একটুর জন্য জ্যোতিদের লক্ষ্য পূরণ হয়নি। নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে তারা গিয়েছিল তিনটি ম্যাচ জেতার জন্য। নেদারল্যান্ডস ও পাকিস্তানকে হারিয়ে সেই স্বপ্ন পূরণের কাছাকাছি চলে গিয়েছিল। তার জন্য প্রয়োজন ছিল শেষ ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে জয়। কিন্তু ৪ উইকেটে হেরে তাদের স্বপ্ন পূরণ ব্যাহত হয়। ‘এ’ গ্রুপে ৫ ম্যাচে ২ জয়ে বাংলাদেশ চতুর্থ হয়েছে। দক্ষিণ আফ্রিকা ছাাড়াও হেরেছে অস্ট্রেলিয়া ও ভারতের কাছে।
ক্রিকেটের তীর্থ স্থান লর্ডসে বাংলাদেশ নারী দল প্রথমবারের মতো খেলতে নেমেছিল। মুদ্রা নিক্ষেপনে জয়ী হয়েছিল নিগার সুলতানা জ্যোতিই। বেছে নিয়েছিলেন ব্যাট। কিন্তু ব্যাটাররা পর্যাপ্ত রান তুলতে পারেননি স্কোর বোর্ডে। ২০ ওভার খেলে ৫ উইকেটে করে ১১৭ রান। জবাব দিতে নেমে দক্ষিণ আফ্রিকার মেয়েরা সেই রান তাড়া করে ১৯.২ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে ১১৮ রান করে।
বাংলাদেশের ইনিংসে রান আসে শবনম মোস্তহারি, অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতি ও শারমিন আক্তারের ব্যাট থেকে। কিন্তু একমাত্র জ্যোতি ছাড়া আর কেউই মারমুখি ব্যাটিং করতে পারেননি। তার স্ট্রাইকটে ছিল একশর উপরে। বাকি সবার স্ট্রাইকরেট ছিল একশর নিচে।
ব্যাট করতে নামার পরই শুরুতেই বাংলাদেশ দুই ওপেনার জুয়ারিয়া ফেরদৌস (০) ও তাজ নাহারকে (১) হারায়। শবনম ও শারমিন জুটি বেধে পতন ঠেকান। কিন্তু রানরেট বাড়াতে পারেনি। তৃতীয় উইকেট জুটিতে তারা ৫৬ রান যোগ করেন ১০.২ ওভারে। ২৯ বলে ১ চারে ২২ রান করে শারমিন আউট হয়ে যান। ৭ রান পরে শবনমও আউট হয়ে যান ৪৮ বলে। ১ ছক্কা ও ৩ চারে ৪২ রান করে। তখন ওভার ছিল ১৬.৩টি। এ সময় অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতি আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করে ১ ছক্কা ও ৪ চারে ৩২ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন। দক্ষিণ আফ্রিকার নোনকুলুলেকু ২২ রানে নেন ২ উইকেট।
পাকিস্তানের বিপক্ষে ১২৩ রান করেও বাংলাদেশ জিতেছিল ২৩ রানে। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে প্রায় কাছাকাছি সংগ্রহে নিয়েও বাংলাদেশ আশাবাদী ছিল। বোলাররাও প্রাণপণ চেষ্টা করেন। প্রথম বলেই মারুফা আক্তার আঘাত হানেন অধিনায়ক লুরাকে ওলভারডটকে বোল্ড করে। তাজমিন ব্রিটস ও অ্যানেরি ডার্কসন জুাট গড়লেও তাদের আক্রমণাত্মক হতে দেননি বাংলাদেশের বোলাররা। ৮.৪ ওভারে ৫২ রান আসার পর ২৪ বলে ২০ রান কার তাজমিনকে আউট করেন নাহিদা আক্তার। পরের ওভারেই ডেন ভানকে মেঘলা এলবিডব্লিু্র ফাঁদে ফেলার পর নাহিদা আউট করেন ৪৫ বলে ৪৫ রান করা অ্যানেরিকে। এ সময় বাংলাদেশের বোলাররা নিয়ন্ত্রিত বোলিং করে ম্যাচ জমিয়ে তুলেন। মারিজানে কেপ ২১ বল ১৬ ও নাদিনে ডি ক্লের্ক ১৪ বরে ১৫ রান করে আউট হয়ে যান।
কিন্তু এ সময় দক্ষিণ আফ্রিকা জয়ের কাছাকাছি পৌঁছে যায়। ডি ক্লের্ক আউট হওয়ার সময় তাদের রান ছিল ১৮.৫ ওভারে ৬ উইকেটে ১১৩ রান। শেষ ৪ উইকেটে ৭ বলে প্রয়োজন ৫ রান। মারুফার করা শেষ ওভারের প্রথম বলে চেরি ট্রায়ন বাউন্ডারি মেরে স্কোর সমান করার পর সিঙ্গেল রান নিয়ে দলের জয় নিশ্চিত করেন। নাহিদা ২৪ রানে নেন ২ উইকেট। একটি করে উইকেট নেন মারুফা, মেঘলা ও রিতু মনি।
পলাশ/