ঢাকা ১৫ আষাঢ় ১৪৩৩, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
বিশ্বকাপের গ্রুপপর্ব শেষে সেরা একাদশে জায়গা পেলেন যারা যাদের নিয়ে নকআউটের প্রথম ম্যাচে নামছে কানাডা-দ.আফ্রিকা ঐতিহাসিকভাবে জামায়াতে ইসলামী সবসময় ‘সুবিধাবাদী’, একাত্তরে তারা স্বাধীনতা চায়নি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অধিবেশনের শেষ সময়ে ওয়াকআউট বিরোধী দলের কক্সবাজারসহ কয়েকটি জেলায় ভূমিকম্পের কম্পন ৭১-এর ভূমিকার জন্য জামায়াতের ক্ষমা চাওয়া উচিত ছিল: মির্জা ফখরুল জার্মানি-প্যারাগুয়ে ম্যাচ কে জিতবে, সুপারকম্পিউটারের ভবিষ্যদ্বাণী বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের পর দক্ষিণ কোরিয়ার কোচের পদত্যাগ ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সুদের টাকা নিয়ে দুই গ্রামের সংঘর্ষে নিহত ১, আহত ৩০ এনসিটি পরিচালনায় বিশ্বমানের অপারেটর 'ডিপি ওয়ার্ল্ড': কৌশলগত অংশীদারিত্বের নতুন সমীকরণ তাপপ্রবাহে ইউরোপে অতিরিক্ত ১৩০০ জনের বেশি মৃত্যুর রেকর্ড : ডব্লিউএইচও আফ্রিকার জয়জয়কার, হতাশ এশিয়া খবরের কাগজের মহিউদ্দিন পলাশ রানারআপ ঘুষ ছাড়া মিলছে না ধান বিক্রির সুযোগ, বিপাকে কৃষকরা স্বাধীনতা যুদ্ধের সঙ্গে জুলাই আন্দোলনের তুলনার সুযোগ নেই: ত্রাণমন্ত্রী নক্ষত্রের পতন হয়নি জিম্বাবুয়েতে বাংলাদেশের ব্যাটিং বিধ্বস্ত রোনালদোকে নিয়ে বেশি ঝুঁকি নিচ্ছে পর্তুগাল? নাঈম হাসানকে থানায় হেনস্তা: তিন পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থার সুপারিশ তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে সরকার দৃঢ় প্রতিজ্ঞ: পানিসম্পদ মন্ত্রী হোন্ডার নতুন সাশ্রয়ী বৈদ্যুতিক হ্যাচব্যাক গাড়ি অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে সর্বোচ্চ দুর্নীতি হয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী চট্টগ্রাম বন্দরে উন্নত সাইবার নিরাপত্তা ব্যবস্থার উদ্বোধন প্রাণী কি মৃত্যু বুঝতে পারে? যেভাবে তৈরি হয়েছিল গিজার গ্রেট পিরামিড ২৭ জুন পর্যন্ত রেমিট্যান্স বেড়েছে ১৭.৩ শতাংশ আঁতুড়ঘর থেকে বিশ্বমঞ্চে তরুণ ফুটবলার গোবিপ্রবির ১৭ শিক্ষককে স্থায়ীভাবে চাকরিচ্যুত করল প্রশাসন দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে হেরে লক্ষ্য পূরণ হলো না জ্যোতিদের অতিরিক্ত আইজি, ডিআইজি ও এসপিসহ ২১ কর্মকর্তার নতুন দায়িত্ব

অধিবেশনের শেষ সময়ে ওয়াকআউট বিরোধী দলের

প্রকাশ: ২৮ জুন ২০২৬, ১১:৫৫ পিএম
অধিবেশনের শেষ সময়ে ওয়াকআউট বিরোধী দলের
ছবি: সংগৃহীত

সংসদে বক্তব্য দেওয়ার ক্ষেত্রে বৈষম্য, নির্ধারিত সময় না দেওয়া এবং বিল পাসে যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ না করার অভিযোগ তুলে জাতীয় সংসদ থেকে ওয়াকআউট করেছে বিরোধী দলীয় জোট।

রবিবার (২৮ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় তথা প্রথম বাজেট অধিবেশনের ১৭তম দিনে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনা চলাকালে এ ঘটনা ঘটে। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।

ওয়াকআউটের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন বিরোধী জোটের সদস্য ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন। তিনি অভিযোগ করেন, বিরোধী দলের জন্য নির্ধারিত ২৬ শতাংশ সময় বরাদ্দ কার্যত নিশ্চিত করা হচ্ছে না। ফলে সংসদ সদস্যরা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বক্তব্য দেওয়ার ন্যায্য সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

তিনি আরও বলেন, নতুন বিল উত্থাপন ও পাসের ক্ষেত্রে যথাযথ সংসদীয় প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হচ্ছে না। পাশাপাশি বিরোধী সদস্যদের পয়েন্ট অব অর্ডারে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগও সীমিত করা হয়েছে। তার দাবি, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে ৩০০ বিধিতে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হলেও অন্য সদস্যদের একই ধরনের সুযোগ দেওয়া হয়নি।

ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন বলেন, “সংসদ সদস্য হিসেবে যদি আমাদের বক্তব্যই উপস্থাপন করতে না দেওয়া হয়, তাহলে অধিবেশন কক্ষে উপস্থিত থাকার কোনো অর্থ থাকে না।” এ বৈষম্যমূলক আচরণের প্রতিবাদেই বিরোধী জোট সংসদ কক্ষ ত্যাগ করেছে বলে জানান তিনি।

এলিস/এসএন

ঐতিহাসিকভাবে জামায়াতে ইসলামী সবসময় ‘সুবিধাবাদী’, একাত্তরে তারা স্বাধীনতা চায়নি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

প্রকাশ: ২৮ জুন ২০২৬, ১১:৫৯ পিএম
ঐতিহাসিকভাবে জামায়াতে ইসলামী সবসময় ‘সুবিধাবাদী’, একাত্তরে তারা স্বাধীনতা চায়নি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। ছবি: সংগৃহীত

একাত্তরে স্বাধীনতার বিরোধিতা থেকে শুরু করে বর্তমান রাজনীতিতে জামায়াতে ইসলামীর ‘সুবিধাবাদী’ ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেছেন, ঐতিহাসিকভাবে জামায়াতে ইসলামী সবসময় সুবিধাবাদী রাজনীতি করেছে। ১৯৪৭ সালে তারা পাকিস্তান চায়নি, আবার ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতারও বিরোধিতা করেছে। মুখে ইসলামের কথা বললেও তাদের রাজনৈতিক অবস্থান ও কর্মকাণ্ডে তার প্রতিফলন নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

রবিবার (২৮ জুন) ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম বাজেট অধিবেশনের ১৭তম দিনে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

জামায়াতে ইসলামীকে একটি 'আন্তর্জাতিক সংগঠনের শাখা' হিসেবে আখ্যায়িত করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দলটির ৯৩ পৃষ্ঠার নির্বাচনী ইশতেহারে শরিয়াভিত্তিক রাষ্ট্র, ইসলামী সমাজব্যবস্থা, ইসলামী বিচারব্যবস্থা কিংবা ইসলামী অর্থনীতি প্রতিষ্ঠার কোনো সুস্পষ্ট অঙ্গীকার নেই। তিনি প্রশ্ন রাখেন, “তাহলে তারা কেমন ইসলামী দল?” শিক্ষা বিষয়ে তাদের প্রস্তাবেও শুধু মাদ্রাসা শিক্ষার আধুনিকায়নের কথা রয়েছে, সাধারণ শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে কোনো সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

দলটির অতীত ইতিহাস তুলে ধরে সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ১৯৪১ সালে ব্রিটিশ ভারতের লাহোরে প্রতিষ্ঠিত এই দলটি ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান চায়নি, আবার ১৯৭১ সালে বাংলাদেশও চায়নি। উল্টো মুক্তিযুদ্ধের সময় এদেশীয় দোসর হিসেবে গভর্নর মালেক সরকারের মন্ত্রিসভায় জামায়াত নেতাদের মন্ত্রী হওয়ার ইতিহাসও তিনি সংসদে স্মরণ করিয়ে দেন। পরবর্তীতে ১৯৭৯ সালে ধর্মভিত্তিক রাজনীতির সুযোগ পেয়ে পুনরায় সংগঠিত হওয়া এবং বিভিন্ন সময়ে সুবিধাবাদী জোট গঠনের অভিযোগও তোলেন তিনি।

মুক্তিযুদ্ধের সময় জামায়াতের নেতারা পাকিস্তানি শাসকদের সহযোগিতা করেছেন এবং তৎকালীন গভর্নর মালেকের মন্ত্রিসভায় অংশ নিয়েছিলেন। পরে রাজনৈতিক সুযোগ সৃষ্টি হলে তারা আবারও সংগঠিত হয়ে বিভিন্ন সময়ে সুবিধাবাদী জোট রাজনীতি করেছে। 

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বিরোধীদের সমালোচনার জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে দেশের পরিস্থিতি আগের তুলনায় উন্নত হয়েছে। অপরাধ সংঘটনের পর দ্রুত তদন্ত, গ্রেপ্তার ও বিচারিক কার্যক্রম নিশ্চিত করা হচ্ছে। মাদক, জুয়া ও অন্যান্য সামাজিক অপরাধ দমনে আধুনিক আইন প্রণয়নের কাজও এগিয়ে চলছে।

অর্থনীতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ৯ লাখ ৩৭ হাজার কোটি টাকার প্রস্তাবিত বাজেট দেশকে স্বনির্ভর অর্থনীতির পথে এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যেই প্রণয়ন করা হয়েছে। একই সঙ্গে তিস্তা মহাপরিকল্পনা ও পদ্মা ব্যারেজের মতো বড় প্রকল্প বাস্তবায়নে সরকারের দৃঢ় অঙ্গীকারের কথাও পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।

এলিস/এসএন

একক কোনো মাস্টারমাইন্ড আমরা মানি না: বিরোধীদলীয় নেতা

প্রকাশ: ২৮ জুন ২০২৬, ০৭:৪৮ পিএম
আপডেট: ২৮ জুন ২০২৬, ০৮:০১ পিএম
একক কোনো মাস্টারমাইন্ড আমরা মানি না:  বিরোধীদলীয় নেতা
বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াত ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান/ ছবি: সংগৃহীত

একক কোনো মাস্টারমাইন্ড আমরা মানি না বলে মন্তব্য করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।

জুলাই-আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানের নায়ক অথবা ‘মাস্টারমাইন্ড’ কে- এ প্রশ্নকে কেন্দ্র করে জাতীয় সংসদে সরকারি দল বিএনপি ও প্রধান বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর মধ্যে তুমুল তর্ক-বিতর্ক হয়েছে।

সরকারি দলের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমানকে জুলাই আন্দোলনের প্রধান নায়ক হিসেবে দাবি করা হয়।

অন্যদিকে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘এ আন্দোলনের কোনো একক মাস্টারমাইন্ড নেই; এর প্রকৃত শক্তি ছিল বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষ এবং দেশের তরুণ প্রজন্ম।’

রবিবার (২৮ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম বাজেট অধিবেশনের ১৭তম দিনের সাধারণ আলোচনায় বিষয়টি নিয়ে দুই দফা বিতর্ক হয়।

প্রথমে প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে বেসামরিক বিমান ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, ‘দূরে অবস্থান করেও তারেক রহমান বুদ্ধিবৃত্তিক ও কৌশলগত নেতৃত্ব দিয়ে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকে সফল করেছেন।’ 

তিনি আরও উল্লেখ করেন, বিরোধীদলীয় নেতা অতীতে তারেক রহমানকে আন্দোলনের প্রধান নায়ক হিসেবে অভিহিত করেছিলেন।

এরপর পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াত ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘তার বক্তব্যের সময়কাল সঠিকভাবে তুলে ধরা হয়নি।’

তিনি জানান, ওই মন্তব্য তিনি ২০২৪ সালের এপ্রিল মাসে করেছিলেন। কিন্তু ৫ আগস্টের পর দেশের রাজনৈতিক বাস্তবতা পরিবর্তিত হয়। গণ-অভ্যুত্থান সফল হওয়ার পর যাদের নেতৃত্বে আন্দোলন বিজয়ে পৌঁছেছে, তাদের যথাযথ মর্যাদা দেওয়া উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

দুপুরে অধিবেশন পুনরায় শুরু হলে বিএনপির সংসদ সদস্য জয়নাল আবেদীন ফারুক বিষয়টি আবারও উত্থাপন করে বলেন, ‘বিরোধীদলীয় নেতা নিজেই একসময় প্রকাশ্যে তারেক রহমানকে জুলাই আন্দোলনের মহানায়ক ও প্রধান নায়ক হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন। তাই এম রশিদুজ্জামান মিল্লাতের বক্তব্য সঠিক এবং তা সংসদের কার্যবিবরণীতে সংরক্ষণ করা উচিত।’ 

পাল্টা বক্তব্যে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘অতীতের বক্তব্য তিনি অস্বীকার করছেন না। তবে সেটি ছিল ভিন্ন সময় ও ভিন্ন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দেওয়া।’

তিনি বলেন, ‘৫ আগস্টের পর আন্দোলনের চরিত্র ও বাস্তবতা নতুন মাত্রা পায়। তাই জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের কৃতিত্ব কোনো একক ব্যক্তি বা নেতৃত্বের নয়; এটি গণমানুষের সম্মিলিত সংগ্রামের ফল।’ 

বিরোধীদলীয় নেতা আরও বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বিদেশ সফরের সময় একজনকে (মাহফুজ আলম) জুলাই আন্দোলনের ‘মাস্টারমাইন্ড’ হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন। তখন তিনিই প্রথম এর প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, এ ধরনের গণ-অভ্যুত্থানকে কোনো একক ব্যক্তির কৃতিত্ব হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।’ 

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের যুবসমাজকে কৃতিত্ব দিতে চাই। এই আন্দোলনের মাস্টারমাইন্ড বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষ। একক কোনো মাস্টারমাইন্ড আমরা মানি না, আগেও বলেছি, এখনও বলছি।’ 

এলিস/এএফ

জামালপুর-১ আসনের সাবেক এমপি নূর মোহাম্মদ গ্রেপ্তার

প্রকাশ: ২৮ জুন ২০২৬, ০৮:৪১ এএম
জামালপুর-১ আসনের সাবেক এমপি নূর মোহাম্মদ গ্রেপ্তার
সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) নুর মোহাম্মদ

রাজধানীর গুলশান এলাকা থেকে জামালপুর-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) নুর মোহাম্মদকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

শনিবার (২৭ জুন) রাতে তাকে আটক করা হয়। 

ডিবিপ্রধান মো. শফিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, জামালপুর-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য নুর মোহাম্মদকে গুলশান থেকে আটক করে মিন্টো রোডের ডিবি কার্যালয়ে নেওয়া হয়েছে।

তিনি সংবাদমাধ্যমকে বলেন, নূর মোহাম্মদের বিরুদ্ধে জামালপুরে মামলা রয়েছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে।

গত ১ জানুয়ারি বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে সাবেক সংসদ সদস্য নূর মোহাম্মদ, তার স্ত্রী রওশন আরা বেগম ও ভাতিজা সাইফুল ইসলামের দেশত্যাগের নিষেধাজ্ঞার আদেশ দেন ঢাকার একটি আদালত।

নুর মোহাম্মদ জামালপুর-১ আসন থেকে আওয়ামী লীগের হয়ে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। 

তার আগে ২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লড়লেও সে সময় পরাজিত হয়েছিলেন। 

অমিয়/

১০ দফা দাবিতে সিলেটে জাতীয় মুক্তি কাউন্সিলের সমাবেশ

প্রকাশ: ২৭ জুন ২০২৬, ০৯:১৬ পিএম
১০ দফা দাবিতে সিলেটে জাতীয় মুক্তি কাউন্সিলের সমাবেশ
ছবি: সংগৃহীত

কৃষি ও জলাশয়ের ওপর জনগণের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠাসহ ১০ দফা দাবিতে সিলেটে সমাবেশ করেছে জাতীয় মুক্তি কাউন্সিল। সমাবেশে বক্তারা কৃষিজমি ও জলাশয় রক্ষায় কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ এবং জনগণের অধিকার নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

শনিবার (২৭ জুন)  জাতীয় মুক্তি কাউন্সিল সিলেট জেলা শাখার উদ্যোগে সিলেট কোর্ট পয়েন্টে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

জাতীয় মুক্তি কাউন্সিল সিলেট জেলা শাখার সমন্বয়ক নুরুল ইসলাম মকবুলের  সভাপতিত্বে ও ট্রেড ইউনিয়ন ফেডারেশনের যুগ্ম আহবায়ক মিনহাজ আহমেদের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত এ সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন  জাতীয় মুক্তি কাউন্সিলের কেন্দ্রীয়  সমন্বয়ক ফয়জুল হাকিম। সভায় বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ লেখক শিবির সিলেট জেলা শাখার সভাপতি খালেদ উদ্দিন৷ সিলেট জেলা হোটেল শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক এম সফর আলী খান, বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন  ফেডারেশন  সিলেট জেলা শাখার সদস্য  হারুন উর রশিদ, সভায় বক্তব্য রাখেন শান্তিগঞ্জ উপজেলার কৃষক মজুর মৎস্যজীবী সংগ্রাম কমিটির মুখ্য সমন্বয়ক মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন,  সমন্বয়ক মোহাম্মদ সাহেব আলী, সমন্বয়ক ফয়জুল খান, সংগঠক  খালিক মিয়া,  জুনায়েদ আহমেদ, জাকির হোসেন প্রমূখ।

 উপস্থিত ছিলেন জাতীয় মুক্তি কাউন্সিল সুনামগঞ্জ জেলা শাখার সংগঠক সত্যজিৎ আচার্য্য।   

প্রধান অতিথির বক্তব্যে জাতীয় মুক্তি কাউন্সিলের কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক ফয়জুল হাকিম  বলেন, কৃষক মজুর মেহনতি জনগণের স্বার্থে বাজেট প্রণয়ন করতে হবে।  বাজেটে কোন খাতে কত খরচ হচ্ছে তার পূর্ণাঙ্গ তথ্য দিতে হবে।  কৃষি, শিক্ষা, ও স্বাস্থ্য খাতে বাজেট বরাদ্দে সরকারকে গুরুত্ব দিতে হবে।  কৃষিকে বাদ দিয়ে শিল্প খাতকে গুরুত্ব দিলে চলবে না। গ্রামাঞ্চলে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে হলে, কৃষিকে গুরুত্ব দিতে হবে।  কৃষি নির্ভর বাংলাদেশের অর্থনীতি আজ অনুৎপাদনশীল খাজনাখোরদের হাতে জিম্মি রয়েছে।  উৎপাদক কৃষক ও মতস্যজীবীরা ফসল ও মাছ চাষ করে  লাভবান হতে পারছেন না। উৎপাদন করতে গিয়ে নিজেদের সম্বল হারিয়ে কৃষকরা আজ শহরে মজুরি শ্রমিকে পরিণত হচ্ছে।  হাওর অঞ্চলে পানি উন্নয়ন বোর্ড  এর  পিআইসি  বাঁধ নির্মাণে  দুর্নীতি,  হারভেস্টার নিয়োগে দুর্নীতি,  কৃষকের কাছ থেকে ধান না কিনে মধ্যস্বত্ব ভোগীদের কাছ থেকে ধান কেনা, সার- বীজ -কীটনাশক  ডিলারের মাধ্যমে   অতিরিক্ত মূল্যে কৃষকের কাছে বিক্রি করার কারণে কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।  সমবায় ভিত্তিক কৃষি উৎপাদন করার মাধ্যমে এই সমস্যার সমাধান করতে হবে । ১০ দফা দাবি আদায়ের আন্দোলন কৃষকদের কৃষির উপর নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় জোরালো ভূমিকা পালন করবে। 

সভায় বক্তারা ১০ দফা দাবি আদায়ে কৃষক মজুর জনগণের ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান করেন।

এসএন/

বিএনপি-জামায়াতকে বাদ দিয়ে তৃতীয় শক্তির নতুন জোটের ইঙ্গিত মান্নার

প্রকাশ: ২৭ জুন ২০২৬, ০৯:০০ পিএম
বিএনপি-জামায়াতকে বাদ দিয়ে তৃতীয় শক্তির নতুন জোটের ইঙ্গিত মান্নার
নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না। ছবি: সংগৃহীত

বিএনপি ও জামায়াতের বাইরে একটি নতুন রাজনৈতিক মেরুকরণের ইঙ্গিত দিলেন নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না। 

শনিবার (২৭ জুন) রাজধানীর কাকরাইলে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউটের মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি মিলনায়তনে নাগরিক ঐক্যের ১৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে আয়োজিত মিলনমেলায় মান্না স্পষ্ট জানিয়েছেন, আগামী দিনে ছোট দলগুলোকে নিয়ে একটি কার্যকর ‘তৃতীয় রাজনৈতিক শক্তি’ গড়ে তোলাই হবে তাদের প্রধান লক্ষ্য।

এই অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মাহমুদুর রহমান মান্না। এতে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান এবং জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল রফিকুল ইসলাম খানসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা। 

সভায় মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, ‘আমরা যারা তথাকথিত বড় দুই ধারার বাইরে রয়েছি, আমাদের কি করার আছে? আগামী দিনগুলোতে কি আমরা আবার কোনো বড় দলের লেজুড়বৃত্তি করব, নাকি নিজস্ব শক্তি নিয়ে এগোব? আমি মনে করি, এখন সময় এসেছে সমমনা দলগুলোকে নিয়ে একটি শক্তিশালী তৃতীয় রাজনৈতিক শক্তি গড়ে তোলার।’

নাগরিক ঐক্য, এবি পার্টি, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি বা গণসংহতির মতো দলগুলোকে নিজেদের সাংগঠনিক ক্ষমতা বাড়ানোর পরামর্শ দেন মান্না। তিনি বলেন, ‘বড় দলগুলো যখন ক্ষমতার কাছাকাছি থাকে, তখন তারা ছোটদের গুরুত্ব দেয় না। তাই জনগণের আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে একটি স্বতন্ত্র প্ল্যাটফর্ম তৈরি করাই এখন সময়ের দাবি।’

পাঁচ বছর পর বা বড় কোনো অভ্যুত্থান পরবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে মান্না তার দলীয় সহকর্মীদের সতর্ক করে দিয়ে বলেন, ‘আমরা যেন এমন জায়গায় না থাকি যেখানে জেতার কোনো সম্ভাবনা নেই। বড় দলের জোটে থেকে নির্বাচন করার চেয়ে নিজেদের সাংগঠনিক ভিত্তি শক্ত করে মানুষের কাছে যাওয়া বেশি জরুরি। আমরা জনগণের কল্যাণে নিবেদিত একটি বিকল্প শক্তি হিসেবে নিজেদের তুলে ধরতে চাই।’

তিনি উপস্থিত নেতাদের উদ্দেশে বলেন, ‘আমি চাই, আগামীতে আমরা যারা একই চিন্তা করি, তারা এক ছাতার নিচে আসি। নিজেদের বাহুতে জোর থাকলে কোনো বড় শক্তির মুখাপেক্ষী হতে হবে না। নিজের পায়ে দাঁড়িয়েই আমরা আগামী দিনের বাংলাদেশের রাজনীতি নিয়ন্ত্রণ করতে পারব।’

মান্না তার বক্তব্যে দেশের বর্তমান আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও অর্থনীতির ওপর গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। 

তিনি বলেন, ‘জনগণ এখন আর রাজনৈতিক কৌশলের চেয়ে জীবনযাত্রার মান ও নিরাপত্তার ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। আমরা কোনো দলের অন্ধ অনুসারী হতে আসিনি। নাগরিক ঐক্যের মূল লক্ষ্যই হলো জনগণের সেবা নিশ্চিত করা। যদি কোনো রাজনৈতিক দল জনগণের এই আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করে, তবে আমরা তাদের সঙ্গে থাকব না।’

জয়ন্ত সাহা/রিফাত/