১ জুলাই থেকে শুরু হতে যাচ্ছে ২০২৬-২০২৭ করবর্ষের আয়কর রিটার্ন দাখিলের কার্যক্রম। যারা আগে কখনো রিটার্ন দাখিল করেননি, অর্থাৎ নতুন ও প্রথম রিটার্ন দাখিলকারী ব্যক্তিদের উচিত সম্পত্তি ও সোনার মূল্য সঠিকভাবে প্রেজেন্টশন করা। একজন কর আইনজীবী হিসেবে এর তিনটি লজিক্যাল কারণগুলো আমি তুলে ধরার চেষ্টা করছি: প্রথমত, আপনি যদি সম্পত্তি বা সোনার মূল্য আয়কর রিটার্নে প্রদর্শন না করে মূল্য অজানা বা মূল্য শূন্য লেখেন তাহলে ভবিষ্যতে ওই সম্পত্তি বিক্রি করে নতুন সম্পত্তি সংযোজন করার ক্ষেত্রে অর্থের উৎস-সংক্রান্ত জটিলতা সৃষ্টি হবে। দ্বিতীয়ত, আপনি যদি সম্পত্তি বা সোনার সঠিক মূল্য আয়কর রিটার্নে প্রদর্শন না করে মূল্য কম বা বেশি তথা অযৌক্তিক মূল্য লিপিবদ্ধ করেন তাহলে ভবিষ্যতে ওই সম্পত্তি বিক্রির ক্ষেত্রে মূলধনী আয় অর্থাৎ ক্যাপিটাল গেইন ক্যালকুলেশনে ঝামেলা সৃস্টি হবে। তৃতীয়ত, আপনি যদি সম্পত্তি বা সোনার মূল্য-সংক্রান্ত তথ্য অস্পষ্ট ও অস্বচ্ছ রেখে রিটার্ন দাখিল করেন তাহলে এনবিআর ভবিষ্যতে নিট পরিসম্পদের মূল্যমান ও সারচার্জ-সংক্রান্ত প্রশ্ন উত্থাপন করতে পারে। সুতরাং, সম্পত্তি বা সোনার মূল্য লিপিবদ্ধ করার ক্ষেত্রে ওই সম্পত্তির প্রকৃত মূল্য, বাজারমূল্য ও দলিলমূল্য সুনিপুণভাবে বিবেচনা করা এবং মূল্য নির্ধারণের ক্ষেত্রে দক্ষ কর আইনজীবী বা কর অনুশীলনকারীর সঙ্গে কনসাল্ট করা প্রয়োজন। এ প্রযুক্তির যুগে অনলাইনে অনেক কিছুই যাচাই করা যায়–এ কথা মাথায় রেখে নতুন ও প্রথম রিটার্ন দাখিলের ক্ষেত্রে পরিচ্ছন্ন থাকা উচিত, তাহলে ভবিষ্যতে ঝুঁকি, হয়রানি ও বাড়তি করের বোঝা এড়ানো সম্ভব। স্বচ্ছতাই পারে জবাবদিহি রুখতে।
পলাশ কুণ্ডু
আয়কর আইনজীবী, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের তালিকাভুক্ত
সদস্য, নীলফামারী ট্যাক্সেস বার অ্যাসোসিয়েশন
[email protected]