ঢাকার ধামরাই উপজেলার সানোড়া ইউনিয়নের ১৪৪নং বাওজা এবং ১৫০নং চান্দখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নতুন ভবন অনুমোদনের আগেই পুরোনো পাকা ভবন ভেঙে ফেলায় চরম বিপাকে পড়েছে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।
নতুন ভবনের আশায় ভবন দুটি ভেঙে ফেলায় বছরের পর বছর পেরিয়ে গেলেও কোনো বরাদ্দ বা অনুমোদন মেলেনি। ফলে রোদ, গরম আর বৃষ্টির মধ্যেই টিনের ঘরে কষ্ট করে পাঠদান চালাতে হচ্ছে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ১৯৭৪ সালে প্রতিষ্ঠিত বাওজা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাকা ভবনটি নতুন ভবনের আশায় তিন বছর আগে ভেঙে ফেলা হয়েছে। বর্তমানে সিলিংবিহীন একটি ছোট দুচালা টিনের ঘরে ক্লাস করছে শিক্ষার্থীরা। প্রচণ্ড গরমে এই ঘরে ক্লাস করা খুবই কষ্টকর। অন্যদিকে বর্ষায় সামান্য বৃষ্টিতেই ঘরে পানি ঢুকে।
একই অবস্থা চান্দখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের। ভবনটি ২০২৪ সালের নভেম্বরে ভাঙা হয়। এই বিদ্যালয়ের ৩৩ শতাংশ জায়গার মধ্যে মাত্র ১৩ শতাংশ দখলে থাকায় শিক্ষার্থীদের খেলাধুলার জায়গাও নেই।
দুই বিদ্যালয়েরই ওয়াশ ব্লক ব্যবহারের অযোগ্য। এমন পরিবেশের কারণে বিদ্যালয় দুটির শিক্ষার্থী কমছে। বাওজা বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সংখ্যা ৭৬ থেকে কমে ৫৬ এবং চান্দখালী বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সংখ্যা ১৭৫ থেকে কমে ১১৮ জনে দাঁড়িয়েছে।
বাওজা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাহফুজুর রহমান ও চান্দখালী বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নাজমা আক্তার বলেন, ‘ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ও শিক্ষা অফিসে বারবার লিখিতভাবে জানিয়েও কোনো সুরাহা মেলেনি। এমনকি উপজেলা শিক্ষা অফিসার একদিনের জন্যও বিদ্যালয় দুটি পরিদর্শনে আসেননি।’
এ বিষয়ে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মুহাম্মদ মোবাখখারুল ইসলাম মিজান ভবন নির্মাণে কিছুটা জটিলতার কথা স্বীকার করে বিষয়টি দেখার আশ্বাস দিয়েছেন।
অন্যদিকে, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আল মামুন জানান, বিষয়টি আগে জানা থাকলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া যেত, তবে এখন কীভাবে দ্রুত এই সমস্যার সমাধান করা যায় তা তিনি খতিয়ে দেখছেন।
রুহুল আমিন/খাদিজা রুমি/