ঢাকা ১৪ আষাঢ় ১৪৩৩, রোববার, ২৮ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
বুদ্ধিমান প্রজাপতি ও দুষ্টু ফড়িং নির্যাতিত নেতাকর্মীদের পুনর্বাসনে বাজেটে বরাদ্দ চাইলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ষষ্ঠ শ্রেণিতে চালুর উদ্যোগ ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’নামে নতুন বই জনবল নেবে মধুমতি ব্যাংক, আবেদন করুন অনলাইনে বিশ্বকাপ ফুটবলের সোনার কাপের  ইতিহাস রাঙামাটির ছোটহরিনা সীমান্তে পাচারের সময় ৭১ বস্তা সার জব্দ ঈশ্বরদীতে ৩০৮৯৪ শিশু  পাবে ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাপসুল সংসদে ৫০০ ও ১০০০ টাকার নোট বাতিলের প্রস্তাব হিলিতে ভিটামিন এ প্লাস ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন ধামরাইয়ে দুই প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বেহাল দশা, বিপাকে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা সিলেট সীমান্ত থেকে ডেটোনেটর, এক্সপ্লোসিভ ও ওয়ান শুটার জব্দ চকরিয়ায় মাইক্রোবাস-মোটরসাইকেল সংঘর্ষে ২ যুবক নিহত ব্যবস্থাপনার ধারণা অধ্যায়ের ১০টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর, ২য় পর্ব, এইচএসসির ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ২য় পত্র প্রিমিয়ার ব্যাংকের ‘সাব-ব্রাঞ্চ বিজনেস পারফরম্যান্স রিভিউ মিটিং-২০২৬’ অনুষ্ঠিত পাবনায় অস্ত্র ও কার্তুজসহ যুবক গ্রেপ্তার অবসর সুবিধার অপেক্ষায় ৬৭ হাজার আবেদন: শিক্ষামন্ত্রী আগাম প্রস্তুতি ও সমন্বিত পদক্ষেপ কাম্য মাগুরায় জাতীয় ভিটামিন এ প্লাস ক্যাম্পেইন উদ্বোধন রাজশাহীতে বিএমডির অরক্ষিত কূপে এবার মহিষের মৃত্যু জাপানের মুখোমুখি হতে হিউস্টনে ব্রাজিল দল টয়লেটের সামনে খাবার তৈরি, তেঁতুলিয়ার শাপলা হোটেলকে জরিমানা ভাইরালের নেশায় নারী বাইক আরোহীদের ধাক্কা, ইউটিউবার গ্রেপ্তার মোহনপুরে ইটের আঘাতে ব্যবসায়ী নিহত ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটিতে সামার ট্রাইমিস্টার ২০২৬-এর নবীনবরণ অনুষ্ঠিত নাটোরে পুকুর থেকে রিকশাচালকের মরদেহ উদ্ধার বাঁচা-মরার লড়াইয়ের আগে ব্রুসের হুংকার লুকা মদ্রিচের নতুন বিশ্বরেকর্ড চট্টগ্রামে কলেজ শিক্ষার্থী সাজিদ হত্যা মামলার আসামি গ্রেপ্তার দ্বিতীয়বারের মতো অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে 'বার্জার অ্যাওয়ার্ড ফর ইন্টেরিয়র ডিজাইন বিএআইডি ২০২৫ ফটিকছড়ি পার্টনার কংগ্রেস ২০২৬ অনুষ্ঠিত

প্রতি উপজেলায় পুষ্টিবিদের পদ সৃষ্টির প্রস্তাব বিবিএফ চেয়ারপারসনের

প্রকাশ: ২৮ জুন ২০২৬, ০৯:০৫ এএম
আপডেট: ২৮ জুন ২০২৬, ০৯:০৬ এএম
প্রতি উপজেলায় পুষ্টিবিদের পদ সৃষ্টির প্রস্তাব বিবিএফ চেয়ারপারসনের
ছবি: খবরের কাগজ

দেশের প্রতিটি উপজেলায় এক বা একাধিক পুষ্টিবিদের সরকারি পদ সৃষ্টির লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্রেস্টফিডিং ফাউন্ডেশনের (বিবিএফ) চেয়ারপারসন ও সিনিয়র সায়েন্টিস্ট অধ্যাপক ডা. স্বপন কুমার রায়। তিনি বলেন, এ বিষয়ে সরকারের কাছে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে এবং সরকার ইতোমধ্যে ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে। একই সঙ্গে জেলা পর্যায়েও পুষ্টিবিদদের জন্য সরকারি পদ সৃষ্টির নীতিগত সম্মতি রয়েছে। 

গত শুক্রবার ( ২৭ জুন) রাজধানীর শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) টিএসসি অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত দুই দিনব্যাপী ‘নিউট্রি ক্যারিয়ার ফেস্ট ২০২৬’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন তিনি। পুষ্টিবিদ ফাউন্ডেশন, শেকৃবি নিউট্রিশন ক্লাব ও দ্য নিউট্রিফিকেশনের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এ উৎসবের লক্ষ্য পুষ্টিবিজ্ঞান ও পুষ্টি পেশার বহুমুখী ক্যারিয়ার সম্ভাবনা শিক্ষার্থীদের সামনে তুলে ধরা। অনুষ্ঠানের মিডিয়া পার্টনার ছিল খবরের কাগজ।

অধ্যাপক এস কে রায় বলেন, পুষ্টিবিদদের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনেক শিক্ষার্থীর মধ্যে অনিশ্চয়তা কাজ করে। পড়াশোনা শেষে কোথায় কর্মসংস্থানের সুযোগ পাবেন, তা নিয়ে তাদের উদ্বেগ থাকে। অথচ আশির দশকে আমাদের দেশে এক থেকে পাঁচ বছর বয়সী শিশুদের উচ্চতা দেখেই অপুষ্টির চিত্র স্পষ্ট বোঝা যেত। সেই কঠিন সময় আমরা অনেকটাই অতিক্রম করেছি। তবে এখন অপুষ্টির পাশাপাশি নতুন করে স্থূলতা (ওবেসিটি) একটি বড় জনস্বাস্থ্য সমস্যা হিসেবে দেখা দিয়েছে। এ বাস্তবতায় পুষ্টিবিদদের চাহিদাও বাড়ছে।

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ইনস্টিটিউট অব পাবলিক হেলথ নিউট্রিশনের (আইপিএইচএন) উপপরিচালক (জনস্বাস্থ্য পুষ্টি) ডা. রওশন জাহান আক্তার আলো বলেন, ডাক্তার চিকিৎসা করেন, ইঞ্জিনিয়ার অবকাঠামো তৈরি করেন আর পুষ্টিবিদ একটি সুস্থ-সবল জাতি গড়ে তোলেন। দেশের তরুণরা পুষ্টিবিজ্ঞানকে পেশা হিসেবে বেছে নিচ্ছে, এটি অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক। তিনি জানান, প্রতিটি হাসপাতালে পুষ্টিবিদ নিয়োগের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। জেলা পর্যায়ে একজন করে পুষ্টি কর্মকর্তা নিয়োগের প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে অগ্রসর হয়েছে। পাশাপাশি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে এক বা একাধিক পুষ্টিবিদের পদও সৃষ্টি করা হয়েছে এবং শিগগিরই নিয়োগ কার্যক্রম শুরু হতে পারে। 

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশ ব্রেস্টফিডিং ফাউন্ডেশনের পরিচালক ও পুষ্টিবিদ খুরশীদ জাহান, শেকৃবি নিউট্রিশন ক্লাবের সভাপতি শাহরিয়া সিফাত প্রমুখ। দুই দিনব্যাপী এ উৎসবে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের পুষ্টিবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী, পুষ্টিবিদ, গবেষক, চিকিৎসক, করপোরেট প্রতিনিধি ও উন্নয়নকর্মীরা অংশ নেন।

ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটিতে সামার ট্রাইমিস্টার ২০২৬-এর নবীনবরণ অনুষ্ঠিত

প্রকাশ: ২৮ জুন ২০২৬, ১১:২৫ এএম
ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটিতে সামার ট্রাইমিস্টার ২০২৬-এর নবীনবরণ অনুষ্ঠিত
ছবি: বিজ্ঞপ্তি

ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটির সামার ট্রাইমিস্টার ২০২৬-এর নবীনবরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার (২৭ জুন) আশুলিয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব ক্যাম্পাসে এই অনুষ্ঠান আয়োজিত হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. ফরিদ আহমদ সোবহানী।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট চিন্তাবিদ প্রফেসর ড. সলিমুল্লাহ খান, ইতিহাস ও দর্শন বিভাগ, নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি। বিশেষ অতিথি ছিলেন ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটির বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার সাফায়েত মোহাম্মদ রাজু।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রফেসর ড. সলিমুল্লাহ খান বলেন, ‘‘উচ্চশিক্ষায় মাতৃভাষা বাংলার ব্যবহার বর্তমানে অত্যন্ত সীমিত; অথচ শিক্ষার গুণগত উন্নয়ন এবং কার্যকর জ্ঞানার্জনের জন্য মাতৃভাষার ব্যবহার অপরিহার্য।’’

তিনি আরও বলেন, ‘দেশের প্রয়োজন অনুযায়ী শিল্পায়ন না হওয়ায় কাঙ্ক্ষিত কর্মসংস্থান সৃষ্টি হচ্ছে না, ফলে বেকারত্বের সমস্যাও রয়ে যাচ্ছে।’

তিনি প্রাকৃতিক পরিবেশে গড়ে ওঠা ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটি ক্যাম্পাসের সঙ্গে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শান্তিনিকেতনের তুলনা করেন। এছাড়া তিনি নবীন শিক্ষার্থীদের জ্ঞানচর্চা, মানবিক মূল্যবোধের বিকাশ এবং আলোকিত জীবন গঠনে আত্মনিয়োগ করার আহ্বান জানান। 

সভাপতির বক্তব্যে উপাচার্য প্রফেসর ড. ফরিদ আহমদ সোবহানী শিক্ষার্থীদের নৈতিক মূল্যবোধে উজ্জীবিত হয়ে দেশ ও সমাজের কল্যাণে সুনাগরিক হিসেবে নিজেদের গড়ে তোলার আহ্বান জানান। তিনি শিক্ষার্থীদের এ মর্মে শপথ করান যে, তারা কোনো অবস্থাতেই তাদের পিতা-মাতাকে বৃদ্ধাশ্রমে পাঠাবে না। তিনি বলেন, ‘পিতা-মাতার সন্তুষ্টিই একজন সন্তানের জীবনে সফলতার অন্যতম প্রধান চাবিকাঠি।’

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ব্যারিস্টার সাফায়েত মোহাম্মদ রাজু নবীন শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত উপভোগ করার পাশাপাশি পড়াশোনা এবং দক্ষতা উন্নয়নে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় জীবনই একজন শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ গঠনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সময়, তাই এ সময়কে যথাযথভাবে কাজে লাগাতে হবে।’

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার প্রফেসর মো. শামসুল হুদা, রেজিস্ট্রার ড. আবুল বাশার খান এবং বিভিন্ন অনুষদের ডিনবৃন্দ। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠানের আয়োজক কমিটির কনভেনর ও ইংরেজি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান মোহাম্মদ রফিউসসান। এ সময় বিভিন্ন বিভাগের প্রধান, শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী, অভিভাবক এবং নবীন শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে নবীন শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রম, শিক্ষার্থী সহায়তা সেবা, বিভিন্ন ক্লাবের কার্যক্রম এবং ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠান শেষে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক পরিবেশনা অনুষ্ঠিত হয়।

জাবি সিনেটে বঙ্গবন্ধুর নামে হল পুনঃনামকরণের দাবিতে উত্তেজনা

প্রকাশ: ২৮ জুন ২০২৬, ১০:৫৭ এএম
আপডেট: ২৮ জুন ২০২৬, ১১:৩৭ এএম
জাবি সিনেটে বঙ্গবন্ধুর নামে হল পুনঃনামকরণের দাবিতে উত্তেজনা
অধ্যাপক ড. শামীম কায়সার। ছবি: খবরের কাগজ

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) ৪৩তম বার্ষিক সিনেট অধিবেশনে শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক আবাসিক হলের নাম পরিবর্তন করে পুনরায় ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল’ নাম পুনর্বহালের দাবি ওঠাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।

শনিবার (২৭ জুন) অনুষ্ঠিত সিনেট অধিবেশনে সিনেট সদস্য ও আইআইটির অধ্যাপক ড. শামীম কায়সার বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের ইতিহাসের অবিচ্ছেদ্য অংশ। বাংলাদেশের সংবিধানেও তার ঐতিহাসিক অবদান স্বীকৃত এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও তার অবদানের স্বীকৃতি রয়েছে।

তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান উভয়েই স্বাধীনতা পদকে ভূষিত হয়েছিলেন।

তিনি আরও বলেন, ‘সার্বিক বিবেচনায় এই নামটি পুনর্বহাল করা যায় কিনা, সেই বিষয়টি বিবেচনা করবেন। আমি সবাইকে অনুরোধ করব, বিষয়টি কোনোভাবেই রাজনৈতিকভাবে দেখবেন না। আমি রাজনৈতিক বিষয় থেকে কথা বলছি না।’

তার এই বক্তব্যের পর অধিবেশন কক্ষে উপস্থিত কয়েকজন সদস্য আপত্তি জানান। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হলে কিছু সময়ের জন্য উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।

এ সময় শিক্ষার্থী প্রতিনিধি আহসান লাবিব স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে শেখ মুজিবুর রহমানের নানা অপকর্মের উদাহরণ দিয়ে পুনরায় হলের নামকরণ পুনর্বহালের বিরোধিতা করেছেন। পরে সভার সভাপতি পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন এবং অ্যাজেন্ডায় অগ্রসর হন।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি।

আমানউল্লাহ/থিওটোনিয়াস

জাহানারা ইমামকে ‘জাহান্নামের ইমাম’ বললেন রাকসুর সংস্কৃতি সম্পাদক

প্রকাশ: ২৭ জুন ২০২৬, ০৩:৪৩ পিএম
আপডেট: ২৭ জুন ২০২৬, ০৫:০৪ পিএম
জাহানারা ইমামকে ‘জাহান্নামের ইমাম’ বললেন রাকসুর সংস্কৃতি সম্পাদক
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক জায়িদ হাসান জোহা। ছবি: খবরের কাগজ

বাংলাদেশে ‘শহিদ জননী’ হিসেবে সম্মানিত জাহানারা ইমামের মৃত্যুবার্ষিকীকে ‘জাহান্নামের ইমামের মরণদিবস’ হিসেবে মন্তব্য করেছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক জায়িদ হাসান জোহা।

শনিবার (২৭ জুন) নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একটি পোস্ট শেয়ার করে এই মন্তব্য করেন তিনি।

ফেসবুক পোস্টের ক্যাপশনে জোহা লেখেন, ‘জাহান্নামের ইমামের মরণদিবস আজ। রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতে বাস্তবায়ন করেছিল বিদেশি নকশা।’

পোস্টটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তা নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়েছে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ফেসবুক গ্রুপ ও ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্ট থেকে অনেকে এর সমালোচনা করেন।

জোহার পোস্টের সমালোচনা করে শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল কাফী এক পোস্টে লেখেন, ‘রাকসুর অপসংস্কৃতি সম্পাদক জোহা শহীদ জননী জাহানারা ইমামকে ‘জাহান্নামের ইমাম' বলে ফতোয়া দিয়েছে। কারণ জাহানারা ইমামই প্রথম ওদের জাতির পিতা রাজাকারকূলের শিরোমণি গোলাম আজমকে গণ আদালতে ফাঁসি দিয়েছিলো। এটাই আমাদের গত ৫৫ বছরের রাজনৈতিক খেসারত যে জোহার মতো যুদ্ধাপরাধীর উত্তরসূরিরা দেশের ২য় বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রপ্রতিনিধি নির্বাচিত হয়, শহীদের মাকে নিয়ে বাজে কথা বলার সাহস পায়।’

পপুলেশন ও সায়েন্স ও হিউম্যান রিসোর্স ডেভেলপমেন্ট বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী আমানউল্লাহ খান আমান সমালোচনা করে লিখেছেন, ‘রাবিতে যারা ছাত্ররাজনীতি করে তারা খুবই আনস্মার্ট। ক্যাম্পাসে এতক্ষণ প্রতিবাদমুখর হওয়া উচিত ছিল। রাকসুর অপসংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদকের পদ বাতিলের দাবিতে রাকসুর সভাপতিকে ৪৮ ঘন্টার আল্টিমেটাম দেওয়া উচিত। তারা বাংলাদেশে থেকে এদেশের ইতিহাস কটাক্ষ করবে এটা মেনে নেওয়া যায় না।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে জায়িদ হাসান জোহা বলেন, ‘‘বিগত সময়ে তথাকথিত ‘যুদ্ধাপরাধীর’ নামে যেই হত্যাকাণ্ড হয়েছিল সেই গ্রাউন্ডটা জাহানারা ইমামের হাত ধরে তৈরি হয়েছিল। বাংলাদেশে মব কালচারের গোড়াপত্তনকারী জাহানারা ইমামকে জাহান্নামের ইমাম বলেছি। আমি কোনো শহিদের মা'কে নিয়ে বাজে মন্তব্য করিনি। তবে এখানে কোনোভাবে মুক্তিযুদ্ধ কিংবা মুক্তিযোদ্ধাদের হেয় করা হয়নি।‘শহিদের মা’ পরিচয় কারো ‘খুনী’ পরিচয় মুছে দিতে পারে না।’’

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশের একজন প্রখ্যাত লেখিকা, শিক্ষাবিদ ও রাজনৈতিক কর্মী। বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় তার বড় ছেলে শাফী ইমাম রুমি দেশের স্বাধীনতার জন্য যুদ্ধ করতে গিয়ে শহীদ হন। মুক্তিযুদ্ধে তার পরিবারের এই অসামান্য আত্মত্যাগের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি বাংলাদেশে ‘শহীদ জননী’ হিসেবে পরিচিত ও সম্মানিত।

১৯৯২ সালে স্বাধীনতাবিরোধী ও যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিচারের দাবিতে গড়ে ওঠা আন্দোলনে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তার নেতৃত্বে গঠিত হয় ‘একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি’, যা দেশজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে। তার রচিত ‘একাত্তরের দিনগুলি’ গ্রন্থটি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক সাহিত্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দলিল হিসেবে বিবেচিত হয়।

শাকিবুল হাসান/আজহার/

জাবিতে সিনেট অধিবেশনের ৩ ঘণ্টা আগে নতুন দুই শিক্ষার্থী-প্রতিনিধি মনোনয়ন

প্রকাশ: ২৭ জুন ২০২৬, ০২:১৭ পিএম
আপডেট: ২৭ জুন ২০২৬, ০২:৪৫ পিএম
জাবিতে সিনেট অধিবেশনের ৩ ঘণ্টা আগে নতুন দুই শিক্ষার্থী-প্রতিনিধি মনোনয়ন
জাকসুর সমাজসেবা সম্পাদক আহসান লাবিব ও কার্যনির্বাহী সদস্য আবু তালহা। ছবি: খবরের কাগজ

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) ৪৩তম সিনেট অধিবেশন শুরুর প্রায় তিন ঘণ্টা আগে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জাকসু) থেকে নতুন দুই শিক্ষার্থী-প্রতিনিধিকে সিনেট সদস্য হিসেবে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। নতুন মনোনীত দুজন হলেন জাকসুর সমাজসেবা সম্পাদক আহসান লাবিব ও কার্যনির্বাহী সদস্য আবু তালহা।

এর আগে জাকসু মনোনীত সহসভাপতি (ভিপি) ও সাধারণ সম্পাদক (জিএস)-এর ছাত্রত্ব শেষ হওয়ায় তাদের সদস্যপদ নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়। বিষয়টি নিয়ে গত কয়েক দিন ধরে নতুন প্রতিনিধি মনোনয়ন দেওয়া হবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা ছিল।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, আইনি কোনো বাধা না থাকায় এবং শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে নতুন প্রতিনিধি মনোনয়নের দাবি ওঠার পর সিনেট অধিবেশন শুরুর মাত্র তিন ঘণ্টা আগে জাকসুর পক্ষ থেকে নতুন দুই প্রতিনিধির নাম চূড়ান্ত করা হয়।

নতুন মনোনয়নের বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. কামরুল আহসান বলেন, 'দুটি পদ শূন্য হওয়ায় জাকসুর সঙ্গে বৈঠক করে নতুন দুইজনকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।'

আমানউল্লাহ খান/আজহার/ 

৩৩ বছর পর জাকসু, ভিপি-জিএস ছাড়াই জাবির সিনেট অধিবেশন আজ

প্রকাশ: ২৭ জুন ২০২৬, ১১:২০ এএম
আপডেট: ২৭ জুন ২০২৬, ১১:৪২ এএম
৩৩ বছর পর জাকসু,  ভিপি-জিএস ছাড়াই  জাবির সিনেট অধিবেশন আজ
ছবি: সংগৃহীত

৩৩ বছর পর নির্বাচিত জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জাকসু) থাকলেও পূর্ণাঙ্গ শিক্ষার্থী প্রতিনিধিত্ব ছাড়াই শনিবার (২৭ জুন) অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৩তম সিনেট অধিবেশন। জাকসু মনোনীত পাঁচ শিক্ষার্থী প্রতিনিধির মধ্যে সহসভাপতি (ভিপি) ও সাধারণ সম্পাদক (জিএস)-এর ছাত্রত্ব শেষ হওয়ায় তারা আর সিনেট সদস্য হিসেবে থাকছেন না। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী পর্ষদ সিনেটে আনুষ্ঠানিকভাবে শূন্য পদের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৬টিতে।

তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষক ও সিনেটসংশ্লিষ্ট ব্যক্তির দাবি, কাগজে-কলমে শূন্য পদের সংখ্যা ১৬ হলেও কার্যত অকার্যকর সদস্যের সংখ্যা ৫০-এরও বেশি।

তাদের ভাষ্য, ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিগত সরকারের সময়ে দায়িত্বে থাকা এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার অভিযোগে অভিযুক্ত, প্রশাসনিক শাস্তির মুখে পড়া বা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম থেকে বিচ্ছিন্ন অনেকেই এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে সিনেট সদস্য হিসেবে তালিকাভুক্ত রয়েছেন। তাদের কেউ দীর্ঘদিন ধরে সিনেটের কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছেন না, কেউ বিশ্ববিদ্যালয়ে আসছেন না, আবার কেউ দেশের বাইরে অবস্থান করছেন। ফলে কার্যকর সদস্যসংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে বলে দাবি তাদের।

এ অবস্থায় নির্ধারিত সময়ে সিনেটের কোরাম পূরণ হবে কি না, তা নিয়েও সংশ্লিষ্টদের মধ্যে সংশয় রয়েছে। গত বছরের ৪২তম সিনেট অধিবেশনেও কোরাম পূরণে নির্ধারিত সময়ের প্রায় এক ঘণ্টা অতিবাহিত হয়েছিল। একই অধিবেশনে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের মুখে কয়েকজন শিক্ষক সভাস্থল ত্যাগ করেন। এরপর থেকে সিনেটের তালিকাভুক্ত কয়েকজন সদস্য কোনো অধিবেশনেই অংশ নেননি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, সিনেটের মোট সদস্যসংখ্যা ৯৪। এর মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব, প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব, অর্থ মন্ত্রণালয়ের একজন অতিরিক্ত সচিব, স্পিকার কর্তৃক মনোনীত পাঁচজন সংসদ সদস্য, চারজন কলেজ অধ্যক্ষ এবং দুইজন রেজিস্টার্ড গ্র্যাজুয়েট প্রতিনিধির পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে। সম্প্রতি জাকসু মনোনীত ভিপি ও জিএসের ছাত্রত্ব শেষ হওয়ায় শূন্য পদের সংখ্যা বেড়ে ১৬টিতে পৌঁছেছে।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ১৯৭৩-এর ১৯(২) ধারা অনুযায়ী, শিক্ষার্থী সদস্যদের মেয়াদ এক বছর। একই ধারার দ্বিতীয় শর্তে বলা হয়েছে, কোনো শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রত্ব হারালে তিনি সিনেট সদস্যপদও হারাবেন।

জাকসুর সাধারণ সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম বলেন, 'গত বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত জাকসুর কার্যনির্বাহী সভায় জাকসুর সভাপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. কামরুল আহসান আমাদের জানিয়েছেন, ছাত্রত্ব শেষ হওয়ায় আমরা দুজন আর সিনেট সদস্য থাকছি না। এরপর আমরা জাকসুর পক্ষ থেকে নতুন দুজন শিক্ষার্থী প্রতিনিধিকে মনোনয়নের দাবি জানাই। কিন্তু উপাচার্য আইনের ব্যাখ্যা দিয়ে জানান, নতুন করে মনোনয়নের সুযোগ নেই। আমরা মনে করি, সুযোগ থাকা সত্ত্বেও এ ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিত্ব থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে।'

ছাত্রত্ব শেষ হওয়া দুই প্রতিনিধির জায়গায় জাকসু নতুন করে কাউকে মনোনয়ন দিতে পারবে কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে উপাচার্য বলেন, 'চলে গেল মানে চলে গেল।'

তবে সিনেটের শূন্য পদগুলোতে নির্বাচন বা মনোনয়ন প্রক্রিয়া কবে শুরু হবে, সে বিষয়ে একাধিকবার জানতে চাওয়া হলেও উপাচার্য কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা উল্লেখ করেননি। তিনি শুধু বলেন, দ্রুত প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষক মনে করছেন, দীর্ঘদিন ধরে সিনেটের গুরুত্বপূর্ণ পদগুলো শূন্য থাকা এবং কার্যত অকার্যকর সদস্যসংখ্যা বাড়তে থাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী পর্ষদে অংশীজনের পূর্ণাঙ্গ প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত হচ্ছে না। তাদের মতে, গণতান্ত্রিক প্রতিনিধিত্ব ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে দ্রুত শূন্য পদগুলো পূরণ এবং কার্যকর প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

আমানউল্লাহ খান/আজহার/