ঢাকা ১৪ আষাঢ় ১৪৩৩, রোববার, ২৮ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
এনসিটি পরিচালনায় বিশ্বমানের অপারেটর 'ডিপি ওয়ার্ল্ড' তাপপ্রবাহে ইউরোপে অতিরিক্ত ১৩০০ জনের বেশি মৃত্যুর রেকর্ড : ডব্লিউএইচও আফ্রিকার জয়জয়কার, হতাশ এশিয়া খবরের কাগজের মহিউদ্দিন পলাশ রানারআপ ঘুষ ছাড়া মিলছে না ধান বিক্রির সুযোগ, বিপাকে কৃষকরা স্বাধীনতা যুদ্ধ আর জুলাই আন্দোলনকে এক কাতারে দেখার সুযোগ নেই: ত্রাণমন্ত্রী নক্ষত্রের পতন হয়নি জিম্বাবুয়েতে বাংলাদেশের ব্যাটিং বিধ্বস্ত রোনালদোকে নিয়ে বেশি ঝুঁকি নিচ্ছে পর্তুগাল? নাঈম হাসানকে থানায় হেনস্তা: তিন পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থার সুপারিশ তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে সরকার দৃঢ় প্রতিজ্ঞ: পানিসম্পদ মন্ত্রী হোন্ডার নতুন সাশ্রয়ী বৈদ্যুতিক হ্যাচব্যাক গাড়ি অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে সর্বোচ্চ দুর্নীতি হয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী চট্টগ্রাম বন্দরে উন্নত সাইবার নিরাপত্তা ব্যবস্থার উদ্বোধন প্রাণী কি মৃত্যু বুঝতে পারে? যেভাবে তৈরি হয়েছিল গিজার গ্রেট পিরামিড ২৭ জুন পর্যন্ত রেমিট্যান্স বেড়েছে ১৭.৩ শতাংশ আঁতুড়ঘর থেকে বিশ্বমঞ্চে তরুণ ফুটবলার গোবিপ্রবির ১৭ শিক্ষককে স্থায়ীভাবে চাকরিচ্যুত করল প্রশাসন দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে হেরে লক্ষ্য পূরণ হলো না জ্যোতিদের অতিরিক্ত আইজি, ডিআইজি ও এসপিসহ ২১ কর্মকর্তার নতুন দায়িত্ব ডেইলি স্টার হামলা মামলায় এনসিপির আনোয়ার রিমান্ডে প্রাথমিক শিক্ষকদের পদমর্যাদা বাড়ানোর ঘোষণা প্রতিমন্ত্রীর ইন্টেল কোর আল্ট্রা প্রসেসরের শক্তি নিয়ে বাজারে এলো লেনোভো আইডিয়াপ্যাড স্লিম ৫ সিরিজ দেশব্যাপী ২৫ হাজার মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম স্থাপনের ঘোষণা শিক্ষামন্ত্রীর একক কোনো মাস্টারমাইন্ড আমরা মানি না: বিরোধীদলীয় নেতা আদ্-দ্বীন হাসপাতালের বাণিজ্যিক আকাঙ্ক্ষা ছিল পুরোপুরি অনৈতিক: স্বাস্থ্যমন্ত্রী দুধকুমার নদীতে ৩ ঘণ্টায় ৫৪ সেন্টিমিটার পানি বৃদ্ধি, নিম্নাঞ্চলে পানি প্রবেশ অপতথ্যের ভিড়ে ‘খবরের ভেতরের খবর’ খুঁজে বের করুন: তথ্য সচিব শ্রীমঙ্গলে বাস-মোটরসাইকেল সংঘর্ষ, নিহত ২

চট্টগ্রাম বন্দরে উন্নত সাইবার নিরাপত্তা ব্যবস্থার উদ্বোধন

প্রকাশ: ২৮ জুন ২০২৬, ০৯:৪২ পিএম
চট্টগ্রাম বন্দরে উন্নত সাইবার নিরাপত্তা ব্যবস্থার উদ্বোধন
ছবি: খবরের কাগজ

ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক সাইবার হামলার হুমকি থেকে নিজেদের গুরুত্বপূর্ণ ডিজিটাল অবকাঠামো রক্ষা, অনলাইন লেনদেন সুরক্ষিত এবং সংবেদনশীল অপারেশনাল ডেটার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে অত্যাধুনিক সাইবার নিরাপত্তা ব্যবস্থা উদ্বোধন করেছে।

রবিবার (২৮ জুন) দুপুরে বন্দরের কনফারেন্স রুমে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এই ব্যবস্থার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন বন্দর চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল এস. এম মনিরুজ্জামান।

অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সকল বোর্ড সদস্য, প্রকল্প পরিচালক, বিভাগীয় প্রধান ও শাখা প্রধান এবং বাস্তবায়নের সাথে জড়িত কারিগরি বিশেষজ্ঞরা উপস্থিত ছিলেন।

বন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বর্তমান উচ্চ আন্তঃসংযুক্ত মেরিটাইম পরিবেশে, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম, স্বয়ংক্রিয় লজিস্টিকস, ইন্টারনেটভিত্তিক পরিষেবা এবং আর্থিক প্রযুক্তির ওপর বন্দরের নির্ভরতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এই ডিজিটাল রূপান্তর যেমন সুযোগ এনেছে, তেমনি এটি জটিল সাইবার আক্রমণের ঝুঁকিও বাড়িয়ে দিয়েছে।

বিষয়টি অনুধাবন করে বন্দর কর্তৃপক্ষ একটি শক্তিশালী প্রতিরোধমূলক অবকাঠামো গড়ে তুলতে সক্রিয়ভাবে পদক্ষেপ গ্রহণ করে। এর অংশ হিসেবে, গত ১১ জানুয়ারি, বাংলাদেশ নৌবাহিনী দ্বারা সরাসরি পরিচালিত একটি শীর্ষস্থানীয় বিশেষায়িত প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠান ডকইকয়ার্ড অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কস লিমিটেড, নারায়ণগঞ্জ-এর সাথে একটি আনুষ্ঠানিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।

নতুন সাইবার নিরাপত্তা ব্যবস্থার মূল অপারেশনাল ক্ষমতাগুলো  নিম্নরূপ:

১. তাৎক্ষণিক প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সম্ভাব্য নেটওয়ার্ক দুর্বলতা এবং অসঙ্গতিগুলো দ্রুত শনাক্ত করে।

২. কঠোর প্রিভিলেজ প্রোটোকল প্রয়োগ করে, যা নিশ্চিত করে যে সংবেদনশীল এবং শ্রেণীবদ্ধ (Classified) অপারেশনাল তথ্য কেবল অনুমোদিত কর্মীরাই অ্যাক্সেস করতে পারবেন।

৩. ক্ষতিকারক ভাইরাস এবং ম্যালওয়ারের কারণে অপারেশনাল ব্যাঘাত, পরিষেবার ডাউনটাইম বা সিস্টেম লকআউটের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস করে।

৪. উদীয়মান এবং জিরো-ডে সাইবার হুমকি সংক্রান্ত ডেটা তাৎক্ষণিকভাবে সংগ্রহ করে, যা তাৎক্ষণিক কৌশলগত প্রতিরক্ষা প্রতিক্রিয়া সক্ষম করে।

৫. কৃত্রিম ট্রাফিক ওভারলোড তৈরির প্রচেষ্টা এবং ডিস্ট্রিবিউটেড ডিনায়েল-অফ-সার্ভিস (DDoS) আক্রমণ প্রতিরোধ করে, যার উদ্দেশ্য থাকে প্রয়োজনীয় সরকারি ও বাণিজ্যিক বন্দর পরিষেবাগুলোকে অচল করে দেওয়া।

৬. সন্দেহজনক বা অননুমোদিত অভ্যন্তরীণ এবং বাহ্যিক নেটওয়ার্ক আচরণ ক্রমাগত পর্যবেক্ষণ এবং চিহ্নিত (flag) করে।

৭. সমস্ত ইন্টারসেপ্টেড ভাইরাস, হুমকির উৎস (threat vectors) এবং আক্রমণের প্রচেষ্টার ব্যাপক ডিজিটাল রেকর্ড বজায় রাখে, যা দীর্ঘমেয়াদী প্রযুক্তিগত তদন্ত এবং প্রবণতা বিশ্লেষণে সহায়তা করে।

৮. একটি সার্বক্ষণিক সেন্ট্রালাইজড নেটওয়ার্ক অ্যান্ড সিকিউরিটি অপারেশনস সেন্টার স্থাপন করে, যা যেকোনো স্থানীয় নিরাপত্তা ঘটনার নিরবচ্ছিন্ন পর্যবেক্ষণ এবং তাৎক্ষণিক প্রশমন নিশ্চিত করে।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চীফ পারসোনেল অফিসার ও সচিব (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. নাসির উদ্দিন বলেন, এই উন্নত সাইবার সিকিউরিটি সিস্টেমের সংযোজন দেশের প্রধান সমুদ্রদ্বারের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। এটি আন্তর্জাতিক জাহাজ ও বন্দর সুবিধা নিরাপত্তা (ISPS) কোডের সাথে কঠোর সামঞ্জস্য সহজতর করার পাশাপাশি নিরবচ্ছিন্ন ২৪/৭ টার্মিনাল অপারেশন নিশ্চিত করবে।

ফলে বন্দর ব্যবহারকারী, অংশীজন এবং আন্তর্জাতিক শিপিং অংশীদাররা একটি স্থিতিশীল, স্বচ্ছ এবং নিরাপদ ডিজিটাল পরিবেশ আশা করতে পারেন। সাইবার ডোমেইনকে দৃঢ়ভাবে রক্ষা করার মাধ্যমে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ বৈশ্বিক মঞ্চে একটি স্থিতিস্থাপক ও বিশ্বমানের লজিস্টিক হাব হিসেবে নিজের অবস্থানকে সক্রিয়ভাবে উন্নত করছে।

তারেক/এএফ

ঘুষ ছাড়া মিলছে না ধান বিক্রির সুযোগ, বিপাকে কৃষকরা

প্রকাশ: ২৮ জুন ২০২৬, ১০:৪৩ পিএম
ঘুষ ছাড়া মিলছে না ধান বিক্রির সুযোগ, বিপাকে কৃষকরা
ছবি: খবরের কাগজ

চাঁদপুরের মতলব উত্তরে সরকারি ধান সংগ্রহ অভিযানে ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতি ও কৃষক হয়রানির অভিযোগ উঠেছে।

লটারির মাধ্যমে নির্বাচিত প্রকৃত কৃষকরা প্রতি কেজি ২৬ টাকা দরে মাথাপিছু ৩ মেট্রিক টন ধান খাদ্য গুদামে বিক্রি করার সুযোগ পাওয়ার কথা থাকলেও, বাস্তবে তারা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।

ভুক্তভোগী চাষিদের অভিযোগ, সরকারি খাদ্য গুদামে নির্দিষ্ট অঙ্কের ঘুষ না দিলে কোনোভাবেই ধান জমা নেওয়া হচ্ছে না। শুধু ঘুষের হয়রানিই নয়, এখানে ঘটেছে জালিয়াতির ঘটনাও। লটারিতে নাম ওঠা অনেক সাধারণ কৃষকের জাতীয় পরিচয়পত্র ব্যবহার করে তাদের অজান্তেই ধান বিক্রি দেখিয়ে টাকা তুলে নিয়েছে একটি চক্র।

দুর্গাপুর ইউনিয়নের কৃষক সুরুজ মোল্লা বলেন, তার আইডি কার্ড দিয়ে সরকারি গুদামের ধান বিক্রি করা হয়েছে। কিন্তু তিনি কিছুই জানেন না।

একই ইউনিয়নের কৃষক তানভীর হোসেন বলেন, ঘুষের টাকা না দিলে সরকারি খাদ্য গুদামে ন্যায্য মূল্যে ধান বিক্রির কোন সুযোগই নেই। তার কাছ থেকে শ্রমিক মজুরি, অফিস খরচ ও বিভিন্ন খরচের  কথা বলে খাদ্য গুদামের অফিস সহকারী সাদ্দাম হোসেন  ৫৫০০ টাকা নিয়েছেন। একই অভিযোগ কৃষক বিল্লাল হোসেনের। তার থেকেও নেওয়া হয়েছে অফিস খরচ বাবদ ৬০০০ টাকা।

মতলব উত্তর উপজেলার কৃষি উদ্যোক্তা পরিষদ প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি মো. আতাউর রহমান সরকার বলেন, উপজেলা কৃষকরা কষ্ট করে ধান উৎপন্ন করেন। ধান বিক্রির জন্য লটারির ব্যবস্থা আছে। কিন্তু সেই লটারিতেও টাকা না দিলে ধান বিক্রি করতে পারছে না কৃষকরা। অনেকেই হয়রানি থেকে বাঁচতে বাধ্য হয়েই ঘুষ দিয়েছেন বলে জানান তিনি।

মতলব উত্তরের খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসমান গনি বলেন, যে টাকাটা নেওয়া হয়েছে সেটা সরকারের ভ্যাট আইটি ও লেবার খরচ। যদি অফিস সহকারী অতিরিক্ত টাকা নিয়ে থাকে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মতলব উত্তর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদা কুলসুম মনি জানান, লটারি বিষয়টা হচ্ছে সম্পূর্ণ অনলাইন ভিত্তিক, এখানে আমাদের কিছু করার আছে কিনা খতিয়ে দেখছি। যেসব অভিযোগ উঠেছে সত্যতা প্রমাণ পেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক (ভারপ্রাপ্ত) জনাব মো. আব্দুর রহমান খান জানান, এই অনিয়মের বিষয় নিয়ে অবগত নই বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে এবং আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সাহাদাত/এএফ 

নাঈম হাসানকে থানায় হেনস্তা: তিন পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থার সুপারিশ

প্রকাশ: ২৮ জুন ২০২৬, ১০:০৯ পিএম
আপডেট: ২৮ জুন ২০২৬, ১০:১১ পিএম
নাঈম হাসানকে থানায় হেনস্তা: তিন পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থার সুপারিশ
জাতীয় ক্রিকেট দলের অফ-স্পিনার নাঈম হাসান। ছবি: খবরের কাগজ

জাতীয় ক্রিকেট দলের অফ-স্পিনার নাঈম হাসানকে থানায় নিয়ে হেনস্তার অভিযোগে পুলিশের একজন উপ-পরিদর্শক (এসআই) ও দুই কনস্টেবলের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করেছে তদন্ত কমিটি। তবে খুলশী থানার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফ হোসেনের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার মতো কোনো দায় না পেলেও, তার দায়িত্ব পালনে অবহেলার বিষয়ে কিছু পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে যুক্ত করা হয়েছে।

রবিবার (২৮ জুন) তদন্ত কমিটি তাদের প্রতিবেদন চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ (সিএমপি) কমিশনার হাসান মো. শওকত আলীর কাছে জমা দেয়।

সিএমপি কমিশনার জানান, তদন্তে এসআইসহ তিনজনের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। পাশাপাশি ঘটনার সার্বিক প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ করে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে সাতটি প্রশাসনিক সুপারিশও করা হয়েছে। ওসির বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থার সুপারিশ না থাকলেও, তার দায়িত্ব পালনে অবহেলার বিষয়ে পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

ঘটনার তদন্তে নগর পুলিশের উপকমিশনার (পশ্চিম) আলমগীর হোসেনের নেতৃত্বে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছিল। নির্ধারিত সময়ের পর অতিরিক্ত সময় নিয়ে কমিটি রোববার তাদের তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়।

গত ১২ জুন রাতে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের ম্যাচ খেলে বিমানে চট্টগ্রামে ফেরেন নাঈম হাসান। বিমানবন্দর থেকে অটোরিকশায় নিজ বাসায় ফেরার পথে নগরের লালখান বাজার মোড়ে পুলিশ তাকে আটক করে খুলশী থানায় নিয়ে যায়। পরে তার পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, থানায় তাকে মারধর ও হেনস্তা করা হয়েছে।

ঘটনার পর খুলশী থানার এসআই শফিকুল ইসলাম ও কনস্টেবল মো. রাসেল চৌধুরীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। একই সঙ্গে তৎকালীন ওসি আরিফ হোসেনকে প্রত্যাহার করা হয়। এ ঘটনায় পুলিশের সোর্স হিসেবে পরিচিত সোহেলকে আটক করা হয়।

এ ঘটনায় নাঈম হাসানের ভাই কামরুল আলম খুলশী থানার দুই পুলিশ সদস্য এবং পুলিশের সোর্স হিসেবে পরিচিত সোহেলকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। মামলাটি বর্তমানে তদন্তাধীন।

তদন্ত প্রতিবেদনে ওসির বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ না থাকলেও, তার দায়িত্ব পালনের বিষয়ে পর্যবেক্ষণ অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় ঘটনাটি প্রশাসনিক পর্যায়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

রিফাত/

চট্টগ্রাম বন্দরে উন্নত সাইবার নিরাপত্তা ব্যবস্থার উদ্বোধন

প্রকাশ: ২৮ জুন ২০২৬, ০৯:৪২ পিএম
চট্টগ্রাম বন্দরে উন্নত সাইবার নিরাপত্তা ব্যবস্থার উদ্বোধন
ছবি: খবরের কাগজ

ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক সাইবার হামলার হুমকি থেকে নিজেদের গুরুত্বপূর্ণ ডিজিটাল অবকাঠামো রক্ষা, অনলাইন লেনদেন সুরক্ষিত এবং সংবেদনশীল অপারেশনাল ডেটার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে অত্যাধুনিক সাইবার নিরাপত্তা ব্যবস্থা উদ্বোধন করেছে।

রবিবার (২৮ জুন) দুপুরে বন্দরের কনফারেন্স রুমে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এই ব্যবস্থার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন বন্দর চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল এস. এম মনিরুজ্জামান।

অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সকল বোর্ড সদস্য, প্রকল্প পরিচালক, বিভাগীয় প্রধান ও শাখা প্রধান এবং বাস্তবায়নের সাথে জড়িত কারিগরি বিশেষজ্ঞরা উপস্থিত ছিলেন।

বন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বর্তমান উচ্চ আন্তঃসংযুক্ত মেরিটাইম পরিবেশে, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম, স্বয়ংক্রিয় লজিস্টিকস, ইন্টারনেটভিত্তিক পরিষেবা এবং আর্থিক প্রযুক্তির ওপর বন্দরের নির্ভরতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এই ডিজিটাল রূপান্তর যেমন সুযোগ এনেছে, তেমনি এটি জটিল সাইবার আক্রমণের ঝুঁকিও বাড়িয়ে দিয়েছে।

বিষয়টি অনুধাবন করে বন্দর কর্তৃপক্ষ একটি শক্তিশালী প্রতিরোধমূলক অবকাঠামো গড়ে তুলতে সক্রিয়ভাবে পদক্ষেপ গ্রহণ করে। এর অংশ হিসেবে, গত ১১ জানুয়ারি, বাংলাদেশ নৌবাহিনী দ্বারা সরাসরি পরিচালিত একটি শীর্ষস্থানীয় বিশেষায়িত প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠান ডকইকয়ার্ড অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কস লিমিটেড, নারায়ণগঞ্জ-এর সাথে একটি আনুষ্ঠানিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।

নতুন সাইবার নিরাপত্তা ব্যবস্থার মূল অপারেশনাল ক্ষমতাগুলো  নিম্নরূপ:

১. তাৎক্ষণিক প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সম্ভাব্য নেটওয়ার্ক দুর্বলতা এবং অসঙ্গতিগুলো দ্রুত শনাক্ত করে।

২. কঠোর প্রিভিলেজ প্রোটোকল প্রয়োগ করে, যা নিশ্চিত করে যে সংবেদনশীল এবং শ্রেণীবদ্ধ (Classified) অপারেশনাল তথ্য কেবল অনুমোদিত কর্মীরাই অ্যাক্সেস করতে পারবেন।

৩. ক্ষতিকারক ভাইরাস এবং ম্যালওয়ারের কারণে অপারেশনাল ব্যাঘাত, পরিষেবার ডাউনটাইম বা সিস্টেম লকআউটের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস করে।

৪. উদীয়মান এবং জিরো-ডে সাইবার হুমকি সংক্রান্ত ডেটা তাৎক্ষণিকভাবে সংগ্রহ করে, যা তাৎক্ষণিক কৌশলগত প্রতিরক্ষা প্রতিক্রিয়া সক্ষম করে।

৫. কৃত্রিম ট্রাফিক ওভারলোড তৈরির প্রচেষ্টা এবং ডিস্ট্রিবিউটেড ডিনায়েল-অফ-সার্ভিস (DDoS) আক্রমণ প্রতিরোধ করে, যার উদ্দেশ্য থাকে প্রয়োজনীয় সরকারি ও বাণিজ্যিক বন্দর পরিষেবাগুলোকে অচল করে দেওয়া।

৬. সন্দেহজনক বা অননুমোদিত অভ্যন্তরীণ এবং বাহ্যিক নেটওয়ার্ক আচরণ ক্রমাগত পর্যবেক্ষণ এবং চিহ্নিত (flag) করে।

৭. সমস্ত ইন্টারসেপ্টেড ভাইরাস, হুমকির উৎস (threat vectors) এবং আক্রমণের প্রচেষ্টার ব্যাপক ডিজিটাল রেকর্ড বজায় রাখে, যা দীর্ঘমেয়াদী প্রযুক্তিগত তদন্ত এবং প্রবণতা বিশ্লেষণে সহায়তা করে।

৮. একটি সার্বক্ষণিক সেন্ট্রালাইজড নেটওয়ার্ক অ্যান্ড সিকিউরিটি অপারেশনস সেন্টার স্থাপন করে, যা যেকোনো স্থানীয় নিরাপত্তা ঘটনার নিরবচ্ছিন্ন পর্যবেক্ষণ এবং তাৎক্ষণিক প্রশমন নিশ্চিত করে।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চীফ পারসোনেল অফিসার ও সচিব (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. নাসির উদ্দিন বলেন, এই উন্নত সাইবার সিকিউরিটি সিস্টেমের সংযোজন দেশের প্রধান সমুদ্রদ্বারের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। এটি আন্তর্জাতিক জাহাজ ও বন্দর সুবিধা নিরাপত্তা (ISPS) কোডের সাথে কঠোর সামঞ্জস্য সহজতর করার পাশাপাশি নিরবচ্ছিন্ন ২৪/৭ টার্মিনাল অপারেশন নিশ্চিত করবে।

ফলে বন্দর ব্যবহারকারী, অংশীজন এবং আন্তর্জাতিক শিপিং অংশীদাররা একটি স্থিতিশীল, স্বচ্ছ এবং নিরাপদ ডিজিটাল পরিবেশ আশা করতে পারেন। সাইবার ডোমেইনকে দৃঢ়ভাবে রক্ষা করার মাধ্যমে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ বৈশ্বিক মঞ্চে একটি স্থিতিস্থাপক ও বিশ্বমানের লজিস্টিক হাব হিসেবে নিজের অবস্থানকে সক্রিয়ভাবে উন্নত করছে।

তারেক/এএফ

শ্রীমঙ্গলে বাস-মোটরসাইকেল সংঘর্ষ, নিহত ২

প্রকাশ: ২৮ জুন ২০২৬, ০৭:১১ পিএম
আপডেট: ২৮ জুন ২০২৬, ০৭:১৩ পিএম
শ্রীমঙ্গলে বাস-মোটরসাইকেল সংঘর্ষ, নিহত ২
ছবি: সংগৃহীত

শ্রীমঙ্গলে বাস ও মটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে দুইজন নিহত হয়েছেন।

রবিবার (২৮ জুন) বিকেলে উপজেলার সাতগাঁও চা কন্যা ভাস্কর্যের সামনে ঢাকা-মৌলভীবাজার আঞ্চলিক মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন হবিগঞ্জ সদর উপজেলার তেঘরিয়া এলাকার রমজান মিয়ার ছেলে সৌরভ (১৭) এবং তাজুল ইসলামের ছেলে নাঈম (১৭) এবং এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন শহিদ আলীর ছেলে সাব্বির (২৫)।

সাতগাঁও হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ি ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বেলা ৩টার দিকে মোটরসাইকেলে করে শ্রীমঙ্গলে আসার পথে হানিফ বাসের সাথে মুখোমুখি সংঘর্ষে মোটরসাইকেল আরোহী তিনজন গুরুতর আহত হন। পরে আহতদের উদ্ধার করে শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক সৌরভ ও নাঈমকে মৃত্যু ঘোষণা করেন। আহত সাব্বিরেক প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে হবিগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়।

শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক মেডিকেল অফিসার ডা. নাভিদ রাইয়ান বিন শহিদ বলেন, বাস ও মোটরসাইকেল সংঘর্ষে আহত তিনজনের মধ্যে দুইজন হাসপাতালে আসার আগেই মত্যুবরণ করেন। একজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালে রেফার্ড করি।

শ্রীমঙ্গল সাতগাঁও হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মামুন রহমান বলেন, খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে গিয়েছি। বর্তমান মরদেহগুলো শ্রীমঙ্গল স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়েছে। বাস চালককে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। বাস ও মোটরসাইকেল থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। এ বিষয়ে আইনি প্রক্রিয়া চলছে।

শুভ/এএফ

তিস্তার পানি বিপৎসীমার ৭ সেন্টিমিটার ওপরে, নিম্নাঞ্চলে বন্যার শঙ্কা

প্রকাশ: ২৮ জুন ২০২৬, ০৬:৪৭ পিএম
আপডেট: ২৮ জুন ২০২৬, ০৬:৪৮ পিএম
তিস্তার পানি বিপৎসীমার ৭ সেন্টিমিটার ওপরে, নিম্নাঞ্চলে বন্যার শঙ্কা
ছবি: খবরের কাগজ

উজানের ঢলে লালমনিরহাটে তিস্তা নদীর পানি আবারও বৃদ্ধি পেয়ে ডালিয়া পয়েন্টে বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে। 

রবিবার (২৮ জুন) সন্ধ্যা ৬টায় তিস্তার ডালিয়া পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে বলে জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)।

এতে তিস্তা তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল ও চরাঞ্চলের বাসিন্দাদের মধ্যে বন্যার শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

পাউবো সূত্রে জানা গেছে, রবিবার সকাল থেকেই তিস্তার পানি ওঠানামা করছিল। বিকেল ৩টায় ডালিয়া পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ১২ সেন্টিমিটার নিচে ছিল। উজান থেকে নেমে আসা ঢলের কারণে দ্রুত পানি বাড়তে শুরু করে। ৩ ঘণ্টার ব্যবধানে ১৯ সে.মি বৃদ্ধি পেয়ে সন্ধ্যা ৬টায় বিপৎসীমার ৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। এরপর বৃদ্ধি অব্যাহত থেকে সন্ধ্যা ৬টায় পানি সমতল দাঁড়ায় ৫২ দশমিক ২২ মিটার, যা বিপৎসীমা (৫২ দশমিক ১৫ মিটার) থেকে ৭ সেন্টিমিটার বেশি।

গত কয়েকদিন ধরেই তিস্তার পানি বিপৎসীমার আশপাশে ওঠানামা করছে। পানির এমন অস্বাভাবিক বৃদ্ধি ও হ্রাসে নদীতীরবর্তী মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষ করে হাতীবান্ধা, কালীগঞ্জ, আদিতমারী ও সদর উপজেলার তিস্তা তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল ও চরাঞ্চলের বাসিন্দারা সম্ভাব্য বন্যার আশঙ্কায় পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছেন।

স্থানীয়রা জানান, বর্তমানে চরাঞ্চলে মৌসুমি ফসল না থাকায় কৃষিক্ষেত্রে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা কম। তবে পানি আরও বাড়লে নিম্নাঞ্চলের বসতবাড়ি, গ্রামীণ সড়ক ও যোগাযোগ ব্যবস্থায় প্রভাব পড়তে পারে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সুনীল কুমার বলেন, ‘তিস্তা নদীর পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। একই সঙ্গে নদী তীরবর্তী বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।’

বকুল/রিফাত/