ভারতের রাজধানী দিল্লিতে ৩২ বছর বয়সী এক ইউটিউবারকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অভিযোগ, তিনি ইচ্ছাকৃত নারী বাইকআরোহীর ধাক্কা মারতেন, এরপর গোপনে তাদের প্রতিক্রিয়া ভিডিও করে ফলোয়ার বাড়ানো এবং মনিটাইজেশনের মাধ্যমে টাকা আয় করতে সামাজিক মাধ্যমে এগুলাে আপলোড করতেন।
অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম গুরমান সিং। তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় Road Safety Wala নামে অ্যাকাউন্ট চালান। নারীদের হয়রানি এবং অনুমতি ছাড়া নারীদের ভিডিও রেকর্ড করার একাধিক অভিযোগের ভিত্তিতে গত শুক্রবার (২৬ জুন) পশ্চিম দিল্লির সুভাষনগর থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে ২ জুন, যখন রাজা গার্ডেনের বাসিন্দা সানি অরোরা একটি অভিযোগ করেন। অভিযোগে তিনি জানান, মোটরসাইকেলে থাকা দুই ব্যক্তি ইচ্ছাকৃত পেছন থেকে তার মেয়েদের স্কুটিতে ধাক্কা দেন, তাদের পিছু নেন এবং আপত্তিকর মন্তব্য করেন। পরবর্তীতে অভিযোগকারী জানতে পারেন, তার মেয়েদের এই ভিডিওটি তাদের অনুমতি ছাড়াই অভিযুক্তের ইউটিউব এবং ফেসবুক অ্যাকাউন্টে আপলোড করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, গুরমান সিং মূলত গণপরিবহন বা রাস্তায় চলাচলকারী নারী আরোহীদের টার্গেট করতেন এবং ইচ্ছাকৃত তাদের গাড়ির সঙ্গে নিজের গাড়ির ধাক্কা দিতেন। এরপর সন্দেহ এড়াতে সে খুব স্বাভাবিক ভঙ্গিতে ‘সরি দিদি’ বলে ক্ষমা চাইতেন। এই সুযোগে তিনি ভুক্তভোগীদের প্রতিক্রিয়ার ভিডিও রেকর্ড করে তাদের অনুমতি ছাড়াই অনলাইনে আপলোড করে দিতেন।
পশ্চিম দিল্লির ডেপুটি পুলিশ কমিশনার (ডিসিপি) হরেশ্বর স্বামী জানিয়েছেন, গুরমান সিং-য়ের @bikeronroad33 নামে একটি ইউটিউব চ্যানেল রয়েছে। যার সাবস্ক্রাইবার প্রায় ২১ হাজার। এছাড়া Road Safety Wala নামে তার একটি ফেসবুক পেজে দুই লাখের বেশি ফলোয়ার রয়েছে।
ভাইরাল হওয়া এবং টাকা আয়ের জন্য ভিডিও তৈরি
অভিযুক্তের প্রোফাইলগুলো যাচাই করে তদন্তকারীরা দেখতে পান, তার বেশিরভাগ কনটেন্টই নারী আরোহী এবং কিশোরীদের কেন্দ্র করে তৈরি। এরপর ডিজিটাল ফরেনসিক এবং টেকনিক্যাল নজরদারির মাধ্যমে বিস্তারিত তদন্ত শুরু হয়।
পুলিশ জানায়, জিজ্ঞাসাবাদে গুরমান সিং স্বীকার করেছেন, তার সোশ্যাল মিডিয়া ফলোয়ার বাড়াতে, কনটেন্ট ভাইরাল করতে এবং ইউটিউব ও ফেসবুক থেকে টাকা আয় করার জন্য এই ভিডিওগুলো তৈরি করতেন। সে আরও স্বীকার করেন, অনলাইনে বেশি রিচ বা এনগেজমেন্ট পাওয়া এবং নিজের বিকৃত আনন্দের জন্য সে বিশেষভাবে নারী আরোহীদের টার্গেট করতেন।
তদন্তকারীরা তার মোবাইল ফোনটি জব্দ করেছে, যেটিতে তার সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টগুলোর অ্যাক্সেসসহ এই ঘটনায় জড়িত বিভিন্ন ভিডিও, স্ক্রিনশট এবং অন্যান্য ডিজিটাল প্রমাণ পাওয়া গেছে।
পরবর্তীতে সাইবার পুলিশ স্টেশনে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা এবং পকসো আইনের প্রাসঙ্গিক ধারায় একটি এফআইআর করা হয়। পুলিশ অভিযুক্তের সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টগুলো বন্ধ করার প্রক্রিয়া শুরু করেছে এবং এই ঘটনায় অন্য কোনো ভুক্তভোগী আছে কিনা তা খুঁজে বের করতে তদন্ত করছে। সূত্র: এনডিটিভি
তমান্না রুপা/অমিয়/