চট্টগ্রাম নগরীর চকবাজারে বিএএফ শাহীন কলেজের শিক্ষার্থী আশফাক কবির সাজিদ হত্যা মামলার তদন্তে সন্দেহভাজন পলাতক আসামি ইশতিয়াক (২২)কে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব।
নিহত আশফাক কবির সাজিদ কক্সবাজার জেলার চকরিয়া উপজেলার দাতিনাথালীপাড়া গ্রামের বাসিন্দা এবং বিএএফ শাহীন কলেজের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন।
র্যাব জানায়, গত ১২ এপ্রিল বিকেলে চকবাজার এলাকার বৌ-বাজার যাওয়ার রাস্তার মুখে একটি টংদোকানের সামনে বন্ধু ফারদিন হাসানের সঙ্গে অবস্থানকালে আইমন, অনিক, রানা ওরফে মাইকেল রানা, ইলিয়াস, এনায়েত উল্লাহ, মিসকাতুল কায়েসসহ আরও ৫-৬ জন তাকে ধারালো অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে তুলে নেওয়ার চেষ্টা করে। এক পর্যায়ে সাজিদ সেখান থেকে পালিয়ে ডিসি রোডের মৌসুমি আবাসিক এলাকার একটি নির্মাণাধীন ভবনের অষ্টম তলায় আশ্রয় নেন। ভবনের প্রধান ফটক বন্ধ করে দেন। পরে অভিযুক্তরা ভবনের সামনে গিয়ে দারোয়ানকে বলে ভবনের ভেতরে চোর প্রবেশ করেছে। এটা শুনে দারোয়ান ফটক খুলে দেন। তারপর তারা ভবনের ওপরের তলায় গিয়ে সাজিদকে এলোপাতাড়ি মারধর করে গুরুতর আহত অবস্থায় অষ্টম তলার লিফটের ফাঁকা স্থান দিয়ে নিচে ফেলে দেয়। যা মামলার তদন্তে উঠে এসেছে।
খবর পেয়ে চকবাজার থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয়দের সহায়তায় সাজিদকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। নৃশংস এ হত্যাকাণ্ডটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে।
এ ঘটনায় নিহতের বাবা বাদী হয়ে ১৩ এপ্রিল চকবাজার থানায় হত্যা মামলা করেন।
র্যাব জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তারা জানতে পারে, মামলার তদন্তে সন্দেহভাজন আসামি ইশতিয়াক চট্টগ্রামের দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া এলাকায় অবস্থান করছেন। এতে শুক্রবার (২৬ জুন) রাতে রাঙ্গুনিয়া থানাধীন শিলক মিনাগাজির টিলা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তার ইশতিয়াক চকবাজার থানার ডিসি রোডের শিশু কবরস্থান এলাকার বাসিন্দা।
র্যাব-৭-এর সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) সহকারী পুলিশ সুপার এ. আর. এম. মোজাফ্ফর হোসেন বলেন, ’দীর্ঘদিন চেষ্টার পর শিক্ষার্থী হত্যায় জড়িত ইশতিয়াককে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে র্যাব। তাকে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য চকবাজার থানার কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। পুলিশ শনিবার (২৭ জুন) দুপুরে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে আসামিকে।’
সাত্তার/খাদিজা রুমি/