মাগুরায় শিশুদের অন্ধত্ব প্রতিরোধ, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং শিশু মৃত্যুর ঝুঁকি কমানোর লক্ষ্যে শুরু হয়েছে ‘জাতীয় ভিটামিন এ প্লাস ক্যাম্পেইন’।
রবিবার (২৮ জুন) সকাল ৯টায় মাগুরা পৌরসভা চত্বরে স্বাস্থ্য বিভাগ ও মাগুরা পৌরসভার সহযোগিতায় এ কর্মসূচি উদ্বোধন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাগুরার জেলা প্রশাসক (রুটিন দায়িত্ব), স্থানীয় সরকারের উপপরিচালক ও পৌরসভা প্রশাসক ইমতিয়াজ হোসেন।
তিনি অভিভাবকদের উদ্দেশ্যে বলেন, শিশুদের সুস্থ ও নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে নির্ধারিত সময়ে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাগুরার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার থান্দার খায়রুল হাসান।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মাগুরার সিভিল সার্জন ডা. মো. শামীম কবির।
স্বাস্থ্য বিভাগ জানায়, ক্যাম্পেইনের আওতায় ৬ থেকে ১১ মাস বয়সী শিশুদের একটি নীল রঙের এবং ১২ থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের একটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন লাল রঙের ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাপসুল খাওয়ানো হচ্ছে।
এবার মাগুরা জেলার ৯৪১টি কেন্দ্রে মোট ১ লাখ ২৯ হাজার ৬৭৫ জন শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাপসুল খাওয়ানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
কাসেমুর রহমান/খাদিজা রুমি/
রাজশাহীর তানোরে অরক্ষিত বিএমডিএর পরিত্যক্ত বোরহোলে পড়ে দুই বছরের শিশু সাজিদের মৃত্যুর ঘটনা এখনও মানুষের স্মৃতিতে তাজা। সেই ঘটনার পর এই কূপ দ্রুত বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হলেও বাস্তবে অনেক পরিত্যক্ত বোরহোল এখনও রয়ে গেছে উন্মুক্ত। আর সেই অবহেলার নতুন শিকার হলো একটি মহিষ।
শনিবার (২৭ জুন) বিকেলে নরসিঙ্গর মৌজার শাহনাপাড়া গ্রামে বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিএমডিএ) একটি পরিত্যক্ত গভীর নলকূপের কূপে পড়ে মারা গেছে কৃষক বিকাশ খা খার একটি হালের মহিষ।
খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ চালায়। তবে প্রায় ৮০ ফুট গভীর কূপে পড়ে মহিষটির মৃত্যু হওয়ায় এটি উদ্ধার করা যায়নি। পরে রাত আটটার দিকে অভিযান সমাপ্ত ঘোষণা করে ফায়ার সার্ভিস।
মহিষের মালিক বিকাশ খা খা খবরের কাগজকে জানান, বিকেলে হালের দুটি বড় ও একটি ছোট মহিষ নিয়ে মাঠে যাচ্ছিলেন। পথে একটি বড় মহিষ হঠাৎ কূপে পড়ে যায়। ঘটনাটি চোখের সামনে দেখে তিনি জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন।
তিনি বলেন, দুই বছর আগে ২ লাখ ৩০ হাজার টাকা দিয়ে জোড়া মহিষ কিনেছিলেন। এ জন্য একটি এনজিও থেকে দেড় লাখ টাকা ঋণও নিতে হয়েছিল। সেই ঋণের কিস্তি এখনও পরিশোধ শেষ হয়নি। হালচাষই পরিবারের একমাত্র আয়ের উৎস।
বিকাশের মেয়ে মন্দিরা খা খা খবরের কাগজকে বলেন, তাদের আট সদস্যের সংসার এই মহিষের ওপর নির্ভরশীল। পরিবারে একজন প্রতিবন্ধী সদস্যও রয়েছেন। বাবার একমাত্র ভরসা ছিল এই হালের মহিষ। মহিষটি গর্তে পড়তে দেখেই বাবা অচেতন হয়ে পড়েন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে বিএমডিএর অনুমতি নিয়ে ওই স্থানে গভীর নলকূপ বসানোর জন্য কূপ খনন করা হয়েছিল। পরে বিভিন্ন জটিলতায় কাজ বন্ধ হয়ে গেলেও কূপটি আর ভরাট করা হয়নি। দীর্ঘদিন ধরে এটি উন্মুক্ত অবস্থায় পড়ে ছিল।
প্রতিবেশী সরল এক্কা বলেন, এত ঝুঁকিপূর্ণ গর্ত খোলা রেখে যাওয়াটা চরম দায়িত্বহীনতার পরিচয়। সময়মতো গর্তটি ভরাট করা হলে আজ কৃষকের এত বড় ক্ষতি হতো না। মহিষটিকে বাঁচাতে গিয়ে বিকাশ নিজেও কূপে পড়ে যেতে পারতেন।
গোদাগাড়ী ফায়ার সার্ভিসের ইনচার্জ রফিকুজ্জামান খবরের কাগজকে জানান, কূপে পানি ভরে মৃত মহিষটি ভাসিয়ে তুলে উদ্ধার করা সম্ভব ছিল। তবে মালিক মৃত মহিষ উদ্ধারে আগ্রহ না দেখানোয় উদ্ধার অভিযান সমাপ্ত করা হয়।
বিএমডিএর কাঁকনহাট জোনের সহকারী প্রকৌশলী হাবিবুল আহসান বলেন, ওই কূপটি ভরাট করে দেওয়ার কথা ছিল। কেন তা করা হয়নি, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ১০ ডিসেম্বর খড় দিয়ে ঢেকে রাখা একটি পরিত্যক্ত গভীর নলকূপের গর্তে পড়ে যায় দুই বছরের শিশু সাজিদ। প্রায় ৩২ ঘণ্টার টানা উদ্ধার অভিযান শেষে তাকে গর্ত থেকে উদ্ধার করা হলেও হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
সাজিদের মৃত্যুর ঘটনায় দেশজুড়ে আলোচনার সৃষ্টি হলে রাজশাহী বিভাগের তৎকালীন বিভাগীয় কমিশনার পরিত্যক্ত বোরহোল দ্রুত ভরাটের নির্দেশ দেন। কিন্তু সেই নির্দেশনার বাস্তবায়নে ঘাটতির অভিযোগ আবারও সামনে এলো গোদাগাড়ীর এই ঘটনায়।
এনায়েত করিম/থিওটোনিয়াস/
পঞ্চগড়ে তেঁতুলিয়া উপজেলার অস্বাস্থ্য ও নোংরা পরিবেশে খাবার তৈরির অপরাধে একটি হোটেল-মালিককে জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।
শনিবার (২৭ জুন) জেলার তেঁতুলিয়া উপজেলার চৌরাস্তা বাজারের এ ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আফরোজ শাহীন খসরু।
জানা যায়, অভিযানে উপজেলার চোরাস্তা বাজারের শাপলা হোটেলকে অস্বাস্থ্যকর ও নোংরা পরিবেশে খাবার প্রক্রিয়াজাতকরণ দেখতে পায়। তখন হোটেলের ভিতরে টয়লেটের সামনে বাসন পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন করার জায়গায় খাবার তৈরির অপরাধে দুই হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
এ সময় তেঁতুলিয়া বাজারের হোটেল-রেস্তোরাঁর মালিকদের স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে এবং যথাযথ প্রক্রিয়া মেনে খাবার তৈরি ও পরিবেশন করা, ব্যবসা পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় ও অনুমোদিত লাইসেন্স রাখা এবং ক্রেতাদের সুবিধার্থে দৃশ্যমান স্থানে খাবারের মূল্যতালিকা প্রদর্শন করার নির্দেশ দেওয়া হয়।
তেঁতুলিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, 'ভ্রাম্যমাণ আদালত পরে ওই হোটেলকে জরিমানা করা হয়েছে। আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
রনি মিয়াজী/আজহার/
রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলায় তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে ইটের আঘাতে এক পশুখাদ্য ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও একজন আহত হয়েছেন।
শনিবার (২৭ জুন) সন্ধ্যা ৭টার দিকে উপজেলার মৌগাছি ইউনিয়নের হরিহরপাড়া গ্রামের ইব্রাহিমের মুদি দোকানের সামনে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত মো. আব্দুর রাজ্জাক (৫০) একই গ্রামের বাসিন্দা। তিনি মৌগাছি বাজারে গবাদিপশুর খাদ্যের ব্যবসা করতেন।
স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দোকানের সামনে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে কয়েকজনের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। এ সময় ইটের আঘাতে গুরুতর আহত হন আব্দুর রাজ্জাক। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তিনি মারা যান।
এ ঘটনায় ভ্যানচালক জুয়েল রানা (১৬) আহত হন। তিনি বর্তমানে মোহনপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার সঙ্গে স্থানীয় মকবুল (৫০), তার ছেলে পশুচিকিৎসক শাহীন (২৬) এবং আরও কয়েকজন জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে।
ঘটনার পর অভিযুক্তরা ঘরে তালা ঝুলিয়ে আত্মগোপন করেছেন বলে স্থানীয়রা জানান।
নিহতের ছেলে রাজু বলেন, ‘ঘটনার আগের দিন তাদের দুটি আম্রপালি গাছ থেকে স্থানীয় রাসেল আম চুরি করে বিক্রি করেন। ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিরোধই পরে সংঘর্ষে রূপ নেয়।’
খবর পেয়ে মোহনপুর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং তদন্ত শুরু করে।
মোহনপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান এবং রাজশাহী জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) হেলেনা আক্তার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
মোহনপুর থানার এসআই জাহাঙ্গীর আলম সরদার জানান, সুরতহাল প্রতিবেদন শেষে নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় হত্যা মামলা প্রক্রিয়া চলছে।
এনায়েত/খাদিজা রুমি/