উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও ভারী বর্ষণের কারণে সিরাজগঞ্জে যমুনা নদীর পানি বেড়েই চলেছে। পানি বৃদ্ধির কারণে তীব্র আকার ধারণ করেছে নদীভাঙন। নদীগর্ভে বিলীনের পথে রয়েছে সদর উপজেলার কাওয়াকোলা ইউনিয়নের বর্নি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। যে কোনো সময় বিদ্যালয়টির পুরো অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে।
এ ছাড়া সদর উপজেলার কাওয়াকোলা ইউনিয়নের বড় কয়ড়া, বর্নি ও কৈগাড়ি জড়তা, রতনকান্দি ইউনিয়নের বাহুকা, চৌহালী উপজেলার চর বিনানই এবং কাজীপুর উপজেলার পলাশপুর ঘাট এলাকায় নদীভাঙন দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে সদর উপজেলার কাওয়াকোলা ও চৌহালীতে নদীভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে। এতে নদীপাড়ের মানুষের মধ্যে বাঁধ ভেঙে যাওয়ার আতঙ্ক বিরাজ করছে। হুমকির মুখে পড়েছে ফসলি জমি, গাছপালা ও বসতভিটা।
জানা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় যমুনা নদীর পানি সিরাজগঞ্জ শহর রক্ষা বাঁধ পয়েন্টে ৩ সেন্টিমিটার এবং কাজীপুরের মেঘাইঘাট পয়েন্টে ৬ সেন্টিমিটার বেড়েছে। তবে পানি বাড়লেও সিরাজগঞ্জ পয়েন্টে বিপৎসীমার ১৪৮ সেন্টিমিটার এবং কাজীপুর পয়েন্টে বিপৎসীমার ১৯৩ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১৭ এপ্রিল রাতে কাজীপুর উপজেলার পলাশপুর ঘাট এলাকায় নদীর তীর সংরক্ষণ এলাকার দুটি স্থানের বেশ কিছু অংশ যমুনায় বিলীন হয়ে যায়। গত ৮ জুন চৌহালী উপজেলার চর বিনানই ঘাট এলাকার প্রায় ১৫০ মিটার এলাকা নদীগর্ভে ধসে পড়ে। গত ২০ জুন দুপুরে সদর উপজেলার রতনকান্দি ইউনিয়নের বাহুকা গ্রামে নদীর ডান তীর রক্ষা বাঁধের ৩০ মিটার এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। আকস্মিক এই ভাঙনের তীব্রতায় নদীপাড়ের মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ও শঙ্কা ছড়িয়ে পড়েছে। এসব ভাঙনের জন্য অবৈধভাবে বালু উত্তোলনকে দায়ী করেছেন এলাকাবাসী।
কাওয়াকোলা গ্রামের বাসিন্দা সোলাইমান হোসেন বলেন, ‘যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধির ফলে গত কয়েক দিন ধরে নদীভাঙন অব্যাহত রয়েছে। অনেকেই বাড়িঘর হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে যাচ্ছেন। অনেক সরকারি স্থাপনাও নদীগর্ভে চলে যাচ্ছে। আমরা চরম আতঙ্কের মধ্যে রয়েছি।’
সদর উপজেলার ভাটপিয়ারি গ্রামের আমিরুল ইসলাম বলেন, ‘নদীর মাঝখানে চর জেগেছিল। কিন্তু অসাধু চক্রের বালু উত্তোলনের কারণে পুরো চর নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। ওই চরে আমি আখ, গম, কালাইসহ বিভিন্ন ধরনের ফসলের আবাদ করতাম। এখন আমার কিছুই নেই, সব নদীতে চলে গেছে।’
সদর উপজেলার কাওয়াকোলা ইউনিয়ন পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক ভূইয়া বলেন, ‘আমার ইউনিয়নের বড় কয়ড়া, বর্নি ও কৈগাড়ি জড়তা গ্রামে নদীভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে। বর্নি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় যে কোনো সময় পুরোপুরি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে। দুর্যোগ আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরে (মুজিব কিল্লা) অস্থায়ীভাবে শিক্ষার্থীদের ক্লাসের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ভাঙনের কারণে এলাকাবাসীর মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।’
সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোখলেছুর রহমান বলেন, ‘গত কয়েক দিন ধরে যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে আরও কয়েক দিন যমুনার পানি বাড়তে পারে। তবে পানি বাড়লেও তা এখনো বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। কিছু কিছু এলাকায় ভাঙন দেখা দিয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড জিও ব্যাগ ও বালুর বস্তা ফেলে ভাঙন রোধে কাজ করছে।’
শিশির/রিফাত/