অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে সর্বোচ্চ দুর্নীতি হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
রবিবার (২৮ জুন) জাতীয় সংসদে বাজেট অধিবেশনে এ কথা বলেন তিনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় যমুনার অন্দরে আর কিনারে হওয়া ভয়াবহ দুর্নীতির তদন্ত করতে দুদককে নির্দেশ দিতে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘সাম্প্রতিক সময়ে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) একটি প্রতিবেদনে বর্তমান সময়েও উচ্চমাত্রার দুর্নীতির কথা উঠে এসেছে। তাই অন্তর্বর্তী সরকারের পুরো সময়কালে কোথায়, কীভাবে এবং কারা দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত ছিল, তা দুদকের মাধ্যমে অনুসন্ধান করা প্রয়োজন। তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের ভিত্তি স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি। ফলে যেকোনো অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া উচিত।’
বক্তব্যে তিনি ২০০৯ থেকে ২০২৪ সালের অর্থনৈতিক পরিস্থিতির সমালোচনা করে বলেন, ‘ওই সময়ে গণতান্ত্রিক জবাবদিহির অভাবে দেশে ‘লুটেরা অর্থনীতি’ ও ‘ক্রনি ক্যাপিটালিজম’ গড়ে ওঠে। দেবপ্রিয় ভট্টাচার্যের নেতৃত্বে প্রণীত শ্বেতপত্রের তথ্য উল্লেখ করে তিনি দাবি করেন, ওই সময়ে প্রতিবছর গড়ে ১৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিদেশে পাচার হয়েছে। ব্যাংকিং খাতে ঋণ কেলেঙ্কারি, রাজনৈতিক প্রভাবে ব্যাংক নিয়ন্ত্রণ, মেগা প্রকল্পে অস্বাভাবিক ব্যয় বৃদ্ধি এবং আইনের মাধ্যমে দুর্নীতিকে বৈধতা দেওয়ার সংস্কৃতি দেশের অর্থনীতিকে দুর্বল করেছে।’
জুলাই সনদ প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকারের সময় নানা সংকটের মধ্যেও জাতীয় স্বার্থ ও নির্বাচনকে সামনে রেখে সমঝোতার ভিত্তিতে বিএনপি জুলাই সনদে স্বাক্ষর করেছে।’
তিনি বলেন, ‘বর্তমান সরকারের উপস্থাপিত ৯ লাখ ৩৭ হাজার কোটি টাকার বাজেট একটি ‘নিউ ইকোনমিক অর্ডার’-এর বাজেট। রাষ্ট্র সংস্কার, বৈষম্যহীন উন্নয়ন, ভঙ্গুর অর্থনীতির পুনরুদ্ধার, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি এবং মানবসম্পদ উন্নয়নকে গুরুত্ব দিয়ে বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে। পাশাপাশি ফ্যামিলি কার্ড, কৃষি কার্ড এবং ইমাম-মুয়াজ্জিনদের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির জন্য ১৭ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।’
রিফাত/