দেশের প্রতিটি উপজেলায় এক বা একাধিক পুষ্টিবিদের সরকারি পদ সৃষ্টির লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্রেস্টফিডিং ফাউন্ডেশনের (বিবিএফ) চেয়ারপারসন ও সিনিয়র সায়েন্টিস্ট অধ্যাপক ডা. স্বপন কুমার রায়। তিনি বলেন, এ বিষয়ে সরকারের কাছে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে এবং সরকার ইতোমধ্যে ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে। একই সঙ্গে জেলা পর্যায়েও পুষ্টিবিদদের জন্য সরকারি পদ সৃষ্টির নীতিগত সম্মতি রয়েছে।
গত শুক্রবার ( ২৭ জুন) রাজধানীর শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) টিএসসি অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত দুই দিনব্যাপী ‘নিউট্রি ক্যারিয়ার ফেস্ট ২০২৬’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন তিনি। পুষ্টিবিদ ফাউন্ডেশন, শেকৃবি নিউট্রিশন ক্লাব ও দ্য নিউট্রিফিকেশনের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এ উৎসবের লক্ষ্য পুষ্টিবিজ্ঞান ও পুষ্টি পেশার বহুমুখী ক্যারিয়ার সম্ভাবনা শিক্ষার্থীদের সামনে তুলে ধরা। অনুষ্ঠানের মিডিয়া পার্টনার ছিল খবরের কাগজ।
অধ্যাপক এস কে রায় বলেন, পুষ্টিবিদদের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনেক শিক্ষার্থীর মধ্যে অনিশ্চয়তা কাজ করে। পড়াশোনা শেষে কোথায় কর্মসংস্থানের সুযোগ পাবেন, তা নিয়ে তাদের উদ্বেগ থাকে। অথচ আশির দশকে আমাদের দেশে এক থেকে পাঁচ বছর বয়সী শিশুদের উচ্চতা দেখেই অপুষ্টির চিত্র স্পষ্ট বোঝা যেত। সেই কঠিন সময় আমরা অনেকটাই অতিক্রম করেছি। তবে এখন অপুষ্টির পাশাপাশি নতুন করে স্থূলতা (ওবেসিটি) একটি বড় জনস্বাস্থ্য সমস্যা হিসেবে দেখা দিয়েছে। এ বাস্তবতায় পুষ্টিবিদদের চাহিদাও বাড়ছে।
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ইনস্টিটিউট অব পাবলিক হেলথ নিউট্রিশনের (আইপিএইচএন) উপপরিচালক (জনস্বাস্থ্য পুষ্টি) ডা. রওশন জাহান আক্তার আলো বলেন, ডাক্তার চিকিৎসা করেন, ইঞ্জিনিয়ার অবকাঠামো তৈরি করেন আর পুষ্টিবিদ একটি সুস্থ-সবল জাতি গড়ে তোলেন। দেশের তরুণরা পুষ্টিবিজ্ঞানকে পেশা হিসেবে বেছে নিচ্ছে, এটি অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক। তিনি জানান, প্রতিটি হাসপাতালে পুষ্টিবিদ নিয়োগের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। জেলা পর্যায়ে একজন করে পুষ্টি কর্মকর্তা নিয়োগের প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে অগ্রসর হয়েছে। পাশাপাশি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে এক বা একাধিক পুষ্টিবিদের পদও সৃষ্টি করা হয়েছে এবং শিগগিরই নিয়োগ কার্যক্রম শুরু হতে পারে।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশ ব্রেস্টফিডিং ফাউন্ডেশনের পরিচালক ও পুষ্টিবিদ খুরশীদ জাহান, শেকৃবি নিউট্রিশন ক্লাবের সভাপতি শাহরিয়া সিফাত প্রমুখ। দুই দিনব্যাপী এ উৎসবে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের পুষ্টিবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী, পুষ্টিবিদ, গবেষক, চিকিৎসক, করপোরেট প্রতিনিধি ও উন্নয়নকর্মীরা অংশ নেন।