ঢাকা ১৪ আষাঢ় ১৪৩৩, রোববার, ২৮ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
মোহনপুরে ইটের আঘাতে ব্যবসায়ী নিহত ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটিতে সামার ট্রাইমিস্টার ২০২৬-এর নবীনবরণ অনুষ্ঠিত নাটোরে পুকুর থেকে রিকশাচালকের মরদেহ উদ্ধার লুকা মদ্রিচের নতুন বিশ্বরেকর্ড চট্টগ্রামে কলেজ শিক্ষার্থী সাজিদ হত্যা মামলার আসামি গ্রেপ্তার দ্বিতীয়বারের মতো অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে 'বার্জার অ্যাওয়ার্ড ফর ইন্টেরিয়র ডিজাইন বিএআইডি ২০২৫ ফটিকছড়ি পার্টনার কংগ্রেস ২০২৬ অনুষ্ঠিত জাবি সিনেটে বঙ্গবন্ধুর নামে হল পুনঃনামকরণের দাবিতে উত্তেজনা গলায় ইট বেঁধে কুকুরকে নদীতে ফেলে দেওয়ার ঘটনায় আরও দুইজন গ্রেপ্তার কেরানীগঞ্জে প্রবাসীদের স্ত্রীরাও পেলেন ফ্যামিলি কার্ড, বঞ্চিত হতদরিদ্ররা বোয়ালমারীতে ওঝার ঝাড়ফুঁকের ৮ ঘণ্টা পর কিশোরের মৃত্যু নাটোরে ৩ কিমি মহাসড়ক বিষাক্ত পার্থেনিয়াম মুক্ত, স্বস্তিতে এলাকাবাসী বদলি নেমে মেসির চমক, জর্ডানকে ৩-১ গোলে হারাল আর্জেন্টিনা হৃদয়ভাঙা বিদায় ইরানের চাঁদপুরে প্রবাসীদের উদ্যোগে ফ্রি অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস কমলো ঢাকার বায়ুদূষণ, শীর্ষে কঙ্গোর কিনশাসা ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পে ফুটবলার হেক্টর বেলোর স্ত্রীর মৃত্যু গ্রুপ পর্ব শেষ, নিশ্চিত নকআউটের ৩২ দল জিতলেই ইতিহাস অভাবের চাদরে মোড়ানো এক জীবনযাপনের গল্প ইরানে টানা দ্বিতীয় দিন হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র নাটোরে বৃদ্ধের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার পাকিস্তানে সেনাঘাঁটিতে হামলা, চার সেনাসহ নিহত ১০ পরীক্ষায় নকল করতে এআই চশমা বিশ্বকাপে আরেকটি ইতিহাস মেসির মেসি মাঠে নামার আগেই গোল হজম করল আর্জেন্টিনা আনোয়ারায় বাবার মরদেহ দাফন করতে গিয়ে হামলার শিকার ভাই-বোন মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটিগুলো ইসরায়েলে সরছে বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের সর্বোচ্চ গোলদাতা হ্যারি কেইন ব্যাংক থেকে টাকা তোলা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত: মিলন

ইরানে টানা দ্বিতীয় দিন হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র

প্রকাশ: ২৮ জুন ২০২৬, ০৯:৫৯ এএম
আপডেট: ২৮ জুন ২০২৬, ১০:২৫ এএম
ইরানে টানা দ্বিতীয় দিন হামলা চালিয়েছে  যুক্তরাষ্ট্র
ছবি: সংগৃহীত

বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার অজুহাত দেখিয়ে পরপর দ্বিতীয় দিনের মতো ইরানে বিমান হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। শনিবারের (২৭ জুন) এই নতুন হামলা মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধবিরতির প্রচেষ্টাকে এক চরম অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে।

গত ১৭ জুন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত একটি সমঝোতা স্মারক ভেঙে পড়ার এটিই সবচেয়ে বড় ইঙ্গিত বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক অভিযান পরিচালনাকারী ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে জানায়, মার্কিন প্রেসিডেন্টের নির্দেশেই এই হামলা চালানো হয়েছে।

সেন্টকম বিবৃতিতে লিখেছে, ‘বাণিজ্যিক জাহাজে ইরানের ক্রমাগত আগ্রাসনের সরাসরি প্রতিক্রিয়া হিসেবে সেন্টকম বাহিনী আজ এই হামলা পরিচালনা করেছে। মার্কিন সামরিক বিমানগুলো ইরানের সামরিক নজরদারি অবকাঠামো, যোগাযোগ ব্যবস্থা, বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, ড্রোন মজুত কেন্দ্র এবং মাইন স্থাপনের সক্ষমতা লক্ষ্য করে এই হামলা চালিয়েছে।'

দক্ষিণ ইরানের সিরিক বন্দরের নিকটবর্তী তাহরুই গ্রামে এই বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে, যা শুক্রবারের মার্কিন হামলারও মূল কেন্দ্রবিন্দু ছিল। এছাড়া ইরানের কেল দ্বীপ (কেশব আইল্যান্ড) অঞ্চলেও হামলা চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম।

হামলা শুরু হওয়ার দুই ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে এক সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছেন, ইরান যদি ওয়াশিংটনের শর্ত না মানে, তবে এই হামলা আরও বড় যুদ্ধের পূর্বাভাস হতে পারে।

যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘনের জন্য ইরানকে দায়ী করে ট্রাম্প লিখেছেন, 'এটা খুবই সম্ভব যে ওরা কখনোই শিক্ষা নেবে না। এমন এক সময় আসতে পারে যখন আমাদের আর সহনশীল থাকার সুযোগ থাকবে না এবং আমরা সামরিকভাবে সেই কাজটিই পুরোপুরি শেষ করতে বাধ্য হব যা আমরা অত্যন্ত সফলভাবে শুরু করেছিলাম। যদি তা ঘটে, তবে ইসলামিক রিপাবলিক অফ ইরানের আর কোনো অস্তিত্ব থাকবে না!' সূত্র: আল-জাজিরা

আজহার/

পাকিস্তানে সেনাঘাঁটিতে হামলা, চার সেনাসহ নিহত ১০

প্রকাশ: ২৮ জুন ২০২৬, ০৯:৫৬ এএম
আপডেট: ২৮ জুন ২০২৬, ০৯:৫৬ এএম
পাকিস্তানে সেনাঘাঁটিতে হামলা, চার সেনাসহ নিহত ১০
ছবি: সংগৃহীত

পাকিস্তানের করাচিতে একটি আধাসামরিক বাহিনীর সদরদপ্তরে আত্মঘাতী হামলার পর ব্যাপক গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। এতে নিরাপত্তা বাহিনীর চার সদস্যসহ মোট ১০ জন নিহত হয়েছেন।

শনিবার (২৭ জুন) বিস্ফোরকবোঝাই একটি গাড়ি পাকিস্তান রেঞ্জার্সের প্রাদেশিক সদরদপ্তরের প্রবেশপথে আঘাত হানলে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। 

এরপর হামলাকারীদের সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর তীব্র গোলাগুলি শুরু হয়। বিস্ফোরণের পর করাচির মোসামিয়াত চত্বর ও আশপাশের এলাকায় ব্যাপক গোলাগুলির শব্দ শোনা যায় এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পুরো এলাকা ঘিরে ফেলে।

করাচির গুলিস্তান-ই-জোহর এলাকায় অবস্থিত সিন্ধু রেঞ্জার্সের একটি স্থাপনায় চালানো এ হামলায় অন্তত চারজন রেঞ্জার্স সদস্য নিহত হন। পরে ইউনিভার্সিটি রোডের আবহাওয়া চত্বরের কাছেও আরেকটি বিস্ফোরণ ও তীব্র গোলাগুলির খবর পাওয়া যায়।

পাকিস্তানের ডন পত্রিকার প্রতিবেদনে বলা হয়, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে র‌্যাপিড রেসপন্স ফোর্স (আরআরএফ) ও পুলিশ কমান্ডোসহ বিশেষ ইউনিটগুলোকে ঘটনাস্থলে মোতায়েন করা হয়।

নিরাপত্তা বাহিনীর দাবি, হামলার চেষ্টা প্রতিহত করার সময় ছয়জন হামলাকারী নিহত এবং একজনকে জীবিত আটক করা হয়।

নিষিদ্ধ জঙ্গিগোষ্ঠী তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তানের (টিটিপি) সহযোগী সংগঠন জামাত-উল-আহরার (জেইউএ) এ হামলার দায় স্বীকার করেছে। গোষ্ঠীটি দাবি করেছে, তাদের ‘খোলাফা-ই-রাশিদীন ইশতিশহাদী ব্রিগেড’ নামে একটি আত্মঘাতী ইউনিট এই হামলা চালিয়েছে।

এদিকে সিন্ধুর মুখ্যমন্ত্রী সৈয়দ মুরাদ আলী শাহ হামলার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত করে দ্রুত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, পুলিশকে অবিলম্বে ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি মূল্যায়ন করতে হবে এবং প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পাকিস্তানে পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীকে লক্ষ্য করে চরমপন্থি হামলার সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। দেশটির কর্তৃপক্ষ এসব হামলার জন্য মূলত তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি) এবং তাদের সহযোগী জঙ্গিগোষ্ঠীগুলোকে দায়ী করে আসছে। সূত্র: এনডিটিভি

অমিয়/

পরীক্ষায় নকল করতে এআই চশমা

প্রকাশ: ২৮ জুন ২০২৬, ০৯:৫০ এএম
পরীক্ষায় নকল করতে এআই চশমা
ছবি: সংগৃহীত

স্কুলে পরীক্ষাব্যবস্থা চালু হওয়ার পর থেকেই শিক্ষার্থীরা নকল করার নানা উপায় খুঁজছে। সহপাঠীর খাতার দিকে উঁকি দেওয়া কিংবা হাতের তালু ও কাগজের টুকরোয় নোট লিখে রাখার মতো ঘটনা আমরা সব সময়ই দেখে আসছি। কিন্তু প্রযুক্তি যত উন্নত হচ্ছে ও পরীক্ষায় ভালো নম্বর পাওয়ার চাপ যত বাড়ছে, শিক্ষার্থীরা জালিয়াতিতেও আধুনিক উপায় বের করছে। তারা এখন ঝুঁকছে এআইচালিত স্মার্ট চশমার দিকে। 

গত মাসে দক্ষিণ কোরিয়ায় ইংরেজি ভাষার দক্ষতা যাচাই পরীক্ষার সময় দুজনকে স্মার্ট চশমা ব্যবহার করে নকল করার সময় হাতেনাতে ধরা হয়। এই পরীক্ষার ফল সাধারণত চাকরি পাওয়ার ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়। অন্যদিকে তাইওয়ানের একটি শীর্ষ মেডিকেল কলেজের ভর্তি পরীক্ষায় এক শিক্ষার্থীর আচরণে প্রক্টরের সন্দেহ হয়। শিক্ষার্থীটি অদ্ভুতভাবে পরীক্ষার খাতার দিকে তাকিয়ে ছিল। পরে পরীক্ষা করে দেখা যায়, তার চশমার ফ্রেম থেকে তাপ নির্গত হচ্ছে।

স্মার্ট চশমা দিয়ে নকল করার ঘটনা একেবারে নতুন নয়। তবে এআই-সমর্থিত এই ডিভাইসগুলো এখন অনেক বেশি সহজলভ্য, সাশ্রয়ী ও উন্নত হয়ে উঠছে। 

ইতোমধ্যে বিভিন্ন দেশ পরীক্ষার্থীদের জন্য তল্লাশি জোরদার করেছে। চলতি মাসের শুরুতে চীনে অনুষ্ঠিত হওয়া বার্ষিক কলেজ ভর্তি পরীক্ষায় ১০ মিলিয়নেরও বেশি শিক্ষার্থী অংশ নেয়। সেখানে কর্ডন ও স্ক্রিনিংয়ের মাধ্যমে সবার চশমা পরীক্ষা করা বাধ্যতামূলক করা হয়। যুক্তরাজ্যের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক সংস্থার প্রধানও সতর্ক করেছেন, এআই চশমা ও ইয়ারপিসের মতো স্মার্ট ডিভাইসগুলো পরীক্ষায় জালিয়াতি আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।

দক্ষিণ কোরিয়ায় এআই চশমা দিয়ে জালিয়াতির ঘটনা এটিই প্রথম। এর পরিপ্রেক্ষিতে দেশটির কলেজ প্রবেশিকা পরীক্ষা প্রশাসক জানিয়েছেন, তারা শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও স্থানীয় শিক্ষা অফিসের সঙ্গে আলোচনা করছেন। 

তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই কয়েকটি ঘটনা আসলে আরও বড় সমস্যার ইঙ্গিত দিচ্ছে। ডেকিন ইউনিভার্সিটির লেকচারার থমাস করবিন বলেন, ‘যদি আমরা কয়েকটি ঘটনা সামনে আসতে দেখি, তার মানে এর চেয়ে আরও অনেক বেশি ঘটনা আড়ালেই থেকে যাচ্ছে।’

এআই প্রযুক্তির দ্রুত উন্নয়নের ফলে এই চশমাগুলো এখন আরও পাতলা ও কম নজরকাড়া হচ্ছে। এগুলোর ভেতরেই এমন এআই মডেল যুক্ত থাকে যা ইন্টারনেট সংযোগ ছাড়াই স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে। 

হংকং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (এইচকেইউএসটি) সহকারী অধ্যাপক মেং জিলি এক বছর আগে পরীক্ষা পরিদর্শনের সময় এক শিক্ষার্থীর চোখে একটি স্টাইলিশ চশমা লক্ষ্য করেন। এআই চশমা নিয়ে গবেষণা করার কারণে ফ্রেমটি তার নজর কেড়েছিল। যদিও সেই চশমাটি সাধারণ ছিল, তবে এই ঘটনা তাকে একটি পরীক্ষা চালাতে অনুপ্রাণিত করে। তিনি একটি ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং কোর্সের আন্ডারগ্র্যাজুয়েট পরীক্ষায় বাণিজ্যিক এআই চশমা ব্যবহার করে পরীক্ষা নেন।

ফলাফল ছিল চমকপ্রদ। মেং জিলি জানান, এআই চশমা পরীক্ষায় পাস করার জন্য একটি ‘কার্যকর প্রযুক্তি’। চশমাটি দিয়ে পরীক্ষার প্রশ্নের দিকে তাকালেই তা এআই লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেলে পৌঁছে যায়। এরপর এআই উত্তর তৈরি করে চশমার লেন্সে প্রদর্শন করে। এই ডিভাইসের সাহায্যে পরীক্ষায় যে স্কোর পাওয়া গেছে, তা ১০০ জনের ক্লাসে শীর্ষ পাঁচের মধ্যে ছিল ও গড় নম্বর ৭২-এর চেয়ে অনেক বেশি ছিল।

সূত্র: সিএনএন

মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটিগুলো ইসরায়েলে সরছে

প্রকাশ: ২৮ জুন ২০২৬, ০৯:৩৪ এএম
মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটিগুলো ইসরায়েলে সরছে
ছবি: সংগৃহীত

ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার ঝুঁকি কমাতে যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে থাকা তাদের সামরিক স্থাপনাগুলো আরও পশ্চিমে, এমনকি ইসরায়েলে স্থানান্তরের বিষয়টি বিবেচনা করছে। গত বৃহস্পতিবার ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল এক প্রতিবেদনে এ কথা জানায়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বোমা হামলা শুরুর পর পাল্টা হামলায় তেহরান মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করে। এতে ১৩ জন মার্কিন সেনা নিহত এবং শতাধিক আহত হয়।

ইরানের হামলায় মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের একমাত্র নৌঘাঁটি নেভাল সাপোর্ট অ্যাক্টিভিটি বাহরাইনের (এনএসএ বাহরাইন) প্রায় ৪০ কোটি ডলারের ক্ষতি হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এই ক্ষয়ক্ষতির বড় অংশই পেন্টাগন প্রকাশ্যে স্বীকার করেনি।

ইরানের প্রায় ২৪০ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত এই ঘাঁটির ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনাগুলোর মধ্যে রয়েছে মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের সদর দপ্তর, একটি ব্যারাক, কয়েকটি গুদাম এবং বিশুদ্ধ পানির ট্যাংক। স্যাটেলাইট ইমেজ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ছবির ভিত্তিতে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।

মার্কিন সামরিক বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, ওই ঘাঁটিতে হামলায় কোনো প্রাণহানি ঘটেনি।

ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানায়, ক্ষয়ক্ষতির আর্থিক হিসাব সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত নথি এবং পেন্টাগনের প্রকাশ্য ব্যয় মডেলের ভিত্তিতে করা হয়েছে। এই হিসাবে শুধু ভবন পুনর্নির্মাণের ব্যয় ধরা হয়েছে।

সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের (সিএসআইএস) এক বিশ্লেষক বলেন, প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও অনেক বেশি হতে পারে। উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, যুদ্ধের শুরুতে ইরান যে দুটি স্যাটেলাইট যোগাযোগ টার্মিনাল ধ্বংস করেছিল, প্রতিটির মূল্য ছিল প্রায় ২ কোটি ডলার।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাহরাইন ঘাঁটির ক্ষয়ক্ষতির পর যুক্তরাষ্ট্র ঘাঁটিটি নতুনভাবে সাজানোর পরিকল্পনা করছে। এর মধ্যে রয়েছে কমান্ড সেন্টার ভূগর্ভে স্থানান্তর এবং ধ্বংস হওয়া কিছু স্থাপনা পুনর্নির্মাণ না করার বিষয়টিও।

মার্কিন কর্মকর্তারা বলেন, কুয়েত ও সৌদি আরবে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতিও কমতে পারে এবং এর একটি অংশ আরও পশ্চিমে সরিয়ে নেওয়া হতে পারে। কারণ ইরান ওই দুই দেশেও মার্কিন সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু করেছিল।

দুই কর্মকর্তা বলেন, সম্ভাব্য গন্তব্যগুলোর একটি হলো ইসরায়েল। ইরান যুদ্ধ শুরুর আগ থেকেই বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরে কয়েক ডজন মার্কিন যুদ্ধবিমান সরিয়ে নেওয়া হয়।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরান যুদ্ধের ক্রমবর্ধমান ব্যয় নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে, এমনকি নিজ দলের ভেতর থেকেও সমালোচনার শিকার হন। একই সঙ্গে ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানির দামও বেড়ে যায়।

গত ৮ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর প্রতিরক্ষা সক্ষমতা পুনর্গঠনের জন্য পেন্টাগনের প্রধান পিট হেগসেথ অতিরিক্ত ৮০ বিলিয়ন ডলার বাজেট চেয়েছেন। গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি সমঝোতা স্মারকে পৌঁছায়, যার মাধ্যমে আঞ্চলিক সংঘাত বন্ধে ৬০ দিনের আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে ইসরায়েল এই সমঝোতা কিংবা আলোচনার অংশ নয়। 

ইসরায়েলি কর্মকর্তারা বলেছেন, এতে ইরানের লেবাননভিত্তিক মিত্র হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে ইসরায়েলের সামরিক অভিযান বন্ধ রাখার শর্ত রয়েছে, অথচ ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে কোনো সুস্পষ্ট ছাড় আদায় করা হয়নি।

সূত্র: টাইমস অব ইসরায়েল

চুক্তি স্বাক্ষরের একদিন পরই লেবাননে ইসরায়েলের হামলা

প্রকাশ: ২৮ জুন ২০২৬, ০৯:২৬ এএম
চুক্তি স্বাক্ষরের একদিন পরই লেবাননে ইসরায়েলের হামলা
ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে গত শুক্রবার ওয়াশিংটন ডিসিতে চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে পেছনে দাঁড়িয়ে আছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও (মাঝে)

হিজবুল্লাহর সঙ্গে যুদ্ধ অবসানে চার দিনব্যাপী আলোচনার পর গত শুক্রবার ওয়াশিংটনে ইসরায়েল ও লেবানন একটি কাঠামো চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। নতুন চুক্তি অনুযায়ী দক্ষিণ লেবাননের দুটি এলাকা থেকে ইসরায়েল সেনা প্রত্যাহার করবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। উভয় পক্ষই এই চুক্তিকে একটি প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেছে। এদিকে চুক্তি স্বাক্ষরের একদিন পরই নতুন করে দক্ষিণ লেবাননের নাবাতিয়া এলাকায় ইসরায়েল ড্রোন হামলা চালিয়েছে বলে জানিয়েছে লেবাননের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা।

ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীও জানিয়েছে, তারা গতকাল শনিবার দক্ষিণ লেবাননের নাবাতিয়ে এলাকায় সন্দেহভাজন জঙ্গিদের লক্ষ্য করে একটি বিমান হামলা চালিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রে লেবাননের রাষ্ট্রদূত নাদা হামাদেহ মোয়াওয়াদ এবং ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূত ইয়েচিয়েল লাইটার ওয়াশিংটনের স্টেট ডিপার্টমেন্টে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ত্রিপক্ষীয় চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।

একজন জ্যেষ্ঠ ইসরায়েলি কর্মকর্তা বলেন, এই চুক্তি ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত শান্তিচুক্তির পথ তৈরি করবে।

নাদা মোয়াওয়াদ বলেন, ‘এটি হবে লেবাননের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা পুনঃপ্রতিষ্ঠার পথে প্রথম পদক্ষেপ।’

নেতানিয়াহু বলেন, ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) লিতানি নদীর উত্তরের একটি এলাকা এবং নদীর দক্ষিণের আরেকটি এলাকা থেকে সেনা সরিয়ে নেবে। বর্তমানে দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলের দখল করা ভূখণ্ডের মধ্যে লিতানি নদীর দক্ষিণাংশও রয়েছে।

শুক্রবার প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় নেতানিয়াহু বলেন, আইডিএফ লেবাননে যেসব অবস্থান ‘আর প্রয়োজন নেই’, সেগুলোই ছেড়ে দিচ্ছে।
এই চুক্তি সম্পাদনের উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে পঞ্চম দফার আলোচনার আয়োজন করে। দুই দেশের মধ্যে কখনো আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক না থাকলেও ট্রাম্প প্রশাসন একটি বৃহত্তর সমঝোতা প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেন, ‘আজ শুরুরও শুরু। সামনে অনেক কাজ বাকি। আমরা এই কাজের কঠিনতাকে কোনোভাবেই খাটো করে দেখি না, এর গুরুত্ব আমরা বুঝি এবং এই প্রক্রিয়ার অংশ হতে পেরে আমরা সম্মানিত।’

সর্বশেষ যুদ্ধবিরতি চুক্তির আওতায় একটি পরীক্ষামূলক কর্মসূচির অংশ হিসেবে লেবাননের সশস্ত্র বাহিনী এসব এলাকায় মোতায়েন হবে। এর আগে সিএনএন জানিয়েছিল, লেবানন সরকারের প্রতি সদিচ্ছার নিদর্শন হিসেবে দক্ষিণ লেবাননের দখলকৃত কিছু এলাকা থেকে প্রতীকীভাবে সেনা প্রত্যাহারের বিষয়টি বিবেচনা করছিল ইসরায়েল।

বৃহস্পতিবার আইডিএফ জানায়, তারা সাময়িকভাবে লেবাননে সেনাসংখ্যা কমাবে। বিবৃতিতে দখল করা এলাকা ছেড়ে দেওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়নি। এর এক দিন আগে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী জানান, যুক্তরাষ্ট্র চাপ দিলেও লেবানন থেকে সেনা প্রত্যাহার করা হবে না।

নেতানিয়াহু এই চুক্তিকে ইসরায়েলের জন্য বড় সাফল্য হিসেবে উল্লেখ করেন। তার ভাষায়, এর ফলে দক্ষিণ লেবাননের অধিকাংশ দখলকৃত এলাকায় ইসরায়েল অবস্থান বজায় রাখতে পারবে এবং হিজবুল্লাহ নিরস্ত্র না হওয়া পর্যন্ত সেখানে থাকবে।

তিনি বলেন, ‘এটি ইরানের জন্যও বড় ধাক্কা। ইরান দক্ষিণ লেবানন থেকে আমাদের জোর করে সরিয়ে দিতে চেয়েছিল। কিন্তু বাস্তবে ইসরায়েল, লেবানন ও যুক্তরাষ্ট্র তাদের বলছে, এটি তাদের বিষয় নয়।’

রুবিও বলেন, ‘লেবানন ও ইসরায়েলের জনগণ শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদে বসবাসের অধিকার রাখে। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে তারা সংঘাতের শিকার।’

চুক্তি স্বাক্ষরের পর এক বিবৃতিতে লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন শান্তি আলোচনা আয়োজনের জন্য ট্রাম্প প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, এই চুক্তি লেবাননের জনগণকে ‘সম্পূর্ণ মুক্ত ভূখণ্ডে ফিরে যাওয়ার সুযোগ করে দেবে, যেখানে সার্বভৌমত্ব শুধু লেবানন রাষ্ট্রের হাতে থাকবে।’ বিশ্লেষকরা বলছেন, এটি হিজবুল্লাহর মাধ্যমে বৈরুতে ইরানের প্রভাবের প্রতি ইঙ্গিত।

লেবাননের পার্লামেন্ট সদস্য ও হিজবুল্লাহ নেতা হাসান ফাদাল্লাহ সরাসরি ইসরায়েলের সঙ্গে আলোচনাকে প্রত্যাখ্যান করেন। তিনি সরকারকে এই আলোচনা ও জনগণের বিরুদ্ধে নেওয়া সব সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের আহ্বান জানান।

হিজবুল্লাহ-সমর্থিত টেলিভিশন চ্যানেল আল-মায়াদিনকে তিনি বলেন, যে শত্রুর সঙ্গে করমর্দন করে, সে তাদের মতোই অপরাধী। সূত্র: সিএনএন 

সাঁজোয়া যানের দুর্ঘটনায় ৬ বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী আহত, সবাই আশঙ্কামুক্ত

প্রকাশ: ২৭ জুন ২০২৬, ১১:০৭ পিএম
সাঁজোয়া যানের দুর্ঘটনায় ৬ বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী আহত, সবাই আশঙ্কামুক্ত
ছবি: সংগৃহীত

মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্রে সাঁজোয়া যানের দুর্ঘটনায় ৬ বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী আহত হয়েছেন। তবে বর্তমানে তারা সবাই আশঙ্কামুক্ত।

শনিবার (২৭ জুন) বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে দেয়া এক পোস্টে এ বিষয়ে জানানো হয়।

পোস্টে বলা হয়, মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্রে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে দায়িত্ব পালনকালে বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ লাইট কুইক রিয়েকশন ফোর্সের (বিএএনএলকিউআরএফ) একটি এস্কোর্ট দল এনডেলে থেকে বামিঙ্গুই যাচ্ছিল।

এসময় বহরের একটি সাঁজোয়া যান সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হয়। এ ঘটনায় ৬ বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী আহত হন। বর্তমানে সকলেই আশঙ্কামুক্ত রয়েছেন।

উল্লেখ্য, কিছু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনাটিকে মাইন বিস্ফোরণ/ সন্ত্রাসী হামলা হিসেবে প্রচার করা হচ্ছে, যা সম্পূর্ণ অসত্য ও ভিত্তিহীন। এ ধরনের অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য সকলকে অনুরোধ জানানো যাচ্ছে।

এসএন/