উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের দীর্ঘদিনের পানি সংকট, নদীভাঙন ও বন্যা সমস্যার স্থায়ী সমাধানে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে সরকার দৃঢ় প্রতিজ্ঞ বলে জানিয়েছেন পানিসম্পদ মন্ত্রী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। তিনি বলেন, এ প্রকল্প বাস্তবায়নে চীনের পূর্ণ কারিগরি সহযোগিতা ও সমর্থন পাওয়া গেছে এবং চলতি অর্থবছরেই এর বাস্তবায়ন কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হবে।
রবিবার (২৮ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় তথা প্রথম বাজেট অধিবেশনের ১৭তম দিনে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, নদীভাঙন, পানির সংকট ও বন্যার সঙ্গে প্রতিনিয়ত লড়াই করছে দেশের লাখো মানুষ। তিস্তা, পদ্মা, যমুনা, মেঘনা ও ব্রহ্মপুত্রসহ প্রায় চার হাজার কিলোমিটার নদীভাঙনপ্রবণ এলাকায় বসবাসকারী মানুষের স্থায়ী সমাধান নিশ্চিত করাই সরকারের লক্ষ্য।
তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক চীন সফরে তিস্তা প্রকল্প সর্বোচ্চ গুরুত্ব পেয়েছে। চীনের প্রেসিডেন্ট, প্রধানমন্ত্রী ও পানিসম্পদ মন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে প্রকল্প বাস্তবায়ন নিয়ে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে। চীন প্রয়োজনীয় কারিগরি সহায়তা দিতে সম্মত হয়েছে। ইতোমধ্যে বাংলাদেশ বিশেষজ্ঞ দল গঠন করেছে এবং সমীক্ষার কাজ শুরু হয়েছে।
পানিসম্পদ মন্ত্রী বলেন, উত্তরাঞ্চলের আরেক গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প পদ্মা ব্যারেজ বাস্তবায়নের সিদ্ধান্তও সরকার নিয়েছে। দ্রুত টেন্ডার প্রক্রিয়া শুরু হবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে শুষ্ক মৌসুমে সেচ সংকট দূর হবে, কৃষি উৎপাদন বাড়বে এবং সংশ্লিষ্ট নদী-খালগুলোর পানিপ্রবাহ স্বাভাবিক হবে।
তিনি আরও জানান, গত চার মাসে জরুরি ভিত্তিতে প্রায় ৫০০ কিলোমিটার নদীতীর সংরক্ষণ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। পাশাপাশি দেশব্যাপী ২০ হাজার কিলোমিটার খাল পুনঃখননের কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে, যা প্রয়োজন হলে ২৫ হাজার কিলোমিটার পর্যন্ত সম্প্রসারণ করা হবে।
মন্ত্রী বলেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা, পদ্মা ব্যারেজ, নদীভাঙন প্রতিরোধ ও খাল পুনঃখনন কর্মসূচির মাধ্যমে দেশের কৃষি, সেচ, নৌ-যোগাযোগ এবং সামগ্রিক অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে সরকার কাজ করে যাচ্ছে।
এলিসা/এসএন