বিশ্বকাপ ফুটবলকে ঘিরে এখন দেশের বিভিন্ন এলাকায় আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল, পর্তুগালসহ অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর পতাকা উড়ছে। এ সময় দেশের বিভিন্ন স্থানে দেখা যাচ্ছে সাদা জমিনে কালো অক্ষরে কিংবা কালো জমিনে সাদা অক্ষরে লেখা ইসলামের কালিমা। রাজধানী থেকে জেলা শহর পর্যন্ত এই পতাকার ব্যবহার নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও গণমাধ্যমে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, রাজধানীর যাত্রাবাড়ী ফ্লাইওভারে কালিমা লেখা পতাকা টানানোর কার্যক্রমে নির্দেশনা দিচ্ছেন মুফতি হারুন ইজহার। ভিডিওটি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
অন্যদিকে এনামুল হাসান নামে এক যুবককে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই ধরনের পতাকা বিক্রির প্রচার চালাতে দেখা গেছে। শুধু রাজধানী নয়, চট্টগ্রামের একটি বড় মিছিলে হাজারও মানুষের হাতে একই ধরনের পতাকা দেখা গেছে। এ ছাড়া পাবনা, গাইবান্ধাসহ দেশের আরও কয়েকটি জেলার ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে একই নকশার পতাকা বহন করতে দেখা যায় বিভিন্ন ব্যক্তিকে।
ইসলামে কালিমা তাইয়্যিবা মুসলমানদের ইমানের মৌলিক ঘোষণাপত্র। বিশ্বের সব মুসলমানের কাছে এই বাণী অত্যন্ত পবিত্র। তবে নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, বিভিন্ন সময়ে কিছু সশস্ত্র উগ্রবাদী সংগঠন নিজেদের পতাকা ও প্রচারের প্রতীকে কালিমার অপব্যবহার করেছে।
দেশে কোনো নির্দিষ্ট ধর্মীয় বাক্য বা কালিমা লেখা পতাকা ব্যবহারের ওপর আলাদা নিষেধাজ্ঞা নেই। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সাবেক এক অতিরিক্ত আইজিপি ও নিরাপত্তা বিশ্লেষক বলেন, ‘ধর্মীয় প্রতীক ব্যবহার করা আর উগ্রবাদী বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া দুটি সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দায়িত্ব হবে, যারা এসব পতাকা ব্যবহার করছেন তাদের উদ্দেশ্য, সংগঠনিক সম্পৃক্ততা এবং অর্থায়নের উৎস যাচাই করা। কেবল পতাকা দেখেই সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যেমন ঠিক নয়, তেমনি সম্ভাব্য উগ্রবাদী প্রচারণাকে উপেক্ষা করাও উচিত হবে না।’
নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে ব্যবহার করে বিভিন্ন মতাদর্শভিত্তিক প্রতীক দ্রুত ছড়িয়ে দেওয়ার প্রবণতা বেড়েছে। অনলাইনে পতাকা বিক্রি, ভিডিও প্রচার এবং বিভিন্ন স্থানে একই ধরনের প্রতীকের উপস্থিতি এসব বিষয় নিরাপত্তা সংস্থার জন্য পর্যবেক্ষণের ক্ষেত্র হতে পারে।