ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় তথাকথিত ‘যুদ্ধবিরতি’ ও ‘নিরাপদ অঞ্চল’ ঘোষণার তোয়াক্কা না করেই বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিদের তাঁবুতে নির্বিচারে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েলি বাহিনী। এতে প্রাণ হারিয়েছে দুই ভাই-বোন।
শনিবার (২৭ জুন) তথাকথিত ‘নিরাপদ অঞ্চলে’ ইসরায়েলের এক ড্রোন হামলায় ১৫ বছর বয়সি ইসলাম মুসা এবং তার ৩০ বছর বয়সি ভাই আবদুল্লাহ মুসা নিহত হন।
গাজার সিভিল ডিফেন্স জানায়, আল-মাওয়াসির ওই হামলার স্থান থেকে তারা সাতজন আহত ব্যক্তিকে উদ্ধার করা হয়েছে। আহতদের দ্রুত নাসের হাসপাতাল এবং রেড ক্রস হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
নাসের হাসপাতালের একটি সূত্র সংবাদমাধ্যমকে জানায়, এর আগে দক্ষিণ গাজার আল-মাওয়াসিতে চালানো আরেকটি ইসরায়েলি হামলায় গুরুতর আহত ১০ বছর বয়সি এক ফিলিস্তিনি শিশু ওয়ালিদ ইউসেফ আবু জাজার আহত হয়ে, চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে।
ফিলিস্তিনি শিশু হত্যায় বিশ্বজুড়ে আবারও ক্ষোভ
জাতিসংঘের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া এই গণহত্যায় এ পর্যন্ত নিহতদের মধ্যে প্রায় ৩০ শতাংশই শিশু।
শিশু অধিকার কর্মী রেচেল আকুরসো বলেন, ‘এ গণহত্যা থামাতে বিশ্ব ব্যর্থ হয়েছে। আমাদের নিজেদের সন্তানদের মতোই নিষ্পাপ কিছু শিশুকে আমরা চোখের সামনে গণহত্যার শিকার হতে দেখছি, অথচ এখনও কোনো কার্যকর পদক্ষেপ বা জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হয়নি।’
জাতিসংঘের কমিশনার এবং এই প্রতিবেদনের সহলেখক ক্রিস সিডোটি বলেন, ‘বিশ্বের রাষ্ট্রগুলোর এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়ার আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে। আমাদের সাড়ে তিন বছর আগেই ব্যবস্থা নেওয়া উচিত ছিল, তবে এখনও শুরু করার সময় শেষ হয়ে যায়নি।’
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েলের এই নৃশংস যুদ্ধ ও গণহত্যায় এ পর্যন্ত অন্তত ৭৩ হাজার ৪৩ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন আরও ১ লাখ ৭৩ হাজার ৪১৭ জন।
মন্ত্রণালয় আরও জানায়, ২০২৫ সালের অক্টোবরে ‘যুদ্ধবিরতি’ কার্যকর হওয়ার পর থেকেই ইসরায়েলি বাহিনী ১ হাজার ৩১ জন ফিলিস্তিনিকে হত্যা এবং ৩ হাজার ৩০৯ জনকে আহত করেছে।
থিওটোনিয়াস/