ঢাকা ১৪ আষাঢ় ১৪৩৩, রোববার, ২৮ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
বদলি নেমে মেসির চমক, জর্ডানকে ৩-১ গোলে হারাল আর্জেন্টিনা হৃদয়ভাঙা বিদায় ইরানের কমলো ঢাকার বায়ুদূষণ, শীর্ষে কঙ্গোর কিনশাসা ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পে ফুটবলার হেক্টর বেলোর স্ত্রীর মৃত্যু গ্রুপ পর্ব শেষ, নিশ্চিত নকআউটের ৩২ দল জিতলেই ইতিহাস অভাবের চাদরে মোড়ানো এক জীবনযাপনের গল্প ইরানে টানা দ্বিতীয় দিন হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্তানে সেনাঘাঁটিতে হামলা, চার সেনাসহ নিহত ১০ পরীক্ষায় নকল করতে এআই চশমা বিশ্বকাপে আরেকটি ইতিহাস মেসির মেসি মাঠে নামার আগেই গোল হজম করল আর্জেন্টিনা আনোয়ারায় বাবার মরদেহ দাফন করতে গিয়ে হামলার শিকার ভাই-বোন মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটিগুলো ইসরায়েলে সরছে বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের সর্বোচ্চ গোলদাতা হ্যারি কেইন ব্যাংক থেকে টাকা তোলা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত: মিলন চুক্তি স্বাক্ষরের একদিন পরই লেবাননে ইসরায়েলের হামলা বই-ই তার বিশ্ববিদ্যালয় সিলেটে  কৃষক ও নারী উদ্যেক্তাদের নিয়ে  আর্থিক সাক্ষরতা কর্মশালা অনুষ্ঠিত ইংল্যান্ডের নকআউট প্রতিপক্ষ ডিআর কঙ্গো প্রতি উপজেলায় পুষ্টিবিদের পদ সৃষ্টির প্রস্তাব বিবিএফ চেয়ারপারসনের সম্পর্কের পরীক্ষায় ঢাকা-বেইজিং পার্সি টাউয়ের আলো ছড়ানো অভিযান মেসি বনাম রোনালদো লড়াইয়ের শেষ সমীকরণ মেসিবিহীন আর্জেন্টিনার জর্ডানের বিপক্ষে প্রথমার্ধেই দুই গোলের লিড কারাকাস বারবার কেন আক্রান্ত হয় ড্র করে গ্রুপ রানার্সআপ পর্তুগাল, শেষ বত্রিশে প্রতিপক্ষ ক্রোয়েশিয়া হরিরামপুরে সহিংসতার ঘটনায় ঘুরেফিরে এক নাম ময়লার স্তূপে ঢাকছে চট্টগ্রাম নগরীর সড়ক রেশমের শহরে বিদেশি কাপড়ের দাপট

বই-ই তার বিশ্ববিদ্যালয়

প্রকাশ: ২৮ জুন ২০২৬, ০৯:১৮ এএম
আপডেট: ২৮ জুন ২০২৬, ০৯:২৪ এএম
বই-ই তার বিশ্ববিদ্যালয়
ছবি: খবরের কাগজ

বিদ্যালয়ে গিয়েছিলেন মাত্র এক দিন। এরপর আর কখনো শ্রেণিকক্ষে বসার সুযোগ হয়নি। সংসারের অভাব-অনটন তাকে বই থেকে নয়, স্কুল থেকে দূরে সরিয়ে দিয়েছিল। কিন্তু যে মানুষটির আনুষ্ঠানিক শিক্ষাজীবন শুরু হওয়ার আগেই থেমে গিয়েছিল, তিনি থামিয়ে রাখেননি নিজের শেখার পথ। বইকেই করেছেন শিক্ষক। বইকেই বানিয়েছেন আজীবনের সঙ্গী। বইয়ের আলোয় নিজেকে গড়ে তুলেছেন স্বশিক্ষিত, আলোকিত মানুষ হিসেবে। বইয়ের জগতে বিচরণ করেই বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাদ পেয়েছেন তিনি।

রাজশাহীর তানোর উপজেলার মাড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা সত্যেন্দ্রনাথ প্রামাণিকের (৫৭) জীবন যেন বইয়ের পাতায় লেখা এক অনুপ্রেরণার গল্প। ছোট্ট একটি টিনের ঘরে তার বসবাস। বাইরে থেকে সাধারণ সেই ঘরটির ভেতরে রয়েছে অন্য এক রত্নভান্ডার। এক পাশে শোয়ার জায়গা, অন্য পাশে সারি সারি বই। ঘরে ঢুকতে হলে মাথা নিচু করতে হয়, কিন্তু সেই ঘরে বসে যে মানুষটি জ্ঞানের সাধনা করেন, তার চিন্তার পরিধি অনেক বিস্তৃত। অনেক গভীর।

কৃষক উপেন্দ্রনাথ প্রামাণিকের বড় ছেলে সত্যেন্দ্রনাথ। পরিবারের বড় সন্তান হওয়ায় ছোটবেলা থেকেই সংসারের দায়িত্ব এসে পড়ে তার কাঁধে। আর্থিক সংকটের কারণে নিয়মিত বিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ হয়নি। তবে তার শিক্ষা শুরু হয়েছিল গৃহেই। মা গীতা রানী, যিনি নিজে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেছিলেন, তিনিই ছেলের প্রথম বর্ণপরিচয় ঘটান। সেই সামান্য শিক্ষাই হয়ে ওঠে তার সারা জীবনের জ্ঞানের ভিত্তি।

এক দিন গ্রামের শিক্ষক এরফান কাকা তাকে বিদ্যালয়ে নিয়ে যান। শ্রেণিকক্ষে স্বরবর্ণ ও ব্যঞ্জনবর্ণ পড়তে দিলে ছোট্ট সত্যেন্দ্রনাথ সেগুলো অনর্গল পড়ে শোনান। শিক্ষক বিস্মিত হন। কিন্তু সেটিই ছিল তার জীবনের প্রথম এবং শেষ স্কুলে যাওয়া। এরপর অভাব-অনটনের বাস্তবতা তাকে আর বিদ্যালয়ের পথে ফিরতে দেয়নি। তবে শিক্ষা থেকে নয়, তিনি দূরে ছিলেন শুধু প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার বাইরে। সমবয়সী বন্ধুদের স্কুলে যেতে দেখে তার ভেতরে জন্ম নেয় জানার ও শেখার তীব্র আকাঙ্ক্ষা। সেই আকাঙ্ক্ষা থেকেই কৈশোরে বই পড়ার অভ্যাস গড়ে ওঠে। প্রথমে উপন্যাস, তারপর ধীরে ধীরে ইতিহাস, দর্শন, বিজ্ঞান, নৃতত্ত্ব, সমাজচিন্তা–একসময় বইয়ের জগৎই হয়ে ওঠে তার প্রকৃত শিক্ষাঙ্গন।

ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়, নীহাররঞ্জন গুপ্ত, বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের সাহিত্য দিয়ে শুরু হওয়া সেই যাত্রা আজও থামেনি। বই পড়ে তিনি আজ বিস্ময়কর এক জ্ঞানভান্ডার। তার বিশ্বাস, ‘বইপুস্তক বা সাহিত্যচর্চা ছাড়া মানবতার পূর্ণ বিকাশ হয় না।’ জীবিকার প্রয়োজনে কৃষিকাজের পাশাপাশি দীর্ঘদিন দেশের বিভিন্ন স্থানে পদাবলী কীর্তন গেয়ে বেড়িয়েছেন তিনি। কিন্তু ভ্রমণের প্রতিটি পথই তার কাছে ছিল বই খোঁজার নতুন নতুন সুযোগ। রেলস্টেশনের ছোট্ট লাইব্রেরি, পুরোনো বইয়ের দোকান কিংবা যেখানেই ভালো বইয়ের সন্ধান পেয়েছেন, সেখান থেকেই সংগ্রহ করেছেন। আজও কোনো বই ভালো লাগলে সেটি সংগ্রহ করার চেষ্টা করেন।

নিজে কখনো স্কুলের গণ্ডি পেরোতে না পারলেও সন্তানদের শিক্ষিত করে তুলেছেন স্বপ্নসম উচ্চতায়। বড় ছেলে সঞ্জয় কুমার প্রামাণিক বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) থেকে ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) বিভাগে পড়াশোনা শেষ করে বর্তমানে ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানিতে কাজ করছেন। মেয়ে নীপা প্রামাণিক রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর শেষ করে সরকারি চাকরির প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

সত্যেন্দ্রনাথের বিশ্বাস, তার বইপড়ার অভ্যাসই সন্তানদের পড়াশোনায় অনুপ্রাণিত করেছে। তিনি বলেন, ‘আমার ছেলেমেয়েরা আমাকে বুঝত। আমার বই পড়ার ঝোঁক তাদেরও পড়াশোনার প্রতি আগ্রহী করে তোলে।’

তার ছোট ভাই ভবেন্দ্রনাথ প্রামাণিক বর্তমানে একটি উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক। তবুও বড় ভাই সত্যেন্দ্রনাথকেই তিনি নিজের অন্যতম শিক্ষক মনে করেন। তার স্মৃতিতে এখনো ভাসে বিদ্যুৎবিহীন রাতের সেই দৃশ্য–তেলের বাতির ক্ষীণ আলোয় ঘণ্টার পর ঘণ্টা বই পড়ে গেছেন সত্যেন্দ্রনাথ। বাবার বকুনি, সংসারের অভাব–কিছুই তাকে বই থেকে দূরে রাখতে পারেনি।

নিজের লেখাপড়ার সুযোগ না থাকলেও ছোট দুই ভাইকে মানুষ করতে, তাদের শিক্ষিত করে তুলতে নিজের স্বপ্ন বিসর্জন দিয়েছেন তিনি। আজ সেই ত্যাগকে জীবনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি বলে মনে করেন। জীবনের দীর্ঘ সংগ্রামের গল্প আমাদের বলতে গিয়ে তার কণ্ঠে কোনো অভিযোগ ছিল না। শুধু আক্ষেপ একধরনের অপূর্ণতার। তার মনে নতুন গান আসে, নতুন সুর জন্ম নেয়। কীর্তন গাইতে পারেন, কিন্তু লিখে রাখতে পারেন না। লেখার অক্ষমতাই তার জীবনের একমাত্র আক্ষেপ। তবুও তিনি থেমে যাননি। প্রতিদিন বইয়ের পাতা উল্টেপাল্টে তিনি নতুন করে জীবনকে চিনতে শেখেন। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার সনদ ছাড়াও একজন মানুষ যে জ্ঞানের আলোয় আলোকিত হতে পারেন, সত্যেন্দ্রনাথ প্রামাণিক তার জীবন্ত উদাহরণ। তার জীবন যেন বলে–বিদ্যালয়ে যাওয়া নয়, শেখার ইচ্ছাই একজন মানুষকে প্রকৃত অর্থে শিক্ষিত করে তোলে।

সত্যেন্দ্রনাথ প্রামাণিক বলেন, ‘আমি স্কুলে পড়ার সুযোগ পাইনি, কিন্তু বইকে কখনো ছেড়ে দিইনি। আমার বিশ্বাস, মানুষের সবচেয়ে বড় শিক্ষক বই। বই মানুষকে শুধু জ্ঞান দেয় না, মানুষ হতে শেখায়। আজ যদি আমার জীবনে কোনো আলোর দিক থেকে থাকে, সেটি এই বই পড়ার অভ্যাসের কারণেই অর্জিত হয়েছে।’

গান, কবিতা ও স্মৃতিচারণে কামাল লোহানীর জন্মবার্ষিকী উদযাপন

প্রকাশ: ২৬ জুন ২০২৬, ০৮:৩৪ পিএম
আপডেট: ২৬ জুন ২০২৬, ০৯:০৫ পিএম
গান, কবিতা ও স্মৃতিচারণে কামাল লোহানীর জন্মবার্ষিকী উদযাপন
ছবি: খবরের কাগজ

গান, কবিতা আর সহযোদ্ধাদের সশ্রদ্ধ স্মৃতিচারণের মধ্য দিয়ে উদযাপিত হয়েছে বিশিষ্ট সাংবাদিক, ভাষা সংগ্রামী ও স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শব্দসৈনিক কামাল লোহানীর ৯২তম জন্মবার্ষিকী।

শুক্রবার (২৬ জুন) বিকেলে রাজধানীর পুরানা পল্টনের কমরেড মনিসিংহ-ফরহাদ স্মৃতি ট্রাস্ট মিলনায়তনে বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী এই উদযাপন অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

উদীচী কেন্দ্রীয় সংসদের নেতারা কামাল লোহানীর প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও প্রদীপ প্রজ্জ্বলনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা করেন। এরপর উদীচী কেন্দ্রীয় সঙ্গীত বিভাগের শিল্পীরা ‘কোন আলোতে প্রাণের প্রদীপ’ গানটি সমবেত কণ্ঠে পরিবেশন করেন। একক আবৃত্তি পরিবেশন করেন উদীচীর কেন্দ্রীয় সম্পাদকণ্ডলীর সদস্য শিখা সেন গুপ্তা এবং ঢাকা মহানগর সংসদের আবৃত্তি সম্পাদক সুমিত পাল। একক সঙ্গীত পরিবেশন করেন বিজয় বণিক।

উদীচী কেন্দ্রীয় সংসদের সহসভাপতি শিবাণী ভট্টাচার্য্যের সভাপতিত্বে আলোচনা পর্বে বক্তব্য রাখেন উদীচীর সাধারণ সম্পাদক অমিত রঞ্জন দে, সহ-সভাপতি প্রবীর সরদার, সহসাধারণ সম্পাদক প্রদীপ ঘোষ, সদস্য নিবাস দে, বাংলাদেশ যুব ইউনিয়নের সভাপতি খান আসাদুজ্জামান মাসুম, কেন্দ্রীয় খেলাঘর আসরের সাধারণ সম্পাদক রেজাউল কবির, উদীচীর সাবেক সভাপতি প্রয়াত অধ্যাপক বদিউর রহমানের কন্যা সুপা সাদিয়া এবং ঢাকা মহানগর সংসদের সাধারণ সম্পাদক কংকন নাগ। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন উদীচীর সংগঠন বিষয়ক সম্পাদক শেখ আনিসুর রহমান।

আলোচনায় বক্তারা কামাল লোহানীর প্রগতিশীল আন্দোলন-সংগ্রাম ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে তার অনবদ্য ভূমিকার কথা তুলে ধরেন।

উদীচীর সাধারণ সম্পাদক অমিত রঞ্জন দে বলেন, "কামাল লোহানী তার দীর্ঘ জীবনে ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে ছয় দফা, গণঅভ্যুত্থান ও মহান মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন। ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর নিয়াজির আত্মসমর্পণের ঐতিহাসিক সংবাদটি তিনি নিজেই লিখে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রে পাঠ করেছিলেন।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, ২০১২ সালে উদীচীর সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর কামাল লোহানী সারাদেশে সংগঠনকে বিস্তৃত করেন এবং ২০১৩ সালে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে দেশব্যাপী কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেন। এছাড়া গণজাগরণ মঞ্চের আন্দোলন ও উদীচীর নেতৃত্বে সাম্প্রদায়িকতাবিরোধী দক্ষিণ এশীয় কনভেনশন আয়োজনে তার ভূমিকা ছিল অনন্য।

সভাপতির বক্তব্যে শিবাণী ভট্টাচার্য্য বলেন, কামাল লোহানী ছায়ানট ও ক্রান্তির মতো সংগঠনে যুক্ত থেকে নৃত্য, আবৃত্তি ও অভিনয়ে অংশ নিয়েছেন। তিনি আমৃত্যু প্রগতিশীল সাংস্কৃতিক সংগ্রামের সাথে যুক্ত ছিলেন।

অন্যান্য বক্তারা বলেন, বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ড, স্বৈরাচারবিরোধী উদীচী কেন্দ্রীয় সঙ্গীত বিভাগের শিল্পীদের সমবেত কণ্ঠে ‘আজি শুভদিনে পিতার ভবনে’ গানটি পরিবেশনার মধ্য দিয়ে কামাল লোহানীর ৯২তম জন্মবার্ষিকীর অনুষ্ঠান শেষ হয়।

জয়ন্ত সাহা/এএফ

শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে সাত দশকের অগ্রগতির দাবি প্রশ্নবিদ্ধ: সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬, ০৭:১১ পিএম
আপডেট: ২৩ জুন ২০২৬, ০৭:৫৯ পিএম
শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে সাত দশকের অগ্রগতির দাবি প্রশ্নবিদ্ধ: সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী
বাংলা একাডেমিতে নিজের ৯১তম জন্মদিনের আয়োজনে বক্তৃতা করছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী। ছবি: খবরের কাগজ

বাইরে চকচকে দালানকোঠা আর রাস্তাঘাটের বিপুল উন্নতি হলেও ভেতরে ভেতরে সমাজ কতটা পচে গেছে, সেই রূঢ় বাস্তবতা তুলে ধরে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী।

বাংলাদেশের শিশুদের ভয়াবহ পরিস্থিতির তুলনা করে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, সাত-আট দশকের এই বস্তুগত উন্নয়ন ও তথাকথিত অগ্রগতির শেষ পরিণতি কী তবে অবোধ শিশুদের ওপর পাশবিক নির্যাতন আর হত্যাকাণ্ড?

মঙ্গলবার (২৩ জুন) বিকেলে বাংলা একাডেমিতে নিজের ৯১তম জন্মদিনের আয়োজনে ‘কী দেখেছি, কী বুঝেছি’ শিরোনামে এক আত্মজৈবনিক বক্তৃতায় প্রবীণ এই চিন্তাবিদ রাষ্ট্র ও সমাজের গতিপ্রকৃতি নিয়ে নিজের এসব গভীর পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীকে জন্মদিনে ফুলেল শ্রদ্ধা। ছবি: খবরের কাগজ

অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, 'অনেক উন্নতি হয়েছে উপর কাঠামোতে, বস্তুগতভাবে, চেহারায়, দালানকোঠায়, রাস্তাঘাটে প্রচুর উন্নতি হয়েছে। কিন্তু ভেতরে?'

শৈশবের স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, "৪৩-এর দুর্ভিক্ষের সময়ে রাজশাহীতে আমার মা এক পরিত্যক্ত শিশুকে নিজের কাছে আশ্রয় দিয়েছিলেন, যাকে জঙ্গল থেকে কুড়িয়ে পাওয়া গিয়েছিল। মা তার নাম দিয়েছিলেন ‘কুরানি’। সে আমাদের সাথেই বড় হয়েছে। সেই শিশু তখন পরিত্যক্ত অবস্থায় থাকলেও, তার ওপর অন্য কোনো অত্যাচার হয় নাই।"

বর্তমান সময়ের নির্মমতার চিত্র টেনে তিনি ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, "আজকে বাংলাদেশে শিশুদের কী অবস্থা, তা আপনাদের সবারই জানা। আজকে শিশুরা কীভাবে ধর্ষিত হচ্ছে, কীভাবে ধর্ষণের পরে তাকে হত্যা করা হচ্ছে! ভেতরে ওই যে শিশু পরিত্যক্ত হয়েছিল ৪৩-এর দুর্ভিক্ষে, আজকে ২০২৬ সালে সেই শিশু ধর্ষিত হচ্ছে এবং তাকে ধর্ষণের পরে হত্যা করা হচ্ছে। এই ধারাবাহিকতাটা আমি লক্ষ্য করেছি।"

নিজের দীর্ঘ জীবনে ব্রিটিশ, পাকিস্তান ও বাংলাদেশ—এই তিনটি রাষ্ট্র দেখার অভিজ্ঞতা ব্যক্ত করে সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, আয়তন, নাম, পতাকা কিংবা শাসকের পরিচয়ে পার্থক্য থাকলেও চরিত্রগতভাবে এই তিন রাষ্ট্রের মধ্যে এক গভীর ও নির্মম সাদৃশ্য রয়েছে। তিনটি রাষ্ট্রই ছিল মূলত পিতৃতান্ত্রিক, পুঁজিবাদী এবং আমলাতান্ত্রিক।

রাষ্ট্র ও সমাজের পারস্পরিক সম্পর্ক তুলে ধরে তিনি বলেন, রাষ্ট্র ও সমাজ বিচ্ছিন্ন নয়, বরং রাষ্ট্র সবসময় সমাজের ওপর কর্তৃত্ব খাটায়। তার ভাষায়, "আমাদের সকলেরই অভিজ্ঞতা এই যে, রাষ্ট্র কি রকম পিতৃতান্ত্রিক এবং সমাজ অনেকটা মায়ের মতো। সমাজ আমাদেরকে আশ্রয় দেয়, লালন-পালন করে; কিন্তু কর্তৃত্ব থাকে ওই পিতৃতান্ত্রিক রাষ্ট্রের ওপর। রাষ্ট্র ভাঙলেও সমাজ কিন্তু রাষ্ট্রের তুলনায় অনেক বেশি দীর্ঘস্থায়ী হয়।"

অনুষ্ঠানে দেশের বিশিষ্ট নাগরিক, শিক্ষাবিদ ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বরা উপস্থিত ছিলেন। 

জয়ন্ত সাহা/এসএন

জাতীয়ভিত্তিক গ্রন্থপাঠ প্রতিযোগিতায় সেরা হলো বাতিঘর আদর্শ পাঠাগার

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬, ১২:৩৪ পিএম
জাতীয়ভিত্তিক গ্রন্থপাঠ প্রতিযোগিতায় সেরা হলো বাতিঘর আদর্শ পাঠাগার
সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। ছবি: খবরের কাগজ

জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্র আয়োজিত জাতীয়ভিত্তিক গ্রন্থপাঠ প্রতিযোগিতায় স্কুল পর্যায়ে দেশসেরা ১০ জনের মধ্যে নির্বাচিত হয়েছেন বাতিঘর আদর্শ পাঠাগারের সদস্য ও পাঠক ফাওজিয়াহ হক জিনাত।

সোমবার (২২ জুন) বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির সংগীত ও নৃত্যশালা মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে তার হাতে সনদ ও পুরস্কার তুলে দেন সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। 

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব কানিজ মওলা। এছাড়া মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন জাতীয়ভিত্তিক গ্রন্থপাঠ কার্যক্রমের বিচারকমণ্ডলীর সদস্য লেখক ও অধ্যাপক ড. কাজী মোস্তাক গাউসুল হক, কথাসাহিত্যিক শাহনাজ মুন্নী এবং লেখক ও সংগঠক সাবিদিন ইব্রাহিম। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের পরিচালক আফসানা বেগম।

অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন বেসরকারি গ্রন্থাগারের প্রতিনিধি, পাঠক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং সংস্কৃতি অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ৭২টি বেসরকারি গ্রন্থাগার থেকে মোট ৬৪৭ জন পাঠক-শিক্ষার্থী এ কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করেন। প্রাথমিক মূল্যায়নের ভিত্তিতে ১৪৫ জনকে চূড়ান্ত মূল্যায়নের জন্য নির্বাচিত করা হয়। নির্বাচিতদের নিয়ে ৮ থেকে ১০ জুন ২০২৬ পর্যন্ত তিন দিনব্যাপী জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্র মিলনায়তনে পাঠ-উত্তর মূল্যায়ন অনুষ্ঠিত হয়। এতে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের পাঠ-অনুভূতি মৌখিকভাবে গ্রহণ করা হয় এবং উপস্থাপনার ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা হয়।

স্কুল পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের পাঠ-পরবর্তী প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করার জন্য হুমায়ূন আহমেদ রচিত সায়েন্স ফিকশন গ্রন্থ তোমাদের জন্য ভালোবাসা নির্ধারণ করা হয়েছিল।

উল্লেখ্য, ‘এসো বই পড়ি, নিজেকে আলোকিত করি’ স্লোগানকে সামনে রেখে ২০১০ সালে টাঙ্গাইল সদর উপজেলার চৌরাকররা গ্রামে গড়ে ওঠে বাতিঘর আদর্শ পাঠাগার। প্রতিষ্ঠার পর থেকে পাঠাগারটি মানুষের মধ্যে পাঠাভ্যাস গড়ে তোলা এবং জ্ঞানভিত্তিক সমাজ বিনির্মাণে সেলুন, বাসস্ট্যান্ড ও স্টেশনে অণু-পাঠাগার স্থাপনসহ বিভিন্ন শিক্ষামূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছে। পাশাপাশি আর্তমানবতার সেবায় বিভিন্ন সামাজিক কার্যক্রমও পরিচালনা করে আসছে।

জুয়েল রানা/রিফাত/

বাংলা একাডেমিতে মানিক রফিক আজাদ ও চন্দ্রাবতীকে স্মরণ

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬, ০৯:১৩ এএম
আপডেট: ২৩ জুন ২০২৬, ০৯:১৬ এএম
বাংলা একাডেমিতে মানিক রফিক আজাদ ও চন্দ্রাবতীকে স্মরণ
ছবি: সংগৃীহত

বাংলা সাহিত্যের তিন নক্ষত্র–কথাসাহিত্যিক মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়, কবি রফিক আজাদ ও মধ্যযুগের কবি চন্দ্রাবতী। ভিন্ন ভিন্ন সময়ের এই তিন কালজয়ী সাহিত্যিককে শ্রদ্ধা আর বিশ্লেষণের আলোয় উদ্ভাসিত করতে বাংলা একাডেমি শুরু করেছে সেমিনার সিরিজ। গতকাল সোমবার বাংলা একাডেমির আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ মিলনায়তনে এই সিরিজের সূচনা পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। দিনব্যাপী আয়োজিত এই সেমিনারে সাহিত্যের নানা অনুষঙ্গ ও বিবর্তন নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি তিন সাহিত্যিকের সৃষ্টির মৌলিকতা নিয়ে আলোকপাত করেন বিশিষ্টজনরা।

মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপন্যাসে দাম্পত্যের জটিলতা
গতকাল (২২ জুন) বিকেল ৩টায় শুরু হওয়া প্রথম আলোচনায় ‘মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপন্যাসে দাম্পত্যজীবনের রূপায়ণ’ শীর্ষক প্রবন্ধ পাঠ করেন লেখক ও গবেষক ড. উৎপল তালুকদার। আলোচনায় অংশ নেন কথাসাহিত্যিক ইমতিয়ার শামীম। সভাপ্রধান ছিলেন প্রাবন্ধিক ও গবেষক অধ্যাপক ভীষ্মদেব চৌধুরী।

বক্তারা মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়কে বাংলা কথাসাহিত্যের ‘কিংবদন্তি’ হিসেবে অভিহিত করে বলেন, তার উপন্যাসে শ্রেণিগত প্রপঞ্চ ও দাম্পত্যজীবনের মনস্তাত্ত্বিক টানাপোড়েন যেভাবে উঠে এসেছে, তা আজও অতুলনীয়। বদ্ধ হাওয়ায় হাঁসফাঁস করা চরিত্রদের মুক্তি খোঁজার চিরন্তন আকুতি মানিকের লেখনীতে যেভাবে ফুটেছে, তা বাংলা সাহিত্যে এক অনন্য উচ্চতা।

রফিক আজাদের কবিতায় চৈতন্যের কোলাজ
গতকাল বিকেল সাড়ে ৪টায় দ্বিতীয় আয়োজনে ছিল ‘রফিক আজাদের কবিতা: চৈতন্যের কোলাজ’ শীর্ষক আলোচনা। এতে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন কবি ও সমালোচক চঞ্চল আশরাফ। আলোচনায় অংশ নেন কবি হিজল জোবায়ের। সভাপতিত্ব করেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম। বক্তারা বলেন, রফিক আজাদের কবিতা বাংলা কবিতার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। তিনি বিদ্রোহ ও প্রেমের রঙে কবিতার ক্যানভাস সাজিয়েছেন। যুদ্ধের পরিবর্তে শান্তি এবং পরিবেশ-প্রকৃতির সুরক্ষা তার কবিতায় বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। তার ভাষার আধুনিকতা ও শৈল্পিক নান্দনিকতা নতুন প্রজন্মের কবিদের জন্য আজও অনুপ্রেরণার উৎস।

চন্দ্রাবতীর গীতিকায় নারী-অস্তিত্বের শাঁস
সন্ধ্যা ৬টায় সিরিজের শেষ পর্বে আলোচিত হয় ‘চন্দ্রবতীর গীতিকায় রমনীয় স্বৈরিতা আর নারী-অস্তিত্বের শাঁস’। প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অধ্যাপক সুস্মিতা চক্রবর্তী। আলোচনায় অংশ নেন চলচ্চিত্র নির্মাতা এন. রাশেদ চৌধুরী। সভাপ্রধান ছিলেন গবেষক ও নির্মাতা ড. ইউসুফ হাসান অর্ক। বক্তারা বাংলা সাহিত্যের প্রথম নারী কবি চন্দ্রাবতীকে ‘পথিকৃৎ’ আখ্যা দিয়ে বলেন, বৈরী সমকাল উপেক্ষা করে তিনি নারীর বৈজয়ন্তী ঘোষণা করেছিলেন তার কালজয়ী সৃষ্টিতে। তার গীতিকায় মানবমঙ্গলের গান ও সুন্দর পৃথিবীর আকুতি ফুটে উঠেছে। চন্দ্রাবতীর সাহিত্যকৃতি নিয়ে আরও বিস্তৃত গবেষণার সুযোগ রয়েছে বলে মন্তব্য করেন আলোচকরা।

সুরে সুরে শেষ হলো বিশ্ব সংগীত দিবসের বর্ণিল আয়োজন

প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৬, ০৯:২৭ পিএম
সুরে সুরে শেষ হলো বিশ্ব সংগীত দিবসের বর্ণিল আয়োজন
ছবি: খবরের কাগজ

‘কণ্ঠ মেলাও সুর ও তানে, বিশ্ব জাগুক গানে গানে’- এই স্লোগানকে ধারণ করে রাজধানীজুড়ে উদযাপিত হলো বিশ্ব সংগীত দিবস। সুরের ঐকতানে মেতে উঠেছিলো বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি এবং কেন্দ্রীয় কচি-কাঁচার মেলা মিলনায়তন।

সোমবার (২২ জুন) শেষ হলো দুই দিনব্যাপী বর্ণিল আয়োজনের এই সংগীত উৎসব।

গত রবিবার থেকে থেকে শুরু হওয়া এই উৎসব ঘিরে শিল্পকলা একাডেমি ও বাংলাদেশ সংগীত সংগঠন সমন্বয় পরিষদের আয়োজনে গত দুদিন রাজধানীর সাংস্কৃতিক অঙ্গন ছিলো মুখরিত। আলোচনা সভা, বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা এবং দেশের জনপ্রিয় ও গুণী শিল্পীদের সংগীত পরিবেশনায় উঠে এসেছে সংগীতের অসীম শক্তির কথা।

সোমবার সন্ধ্যায় শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে আয়োজিত সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক ও শিল্প মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা মো. রুহুল কবির রিজভী।

সংগীতের শক্তির কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘সংগীতের মধ্যে যে বিপুল শক্তি নিহিত রয়েছে, তা যুগে যুগে বিভিন্ন দেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম, গণতন্ত্রের সংগ্রাম ও অধিকারের সংগ্রামে বিস্ফোরিত হয়েছে। আমাদের বাহান্নর ভাষা আন্দোলন, উনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থান, স্বাধীনতা যুদ্ধ থেকে শুরু করে নব্বই ও চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান- প্রতিটি ক্ষেত্রেই সংগীতের তুমুল শক্তির বিস্ফোরণ আমরা দেখেছি।’

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্যে শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক ও কবি শেখ রেজাউদ্দিন আহমেদ (রেজাউদ্দিন স্টালিন) বলেন, ‘আমরা সংস্কৃতিকে একটি সৃজনশীল অর্থনীতির মধ্যে নিয়ে আসতে চাই।’

সমাপনী সন্ধ্যায় একাডেমির শিল্পীদের নজরুলের গানের সমবেত পরিবেশনা ছাড়াও অংশ নেন, সুকণ্যা মজুমদার, তানভীর আলম সজীব, পিন্টু ঘোষসহ একঝাঁক শিল্পী। হাসান রাজা লোক সাহিত্য পরিষদ ও বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর শিল্পীদের পরিবেশনা দর্শকদের মুগ্ধ করে। সর্বশেষ ব্যান্ড সংগীতের মূর্ছনায় উৎসবের ইতি টানে এসেইস, সর্বনাম ও জাসাস। 

সোমবার বিকেল ৪টায় কিশলয় কচি-কাঁচার মেলার শিল্পীদের দলীয় নৃত্যের মধ্য দিয়ে শুরু হয় উৎসব। এরপর আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন, সংগঠনের সভাপতি ও একুশে পদকপ্রাপ্ত গণসংগীত শিল্পী মাহমুদ সেলিম।

এ পর্বে বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ সঙ্গীত সংগঠন সমন্বয় পরিষদের সাধারণ সম্পাদক নারায়ণ চন্দ্র শীল। প্রধান অতিথি ছিলেন, লোকসংগীত শিল্পী আকরামুল ইসলাম।

পরে দলীয় পরিবেশনা নিয়ে মঞ্চে ওঠেন বাঁশুরিয়া লোকসংগীত গবেষণা ও চর্চা কেন্দ্র, সুর নন্দন, মহীরুহ, সপ্তরেখা শিল্পীগোষ্ঠী ও লোকাঙ্গন সাংস্কৃতিক সংগঠনের শিল্পীরা। এ ছাড়াও, একক সংগীত পরিবেশন করেন দেশের বরেণ্য শিল্পীরা।

জয়ন্ত সাহা/নাঈম