ঢাকা ১৪ আষাঢ় ১৪৩৩, রোববার, ২৮ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে হেরে লক্ষ্য পূরণ হলো না জ্যোতিদের অতিরিক্ত আইজি, ডিআইজি ও এসপিসহ ২১ কর্মকর্তার নতুন দায়িত্ব ডেইলি স্টার হামলা মামলায় এনসিপির আনোয়ার রিমান্ডে প্রাথমিক শিক্ষকদের পদমর্যাদা বাড়ানোর ঘোষণা প্রতিমন্ত্রীর ইন্টেল কোর আল্ট্রা প্রসেসরের শক্তি নিয়ে বাজারে এলো লেনোভো আইডিয়াপ্যাড স্লিম ৫ সিরিজ দেশব্যাপী ২৫ হাজার মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম স্থাপনের ঘোষণা শিক্ষামন্ত্রীর একক কোনো মাস্টারমাইন্ড আমরা মানি না: বিরোধীদলীয় নেতা আদ্-দ্বীন হাসপাতালের বাণিজ্যিক আকাঙ্ক্ষা ছিল পুরোপুরি অনৈতিক: স্বাস্থ্যমন্ত্রী দুধকুমার নদীতে ৬ ঘণ্টায় ৫৫ সেন্টিমিটার পানি বেড়েছে অপতথ্যের ভিড়ে ‘খবরের ভেতরের খবর’ খুঁজে বের করুন: তথ্য সচিব শ্রীমঙ্গলে বাস-মোটরসাইকেল সংঘর্ষ, নিহত ২ ক্রীড়া কার্ডের সংখ্যা বাড়িয়ে ৫০০ করা হবে: ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী কোনো বিষয়ে ভয় অনুভব করলে যে আমলটি করবেন সৌদি আরবে তেল কোম্পানির হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত, ১৪ আরোহী সবাই নিহত নায়ক-নায়িকা খোঁজার বিচারক তারা মানবস্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে প্লাস্টিকের ক্ষতিকর প্রভাব উদ্বেগজনক তিস্তার পানি বিপৎসীমার ৭ সেন্টিমিটার ওপরে, নিম্নাঞ্চলে বন্যার শঙ্কা তোপের মুখে শ্রদ্ধার ‘ইথা’ ফ্রান্সে উড়োজাহাজ বিধ্বস্তে প্রশিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ নিহত ১১ তাসকিন ও মিমের সঙ্গে মেতে উঠলেন ওয়ালটনের ২৪ ক্রেতা সোনারগাঁ মেঘনা নদীতে বিআইডব্লিউটিএর ড্রেজিং, চাঁদা না পেয়ে অপপ্রচারের অভিযোগ প্রাথমিক বৃত্তির ফল জুলাইয়ের দ্বিতীয় সপ্তাহে ফয়’স লেকের প্রবেশমুখে গ্যাস পাইপলাইনে আগুন, আতঙ্কে এলাকাবাসী রূপচর্চায় পাকা আম মেটলাইফ বাংলাদেশ-এর আবারও ‘গ্রেট প্লেস টু ওয়ার্ক’ স্বীকৃতি অর্জন গোপালগঞ্জে ১৩০০ কৃষকের মাঝে কৃষি উপকরণ বিতরণ নদীতে নিখোঁজ বৃদ্ধার মরদেহ ৪ ঘন্টা পর উদ্ধার শিশুকে নিরাপদ রাখতে অভিভাবকের করণীয় ৩ জেলায় নিয়োগ দিচ্ছে প্রাণ গ্রুপ মাদকাসক্তির কারণ ও প্রতিকার বিষয়ক প্রবন্ধ রচনা, ২য় পর্ব, এইচএসসির বাংলা ২য় পত্র

সিরাজগঞ্জে নদীভাঙন অব্যাহত, বিলীনের পথে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়

প্রকাশ: ২৮ জুন ২০২৬, ০৪:২০ পিএম
আপডেট: ২৮ জুন ২০২৬, ০৪:২২ পিএম
সিরাজগঞ্জে নদীভাঙন অব্যাহত, বিলীনের পথে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়
ছবি: সংগৃহীত

উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও ভারী বর্ষণের কারণে সিরাজগঞ্জে যমুনা নদীর পানি বেড়েই চলেছে। পানি বৃদ্ধির কারণে তীব্র আকার ধারণ করেছে নদীভাঙন। নদীগর্ভে বিলীনের পথে রয়েছে সদর উপজেলার কাওয়াকোলা ইউনিয়নের বর্নি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। যে কোনো সময় বিদ্যালয়টির পুরো অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে।

এ ছাড়া সদর উপজেলার কাওয়াকোলা ইউনিয়নের বড় কয়ড়া, বর্নি ও কৈগাড়ি জড়তা, রতনকান্দি ইউনিয়নের বাহুকা, চৌহালী উপজেলার চর বিনানই এবং কাজীপুর উপজেলার পলাশপুর ঘাট এলাকায় নদীভাঙন দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে সদর উপজেলার কাওয়াকোলা ও চৌহালীতে নদীভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে। এতে নদীপাড়ের মানুষের মধ্যে বাঁধ ভেঙে যাওয়ার আতঙ্ক বিরাজ করছে। হুমকির মুখে পড়েছে ফসলি জমি, গাছপালা ও বসতভিটা।

জানা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় যমুনা নদীর পানি সিরাজগঞ্জ শহর রক্ষা বাঁধ পয়েন্টে ৩ সেন্টিমিটার এবং কাজীপুরের মেঘাইঘাট পয়েন্টে ৬ সেন্টিমিটার বেড়েছে। তবে পানি বাড়লেও সিরাজগঞ্জ পয়েন্টে বিপৎসীমার ১৪৮ সেন্টিমিটার এবং কাজীপুর পয়েন্টে বিপৎসীমার ১৯৩ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১৭ এপ্রিল রাতে কাজীপুর উপজেলার পলাশপুর ঘাট এলাকায় নদীর তীর সংরক্ষণ এলাকার দুটি স্থানের বেশ কিছু অংশ যমুনায় বিলীন হয়ে যায়। গত ৮ জুন চৌহালী উপজেলার চর বিনানই ঘাট এলাকার প্রায় ১৫০ মিটার এলাকা নদীগর্ভে ধসে পড়ে। গত ২০ জুন দুপুরে সদর উপজেলার রতনকান্দি ইউনিয়নের বাহুকা গ্রামে নদীর ডান তীর রক্ষা বাঁধের ৩০ মিটার এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। আকস্মিক এই ভাঙনের তীব্রতায় নদীপাড়ের মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ও শঙ্কা ছড়িয়ে পড়েছে। এসব ভাঙনের জন্য অবৈধভাবে বালু উত্তোলনকে দায়ী করেছেন এলাকাবাসী।

কাওয়াকোলা গ্রামের বাসিন্দা সোলাইমান হোসেন বলেন, ‘যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধির ফলে গত কয়েক দিন ধরে নদীভাঙন অব্যাহত রয়েছে। অনেকেই বাড়িঘর হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে যাচ্ছেন। অনেক সরকারি স্থাপনাও নদীগর্ভে চলে যাচ্ছে। আমরা চরম আতঙ্কের মধ্যে রয়েছি।’ 

সদর উপজেলার ভাটপিয়ারি গ্রামের আমিরুল ইসলাম বলেন, ‘নদীর মাঝখানে চর জেগেছিল। কিন্তু অসাধু চক্রের বালু উত্তোলনের কারণে পুরো চর নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। ওই চরে আমি আখ, গম, কালাইসহ বিভিন্ন ধরনের ফসলের আবাদ করতাম। এখন আমার কিছুই নেই, সব নদীতে চলে গেছে।’ 

সদর উপজেলার কাওয়াকোলা ইউনিয়ন পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক ভূইয়া বলেন, ‘আমার ইউনিয়নের বড় কয়ড়া, বর্নি ও কৈগাড়ি জড়তা গ্রামে নদীভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে। বর্নি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় যে কোনো সময় পুরোপুরি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে। দুর্যোগ আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরে (মুজিব কিল্লা) অস্থায়ীভাবে শিক্ষার্থীদের ক্লাসের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ভাঙনের কারণে এলাকাবাসীর মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।’ 

সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোখলেছুর রহমান বলেন, ‘গত কয়েক দিন ধরে যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে আরও কয়েক দিন যমুনার পানি বাড়তে পারে। তবে পানি বাড়লেও তা এখনো বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। কিছু কিছু এলাকায় ভাঙন দেখা দিয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড জিও ব্যাগ ও বালুর বস্তা ফেলে ভাঙন রোধে কাজ করছে।’ 

শিশির/রিফাত/

শ্রীমঙ্গলে বাস-মোটরসাইকেল সংঘর্ষ, নিহত ২

প্রকাশ: ২৮ জুন ২০২৬, ০৭:১১ পিএম
আপডেট: ২৮ জুন ২০২৬, ০৭:১৩ পিএম
শ্রীমঙ্গলে বাস-মোটরসাইকেল সংঘর্ষ, নিহত ২
ছবি: সংগৃহীত

শ্রীমঙ্গলে বাস ও মটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে দুইজন নিহত হয়েছেন।

রবিবার (২৮ জুন) বিকেলে উপজেলার সাতগাঁও চা কন্যা ভাস্কর্যের সামনে ঢাকা-মৌলভীবাজার আঞ্চলিক মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন হবিগঞ্জ সদর উপজেলার তেঘরিয়া এলাকার রমজান মিয়ার ছেলে সৌরভ (১৭) এবং তাজুল ইসলামের ছেলে নাঈম (১৭) এবং এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন শহিদ আলীর ছেলে সাব্বির (২৫)।

সাতগাঁও হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ি ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বেলা ৩টার দিকে মোটরসাইকেলে করে শ্রীমঙ্গলে আসার পথে হানিফ বাসের সাথে মুখোমুখি সংঘর্ষে মোটরসাইকেল আরোহী তিনজন গুরুতর আহত হন। পরে আহতদের উদ্ধার করে শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক সৌরভ ও নাঈমকে মৃত্যু ঘোষণা করেন। আহত সাব্বিরেক প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে হবিগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়।

শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক মেডিকেল অফিসার ডা. নাভিদ রাইয়ান বিন শহিদ বলেন, বাস ও মোটরসাইকেল সংঘর্ষে আহত তিনজনের মধ্যে দুইজন হাসপাতালে আসার আগেই মত্যুবরণ করেন। একজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালে রেফার্ড করি।

শ্রীমঙ্গল সাতগাঁও হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মামুন রহমান বলেন, খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে গিয়েছি। বর্তমান মরদেহগুলো শ্রীমঙ্গল স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়েছে। বাস চালককে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। বাস ও মোটরসাইকেল থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। এ বিষয়ে আইনি প্রক্রিয়া চলছে।

শুভ/এএফ

তিস্তার পানি বিপৎসীমার ৭ সেন্টিমিটার ওপরে, নিম্নাঞ্চলে বন্যার শঙ্কা

প্রকাশ: ২৮ জুন ২০২৬, ০৬:৪৭ পিএম
আপডেট: ২৮ জুন ২০২৬, ০৬:৪৮ পিএম
তিস্তার পানি বিপৎসীমার ৭ সেন্টিমিটার ওপরে, নিম্নাঞ্চলে বন্যার শঙ্কা
ছবি: খবরের কাগজ

উজানের ঢলে লালমনিরহাটে তিস্তা নদীর পানি আবারও বৃদ্ধি পেয়ে ডালিয়া পয়েন্টে বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে। 

রবিবার (২৮ জুন) সন্ধ্যা ৬টায় তিস্তার ডালিয়া পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে বলে জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)।

এতে তিস্তা তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল ও চরাঞ্চলের বাসিন্দাদের মধ্যে বন্যার শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

পাউবো সূত্রে জানা গেছে, রবিবার সকাল থেকেই তিস্তার পানি ওঠানামা করছিল। বিকেল ৩টায় ডালিয়া পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ১২ সেন্টিমিটার নিচে ছিল। উজান থেকে নেমে আসা ঢলের কারণে দ্রুত পানি বাড়তে শুরু করে। ৩ ঘণ্টার ব্যবধানে ১৯ সে.মি বৃদ্ধি পেয়ে সন্ধ্যা ৬টায় বিপৎসীমার ৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। এরপর বৃদ্ধি অব্যাহত থেকে সন্ধ্যা ৬টায় পানি সমতল দাঁড়ায় ৫২ দশমিক ২২ মিটার, যা বিপৎসীমা (৫২ দশমিক ১৫ মিটার) থেকে ৭ সেন্টিমিটার বেশি।

গত কয়েকদিন ধরেই তিস্তার পানি বিপৎসীমার আশপাশে ওঠানামা করছে। পানির এমন অস্বাভাবিক বৃদ্ধি ও হ্রাসে নদীতীরবর্তী মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষ করে হাতীবান্ধা, কালীগঞ্জ, আদিতমারী ও সদর উপজেলার তিস্তা তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল ও চরাঞ্চলের বাসিন্দারা সম্ভাব্য বন্যার আশঙ্কায় পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছেন।

স্থানীয়রা জানান, বর্তমানে চরাঞ্চলে মৌসুমি ফসল না থাকায় কৃষিক্ষেত্রে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা কম। তবে পানি আরও বাড়লে নিম্নাঞ্চলের বসতবাড়ি, গ্রামীণ সড়ক ও যোগাযোগ ব্যবস্থায় প্রভাব পড়তে পারে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সুনীল কুমার বলেন, ‘তিস্তা নদীর পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। একই সঙ্গে নদী তীরবর্তী বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।’

বকুল/রিফাত/

সোনারগাঁ মেঘনা নদীতে বিআইডব্লিউটিএর ড্রেজিং, চাঁদা না পেয়ে অপপ্রচারের অভিযোগ

প্রকাশ: ২৮ জুন ২০২৬, ০৬:৩৪ পিএম
সোনারগাঁ মেঘনা নদীতে বিআইডব্লিউটিএর ড্রেজিং, চাঁদা না পেয়ে অপপ্রচারের অভিযোগ
ছবি: খবরের কাগজ

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ের মেঘনা নদীতে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) ড্রেজিং কাজ পরিচালনা করছে। ড্রেজিংয়ের ফলে নদীতে অবৈধভাবে গড়ে তোলা মাছের ঝোপ অপসারণ করা হয়। এ সময় ঝোপ অপসারণকে কেন্দ্র করে স্থানীয় যুবলীগ কর্মী নজরুল ইসলাম রিফাত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। দাবিকৃত টাকা না পেয়ে তিনি মানববন্ধনের নামে অপপ্রচার চালাচ্ছেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

বৈদ্যেরবাজার ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. মামুন মিয়া ও ঠিকাদার মোমেন শিকদারের বিরুদ্ধে মানববন্ধন করে মানহানির চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এ অভিযোগের বিষয়ে গত শনিবার সন্ধ্যায় বৈদ্যেরবাজার ইউনিয়ন পরিষদের নিজ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. মামুন মিয়া।

সংবাদ সম্মেলনে চেয়ারম্যান মো. মামুন মিয়া দাবি করেন, নদী ড্রেজিংয়ের বিষয়ে তিনি কিছুই জানতেন না। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বিএনপি নেতা মোমেন শিকদার ড্রেজিং কাজের কার্যাদেশ পান। কার্যাদেশ পাওয়ার পর তিনি নদী খননের কাজ শুরু করেন। 

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) রাতে বৈদ্যেরবাজার ইউনিয়নের খামারগাঁও এলাকার যুবলীগ কর্মী নজরুল ইসলাম রিফাত চেয়ারম্যানের বাড়িতে গিয়ে নদীতে মাছের ঝোপ নষ্ট হওয়ায় মোমেন শিকদারের কাছ থেকে ৫ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবি জানান। 

তখন চেয়ারম্যান জানান, তিনি এ বিষয়ে কিছুই জানেন না এবং টাকার বিষয়েও কোনো সিদ্ধান্ত দিতে পারবেন না। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে রিফাত নারী-পুরুষদের জোরপূর্বক ডেকে মানববন্ধনে অংশ নিতে বাধ্য করেন। পাশাপাশি চেয়ারম্যানের নাম উল্লেখ করার জন্যও চাপ প্রয়োগ করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

জানা গেছে, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) থেকে মুন্সিগঞ্জের ‘চাকদা ড্রেজিং অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (প্রাইভেট) লিমিটেড’ নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেঘনা নদী খননের কার্যাদেশ পায়। নিয়ম অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানটি দিন-রাত অনুমোদিত কাটার সাকশন ড্রেজারের মাধ্যমে নদী খননের কাজ পরিচালনা করছে। খননকৃত বালু নিলামের মাধ্যমে বিক্রি করা হচ্ছে বলেও জানা গেছে।

এ বিষয়ে ব্যবসায়ী মোমেন শিকদার বলেন, ‘মেঘনা নদীতে বিআইডব্লিউটিএর নিয়ম অনুযায়ী ইজারাকৃত স্থানে নদী খননের কাজ চলছে। আনন্দবাজার এলাকা থেকে শুরু হয়ে বারদী ইউনিয়নের ছটাকিয়া ঘাট পর্যন্ত এ খননকাজ চলবে। সম্প্রতি স্থানীয় যুবলীগ কর্মী নজরুল ইসলাম রিফাতের নেতৃত্বে কয়েকজন ব্যক্তি অপপ্রচার চালিয়ে কাজ বন্ধ করে দেওয়ার চেষ্টা করছেন। তারা লোক মারফত আমার কাছে ৫ লাখ টাকা দাবি করেন। দাবিকৃত টাকা না দিলে কাজ বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেন। এছাড়া মানববন্ধন করে আমার মানহানির চেষ্টা করছেন। এ বিষয়ে তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ 

বিআইডব্লিউটিএর ড্রেজিং বিভাগের সহকারী প্রকৌশলী দেবজ্যোতি বড়ুয়া বলেন, ‘সোনারগাঁওয়ের মেঘনা নদীর বৈদ্যেরবাজার ইউনিয়নের আনন্দবাজার থেকে বারদী ইউনিয়নের ছটাকিয়া পর্যন্ত নদী খননের জন্য বৈধভাবে ইজারা দেওয়া হয়েছে। দিন-রাত বিরামহীনভাবে কাজ পরিচালনার জন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অনুমোদিত ১৮/২০-ইঞ্চি কাটার সাকশন ড্রেজার ছাড়া রাতের আঁধারে অন্য কোনো ড্রেজার দিয়ে যাতে বালু উত্তোলন করা না যায়, সে বিষয়ে নজরদারির জন্য নারায়ণগঞ্জ নৌ-পুলিশ সুপারের কাছে চিঠি দেওয়া হয়েছে।’

ইমরান/রিফাত/ 

ফয়’স লেকের প্রবেশমুখে গ্যাস পাইপলাইনে আগুন, আতঙ্কে এলাকাবাসী

প্রকাশ: ২৮ জুন ২০২৬, ০৬:১২ পিএম
ফয়’স লেকের প্রবেশমুখে গ্যাস পাইপলাইনে আগুন, আতঙ্কে এলাকাবাসী
ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রাম নগরের খুলশী থানার জাকির হোসেন সড়কে ফয়’স লেকের প্রবেশমুখে ভূগর্ভস্থ গ্যাস পাইপলাইনের লিকেজ থেকে আকস্মিকভাবে আগুন জ্বলে ওঠায় এলাকায় আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে।

রবিবার (২৮ জুন) দুপুরের দিকে এ ঘটনা ঘটে। আগুনের শিখা মাটি ফুঁড়ে ওপরে উঠতে দেখা গেলে পথচারী, স্থানীয় বাসিন্দা ও যানবাহনের চালকদের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, প্রথমে রাস্তার একটি অংশ থেকে ধোঁয়া বের হতে দেখা যায়। কিছুক্ষণের মধ্যেই সেখানে আগুন জ্বলে ওঠে এবং শিখা দ্রুত উঁচু হয়ে ওঠে। নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে স্থানীয়রা ঘটনাস্থল থেকে লোকজনকে দূরে সরে নেওয়া হয়েছে। 

খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। গ্যাসের প্রবাহ নিয়ন্ত্রণে আনার পর প্রায় ১০ মিনিটের প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।

চট্টগ্রাম আগ্রাবাদ ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তা মোহাম্মদ খলিলুর রহমান বলেন , প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ভূগর্ভস্থ গ্যাস পাইপলাইনে লিকেজ থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট গ্যাস বিতরণকারী প্রতিষ্ঠানের প্রকৌশলীরা পাইপলাইন পরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় মেরামতের কাজ শুরু করেছেন।

তিনি জানান, এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। তবে ব্যস্ত সড়কে এ ধরনের ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। পুরোনো গ্যাসলাইন নিয়মিত পরীক্ষা ও ঝুঁকিপূর্ণ অংশ দ্রুত সংস্কার করা হলে এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব।

এসএন/

 

গোপালগঞ্জে ১৩০০ কৃষকের মাঝে কৃষি উপকরণ বিতরণ

প্রকাশ: ২৮ জুন ২০২৬, ০৫:৫২ পিএম
আপডেট: ২৮ জুন ২০২৬, ০৫:৫৩ পিএম
গোপালগঞ্জে ১৩০০ কৃষকের মাঝে কৃষি উপকরণ বিতরণ
ছবি: খবরের কাগজ

গোপালগঞ্জে টুঙ্গিপাড়ায় এক হাজার ৩০০ জন কৃষকের মাঝে বিনামূল্যে কৃষি উপকরণ বিতরণ করা হয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের খরিফ-২ মৌসুমে কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় এ কৃষি উপকরণ বিতরণ করা হয়।

রবিবার (২৮ জুন) বিকেল ৩টায় টুঙ্গিপাড়া উপজেলা পরিষদ চত্বরে টুঙ্গিপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জহিরুল আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ রাকিবুল ইসলাম, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা শ্রীময়ী বাকচী ও উপজেলা কৃষি অফিসের অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারী, উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা এবং উপকারভোগী কৃষকরা উপস্থিত ছিলেন।

পরে উপকারভোগী কৃষকদের হাতে বিনামূল্যে বীজ, সার, ফলজ ও ঔষধি চারা এবং অন্যান্য কৃষি উপকরণ তুলে দেওয়া হয়। কৃষকরা সরকারের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে সংশ্লিষ্টদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, বিএডিসি ও হর্টিকালচার সেন্টার কর্তৃক সরবরাহকৃত কৃষি উপকরণ উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের মাধ্যমে প্রস্তুতকৃত অগ্রাধিকার তালিকার ভিত্তিতে বিতরণ করা হয়। প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় ৭০০ জন কৃষককে জনপ্রতি ৫ কেজি উফশী আমন ধানের বীজ এবং ২০ কেজি রাসায়নিক সার প্রদান করা হয়।

এছাড়া ৬০০ জন কৃষকের মধ্যে গ্রীষ্মকালীন শাক-সবজির বীজ, বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে মোট ২ হাজার চার’শটি ফলজ ও ঔষধি চারা, রাসায়নিক সার, জৈব সার (গোবর সার) এবং সবজি চাষের জন্য প্রয়োজনীয় বাঁশের খুঁটি বিনামূল্যে বিতরণ করা হয়।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ রাকিবুল ইসলাম বলেন, সরকারের কৃষিবান্ধব এ কর্মসূচির মাধ্যমে কৃষকরা সরাসরি উপকৃত হচ্ছেন। কৃষি বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের সার্বিক কারিগরি সহায়তা প্রদান অব্যাহত রাখবেন।

অনুষ্ঠানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জহিরুল আলম বলেন, সরকারের কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচির লক্ষ্য কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, কৃষকের উৎপাদন ব্যয় কমানো এবং খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। তিনি কৃষকদের সঠিকভাবে বিতরণকৃত উপকরণ ব্যবহার করে উৎপাদন বাড়ানোর আহ্বান জানান।

বাদল/এএফ