রাজশাহীর তানোরে অরক্ষিত বিএমডিএর পরিত্যক্ত বোরহোলে পড়ে দুই বছরের শিশু সাজিদের মৃত্যুর ঘটনা এখনও মানুষের স্মৃতিতে তাজা। সেই ঘটনার পর এই কূপ দ্রুত বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হলেও বাস্তবে অনেক পরিত্যক্ত বোরহোল এখনও রয়ে গেছে উন্মুক্ত। আর সেই অবহেলার নতুন শিকার হলো একটি মহিষ।
শনিবার (২৭ জুন) বিকেলে নরসিঙ্গর মৌজার শাহনাপাড়া গ্রামে বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিএমডিএ) একটি পরিত্যক্ত গভীর নলকূপের কূপে পড়ে মারা গেছে কৃষক বিকাশ খা খার একটি হালের মহিষ।
খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ চালায়। তবে প্রায় ৮০ ফুট গভীর কূপে পড়ে মহিষটির মৃত্যু হওয়ায় এটি উদ্ধার করা যায়নি। পরে রাত আটটার দিকে অভিযান সমাপ্ত ঘোষণা করে ফায়ার সার্ভিস।
মহিষের মালিক বিকাশ খা খা খবরের কাগজকে জানান, বিকেলে হালের দুটি বড় ও একটি ছোট মহিষ নিয়ে মাঠে যাচ্ছিলেন। পথে একটি বড় মহিষ হঠাৎ কূপে পড়ে যায়। ঘটনাটি চোখের সামনে দেখে তিনি জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন।
তিনি বলেন, দুই বছর আগে ২ লাখ ৩০ হাজার টাকা দিয়ে জোড়া মহিষ কিনেছিলেন। এ জন্য একটি এনজিও থেকে দেড় লাখ টাকা ঋণও নিতে হয়েছিল। সেই ঋণের কিস্তি এখনও পরিশোধ শেষ হয়নি। হালচাষই পরিবারের একমাত্র আয়ের উৎস।
বিকাশের মেয়ে মন্দিরা খা খা খবরের কাগজকে বলেন, তাদের আট সদস্যের সংসার এই মহিষের ওপর নির্ভরশীল। পরিবারে একজন প্রতিবন্ধী সদস্যও রয়েছেন। বাবার একমাত্র ভরসা ছিল এই হালের মহিষ। মহিষটি গর্তে পড়তে দেখেই বাবা অচেতন হয়ে পড়েন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে বিএমডিএর অনুমতি নিয়ে ওই স্থানে গভীর নলকূপ বসানোর জন্য কূপ খনন করা হয়েছিল। পরে বিভিন্ন জটিলতায় কাজ বন্ধ হয়ে গেলেও কূপটি আর ভরাট করা হয়নি। দীর্ঘদিন ধরে এটি উন্মুক্ত অবস্থায় পড়ে ছিল।
প্রতিবেশী সরল এক্কা বলেন, এত ঝুঁকিপূর্ণ গর্ত খোলা রেখে যাওয়াটা চরম দায়িত্বহীনতার পরিচয়। সময়মতো গর্তটি ভরাট করা হলে আজ কৃষকের এত বড় ক্ষতি হতো না। মহিষটিকে বাঁচাতে গিয়ে বিকাশ নিজেও কূপে পড়ে যেতে পারতেন।
গোদাগাড়ী ফায়ার সার্ভিসের ইনচার্জ রফিকুজ্জামান খবরের কাগজকে জানান, কূপে পানি ভরে মৃত মহিষটি ভাসিয়ে তুলে উদ্ধার করা সম্ভব ছিল। তবে মালিক মৃত মহিষ উদ্ধারে আগ্রহ না দেখানোয় উদ্ধার অভিযান সমাপ্ত করা হয়।
বিএমডিএর কাঁকনহাট জোনের সহকারী প্রকৌশলী হাবিবুল আহসান বলেন, ওই কূপটি ভরাট করে দেওয়ার কথা ছিল। কেন তা করা হয়নি, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ১০ ডিসেম্বর খড় দিয়ে ঢেকে রাখা একটি পরিত্যক্ত গভীর নলকূপের গর্তে পড়ে যায় দুই বছরের শিশু সাজিদ। প্রায় ৩২ ঘণ্টার টানা উদ্ধার অভিযান শেষে তাকে গর্ত থেকে উদ্ধার করা হলেও হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
সাজিদের মৃত্যুর ঘটনায় দেশজুড়ে আলোচনার সৃষ্টি হলে রাজশাহী বিভাগের তৎকালীন বিভাগীয় কমিশনার পরিত্যক্ত বোরহোল দ্রুত ভরাটের নির্দেশ দেন। কিন্তু সেই নির্দেশনার বাস্তবায়নে ঘাটতির অভিযোগ আবারও সামনে এলো গোদাগাড়ীর এই ঘটনায়।
এনায়েত করিম/থিওটোনিয়াস/