ঢাকা ১৪ আষাঢ় ১৪৩৩, রোববার, ২৮ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
সৌরভের হৃদয়ের খুব কাছে মেসি এ প্লাস মানুষ গড়াই আমাদের লক্ষ্য: এমপি মনজুর টুনটুনির পুকুর দরজার আশায় জমানো লাখ টাকা ফেরত পাননি অসহায় নারী অবাক করা এক মাছ ভাঙ্গায় অধিপত্য বিস্তার নিয়ে সংঘর্ষে আহত ৫০, মহাসড়কে যানজট সাশ্রয়ী মূল্যে নিম্ন আয়ের মানুষের আবাসনের ব্যবস্থা করবে সরকার: গণপূর্ত মন্ত্রী বুদ্ধিমান প্রজাপতি ও দুষ্টু ফড়িং নির্যাতিত নেতাকর্মীদের পুনর্বাসনে বাজেটে বরাদ্দ চাইলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ষষ্ঠ শ্রেণিতে চালুর উদ্যোগ ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’নামে নতুন বই জনবল নেবে মধুমতি ব্যাংক, আবেদন করুন অনলাইনে বিশ্বকাপ ফুটবলের সোনার কাপের  ইতিহাস রাঙামাটির ছোটহরিনা সীমান্তে পাচারের সময় ৭১ বস্তা সার জব্দ ঈশ্বরদীতে ৩০৮৯৪ শিশু  পাবে ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাপসুল ব্রাজিলের বিপক্ষে আন্ডারডগ মানসিকতা নিয়েই লড়তে চায় জাপান সংসদে ৫০০ ও ১০০০ টাকার নোট বাতিলের প্রস্তাব হিলিতে ভিটামিন এ প্লাস ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন ধামরাইয়ে দুই প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বেহাল দশা, বিপাকে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা সিলেট সীমান্ত থেকে ডেটোনেটর, এক্সপ্লোসিভ ও ওয়ান শুটার জব্দ চকরিয়ায় মাইক্রোবাস-মোটরসাইকেল সংঘর্ষে ২ যুবক নিহত ব্যবস্থাপনার ধারণা অধ্যায়ের ১০টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর, ২য় পর্ব, এইচএসসির ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ২য় পত্র প্রিমিয়ার ব্যাংকের ‘সাব-ব্রাঞ্চ বিজনেস পারফরম্যান্স রিভিউ মিটিং-২০২৬’ অনুষ্ঠিত পাবনায় অস্ত্র ও কার্তুজসহ যুবক গ্রেপ্তার অবসর সুবিধার অপেক্ষায় ৬৭ হাজার আবেদন: শিক্ষামন্ত্রী আগাম প্রস্তুতি ও সমন্বিত পদক্ষেপ কাম্য মাগুরায় জাতীয় ভিটামিন এ প্লাস ক্যাম্পেইন উদ্বোধন রাজশাহীতে বিএমডির অরক্ষিত কূপে এবার মহিষের মৃত্যু জাপানের মুখোমুখি হতে হিউস্টনে ব্রাজিল দল টয়লেটের সামনে খাবার তৈরি, তেঁতুলিয়ার শাপলা হোটেলকে জরিমানা ভাইরালের নেশায় নারী বাইক আরোহীদের ধাক্কা, ইউটিউবার গ্রেপ্তার

ভাইরালের নেশায় নারী বাইক আরোহীদের ধাক্কা, ইউটিউবার গ্রেপ্তার

প্রকাশ: ২৮ জুন ২০২৬, ১১:৩৮ এএম
আপডেট: ২৮ জুন ২০২৬, ১২:৩৪ পিএম
ভাইরালের নেশায় নারী বাইক আরোহীদের ধাক্কা, ইউটিউবার গ্রেপ্তার
অভিযুক্ত গুরমান সিং

ভারতের রাজধানী দিল্লিতে ৩২ বছর বয়সী এক ইউটিউবারকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অভিযোগ, তিনি ইচ্ছাকৃত নারী বাইকআরোহীর ধাক্কা মারতেন, এরপর গোপনে তাদের প্রতিক্রিয়া ভিডিও করে ফলোয়ার বাড়ানো এবং মনিটাইজেশনের মাধ্যমে টাকা আয় করতে সামাজিক মাধ্যমে এগুলাে আপলোড করতেন।

অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম গুরমান সিং। তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় Road Safety Wala নামে অ্যাকাউন্ট চালান। নারীদের হয়রানি এবং অনুমতি ছাড়া নারীদের ভিডিও রেকর্ড করার একাধিক অভিযোগের ভিত্তিতে গত শুক্রবার (২৬ জুন) পশ্চিম দিল্লির সুভাষনগর থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে ২ জুন, যখন রাজা গার্ডেনের বাসিন্দা সানি অরোরা একটি অভিযোগ করেন। অভিযোগে তিনি জানান, মোটরসাইকেলে থাকা দুই ব্যক্তি ইচ্ছাকৃত পেছন থেকে তার মেয়েদের স্কুটিতে ধাক্কা দেন, তাদের পিছু নেন এবং আপত্তিকর মন্তব্য করেন। পরবর্তীতে অভিযোগকারী জানতে পারেন, তার মেয়েদের এই ভিডিওটি তাদের অনুমতি ছাড়াই অভিযুক্তের ইউটিউব এবং ফেসবুক অ্যাকাউন্টে আপলোড করা হয়েছে।

পুলিশ জানায়, গুরমান সিং মূলত গণপরিবহন বা রাস্তায় চলাচলকারী নারী আরোহীদের টার্গেট করতেন এবং ইচ্ছাকৃত তাদের গাড়ির সঙ্গে নিজের গাড়ির ধাক্কা দিতেন। এরপর সন্দেহ এড়াতে সে খুব স্বাভাবিক ভঙ্গিতে ‘সরি দিদি’ বলে ক্ষমা চাইতেন। এই সুযোগে তিনি ভুক্তভোগীদের প্রতিক্রিয়ার ভিডিও রেকর্ড করে তাদের অনুমতি ছাড়াই অনলাইনে আপলোড করে দিতেন।

পশ্চিম দিল্লির ডেপুটি পুলিশ কমিশনার (ডিসিপি) হরেশ্বর স্বামী জানিয়েছেন, গুরমান সিং-য়ের @bikeronroad33 নামে একটি ইউটিউব চ্যানেল রয়েছে। যার সাবস্ক্রাইবার প্রায় ২১ হাজার। এছাড়া Road Safety Wala নামে  তার একটি ফেসবুক পেজে দুই লাখের বেশি ফলোয়ার রয়েছে।

ভাইরাল হওয়া এবং টাকা আয়ের জন্য ভিডিও তৈরি

অভিযুক্তের প্রোফাইলগুলো যাচাই করে তদন্তকারীরা দেখতে পান, তার বেশিরভাগ কনটেন্টই নারী আরোহী এবং কিশোরীদের কেন্দ্র করে তৈরি। এরপর ডিজিটাল ফরেনসিক এবং টেকনিক্যাল নজরদারির মাধ্যমে বিস্তারিত তদন্ত শুরু হয়।

পুলিশ জানায়, জিজ্ঞাসাবাদে গুরমান সিং স্বীকার করেছেন, তার সোশ্যাল মিডিয়া ফলোয়ার বাড়াতে, কনটেন্ট ভাইরাল করতে এবং ইউটিউব ও ফেসবুক থেকে টাকা আয় করার জন্য এই ভিডিওগুলো তৈরি করতেন। সে আরও স্বীকার করেন, অনলাইনে বেশি রিচ বা এনগেজমেন্ট পাওয়া এবং নিজের বিকৃত আনন্দের জন্য সে বিশেষভাবে নারী আরোহীদের টার্গেট করতেন।

তদন্তকারীরা তার মোবাইল ফোনটি জব্দ করেছে, যেটিতে তার সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টগুলোর অ্যাক্সেসসহ এই ঘটনায় জড়িত বিভিন্ন ভিডিও, স্ক্রিনশট এবং অন্যান্য ডিজিটাল প্রমাণ পাওয়া গেছে।

পরবর্তীতে সাইবার পুলিশ স্টেশনে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা এবং পকসো আইনের প্রাসঙ্গিক ধারায় একটি এফআইআর করা হয়। পুলিশ অভিযুক্তের সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টগুলো বন্ধ করার প্রক্রিয়া শুরু করেছে এবং এই ঘটনায় অন্য কোনো ভুক্তভোগী আছে কিনা তা খুঁজে বের করতে তদন্ত করছে। সূত্র: এনডিটিভি

মান্না রুপা/অমিয়/

গাজার ‘নিরাপদ অঞ্চলে’ ইসরায়েলি হামলায় ভাই-বোন নিহত

প্রকাশ: ২৮ জুন ২০২৬, ১০:৩৬ এএম
আপডেট: ২৮ জুন ২০২৬, ১২:০১ পিএম
গাজার ‘নিরাপদ অঞ্চলে’ ইসরায়েলি হামলায় ভাই-বোন নিহত
ছবি: সংগৃহীত

ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় তথাকথিত ‘যুদ্ধবিরতি’ ও ‘নিরাপদ অঞ্চল’ ঘোষণার তোয়াক্কা না করেই বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিদের তাঁবুতে নির্বিচারে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েলি বাহিনী। এতে প্রাণ হারিয়েছে দুই ‍ভাই-বোন।

শনিবার (২৭ জুন) তথাকথিত ‘নিরাপদ অঞ্চলে’ ইসরায়েলের এক ড্রোন হামলায় ১৫ বছর বয়সি ইসলাম মুসা এবং তার ৩০ বছর বয়সি ভাই আবদুল্লাহ মুসা নিহত হন।

গাজার সিভিল ডিফেন্স জানায়, আল-মাওয়াসির ওই হামলার স্থান থেকে তারা সাতজন আহত ব্যক্তিকে উদ্ধার করা হয়েছে। আহতদের দ্রুত নাসের হাসপাতাল এবং রেড ক্রস হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

নাসের হাসপাতালের একটি সূত্র সংবাদমাধ্যমকে জানায়, এর আগে দক্ষিণ গাজার আল-মাওয়াসিতে চালানো আরেকটি ইসরায়েলি হামলায় গুরুতর আহত ১০ বছর বয়সি এক ফিলিস্তিনি শিশু ওয়ালিদ ইউসেফ আবু জাজার আহত হয়ে, চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে।

ফিলিস্তিনি শিশু হত্যায় বিশ্বজুড়ে আবারও ক্ষোভ 

জাতিসংঘের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া এই গণহত্যায় এ পর্যন্ত নিহতদের মধ্যে প্রায় ৩০ শতাংশই শিশু।

শিশু অধিকার কর্মী রেচেল আকুরসো বলেন, ‘এ গণহত্যা থামাতে বিশ্ব ব্যর্থ হয়েছে। আমাদের নিজেদের সন্তানদের মতোই নিষ্পাপ কিছু শিশুকে আমরা চোখের সামনে গণহত্যার শিকার হতে দেখছি, অথচ এখনও কোনো কার্যকর পদক্ষেপ বা জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হয়নি।’

জাতিসংঘের কমিশনার এবং এই প্রতিবেদনের সহলেখক ক্রিস সিডোটি বলেন, ‘বিশ্বের রাষ্ট্রগুলোর এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়ার আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে। আমাদের সাড়ে তিন বছর আগেই ব্যবস্থা নেওয়া উচিত ছিল, তবে এখনও শুরু করার সময় শেষ হয়ে যায়নি।’

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েলের এই নৃশংস যুদ্ধ ও গণহত্যায় এ পর্যন্ত অন্তত ৭৩ হাজার ৪৩ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন আরও ১ লাখ ৭৩ হাজার ৪১৭ জন।

মন্ত্রণালয় আরও জানায়, ২০২৫ সালের অক্টোবরে ‘যুদ্ধবিরতি’ কার্যকর হওয়ার পর থেকেই ইসরায়েলি বাহিনী ১ হাজার ৩১ জন ফিলিস্তিনিকে হত্যা এবং ৩ হাজার ৩০৯ জনকে আহত করেছে।

থিওটোনিয়াস/

ইরানে টানা দ্বিতীয় দিন হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র

প্রকাশ: ২৮ জুন ২০২৬, ০৯:৫৯ এএম
আপডেট: ২৮ জুন ২০২৬, ১০:২৫ এএম
ইরানে টানা দ্বিতীয় দিন হামলা চালিয়েছে  যুক্তরাষ্ট্র
ছবি: সংগৃহীত

বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার অজুহাত দেখিয়ে পরপর দ্বিতীয় দিনের মতো ইরানে বিমান হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। শনিবারের (২৭ জুন) এই নতুন হামলা মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধবিরতির প্রচেষ্টাকে এক চরম অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে।

গত ১৭ জুন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত একটি সমঝোতা স্মারক ভেঙে পড়ার এটিই সবচেয়ে বড় ইঙ্গিত বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক অভিযান পরিচালনাকারী ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে জানায়, মার্কিন প্রেসিডেন্টের নির্দেশেই এই হামলা চালানো হয়েছে।

সেন্টকম বিবৃতিতে লিখেছে, ‘বাণিজ্যিক জাহাজে ইরানের ক্রমাগত আগ্রাসনের সরাসরি প্রতিক্রিয়া হিসেবে সেন্টকম বাহিনী আজ এই হামলা পরিচালনা করেছে। মার্কিন সামরিক বিমানগুলো ইরানের সামরিক নজরদারি অবকাঠামো, যোগাযোগ ব্যবস্থা, বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, ড্রোন মজুত কেন্দ্র এবং মাইন স্থাপনের সক্ষমতা লক্ষ্য করে এই হামলা চালিয়েছে।'

দক্ষিণ ইরানের সিরিক বন্দরের নিকটবর্তী তাহরুই গ্রামে এই বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে, যা শুক্রবারের মার্কিন হামলারও মূল কেন্দ্রবিন্দু ছিল। এছাড়া ইরানের কেল দ্বীপ (কেশব আইল্যান্ড) অঞ্চলেও হামলা চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম।

হামলা শুরু হওয়ার দুই ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে এক সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছেন, ইরান যদি ওয়াশিংটনের শর্ত না মানে, তবে এই হামলা আরও বড় যুদ্ধের পূর্বাভাস হতে পারে।

যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘনের জন্য ইরানকে দায়ী করে ট্রাম্প লিখেছেন, 'এটা খুবই সম্ভব যে ওরা কখনোই শিক্ষা নেবে না। এমন এক সময় আসতে পারে যখন আমাদের আর সহনশীল থাকার সুযোগ থাকবে না এবং আমরা সামরিকভাবে সেই কাজটিই পুরোপুরি শেষ করতে বাধ্য হব যা আমরা অত্যন্ত সফলভাবে শুরু করেছিলাম। যদি তা ঘটে, তবে ইসলামিক রিপাবলিক অফ ইরানের আর কোনো অস্তিত্ব থাকবে না!' সূত্র: আল-জাজিরা

আজহার/

পাকিস্তানে সেনাঘাঁটিতে হামলা, চার সেনাসহ নিহত ১০

প্রকাশ: ২৮ জুন ২০২৬, ০৯:৫৬ এএম
আপডেট: ২৮ জুন ২০২৬, ০৯:৫৬ এএম
পাকিস্তানে সেনাঘাঁটিতে হামলা, চার সেনাসহ নিহত ১০
ছবি: সংগৃহীত

পাকিস্তানের করাচিতে একটি আধাসামরিক বাহিনীর সদরদপ্তরে আত্মঘাতী হামলার পর ব্যাপক গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। এতে নিরাপত্তা বাহিনীর চার সদস্যসহ মোট ১০ জন নিহত হয়েছেন।

শনিবার (২৭ জুন) বিস্ফোরকবোঝাই একটি গাড়ি পাকিস্তান রেঞ্জার্সের প্রাদেশিক সদরদপ্তরের প্রবেশপথে আঘাত হানলে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। 

এরপর হামলাকারীদের সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর তীব্র গোলাগুলি শুরু হয়। বিস্ফোরণের পর করাচির মোসামিয়াত চত্বর ও আশপাশের এলাকায় ব্যাপক গোলাগুলির শব্দ শোনা যায় এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পুরো এলাকা ঘিরে ফেলে।

করাচির গুলিস্তান-ই-জোহর এলাকায় অবস্থিত সিন্ধু রেঞ্জার্সের একটি স্থাপনায় চালানো এ হামলায় অন্তত চারজন রেঞ্জার্স সদস্য নিহত হন। পরে ইউনিভার্সিটি রোডের আবহাওয়া চত্বরের কাছেও আরেকটি বিস্ফোরণ ও তীব্র গোলাগুলির খবর পাওয়া যায়।

পাকিস্তানের ডন পত্রিকার প্রতিবেদনে বলা হয়, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে র‌্যাপিড রেসপন্স ফোর্স (আরআরএফ) ও পুলিশ কমান্ডোসহ বিশেষ ইউনিটগুলোকে ঘটনাস্থলে মোতায়েন করা হয়।

নিরাপত্তা বাহিনীর দাবি, হামলার চেষ্টা প্রতিহত করার সময় ছয়জন হামলাকারী নিহত এবং একজনকে জীবিত আটক করা হয়।

নিষিদ্ধ জঙ্গিগোষ্ঠী তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তানের (টিটিপি) সহযোগী সংগঠন জামাত-উল-আহরার (জেইউএ) এ হামলার দায় স্বীকার করেছে। গোষ্ঠীটি দাবি করেছে, তাদের ‘খোলাফা-ই-রাশিদীন ইশতিশহাদী ব্রিগেড’ নামে একটি আত্মঘাতী ইউনিট এই হামলা চালিয়েছে।

এদিকে সিন্ধুর মুখ্যমন্ত্রী সৈয়দ মুরাদ আলী শাহ হামলার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত করে দ্রুত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, পুলিশকে অবিলম্বে ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি মূল্যায়ন করতে হবে এবং প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পাকিস্তানে পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীকে লক্ষ্য করে চরমপন্থি হামলার সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। দেশটির কর্তৃপক্ষ এসব হামলার জন্য মূলত তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি) এবং তাদের সহযোগী জঙ্গিগোষ্ঠীগুলোকে দায়ী করে আসছে। সূত্র: এনডিটিভি

অমিয়/

পরীক্ষায় নকল করতে এআই চশমা

প্রকাশ: ২৮ জুন ২০২৬, ০৯:৫০ এএম
পরীক্ষায় নকল করতে এআই চশমা
ছবি: সংগৃহীত

স্কুলে পরীক্ষাব্যবস্থা চালু হওয়ার পর থেকেই শিক্ষার্থীরা নকল করার নানা উপায় খুঁজছে। সহপাঠীর খাতার দিকে উঁকি দেওয়া কিংবা হাতের তালু ও কাগজের টুকরোয় নোট লিখে রাখার মতো ঘটনা আমরা সব সময়ই দেখে আসছি। কিন্তু প্রযুক্তি যত উন্নত হচ্ছে ও পরীক্ষায় ভালো নম্বর পাওয়ার চাপ যত বাড়ছে, শিক্ষার্থীরা জালিয়াতিতেও আধুনিক উপায় বের করছে। তারা এখন ঝুঁকছে এআইচালিত স্মার্ট চশমার দিকে। 

গত মাসে দক্ষিণ কোরিয়ায় ইংরেজি ভাষার দক্ষতা যাচাই পরীক্ষার সময় দুজনকে স্মার্ট চশমা ব্যবহার করে নকল করার সময় হাতেনাতে ধরা হয়। এই পরীক্ষার ফল সাধারণত চাকরি পাওয়ার ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়। অন্যদিকে তাইওয়ানের একটি শীর্ষ মেডিকেল কলেজের ভর্তি পরীক্ষায় এক শিক্ষার্থীর আচরণে প্রক্টরের সন্দেহ হয়। শিক্ষার্থীটি অদ্ভুতভাবে পরীক্ষার খাতার দিকে তাকিয়ে ছিল। পরে পরীক্ষা করে দেখা যায়, তার চশমার ফ্রেম থেকে তাপ নির্গত হচ্ছে।

স্মার্ট চশমা দিয়ে নকল করার ঘটনা একেবারে নতুন নয়। তবে এআই-সমর্থিত এই ডিভাইসগুলো এখন অনেক বেশি সহজলভ্য, সাশ্রয়ী ও উন্নত হয়ে উঠছে। 

ইতোমধ্যে বিভিন্ন দেশ পরীক্ষার্থীদের জন্য তল্লাশি জোরদার করেছে। চলতি মাসের শুরুতে চীনে অনুষ্ঠিত হওয়া বার্ষিক কলেজ ভর্তি পরীক্ষায় ১০ মিলিয়নেরও বেশি শিক্ষার্থী অংশ নেয়। সেখানে কর্ডন ও স্ক্রিনিংয়ের মাধ্যমে সবার চশমা পরীক্ষা করা বাধ্যতামূলক করা হয়। যুক্তরাজ্যের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক সংস্থার প্রধানও সতর্ক করেছেন, এআই চশমা ও ইয়ারপিসের মতো স্মার্ট ডিভাইসগুলো পরীক্ষায় জালিয়াতি আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।

দক্ষিণ কোরিয়ায় এআই চশমা দিয়ে জালিয়াতির ঘটনা এটিই প্রথম। এর পরিপ্রেক্ষিতে দেশটির কলেজ প্রবেশিকা পরীক্ষা প্রশাসক জানিয়েছেন, তারা শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও স্থানীয় শিক্ষা অফিসের সঙ্গে আলোচনা করছেন। 

তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই কয়েকটি ঘটনা আসলে আরও বড় সমস্যার ইঙ্গিত দিচ্ছে। ডেকিন ইউনিভার্সিটির লেকচারার থমাস করবিন বলেন, ‘যদি আমরা কয়েকটি ঘটনা সামনে আসতে দেখি, তার মানে এর চেয়ে আরও অনেক বেশি ঘটনা আড়ালেই থেকে যাচ্ছে।’

এআই প্রযুক্তির দ্রুত উন্নয়নের ফলে এই চশমাগুলো এখন আরও পাতলা ও কম নজরকাড়া হচ্ছে। এগুলোর ভেতরেই এমন এআই মডেল যুক্ত থাকে যা ইন্টারনেট সংযোগ ছাড়াই স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে। 

হংকং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (এইচকেইউএসটি) সহকারী অধ্যাপক মেং জিলি এক বছর আগে পরীক্ষা পরিদর্শনের সময় এক শিক্ষার্থীর চোখে একটি স্টাইলিশ চশমা লক্ষ্য করেন। এআই চশমা নিয়ে গবেষণা করার কারণে ফ্রেমটি তার নজর কেড়েছিল। যদিও সেই চশমাটি সাধারণ ছিল, তবে এই ঘটনা তাকে একটি পরীক্ষা চালাতে অনুপ্রাণিত করে। তিনি একটি ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং কোর্সের আন্ডারগ্র্যাজুয়েট পরীক্ষায় বাণিজ্যিক এআই চশমা ব্যবহার করে পরীক্ষা নেন।

ফলাফল ছিল চমকপ্রদ। মেং জিলি জানান, এআই চশমা পরীক্ষায় পাস করার জন্য একটি ‘কার্যকর প্রযুক্তি’। চশমাটি দিয়ে পরীক্ষার প্রশ্নের দিকে তাকালেই তা এআই লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেলে পৌঁছে যায়। এরপর এআই উত্তর তৈরি করে চশমার লেন্সে প্রদর্শন করে। এই ডিভাইসের সাহায্যে পরীক্ষায় যে স্কোর পাওয়া গেছে, তা ১০০ জনের ক্লাসে শীর্ষ পাঁচের মধ্যে ছিল ও গড় নম্বর ৭২-এর চেয়ে অনেক বেশি ছিল।

সূত্র: সিএনএন

মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটিগুলো ইসরায়েলে সরছে

প্রকাশ: ২৮ জুন ২০২৬, ০৯:৩৪ এএম
মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটিগুলো ইসরায়েলে সরছে
ছবি: সংগৃহীত

ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার ঝুঁকি কমাতে যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে থাকা তাদের সামরিক স্থাপনাগুলো আরও পশ্চিমে, এমনকি ইসরায়েলে স্থানান্তরের বিষয়টি বিবেচনা করছে। গত বৃহস্পতিবার ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল এক প্রতিবেদনে এ কথা জানায়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বোমা হামলা শুরুর পর পাল্টা হামলায় তেহরান মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করে। এতে ১৩ জন মার্কিন সেনা নিহত এবং শতাধিক আহত হয়।

ইরানের হামলায় মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের একমাত্র নৌঘাঁটি নেভাল সাপোর্ট অ্যাক্টিভিটি বাহরাইনের (এনএসএ বাহরাইন) প্রায় ৪০ কোটি ডলারের ক্ষতি হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এই ক্ষয়ক্ষতির বড় অংশই পেন্টাগন প্রকাশ্যে স্বীকার করেনি।

ইরানের প্রায় ২৪০ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত এই ঘাঁটির ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনাগুলোর মধ্যে রয়েছে মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের সদর দপ্তর, একটি ব্যারাক, কয়েকটি গুদাম এবং বিশুদ্ধ পানির ট্যাংক। স্যাটেলাইট ইমেজ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ছবির ভিত্তিতে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।

মার্কিন সামরিক বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, ওই ঘাঁটিতে হামলায় কোনো প্রাণহানি ঘটেনি।

ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানায়, ক্ষয়ক্ষতির আর্থিক হিসাব সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত নথি এবং পেন্টাগনের প্রকাশ্য ব্যয় মডেলের ভিত্তিতে করা হয়েছে। এই হিসাবে শুধু ভবন পুনর্নির্মাণের ব্যয় ধরা হয়েছে।

সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের (সিএসআইএস) এক বিশ্লেষক বলেন, প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও অনেক বেশি হতে পারে। উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, যুদ্ধের শুরুতে ইরান যে দুটি স্যাটেলাইট যোগাযোগ টার্মিনাল ধ্বংস করেছিল, প্রতিটির মূল্য ছিল প্রায় ২ কোটি ডলার।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাহরাইন ঘাঁটির ক্ষয়ক্ষতির পর যুক্তরাষ্ট্র ঘাঁটিটি নতুনভাবে সাজানোর পরিকল্পনা করছে। এর মধ্যে রয়েছে কমান্ড সেন্টার ভূগর্ভে স্থানান্তর এবং ধ্বংস হওয়া কিছু স্থাপনা পুনর্নির্মাণ না করার বিষয়টিও।

মার্কিন কর্মকর্তারা বলেন, কুয়েত ও সৌদি আরবে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতিও কমতে পারে এবং এর একটি অংশ আরও পশ্চিমে সরিয়ে নেওয়া হতে পারে। কারণ ইরান ওই দুই দেশেও মার্কিন সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু করেছিল।

দুই কর্মকর্তা বলেন, সম্ভাব্য গন্তব্যগুলোর একটি হলো ইসরায়েল। ইরান যুদ্ধ শুরুর আগ থেকেই বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরে কয়েক ডজন মার্কিন যুদ্ধবিমান সরিয়ে নেওয়া হয়।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরান যুদ্ধের ক্রমবর্ধমান ব্যয় নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে, এমনকি নিজ দলের ভেতর থেকেও সমালোচনার শিকার হন। একই সঙ্গে ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানির দামও বেড়ে যায়।

গত ৮ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর প্রতিরক্ষা সক্ষমতা পুনর্গঠনের জন্য পেন্টাগনের প্রধান পিট হেগসেথ অতিরিক্ত ৮০ বিলিয়ন ডলার বাজেট চেয়েছেন। গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি সমঝোতা স্মারকে পৌঁছায়, যার মাধ্যমে আঞ্চলিক সংঘাত বন্ধে ৬০ দিনের আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে ইসরায়েল এই সমঝোতা কিংবা আলোচনার অংশ নয়। 

ইসরায়েলি কর্মকর্তারা বলেছেন, এতে ইরানের লেবাননভিত্তিক মিত্র হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে ইসরায়েলের সামরিক অভিযান বন্ধ রাখার শর্ত রয়েছে, অথচ ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে কোনো সুস্পষ্ট ছাড় আদায় করা হয়নি।

সূত্র: টাইমস অব ইসরায়েল