জামায়াত-শিবিরের সঙ্গে রাষ্ট্র, সমাজ, সংস্কার, নির্বাচন নিয়ে কথা বলাই উচিত নয়! এমনকি কোনো জাতীয় কিংবা বাংলাদেশ সম্পর্কিত আন্তর্জাতিক ইস্যুতে আলোচনা, গোলটেবিল বৈঠক, মতবিনিময় সভা, টকশো প্রভৃতিতে তাদের আমন্ত্রণ জানানোই অনাবশ্যক! সনাতন ধর্মাবলম্বীরা পাপ হলে পবিত্র গঙ্গাজলে স্নান করে পাপ মোচন করে, পুণ্যতা লাভ করে আর মুসলমানরা মক্কা শরিফের পবিত্র জমজম কূপের পানি পান করে আল্লাহর কাছে মাফ চেয়ে নিজেদের পরিশুদ্ধ করে! একইভাবে জামায়াতকেও ’৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধিতা করার জন্য দেশ ও দেশবাসীর কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা চেয়ে শুদ্ধ হতে হবে এবং এটা তাদের আরও আগেই করা উচিত ছিল যখন গোলাম আযম, মতিউর রহমান নিজামী আর দেলোয়ার হোসেন সাঈদীর মতো নেতারা জীবিত ছিলেন! স্বাধীনতা-পরবর্তী তেপ্পান্ন বছর ধরে বাংলাদেশের মানুষ তাদের সহ্য করছে, এই তো অনেক বেশি! জামায়াত তখনই দেশ, সংস্কার ইত্যাদি ইস্যুতে কথা বলার বৈধতা অর্জন করবে যখন তারা তাদের ভুল স্বীকার করে জনসমক্ষে ক্ষমা চাইবে!
একাত্তর সালে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে পাকিস্তানের ক্ষমা চাওয়ার কথা উঠেছে অতীতে বহুবার, কিন্তু আজ পর্যন্ত তা হয়ে ওঠেনি! যদিও এ ব্যাপারে আওয়ামী লীগকে অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলোর চাইতে বেশি তৎপর মনে হতো! আজকাল সেই আওয়ামী লীগের ক্ষমা চাওয়া নিয়ে কথা উঠছে, কিন্তু সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ জামায়াতের ক্ষমাপ্রার্থিতা! মুক্তিযুদ্ধকালীন তাদের যুদ্ধাপরাধের কথা কারও অজানা নয়! আসছে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারাটাও তাদের ক্ষমা চাওয়ার ওপরেই নির্ভরশীল হওয়া উচিত, নইলে দেশের মাটি ও মানুষের প্রতি অবিচারের দায় আমরা কেউই এড়াতে পারি না!
আসিফ আল মাহমুদ
আকবরশাহ মাজার, পাহাড়তলী, চট্টগ্রাম ৪২০২
[email protected]
