ঢাকা ১৪ আষাঢ় ১৪৩৩, রোববার, ২৮ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
জিতলেই ইতিহাস অভাবের চাদরে মোড়ানো এক জীবনযাপনের গল্প পাকিস্তানে সেনাঘাঁটিতে হামলা, চার সেনাসহ নিহত ১০ পরীক্ষায় নকল করতে এআই চশমা বিশ্বকাপে আরেকটি ইতিহাস মেসির মেসি মাঠে নামার আগেই গোল হজম করল আর্জেন্টিনা আনোয়ারায় বাবার মরদেহ দাফন করতে গিয়ে হামলার শিকার ভাই-বোন মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটিগুলো ইসরায়েলে সরছে বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের সর্বোচ্চ গোলদাতা হ্যারি কেইন ব্যাংক থেকে টাকা তোলা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত: মিলন চুক্তি স্বাক্ষরের একদিন পরই লেবাননে ইসরায়েলের হামলা বই-ই তার বিশ্ববিদ্যালয় সিলেটে  কৃষক ও নারী উদ্যেক্তাদের নিয়ে  আর্থিক সাক্ষরতা কর্মশালা অনুষ্ঠিত ইংল্যান্ডের নকআউট প্রতিপক্ষ ডিআর কঙ্গো প্রতি উপজেলায় পুষ্টিবিদের পদ সৃষ্টির প্রস্তাব বিবিএফ চেয়ারপারসনের সম্পর্কের পরীক্ষায় ঢাকা-বেইজিং পার্সি টাউয়ের আলো ছড়ানো অভিযান মেসি বনাম রোনালদো লড়াইয়ের শেষ সমীকরণ মেসিবিহীন আর্জেন্টিনার জর্ডানের বিপক্ষে প্রথমার্ধেই দুই গোলের লিড কারাকাস বারবার কেন আক্রান্ত হয় ড্র করে গ্রুপ রানার্সআপ পর্তুগাল, শেষ বত্রিশে প্রতিপক্ষ ক্রোয়েশিয়া হরিরামপুরে সহিংসতার ঘটনায় ঘুরেফিরে এক নাম ময়লার স্তূপে ঢাকছে চট্টগ্রাম নগরীর সড়ক রেশমের শহরে বিদেশি কাপড়ের দাপট জামালপুর-১ আসনের সাবেক এমপি নূর মোহাম্মদ গ্রেপ্তার ভারতের ভ্রমণ ভিসার আবেদন আজ থেকে লোকোশেড থেকে আরএনবি পর্যন্ত অরাজকতা কালিমাখচিত পতাকা মিছিল আর্জেন্টিনা-জর্ডান ম্যাচের আগে ১ মিনিট নীরবতা কেন? ২৮ জুন: তুলা, বৃশ্চিক, ধনু, মকর, কুম্ভ ও মীনের আজকের রাশিফল

রেলওয়ের দুর্নীতি ও অনিয়মের মহোৎসব: ঢাকা-পাহাড়তলী লোকোশেড থেকে আরএনবি পর্যন্ত অরাজকতা

প্রকাশ: ২৮ জুন ২০২৬, ০৮:৩৫ এএম
আপডেট: ২৮ জুন ২০২৬, ০৮:৪৪ এএম
লোকোশেড থেকে আরএনবি পর্যন্ত অরাজকতা
ছবি: সংগৃহীত

রেলওয়ের যান্ত্রিক বিভাগ থেকে শুরু করে নিরাপত্তা বাহিনী–সর্বত্রই যেন অনিয়ম ও দুর্নীতির ‘উৎসব’ চলছে। ঢাকা ও পাহাড়তলী লোকোশেডে হাজিরা ও মাইলেজ কেলেঙ্কারি থেকে শুরু করে রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীতে (আরএনবি) আইনের অপব্যবহার, বদলি-বাণিজ্য ও পদোন্নতি সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য চরম আকার ধারণ করেছে। একই সঙ্গে যন্ত্রাংশ না কিনে বিল উত্তোলন এবং পক্ষপাতমূলক দুর্ঘটনা তদন্তের মাধ্যমে দায় এড়ানোর ঘটনাগুলো রেলের ভঙ্গুর প্রশাসনিক অবস্থার চিত্রই তুলে ধরছে।

রেলওয়ের ঢাকা বিভাগীয় ব্যবস্থাপক এবং চট্টগ্রাম (সিআরবি) কার্যালয়ের একাধিক নথি বিশ্লেষণ করে মিলেছে অনিয়মের নানা তথ্য।

লোকোশেডে হাজিরা ও মাইলেজ নিয়ে নৈরাজ্য

সিআরবির পাহাড়তলীর ক্যারিজ অ্যান্ড ওয়াগন শপে হাজিরার বড় ধরনের অনিয়ম সামনে এসেছে। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, পাহাড়তলী কন্ট্রোলের এক কর্মীর ২৫ থেকে ৩১ মার্চ এবং অন্যজনের ২৮ থেকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত কোনো হাজিরা স্বাক্ষর বা নৈমিত্তিক ছুটির (সিএল) আবেদন নেই। তবু তারা নিয়মের তোয়াক্কা না করে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে সমঝোতার ভিত্তিতে মাইলেজ সুবিধা নিচ্ছেন। অভিযোগ রয়েছে, বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তা (চট্টগ্রাম) ও রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের চিফ অপারেটিং সুপারিনটেনডেন্টের (সিওপিএস-পূর্ব) চরম উদাসীনতার কারণে এই বিশৃঙ্খলা চলছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, গত তিন-চার মাসের কন্ট্রোল চার্ট ও হাজিরার খাতা তদন্ত করলেই এসব জালিয়াতি বেরিয়ে আসবে।

অন্যদিকে ঢাকা লোকোশেডে অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ব্যর্থ হয়েছেন ঊর্ধ্বতন উপসহকারী প্রকৌশলী (এসএসএই) দেলোয়ার হোসেন। বেশ কয়েকজন শেডম্যান ও উপসহকারী লোকোমাস্টার নিয়মিত কর্মস্থলে না এসেও প্রতি মাসে ৬০ কিলোমিটারের বেশি মাইলেজ তুলেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

মাইলেজ নীতিমালা অনুযায়ী ‘ফুয়েল স্লিপ টু ফুয়েল স্লিপ’ এবং ‘অন ডিউটি/অফ ডিউটি’ ২ ঘণ্টার বাইরে মাইলেজ নেওয়ার সুযোগ নেই। কিন্তু এই নিয়ম ভেঙে ঢাকা লোকোশেডের কর্মীদের একটি চক্র দুই বছর ধরে ফুয়েল স্লিপ ছাড়াই প্রতি মাসে ৬০ কিলোমিটারের বেশি মাইলেজ নিচ্ছে। এ ধরনের ভুয়া মাইলেজ-বাণিজ্যের বিরুদ্ধে ক্ষোভ বাড়ছে রেলওয়ের রানিং স্টাফদের। 

রেলওয়ে রানিং স্টাফ ও শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের একাধিক নেতার সঙ্গে কথা বলে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। ঢাকা বিভাগীয় শীর্ষস্থানীয় এক নেতা খবরের কাগজকে বলেন, ‘এ নিয়ে আমরা সম্প্রতি অতিরিক্ত মহাপরিচালকের (রোলিং স্টক) সভায় আপত্তি জানিয়েছি। তিনি জানিয়েছেন, এ বিষয়ে তিনি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেবেন।’

ঢাকা লোকোশেডের এসএসই দেলোয়ার হোসেন এই অনিয়মের প্রসঙ্গে খবরের কাগজকে বলেন, ‘ঢাকা লোকোশেডে দায়িত্বে ফাঁকি দেওয়ার সুযোগ নেই। এখানে কেউ নিয়মের বাইরে গিয়ে অতিরিক্ত মাইলেজ সুবিধা নিচ্ছেন না।’ 

ঢাকা বিভাগীয় যান্ত্রিক প্রকৌশলী (লোকো) মো. সজীব আল হাসানকে একাধিকবার ফোন করা হলে তিনি সাড়া দেননি। 

আরএনবিতে আইনের অপব্যবহার ও পদোন্নতি সিন্ডিকেট

চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয়ের রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীতে (আরএনবি) আইন অমান্য করে চলছে বদলি ও পদোন্নতি-বাণিজ্য। আরএনবি আইন (২০১৬ সালে প্রণীত) অনুযায়ী কোনো অপরাধের বিচার তিন মাসের মধ্যে না হলে সেই ফাইল তামাদি বলে বিবেচিত হয়। চিফ কমান্ড্যান্ট (পূর্ব) জহিরুল ইসলাম এক বছর আগের এক ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করেছিলেন। সে সময় দুর্নীতি ও ঘুষের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করায় সিপাহি আমিনুল ইসলামকে অন্যায়ভাবে বদলি করা হয়। তার পক্ষে সুপারিশ করায় সাদ্দাম নামের আরেক কর্মীর বিরুদ্ধে নানা বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এ নিয়ে আরএনবিতে অস্বস্তি রয়েছে। জানা গেছে, গত এক বছরে জহিরুল ইসলাম কোনো নিয়ম না মেনেই ৭০০-৮০০ কর্মীকে বদলি করেছেন। সেই তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনও সিআরবিতে জমা দেননি জহিরুল।

এ ছাড়া অ্যাসিস্ট্যান্ট কমান্ড্যান্ট মোহাম্মদ সালামত উল্লাহ চেইন অব কমান্ড লঙ্ঘন করে চিফ কমান্ড্যান্টের মৌখিক নির্দেশে প্রশাসনিক আদেশ জারি করছেন। আরএনবি অধ্যাদেশ, ১৯৭৬ এবং রেলওয়ের সার্ভিস রুলকে অগ্রাহ্য করে তিনি এই কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অন্যদিকে দীর্ঘ ছয় বছর পর নিয়মবহির্ভূতভাবে সাব-ইন্সপেক্টর ইলিয়াস হোসেনকে ইন্সপেক্টর পদে পদোন্নতি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে জহিরুল আলম ও সালামত উল্লাহর বিরুদ্ধে।

এ বিষয়ে জানতে চিফ কমান্ড্যান্ট (পূর্ব) জহিরুল ইসলামকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। কমান্ড্যান্ট (চট্টগ্রাম) মোরশেদ আলম খবরের কাগজকে বলেন, ‘আরএনবি চট্টগ্রাম অফিসে আমি জয়েন করেছি কিছুদিন আগে। আরএনবির নিয়োগসংক্রান্ত কোনো জটিলতা হয়েছে কি না, তা আমার জানা নাই। কিন্তু চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয়ে আরএনবিতে জনবল খুব কম। তাতে আমাদের কাজ করতে অনেক সমস্যা হয়।’ 

‘তিন জহির’ বহাল তবিয়তে, জালিয়াতিতে ‘অটল’

ঢাকা লোকোশেডে যন্ত্রাংশের ভুয়া চাহিদা দেখিয়ে মালামাল না কিনেই বিল উত্তোলনের ঘটনায় দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) স্টোর মুন্সি জহির, ইনচার্জ জহুরুল ইসলাম ও বর্তমান ওয়ার্কশপ ম্যানেজার (ডব্লিউএম) জহিরের বিরুদ্ধে মামলা করেছে। রেলওয়ের নিজস্ব তদন্তে এই তিন জহিরকে বাঁচাতে কৌশলী রিপোর্ট দেওয়ায় জালিয়াতির পরও তারা এখনো স্বপদে বহাল আছেন। এমনকি জহুরুল ইসলাম মেয়াদ ফোরানোর আগে আবারও ইনচার্জ হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে রয়েছেন।

দুর্ঘটনা তদন্তে কারসাজি, ক্যারেজ বিভাগকে বাঁচাতে প্রকৌশল বিভাগকে বলি

সিলেট সেকশনে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া একটি ট্রেন দুর্ঘটনার তদন্তে চরম অদক্ষতা ও কারচুপির অভিযোগ উঠেছে। বিভাগীয় ব্যবস্থাপক (ঢাকা) ও তদন্তকারী কর্মকর্তা ক্যারেজ বিভাগকে বাঁচাতে একতরফাভাবে প্রকৌশল বিভাগ ও রেললাইনকে দায়ী করেছেন। তবে কারিগরি বিশ্লেষণে উঠে এসেছে, আন্ডার গিয়ার ভেঙে না গেলে পয়েন্ট বক্স ছিটকে যাওয়ার সুযোগ নেই, যা তদন্তে চেপে যাওয়া হয়েছে। ৩০০০ সিরিজের এক্সেল লোড সক্ষমতা যাচাই ছাড়াই ‘ট্রায়াল অ্যান্ড এরর’ ভিত্তিতে ট্রেন চালানো হচ্ছে। কন্ট্রোলের জিপিএস ট্র্যাকিং চার্ট এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে, যা থেকে লোকোমাস্টারের ওভারস্পিডের বিষয়টি প্রমাণিত হতে পারত।

ব্যাংক থেকে টাকা তোলা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত: মিলন

প্রকাশ: ২৮ জুন ২০২৬, ০৯:২৭ এএম
আপডেট: ২৮ জুন ২০২৬, ০৯:৪৬ এএম
ব্যাংক থেকে টাকা তোলা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত: মিলন
সংসদ সদস্য ফজলুল হক মিলন

জাতীয় সংসদে ব্যাংকিং খাত নিয়ে আলোচনায় গাজীপুর-৫ আসনের সরকারদলীয় সংসদ সদস্য ফজলুল হক মিলন অভিযোগ করেছেন, উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ব্যাংক থেকে বড় অঙ্কের টাকা তুলে মানুষের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করা হচ্ছে। একই আলোচনায় ঢাকা-৩ আসনের বিএনপির জ্যেষ্ঠ সংসদ সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় অভিযোগ করেছেন, ইসলামিক ব্যাংকে অমুসলিমদের চাকরির সুযোগ নিয়ে বৈষম্য রয়েছে। তিনি সরকারের কাছে এর ব্যাখ্যা দাবি করেন।

গতকাল শনিবার ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম বাজেট অধিবেশনের ১৬তম দিনে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তারা এসব কথা বলেন।

এমপি ফজলুল হক মিলন বলেন, কিছু ব্যক্তি পরিকল্পিতভাবে ব্যাংকের সামনে মিছিল করছেন এবং একসঙ্গে বড় অঙ্কের অর্থ তুলে আতঙ্কের পরিবেশ তৈরির চেষ্টা করছেন। তার ভাষায়, ‘একেক দিনে পাঁচ লাখ, দশ লাখ টাকা তোলা হচ্ছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় চাহিদার জন্য নয়, উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে টাকা তোলা হচ্ছে।’

মিলন বলেন, এভাবে ব্যাংক থেকে অর্থ তুলে ঘরে রাখলে অর্থের স্বাভাবিক প্রবাহ ও ব্যাংকিং ব্যবস্থার ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। এ ধরনের কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকতে তিনি বিরোধী দলসহ সবার সহযোগিতা কামনা করেন।

একই আলোচনায় গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, একটি ইসলামিক ব্যাংকে চাকরির জন্য সুপারিশ করার পর তাকে জানানো হয়, প্রার্থী হিন্দু হওয়ায় সেখানে চাকরি দেওয়া সম্ভব নয়। এ বিষয়ে তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, যদি ইসলামিক ব্যাংকে মুসলিম ছাড়া অন্য ধর্মাবলম্বীরা চাকরি করতে না পারেন, তাহলে তা বৈষম্য নয় কি? তিনি আরও বলেন, ব্যাংক কোনো ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান নয়; এটি একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান। তাই ধর্মের ভিত্তিতে কর্মসংস্থানে বৈষম্য থাকলে তার ব্যাখ্যা থাকা উচিত। বিএনপি সব ধর্মের মানুষের মূল্যবোধকে সমানভাবে ধারণ করে উল্লেখ করে তিনি বলেন, রাষ্ট্র পরিচালনা ও কর্মসংস্থানে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব নাগরিকের সমঅধিকার নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

প্রধানমন্ত্রীর চীন সফর সম্পর্কের পরীক্ষায় ঢাকা-বেইজিং

প্রকাশ: ২৮ জুন ২০২৬, ০৯:০১ এএম
সম্পর্কের পরীক্ষায় ঢাকা-বেইজিং
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং শুক্রবার চীনের বেইজিংয়ে গ্রেট হল অব দ্য পিপলে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক চীন সফর কতটা সফল বা ব্যর্থ তা নিয়ে জনমনে যেমন ব্যাপক আগ্রহ রয়েছে, তেমনি এ নিয়ে বিশেষজ্ঞ পর্যায়েও চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। এই সফরে ঢাকা-বেইজিং কতটা কাছাকাছি এল বা যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের জন্য কতটা চিন্তার কারণ হলো, তা নিয়েও চলছে নানা জল্পনা-কল্পনা।

তবে প্রধানমন্ত্রীর এই সফরে তাৎক্ষণিকভাবে আর্থিক প্রতিশ্রুতি ততটা না মিললেও নতুন ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে কৌশলগত সম্পর্কের সুযোগ তৈরি হয়েছে। যদিও এই সুযোগ কাজে লাগাতে বাংলাদেশকে নেতৃত্বের দক্ষতা ও সক্ষমতার পরীক্ষায় যেতে হবে। এই সফরে যেসব চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে, তা বাস্তবায়ন হলে ঢাকা-বেইজিং সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় যাবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। 

প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরের যৌথ ঘোষণায় দুই দেশের মধ্যে পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষা খাতে ‘টু প্লাস টু’ কৌশলগত সংলাপ চালুর বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে, যার মাধ্যমে নতুন ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ঢাকা-বেইজিংকে কৌশলগত সহযোগিতায় একসঙ্গে কাজ করতে হবে। পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষা খাতে টু প্লাস টু কৌশলগত সংলাপ চালুর বিষয়টি অন্য পরাশক্তি দেশ বিশেষ করে, যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতকে চিন্তায় ফেলতে পারে। কারণ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমান দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একটি শুভেচ্ছা বার্তা পাঠিয়েছিলেন।

তাতে ট্রাম্প উল্লেখ করেন, ঢাকা-ওয়াশিংটনের মধ্যে যে বাণিজ্য চুক্তি হয়েছে তারেক রহমান তা বাস্তবায়ন করবেন এবং দুই দেশের মধ্যে সামরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়েও পদক্ষেপ নেবেন। কিন্তু পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষা খাতে ঢাকা-বেইজিং টু প্লাস টুর বিষয়টি ট্রাম্পের সামরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির আকাঙ্ক্ষাকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে। 

এ ছাড়া তাইওয়ানের একক স্বাধীনতা ও সার্বভৗমত্ব ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের যে অবস্থান তাতে বিএনপি সরকারের এক চীন-নীতিতে মতপার্থক্য স্পষ্ট। গত অন্তর্বর্তী সরকার যেভাবে যুক্তরাষ্ট্রের দিকে ঝুঁকে ছিল, সেখান থেকে বাংলাদেশকে বের করে এনে একটি স্বতন্ত্র ধারায় নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর এই সফরে। এরই অংশ হিসেবে বিএনপির সঙ্গে চীনের কমিউনস্টি পার্টির সমঝোতা স্মারক সই একটি উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ। ফলে চীনের সঙ্গে এমন এক রাজনৈতিক বন্ধনে যুক্ত হলো বিএনপি সরকার, যেটা যুক্তরাষ্ট্র বা ভারতের জন্য সতর্ক বার্তা বহন করে। যুক্তরাষ্ট্র যেখানে ঘোষণা দিয়ে জানিয়েছে, চীনের সঙ্গে বাংলাদেশ যাতে বেশি মাখামাখি না করে। কিন্তু এই সফরে যুক্তরাষ্ট্র যেটা চায় না, সেই সম্পর্কের দিকে এগিয়ে গেছে বর্তমান সরকার। 

এদিকে বাংলাদেশের সঙ্গে আরও যোগাযোগ ও অর্থনীতির পরিধি বাড়াতে মায়ানমার হয়ে চীন পর্যন্ত একটি অর্থনৈতিক করিডর করার প্রস্তাব আবারও সামনে এনেছে বেইজিং। সফরের শেষ দিন গত শুক্রবার বেইজিংয়ের গ্রেট হল অব দ্য পিপলে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বৈঠকে এই প্রস্তাব তুলে ধরা হয়। এই করিডরের মূল উদ্দেশ্য হবে বাংলাদেশের অর্থনীতির ব্যাপ্তি বাড়ানো এবং বহুমুখী পরিবহনব্যবস্থাকে আরও উন্নত ও কার্যকর করা। 

এ বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান প্রধানমন্ত্রীর সফর নিয়ে গতকাল শনিবার এক প্রেস ব্রিফিংয়ে জানান, চীন-মায়ানমার-বাংলাদেশ ইকোনমিক করিডরের ধারণা এখনো প্রস্তাবের পর্যায়ে রয়েছে। এটি একটি প্রস্তাবিত অর্থনৈতিক ও যোগাযোগ রুট। এই করিডর চীনের ইউনান প্রদেশের রাজধানী কুনমিং থেকে শুরু হয়ে মায়ানমারের মান্দালয় পৌঁছাবে। সেখান থেকে একটি অংশ মায়ানমারের ইয়াঙ্গুন এবং অন্য একটি অংশ রাখাইন রাজ্যের কিয়াউকপিউ গভীর সমুদ্রবন্দর পর্যন্ত বিস্তৃত হবে।

তিনি বলেন, যেহেতু মায়ানমারের সমুদ্রবন্দর ব্যবহার করে চীনের ইউনানে নানা পণ্য আমদানি-রপ্তানি হয়, সেখান থেকে বাংলাদেশের চট্টগ্রাম বন্দরের সঙ্গে সংযোগ হলে পণ্য আমদানি-রপ্তানি ব্যয় ও সময় দুই-ই কমবে। এ ছাড়া প্রয়োজন হলে মায়ানমারের রাখাইন হয়ে ত্রিদেশীয় একাধিক রুট তৈরি করেও বাণিজ্য-সুবিধা বাড়ানোর সুযোগ আছে। 

প্রধানমন্ত্রীর চীন সফর নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক ড. ইমতিয়াজ আহমেদ খবরের কাগজকে বলেন, সফরে যেসব চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে সেগুলো যদি বাস্তবায়ন করতে পারে সরকার, তাহলে এটিকে ইতিবাচক বলা যাবে। আর যদি অন্য পরাশক্তির চাপে বাস্তবায়ন না করতে পারে তাহলে সফরকে ইতিবাচক বলার সুযোগ নেই। তবে এই সফরের উল্লেখযোগ্য দিক হচ্ছে– পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষা খাতে ‘টু প্লাস টু’ কৌশলগত সংলাপ এবং ত্রিদেশীয় ইকোনমিক করিডর চালুর বিষয়টি। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কঠোর বাণিজ্য চুক্তি নির্বাচনের তিন দিন আগে যেমন অন্তর্বর্তী সরকার করতে পারে, এর বাইরে গিয়ে চীনের সঙ্গেও যে কৌশলগত সম্পর্কের চুক্তি করতে পারে বিএনপি সরকার, সেটা এই সফরে করেছে। এখানে চীন দেখার চেষ্টা করছে, বাংলাদেশ সরকার এসব চুক্তি বাস্তবায়ন করতে কতটা সক্ষম। বাংলাদেশ সরকার যদি সেই সক্ষমতার পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয় তাহলে ঢাকা-বেইজিং সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে। আর যদি যুক্তরাষ্ট্রে এক পা রেখে সেটা বাস্তবায়নের চেষ্টা করা হয়, তাহলে সম্পর্ক এগোবে না। 

তিনি আরও বলেন, এই সফরে বিএনপির সঙ্গে চীনের কমিউনিস্ট পার্টির সমঝোতা স্মারক চুক্তিটি ভালো হয়েছে। এটি চীনের এমন এক দলের সঙ্গে করা হলো, যে দলটি চীনের সব সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকে। কাজেই দুই দেশের রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যদি সুসম্পর্ক ভালো থাকে তাহলেও সব সহযোগিতায় এগিয়ে যায়। 

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন বলেন, পররাষ্ট্র ও নিরাপত্তা–এই দুটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে প্রথম বাংলাদেশের সঙ্গে চীনের ‘টু প্লাস টু’ একটা সমঝোতা চুক্তি সই হয়েছে। যেখানে দুই দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে প্রতিনিধি যারা রয়েছেন, তাদের নিয়মিত আলোচনার ভিত্তিতে সামনের দিনগুলোতে সংলাপ শুরু হবে। 

এ ছাড়া বাণিজ্য, বিনিয়োগ, শিল্প, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সংস্কৃতি এবং সামরিক খাতে সহযোগিতা বৃদ্ধিতে চীনের বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ উদ্যোগের আওতায় দুই দেশের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ প্রতিষ্ঠার আলোচনার পাশাপাশি রোহিঙ্গা সংকটের সমাধানে মায়ানমারকে আলোচনায় আনতে সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে চীন।

প্রধানমন্ত্রীর এই সফর নিয়ে চীনে বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রদূত মুন্সি ফয়েজ আহমেদ বলেন, চীনে প্রধানমন্ত্রীর প্রথম সফর ভালো হয়েছে বলেই আমরা মনে করছি। ভালো বলছি এ কারণে যে, যেসব বিষয় আমরা চেয়েছিলাম তার সবই হয়েছে। এখন দেখার বিষয়, সরকার এর কতটা বাস্তবায়ন করতে পারে।

তিনি বলেন, চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের ভালো সম্পর্ক রয়েছে। বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা আছে। এই সফরের ফলে সেই সহযোগিতাগুলো নতুনমাত্রা পাবে। নতুন নতুন ক্ষেত্রে আরও সহযোগিতার সম্ভাবনা বাড়বে।

চীন-মায়ানমার-বাংলাদেশ ইকোনমিক করিডর প্রস্তাবের বিষয়ে তিনি বলেন, এটা ঠিক করিডর নয়, এটা হচ্ছে–কানেকটিভিটি। অর্থনৈতিক কানেকটিভিটিকে কাজে লাগানোর উপায় নিয়ে আগে থেকে ভাবতে হবে। এর সঙ্গে মায়ানমারের রাখাইনের অর্থনৈতিক উন্নয়নও জড়িত। এটি হলে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন সহজ হতে পারে। আর চীনের সঙ্গে পররাষ্ট্র ও নিরাপত্তা বিষয়ে ‘টু প্লাস টু’ সমঝোতাও ইতিবাচক বলে মনে করেন তিনি। তবে এ কারণে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হলে সেটা সরকারকে মোকাবিলা করতে হবে। কারণ কোনো দেশ একটা বিষয় নির্বাচনের আগে চাপিয়ে দিলে সেটা মানতে হবে– এটা ঠিক নয়। 

ভারতের ভ্রমণ ভিসার আবেদন আজ থেকে

প্রকাশ: ২৮ জুন ২০২৬, ০৮:৩৯ এএম
ভারতের ভ্রমণ ভিসার আবেদন আজ থেকে
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশিদের জন্য অবশেষে ভারতের ভ্রমণ ভিসা চালু হচ্ছে। আজ রবিবার থেকে ভ্রমণ ভিসার আবেদনপত্র জমা নেওয়া হবে। বাংলাদে‌শিদের জন্য প্রায় দুই বছর বন্ধ থাকার পর ভারতের ভ্রমণ ভিসা চালু হচ্ছে। 

হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী গত বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘ভ্রমণ ভিসার পাশাপাশি মেডিকেল ভিসার আবেদনও গ্রহণ করা হবে। মানবিক বিবেচনায় আমরা মেডিকেল ভিসার গতি বাড়াব। প্রাথমিকভাবে পাঁচটি আইভ্যাক দিয়ে আবেদন নেওয়া হবে। সেগুলো হলো ঢাকা, রাজশাহী, চট্টগ্রাম, সিলেট ও খুলনা। পর্যায়ক্রমে অন্যান্য শহরেও এই কার্যক্রম বিস্তৃত করা হবে।’

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানের পর দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট পরিবর্তনের পর নিরাপত্তা ইস্যুতে বন্ধ হয়ে যায় ভারতের সব ধরনের ভিসা ইস্যু। অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে আগের দিন ৪ আগস্ট থেকেই অবশ্য বাংলাদেশে অবস্থিত ভারতীয় ভিসা আবেদন কেন্দ্রগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়। তবে আগস্টের শেষের দিকে বিশেষ ব্যবস্থায় সীমিত আকারে পাসপোর্ট ফেরত দেওয়া শুরু হয় এবং নতুন আবেদন সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়। পরে পর্যায়ক্রমে জরুরি ক্ষেত্রে মেডিকেল ভিসা আবেদন শুরু করে ভারতীয় হাইকমিশন। 

ওয়াশিংটনের ফ্রেমওয়ার্ক চুক্তি প্রত্যাখ্যান করল হিজবুল্লাহ

প্রকাশ: ২৭ জুন ২০২৬, ১০:৫৬ পিএম
ওয়াশিংটনের ফ্রেমওয়ার্ক চুক্তি প্রত্যাখ্যান করল হিজবুল্লাহ
হিজবুল্লাহর সেক্রেটারি জেনারেল নাইম কাসেম । ছবি: সংগৃহীত

হিজবুল্লাহর সেক্রেটারি জেনারেল নাইম কাসেম ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে ওয়াশিংটনে হওয়া ফ্রেমওয়ার্ক চুক্তি প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি বলেছেন, এই চুক্তি ‘অকার্যকর ও বাতিল’ এবং এর পরিবর্তে ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ) শর্ত বাস্তবায়ন করা উচিত।

শনিবার (২৭ জুন) এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানিয়েছে কাতারভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।

এক বিবৃতিতে কাসেম বলেন, ওয়াশিংটনের এই ফ্রেমওয়ার্ক চুক্তি অপমানজনক, লজ্জাজনক এবং এটি লেবাননের সার্বভৌমত্বের আত্মসমর্পণের শামিল। এই চুক্তি বাতিল এবং এর কোনো বৈধতা নেই।

তিনি লেবানন সরকারের সমালোচনা করে অভিযোগ করেন, এই চুক্তির মাধ্যমে দেশটির নেতারা ইসরায়েলের দখলদারিত্বকে বৈধতা দিচ্ছেন। তার দাবি, এর ফলে ভবিষ্যতে লেবাননের কিছু ভূখণ্ড ইসরায়েলের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

লেবাননের কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়ে কাসেম বলেন, যে ভুলগুলো লেবাননকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে, সেগুলো থেকে সরে আসার এখনই সময়।

হিজবুল্লাহ প্রধান আরও বলেন, লেবাননের সার্বভৌমত্ব রক্ষা, দখলকৃত ভূখণ্ড মুক্ত করা এবং ইসরায়েলি বাহিনীকে বিতাড়িত করার লক্ষ্যে তাদের সংগঠন সহযোগিতা ও ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে প্রস্তুত।

সশস্ত্র প্রতিরোধ অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়ে নাইম কাসেম বলেন, আমরা প্রতিরোধ চালিয়ে যাব এবং দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে লড়াই অব্যাহত থাকবে। সবচেয়ে কঠিন সময়েও আমরা মাঠ ছাড়িনি, ভবিষ্যতেও ছাড়ব না।

এসএন/

সংসদে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ ও সাইবার নিরাপত্তা আইনের সংশোধনী বিল

প্রকাশ: ২৭ জুন ২০২৬, ১০:৪৫ পিএম
আপডেট: ২৭ জুন ২০২৬, ১১:০০ পিএম
সংসদে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ ও সাইবার নিরাপত্তা আইনের সংশোধনী বিল
ছবি: সংগৃহীত

দেশে মাদক সংক্রান্ত প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধ দমনে বিচারিক কার্যক্রম জোরদার এবং ট্রাইব্যুনাল গঠনের বিধান রেখে ‘মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ (সংশোধন) আইন, ২০২৬’ বিল জাতীয় সংসদে উত্থাপন করা হয়েছে। একই অধিবেশনে ‘সাইবার নিরাপত্তা (সংশোধন) আইন, ২০২৬’ বিল উত্থাপনের মাধ্যমে বিদ্যমান সাইবার নিরাপত্তা আইনের ২০ নম্বর ধারা বিলুপ্তির প্রস্তাব আনা হয়।

শনিবার (২৭ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের ১৬তম দিনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ (সংশোধন) আইন, ২০২৬ বিলটি উত্থাপন করেন। বিলটি উত্থাপনের পর আপত্তি ওঠায় তা যাচাই-বাছাইয়ের জন্য সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়।

বিলে বলা হয়, দেশে মাদকাসক্তি ও সংশ্লিষ্ট অপরাধ দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় মামলার জট তৈরি হয়েছে এবং সাধারণ আদালতে বিচার নিষ্পত্তি দীর্ঘায়িত হচ্ছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় অপরাধপ্রবণ এলাকায় পৃথক ‘মাদকদ্রব্য অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল’ গঠনের বিধান যুক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি সাইবার স্পেসে সংঘটিত মাদক অপরাধ দমনে প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থা সংযোজন করা হয়েছে।

এছাড়া সীমান্ত এলাকায় মাদক পাচার রোধে অভিযান জোরদার, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের জন্য আগ্নেয়াস্ত্রের প্রাধিকার এবং ডগ স্কোয়াড গঠনের বিধানও বিলটিতে রাখা হয়েছে। এর আগে গত ১৮ জুন মন্ত্রিসভা এ খসড়ার অনুমোদন দেয়।

অন্যদিকে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম সাইবার নিরাপত্তা (সংশোধন) আইন, ২০২৬ বিল উত্থাপন করেন। এতে বিদ্যমান আইনের ২০ নম্বর ধারা—যেখানে সাইবার স্পেসে জুয়া সংক্রান্ত অপরাধ ও দণ্ডের বিধান ছিল—তা বিলুপ্ত করার প্রস্তাব করা হয়।

বিলে উল্লেখ করা হয়, জুয়া ও বেটিং সংক্রান্ত অপরাধ দমনে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আলাদা ‘জুয়া প্রতিরোধ আইন, ২০২৬’ প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে। ফলে একই বিষয় একাধিক আইনে না রেখে সাইবার নিরাপত্তা আইন থেকে সংশ্লিষ্ট ধারা বাদ দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।

তবে বিলের কপি সময়মতো না পাওয়ায় বিরোধী দলের নেতা অসন্তোষ প্রকাশ করেন। পরে স্পিকার বিলটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

এলিস/এসএন