বর্তমান সময়ে আমাদের নাগরিক জীবনের অন্যতম বড় এক অভিশাপের নাম শব্দদূষণ, যার প্রধান উৎস যানবাহনের অনিয়ন্ত্রিত হাইড্রোলিক হর্ন। উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও ঢাকা শহরসহ দেশের প্রায় প্রতিটি জেলা ও উপজেলা শহরে এই হর্নের ব্যবহার দিন দিন জ্যামিতিক হারে বাড়ছে। বিশেষ করে বাস, ট্রাক এবং মোটরসাইকেল চালকদের মধ্যে বিনা প্রয়োজনে তীব্র শব্দে হর্ন বাজানোর এক প্রতিযোগিতা লক্ষ্য করা যায়। মোড়ে মোড়ে যানজটে আটকে থেকেও চালকরা অবিরত হর্ন বাজিয়ে চলেন, যা কোনো বিবেকবান মানুষের কাজ হতে পারে না।
এই মাত্রাতিরিক্ত শব্দের কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে কোমলমতি শিশু, গর্ভবতী নারী এবং রোগীরা। প্রতিনিয়ত কানের পর্দা ফাটানো এই শব্দের মধ্যে বসবাস করায় সাধারণ মানুষের মধ্যে শ্রবণশক্তি হ্রাস, উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ, অনিদ্রা এবং চরম মানসিক অবসাদের মতো মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও হাসপাতালের সামনে ‘হর্ন বাজানো নিষেধ’ সাইনবোর্ড থাকলেও কেউ তা তোয়াক্কা করছে না। আইন প্রয়োগকারী সংস্থার শিথিলতা এবং চালকদের অসচেতনতাই এ সংকটের জন্য দায়ী। এই নীরব ঘাতকের হাত থেকে নাগরিকদের বাঁচাতে হলে শুধু আইন করলেই হবে না, তার কঠোর বাস্তবায়ন প্রয়োজন। নিষিদ্ধ হাইড্রোলিক হর্ন আমদানি ও বিক্রি সম্পূর্ণ বন্ধ করতে হবে এবং আইন অমান্যকারী চালকদের ভারী জরিমানাসহ লাইসেন্স বাতিলের মতো শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে ট্রাফিক বিভাগের পক্ষ থেকে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা জরুরি। আমরা একটি শব্দদূষণমুক্ত, শান্ত ও সুস্থ পরিবেশ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত ও কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
ওসমান গনি
সাংবাদিক ও কলামিস্ট, কুমিল্লা
[email protected]