানুষের মাঝে বিষাক্ত ক্যাপসুল বিতরণের অভিযোগে এক ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ। ওই ক্যাপসুল খাওয়ার পর এক ব্যক্তি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে বিষয়টি কর্তৃপক্ষের নজরে আসে। পুলিশের তৎপরতায় বড় ধরনের একটি বিপর্যয় ও ব্যাপক প্রাণহানির আশঙ্কা এড়ানো গেছে বলে জানানো হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার (২৬ জুন) গভীর রাতে বাইকুল্লার ওই মিছিলে এক ব্যক্তিকে সন্দেহভাজনভাবে ক্যাপসুল বিতরণ করতে দেখা যায়। পরবর্তীতে শনিবার ভোর ৪টার দিকে সালমান নামের এক ব্যক্তি ওই ক্যাপসুল খাওয়ার পর তীব্র পেট ব্যথা ও বমি হয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন। এ ঘটনার সূত্র ধরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে।

মুম্বাই পুলিশের সেন্ট্রাল জোন-১-এর ডেপুটি কমিশনার (ডিসিপি) জয়ন্ত মীনা জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত ব্যক্তি স্বীকার করেছে যে, এটি মিছিলের অংশগ্রহণকারীদের লক্ষ্য করে বড় ধরনের ক্ষতি করার একটি সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্র ছিল।

তদন্তে জানা গেছে, পেশায় রঙ ব্যবসায়ী ওই অভিযুক্ত অনলাইনে ৩০ হাজার খালি ক্যাপসুল এবং নিজের ব্যবসার সূত্র ধরে ৫০ কেজি ‘জিংক ফসফাইড’ (বিষাক্ত ইঁদুর মারার রাসায়নিক) সংগ্রহ করেছিলেন। গত ১৫ দিন ধরে মুম্বাইয়ে অবস্থান করে তিনি খালি ক্যাপসুলগুলোতে এই বিষাক্ত রাসায়নিক ভরেছিলেন, যা মিছিলে ‘ব্যথানাশক ওষুধ’ হিসেবে বিতরণের পরিকল্পনা ছিল।

পুলিশ ইতোমধ্যে অভিযুক্তের কাছ থেকে ১৪ হাজার ৯০০টি বিষাক্ত ক্যাপসুল জব্দ করেছে। বাকি ক্যাপসুল এবং রাসায়নিকের সন্ধানে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। এই রাসায়নিকটি পেটে গেলে অত্যন্ত বিষাক্ত গ্যাস তৈরি করে, যা মানুষের শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ অকেজো করে দিতে পারে।

অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১২৩ ধারায় মামলা করা হয়েছে। এই ঘটনার পেছনে অন্য কোনো চক্র জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। সূত্র: এনডিটিভি

আজহার/অমিয়/

ভেনিজুয়েলায় ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা ১৪০০ ছাড়াল, নিখোঁজ ৭০ হাজার

প্রকাশ: ২৮ জুন ২০২৬, ০৩:৪২ পিএম
আপডেট: ২৮ জুন ২০২৬, ০৩:৫১ পিএম
ভেনিজুয়েলায় ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা ১৪০০ ছাড়াল, নিখোঁজ ৭০ হাজার
ছবি: সংগৃহীত

ভেনিজুয়েলার উত্তর-পশ্চিম ও মধ্যাঞ্চলে আঘাত হানা স্মরণকালের ভয়াবহ জোড়া ভূমিকম্পে দেশটির বিস্তীর্ণ এলাকা এখন ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।

সিএনএন-এর সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এই দুর্যোগে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১,৪৩০ জনে দাঁড়িয়েছে এবং আহত হয়েছেন প্রায় ৪ হাজার মানুষ।

তবে এই দুর্যোগের সবচেয়ে ভয়াবহ দিক হলো নিখোঁজ মানুষের সংখ্যা। আন্তর্জাতিক মানবিক সহায়তা সংস্থাগুলোর মতে, ভেঙে পড়া অবকাঠামোর নিচে এখনো ৫০ হাজার থেকে প্রায় ৬৯ হাজার মানুষ নিখোঁজ বা আটকা পড়ে আছেন।

দুর্যোগের শুরু হয়েছিল একটি শক্তিশালী ৭.২ মাত্রার প্রাথমিক কম্পনের মাধ্যমে, যার ঠিক ৩৯ সেকেন্ড পর আঘাত হানে ৭.৫ মাত্রার এক প্রলয়ংকরী মূল ভূমিকম্প। গত এক শতাব্দীরও বেশি সময়ের মধ্যে ভেনিজুয়েলায় আঘাত হানা এটিই সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্প। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ভেনিজুয়েলার অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত উত্তর উপকূলীয় অঞ্চল ‘লা গুয়াইরা’-কে জরুরি দুর্যোগ এলাকা হিসেবে ঘোষণা করেছেন।

আজহার/

ভাইরালের নেশায় নারী বাইক আরোহীদের ধাক্কা, ইউটিউবার গ্রেপ্তার

প্রকাশ: ২৮ জুন ২০২৬, ১১:৩৮ এএম
আপডেট: ২৮ জুন ২০২৬, ১২:৩৪ পিএম
ভাইরালের নেশায় নারী বাইক আরোহীদের ধাক্কা, ইউটিউবার গ্রেপ্তার
অভিযুক্ত গুরমান সিং

ভারতের রাজধানী দিল্লিতে ৩২ বছর বয়সী এক ইউটিউবারকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অভিযোগ, তিনি ইচ্ছাকৃত নারী বাইকআরোহীর ধাক্কা মারতেন, এরপর গোপনে তাদের প্রতিক্রিয়া ভিডিও করে ফলোয়ার বাড়ানো এবং মনিটাইজেশনের মাধ্যমে টাকা আয় করতে সামাজিক মাধ্যমে এগুলাে আপলোড করতেন।

অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম গুরমান সিং। তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় Road Safety Wala নামে অ্যাকাউন্ট চালান। নারীদের হয়রানি এবং অনুমতি ছাড়া নারীদের ভিডিও রেকর্ড করার একাধিক অভিযোগের ভিত্তিতে গত শুক্রবার (২৬ জুন) পশ্চিম দিল্লির সুভাষনগর থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে ২ জুন, যখন রাজা গার্ডেনের বাসিন্দা সানি অরোরা একটি অভিযোগ করেন। অভিযোগে তিনি জানান, মোটরসাইকেলে থাকা দুই ব্যক্তি ইচ্ছাকৃত পেছন থেকে তার মেয়েদের স্কুটিতে ধাক্কা দেন, তাদের পিছু নেন এবং আপত্তিকর মন্তব্য করেন। পরবর্তীতে অভিযোগকারী জানতে পারেন, তার মেয়েদের এই ভিডিওটি তাদের অনুমতি ছাড়াই অভিযুক্তের ইউটিউব এবং ফেসবুক অ্যাকাউন্টে আপলোড করা হয়েছে।

পুলিশ জানায়, গুরমান সিং মূলত গণপরিবহন বা রাস্তায় চলাচলকারী নারী আরোহীদের টার্গেট করতেন এবং ইচ্ছাকৃত তাদের গাড়ির সঙ্গে নিজের গাড়ির ধাক্কা দিতেন। এরপর সন্দেহ এড়াতে সে খুব স্বাভাবিক ভঙ্গিতে ‘সরি দিদি’ বলে ক্ষমা চাইতেন। এই সুযোগে তিনি ভুক্তভোগীদের প্রতিক্রিয়ার ভিডিও রেকর্ড করে তাদের অনুমতি ছাড়াই অনলাইনে আপলোড করে দিতেন।

পশ্চিম দিল্লির ডেপুটি পুলিশ কমিশনার (ডিসিপি) হরেশ্বর স্বামী জানিয়েছেন, গুরমান সিং-য়ের @bikeronroad33 নামে একটি ইউটিউব চ্যানেল রয়েছে। যার সাবস্ক্রাইবার প্রায় ২১ হাজার। এছাড়া Road Safety Wala নামে  তার একটি ফেসবুক পেজে দুই লাখের বেশি ফলোয়ার রয়েছে।

ভাইরাল হওয়া এবং টাকা আয়ের জন্য ভিডিও তৈরি

অভিযুক্তের প্রোফাইলগুলো যাচাই করে তদন্তকারীরা দেখতে পান, তার বেশিরভাগ কনটেন্টই নারী আরোহী এবং কিশোরীদের কেন্দ্র করে তৈরি। এরপর ডিজিটাল ফরেনসিক এবং টেকনিক্যাল নজরদারির মাধ্যমে বিস্তারিত তদন্ত শুরু হয়।

পুলিশ জানায়, জিজ্ঞাসাবাদে গুরমান সিং স্বীকার করেছেন, তার সোশ্যাল মিডিয়া ফলোয়ার বাড়াতে, কনটেন্ট ভাইরাল করতে এবং ইউটিউব ও ফেসবুক থেকে টাকা আয় করার জন্য এই ভিডিওগুলো তৈরি করতেন। সে আরও স্বীকার করেন, অনলাইনে বেশি রিচ বা এনগেজমেন্ট পাওয়া এবং নিজের বিকৃত আনন্দের জন্য সে বিশেষভাবে নারী আরোহীদের টার্গেট করতেন।

তদন্তকারীরা তার মোবাইল ফোনটি জব্দ করেছে, যেটিতে তার সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টগুলোর অ্যাক্সেসসহ এই ঘটনায় জড়িত বিভিন্ন ভিডিও, স্ক্রিনশট এবং অন্যান্য ডিজিটাল প্রমাণ পাওয়া গেছে।

পরবর্তীতে সাইবার পুলিশ স্টেশনে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা এবং পকসো আইনের প্রাসঙ্গিক ধারায় একটি এফআইআর করা হয়। পুলিশ অভিযুক্তের সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টগুলো বন্ধ করার প্রক্রিয়া শুরু করেছে এবং এই ঘটনায় অন্য কোনো ভুক্তভোগী আছে কিনা তা খুঁজে বের করতে তদন্ত করছে। সূত্র: এনডিটিভি

মান্না রুপা/অমিয়/

গাজার ‘নিরাপদ অঞ্চলে’ ইসরায়েলি হামলায় ভাই-বোন নিহত

প্রকাশ: ২৮ জুন ২০২৬, ১০:৩৬ এএম
আপডেট: ২৮ জুন ২০২৬, ১২:০১ পিএম
গাজার ‘নিরাপদ অঞ্চলে’ ইসরায়েলি হামলায় ভাই-বোন নিহত
ছবি: সংগৃহীত

ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় তথাকথিত ‘যুদ্ধবিরতি’ ও ‘নিরাপদ অঞ্চল’ ঘোষণার তোয়াক্কা না করেই বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিদের তাঁবুতে নির্বিচারে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েলি বাহিনী। এতে প্রাণ হারিয়েছে দুই ‍ভাই-বোন।

শনিবার (২৭ জুন) তথাকথিত ‘নিরাপদ অঞ্চলে’ ইসরায়েলের এক ড্রোন হামলায় ১৫ বছর বয়সি ইসলাম মুসা এবং তার ৩০ বছর বয়সি ভাই আবদুল্লাহ মুসা নিহত হন।

গাজার সিভিল ডিফেন্স জানায়, আল-মাওয়াসির ওই হামলার স্থান থেকে তারা সাতজন আহত ব্যক্তিকে উদ্ধার করা হয়েছে। আহতদের দ্রুত নাসের হাসপাতাল এবং রেড ক্রস হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

নাসের হাসপাতালের একটি সূত্র সংবাদমাধ্যমকে জানায়, এর আগে দক্ষিণ গাজার আল-মাওয়াসিতে চালানো আরেকটি ইসরায়েলি হামলায় গুরুতর আহত ১০ বছর বয়সি এক ফিলিস্তিনি শিশু ওয়ালিদ ইউসেফ আবু জাজার আহত হয়ে, চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে।

ফিলিস্তিনি শিশু হত্যায় বিশ্বজুড়ে আবারও ক্ষোভ 

জাতিসংঘের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া এই গণহত্যায় এ পর্যন্ত নিহতদের মধ্যে প্রায় ৩০ শতাংশই শিশু।

শিশু অধিকার কর্মী রেচেল আকুরসো বলেন, ‘এ গণহত্যা থামাতে বিশ্ব ব্যর্থ হয়েছে। আমাদের নিজেদের সন্তানদের মতোই নিষ্পাপ কিছু শিশুকে আমরা চোখের সামনে গণহত্যার শিকার হতে দেখছি, অথচ এখনও কোনো কার্যকর পদক্ষেপ বা জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হয়নি।’

জাতিসংঘের কমিশনার এবং এই প্রতিবেদনের সহলেখক ক্রিস সিডোটি বলেন, ‘বিশ্বের রাষ্ট্রগুলোর এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়ার আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে। আমাদের সাড়ে তিন বছর আগেই ব্যবস্থা নেওয়া উচিত ছিল, তবে এখনও শুরু করার সময় শেষ হয়ে যায়নি।’

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েলের এই নৃশংস যুদ্ধ ও গণহত্যায় এ পর্যন্ত অন্তত ৭৩ হাজার ৪৩ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন আরও ১ লাখ ৭৩ হাজার ৪১৭ জন।

মন্ত্রণালয় আরও জানায়, ২০২৫ সালের অক্টোবরে ‘যুদ্ধবিরতি’ কার্যকর হওয়ার পর থেকেই ইসরায়েলি বাহিনী ১ হাজার ৩১ জন ফিলিস্তিনিকে হত্যা এবং ৩ হাজার ৩০৯ জনকে আহত করেছে।

থিওটোনিয়াস/

ইরানে টানা দ্বিতীয় দিন হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র

প্রকাশ: ২৮ জুন ২০২৬, ০৯:৫৯ এএম
আপডেট: ২৮ জুন ২০২৬, ১০:২৫ এএম
ইরানে টানা দ্বিতীয় দিন হামলা চালিয়েছে  যুক্তরাষ্ট্র
ছবি: সংগৃহীত

বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার অজুহাত দেখিয়ে পরপর দ্বিতীয় দিনের মতো ইরানে বিমান হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। শনিবারের (২৭ জুন) এই নতুন হামলা মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধবিরতির প্রচেষ্টাকে এক চরম অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে।

গত ১৭ জুন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত একটি সমঝোতা স্মারক ভেঙে পড়ার এটিই সবচেয়ে বড় ইঙ্গিত বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক অভিযান পরিচালনাকারী ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে জানায়, মার্কিন প্রেসিডেন্টের নির্দেশেই এই হামলা চালানো হয়েছে।

সেন্টকম বিবৃতিতে লিখেছে, ‘বাণিজ্যিক জাহাজে ইরানের ক্রমাগত আগ্রাসনের সরাসরি প্রতিক্রিয়া হিসেবে সেন্টকম বাহিনী আজ এই হামলা পরিচালনা করেছে। মার্কিন সামরিক বিমানগুলো ইরানের সামরিক নজরদারি অবকাঠামো, যোগাযোগ ব্যবস্থা, বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, ড্রোন মজুত কেন্দ্র এবং মাইন স্থাপনের সক্ষমতা লক্ষ্য করে এই হামলা চালিয়েছে।'

দক্ষিণ ইরানের সিরিক বন্দরের নিকটবর্তী তাহরুই গ্রামে এই বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে, যা শুক্রবারের মার্কিন হামলারও মূল কেন্দ্রবিন্দু ছিল। এছাড়া ইরানের কেল দ্বীপ (কেশব আইল্যান্ড) অঞ্চলেও হামলা চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম।

হামলা শুরু হওয়ার দুই ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে এক সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছেন, ইরান যদি ওয়াশিংটনের শর্ত না মানে, তবে এই হামলা আরও বড় যুদ্ধের পূর্বাভাস হতে পারে।

যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘনের জন্য ইরানকে দায়ী করে ট্রাম্প লিখেছেন, 'এটা খুবই সম্ভব যে ওরা কখনোই শিক্ষা নেবে না। এমন এক সময় আসতে পারে যখন আমাদের আর সহনশীল থাকার সুযোগ থাকবে না এবং আমরা সামরিকভাবে সেই কাজটিই পুরোপুরি শেষ করতে বাধ্য হব যা আমরা অত্যন্ত সফলভাবে শুরু করেছিলাম। যদি তা ঘটে, তবে ইসলামিক রিপাবলিক অফ ইরানের আর কোনো অস্তিত্ব থাকবে না!' সূত্র: আল-জাজিরা

আজহার/