বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বে দক্ষিণ আফ্রিকা দলের সবচেয়ে উজ্জ্বল নাম পার্সি টাউ। আক্রমণভাগের এই তারকা গতি, সৃজনশীলতা, ড্রিবলিং আর গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে দায়িত্ব নেওয়ার মানসিকতা সব মিলিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার নকআউটে ওঠার পেছনে বড় চালিকাশক্তি ছিলেন এই পার্সি টাউ।
গ্রুপ পর্ব দক্ষিণ আফ্রিকার জন্য মোটেও সহজ পথ ছিল না। বরং প্রথম রাউন্ড থেকে বিদায় নেওয়ার একটা শঙ্কা ছিল। কিন্তু এশিয়ার ফুটবলে অন্যতম পরাশক্তি দক্ষিণ কোরিয়াকে হতবাক করে তাদের পেছনে ফেলে আগেভাগে নকআউটে জায়গা করে নেয় আফ্রিকা। উদ্বোধনী ম্যাচে স্বাগতিক মেক্সিকোর কাছে হার তাদের চাপে ফেলে দিয়েছিল। সেই ম্যাচে পার্সি টাউয়ের মধ্যে ছিল লড়াইয়ের মানসিকতা। প্রতিপক্ষের শক্তিশালী রক্ষণের বিপক্ষেও তিনি বারবার বল ধরে রাখেন, জায়গা তৈরি করেন এবং সতীর্থদের আক্রমণে তুলে আনেন।
দ্বিতীয় ম্যাচে চেক প্রজাতন্ত্রের বিপক্ষে ড্র করা ম্যাচে টাউ ছিলেন দক্ষিণ আফ্রিকার আক্রমণের কেন্দ্রবিন্দুতে। মাঝমাঠ থেকে বল নিয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়া, উইং থেকে কাট ইন করা আর ডিফেন্ডারদের বিভ্রান্ত করে সুযোগ তৈরি করা–এই ম্যাচেই স্পষ্ট হয়ে যায় দক্ষিণ আফ্রিকার আক্রমণের হৃৎস্পন্দন তিনি। তবে পার্সি টাউয়ের সবচেয়ে বড় মুহূর্ত আসে শেষ ম্যাচে দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে। নকআউট নিশ্চিত করা সেই ম্যাচে পার্সি টাউ ছিলেন অসাধারণ। ম্যাচের প্রতিটি আক্রমণে ছিল তার ছাপ। কখনো ডান প্রান্ত ভেঙে প্রতিপক্ষের সীমানায় ঢুকে পড়েছেন কখনো দ্রুত ওয়ান টু ওয়ান পাসে প্রতিপক্ষের রক্ষণে ফাটল ধরিয়েছেন। তার গতি আর সিদ্ধান্ত নেওয়ার দক্ষতা বারবার প্রতিপক্ষকে বিভ্রান্ত করেছিল।
টাউয়ের আরেকটি বড় গুণ নেতৃত্ব। আনুষ্ঠানিকভাবে অধিনায়ক না হলেও তার উপস্থিতি দলের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দেয়। কঠিন মুহূর্তে তিনি সতীর্থদের উজ্জ্বীবিত করেন, চাপের মুখেও বল নিজের নিয়ন্ত্রণে রাখার দারুণ দক্ষতা রয়েছে তার। বড় মঞ্চে বড় খেলোয়াড়রা যেমন ছাপ রাখেন টাউও তেমন একজন হয়ে উঠছেন।