ঢাকা ১৪ আষাঢ় ১৪৩৩, রোববার, ২৮ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
কক্সবাজারসহ কয়েকটি জেলায় ভূমিকম্পের কম্পন ৭১-এর ভূমিকার জন্য জামায়াতের ক্ষমা চাওয়া উচিত ছিল: মির্জা ফখরুল জার্মানি-প্যারাগুয়ে ম্যাচ কে জিতবে, সুপারকম্পিউটারের ভবিষ্যদ্বাণী বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের পর দক্ষিণ কোরিয়ার কোচের পদত্যাগ ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সুদের টাকা নিয়ে দুই গ্রামের সংঘর্ষে নিহত ১, আহত ৩০ এনসিটি পরিচালনায় বিশ্বমানের অপারেটর 'ডিপি ওয়ার্ল্ড': কৌশলগত অংশীদারিত্বের নতুন সমীকরণ তাপপ্রবাহে ইউরোপে অতিরিক্ত ১৩০০ জনের বেশি মৃত্যুর রেকর্ড : ডব্লিউএইচও আফ্রিকার জয়জয়কার, হতাশ এশিয়া খবরের কাগজের মহিউদ্দিন পলাশ রানারআপ ঘুষ ছাড়া মিলছে না ধান বিক্রির সুযোগ, বিপাকে কৃষকরা স্বাধীনতা যুদ্ধের সঙ্গে জুলাই আন্দোলনের তুলনার সুযোগ নেই: ত্রাণমন্ত্রী নক্ষত্রের পতন হয়নি জিম্বাবুয়েতে বাংলাদেশের ব্যাটিং বিধ্বস্ত রোনালদোকে নিয়ে বেশি ঝুঁকি নিচ্ছে পর্তুগাল? নাঈম হাসানকে থানায় হেনস্তা: তিন পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থার সুপারিশ তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে সরকার দৃঢ় প্রতিজ্ঞ: পানিসম্পদ মন্ত্রী হোন্ডার নতুন সাশ্রয়ী বৈদ্যুতিক হ্যাচব্যাক গাড়ি অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে সর্বোচ্চ দুর্নীতি হয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী চট্টগ্রাম বন্দরে উন্নত সাইবার নিরাপত্তা ব্যবস্থার উদ্বোধন প্রাণী কি মৃত্যু বুঝতে পারে? যেভাবে তৈরি হয়েছিল গিজার গ্রেট পিরামিড ২৭ জুন পর্যন্ত রেমিট্যান্স বেড়েছে ১৭.৩ শতাংশ আঁতুড়ঘর থেকে বিশ্বমঞ্চে তরুণ ফুটবলার গোবিপ্রবির ১৭ শিক্ষককে স্থায়ীভাবে চাকরিচ্যুত করল প্রশাসন দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে হেরে লক্ষ্য পূরণ হলো না জ্যোতিদের অতিরিক্ত আইজি, ডিআইজি ও এসপিসহ ২১ কর্মকর্তার নতুন দায়িত্ব ডেইলি স্টার হামলা মামলায় এনসিপির আনোয়ার রিমান্ডে প্রাথমিক শিক্ষকদের পদমর্যাদা বাড়ানোর ঘোষণা প্রতিমন্ত্রীর ইন্টেল কোর আল্ট্রা প্রসেসরের শক্তি নিয়ে বাজারে এলো লেনোভো আইডিয়াপ্যাড স্লিম ৫ সিরিজ দেশব্যাপী ২৫ হাজার মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম স্থাপনের ঘোষণা শিক্ষামন্ত্রীর

গোবিপ্রবির ১৭ শিক্ষককে স্থায়ীভাবে চাকরিচ্যুত করল প্রশাসন

প্রকাশ: ২৮ জুন ২০২৬, ০৯:১৩ পিএম
গোবিপ্রবির ১৭ শিক্ষককে স্থায়ীভাবে চাকরিচ্যুত করল প্রশাসন
গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়/ছবি: সংগৃহীত

শিক্ষাছুটির মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কর্মস্থলে যোগদান না করায় গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (গোবিপ্রবি) বিভিন্ন বিভাগের ১৬ জন শিক্ষককে এবং সরকারি চাকরিবিধি লঙ্ঘনসহ নৈতিক স্খলনের অভিযোগে আরও একজনসহ ১৭ জন শিক্ষককে স্থায়ীভাবে চাকরিচ্যুত করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

রবিবার (২৮ জুন) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মো. এনামউজ্জামান স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

এছাড়া গোবিপ্রবির উপপরিচালক (জনসংযোগ) মো. মাহবুবুল আলমের দেয়া এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতেও এসব তথ্য জানা গেছে।

চাকরিচ্যুত হওয়ায় শিক্ষকরা হলেন, ইলেক্ট্রিক্যাল এন্ড ইলেক্ট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. আমিরুল ইসলাম, আশরাফুল হোসেন হাওলাদার, সহকারী অধ্যাপক পান্থ প্রতিম সরকার, একই বিভাগের প্রভাষক মো. আহসানউল্লাহ, মো. খায়রুল বাশার ও উপমা দাস, পরিসংখ্যান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক কাকলী খাতুন, কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রভাষক ময়মুনা বেগম কলি, রসায়ন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. দেবব্রত পাল, আইন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মোহাম্মদ রুবাইয়াৎ রহমান, লোকপ্রশাসন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. মিজানুর রহমান, ফার্মেসি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক তাসনিয়া নাহিয়ান জুলফিকার, সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রভাষক অধরা তাহসিন, অ্যাপ্লাইড কেমিস্টি অ্যান্ড কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ফারজানা ইয়াসমিন, ব্যবস্থাপনা শিক্ষা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. উজ্জল হুসাইন, ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মাবিয়া খাতুন।

অফিস আদেশের তথ্য অনুযায়ী, ২৩ জুন অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৩তম রিজেন্ট বোর্ড সভার ৪৩/১০ নং সিদ্ধান্ত অনুযায়ী অননুমোদিতভাবে শিক্ষাছুটিতে বিদেশে অবস্থান করা এবং এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পত্রের মাধ্যমে যোগাযোগ করা হলেও কর্মস্থলে যোগদান না করায় তাদের স্থায়ীভাবে চাকরিচ্যুত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, চাকরিচ্যুত শিক্ষকগণের শিক্ষাছুটির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর কর্মস্থলে যোগদানের জন্য তাদের বারবার লিখিতভাবে জানানো হয়। কিন্তু তারা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের আহ্বানে সাড়া না দেয়ায় এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে তাদের স্থায়ীভাবে চাকরিচ্যুত করা হয়।

অফিস আদেশে চাকরিচ্যুত শিক্ষকদের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ছুটিকালীন আহরিত সমুদয় অর্থ বিধি মোতাবেক বিশ্ববিদ্যালয়কে ফেরত দেওয়ার নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে।

এছাড়াও ইলেক্ট্রিক্যাল এন্ড ইলেক্ট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ফাতেমা খাতুনকে সরকারি চাকরিবিধি লঙ্ঘনসহ নতিক স্খলনজনিত কারণে স্থায়ীভাবে চাকরিচ্যুত করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

বাদল/এএফ

ক্লিন ক্যাম্পাস গড়তে সবার সহযোগিতা চাইলেন ইবি ভিসি

প্রকাশ: ২৮ জুন ২০২৬, ০৫:২০ পিএম
ক্লিন ক্যাম্পাস গড়তে সবার সহযোগিতা চাইলেন ইবি ভিসি
ছবি: খবরের কাগজ

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী যদি ক্যাম্পাস পরিচ্ছন্ন রাখার উদ্যোগকে নিজেদের দায়িত্ব হিসেবে গ্রহণ করেন, তাহলে বিশ্ববিদ্যালয়কে প্রকৃত অর্থেই একটি পরিচ্ছন্ন, সবুজ ও নান্দনিক ক্যাম্পাস হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব। এ ক্ষেত্রে সবার আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেছেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান।

রবিবার (২৮ জুন) দুপুর সাড়ে ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবন চত্বরে ‘বৃক্ষরোপণ ২০২৬’ ও ক্লিন ক্যাম্পাস কর্মসূচির উদ্বোধন করার সময় এসব মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘আজকের এই উদ্যোগ কেবল আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। একটি পরিচ্ছন্ন ও সবুজ ক্যাম্পাস গড়ে তুলতে শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমরা যদি সবাই নির্দিষ্ট স্থানে ময়লা ফেলি এবং পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখি, তাহলে ক্যাম্পাস স্বয়ংক্রিয়ভাবেই আরও সুন্দর হয়ে উঠবে।’

এ সময় শিক্ষার্থীদের মধ্যে আমগাছের চারা বিতরণের মাধ্যমে কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। পরে প্রশাসন ভবন চত্বর থেকে একটি বর্ণাঢ্য র‌্যালি বের হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাকালীন মাইলফলক চত্বরে গিয়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নেয়। এরপর ঝাল চত্বরে পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে ‘ক্লিন ক্যাম্পাস’ কর্মসূচি পালন করা হয়।

কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন- উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এয়াকুব আলী, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. জাহাঙ্গীর আলম, ‘ক্লিন কুষ্টিয়া, গ্রিন কুষ্টিয়া’র উপদেষ্টা জাকির হোসাইন, বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যেষ্ঠ শিক্ষক, কর্মকর্তা এবং শিক্ষার্থীসহ অন্যরা।

‘ক্লিন কুষ্টিয়া, গ্রিন কুষ্টিয়া’র উপদেষ্টা জাকির হোসেন সরকার বলেন, ‘এই কর্মসূচিতে আমরা সার্বিক সহযোগিতা করব এবং শিক্ষার্থীরাও যদি সহযোগিতা করে তাহলে আমরা শিক্ষক, ছাত্র, এলাকাবাসী সবাই মিলে আমরা চাই এই ক্যাম্পাসটা একটা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন এবং একটা সুন্দর ক্যাম্পাস হোক। ​এই ক্যাম্পাস আমাদের, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় আমাদের। আমরা যদি একটু সচেতন হই ছাত্ররা, শিক্ষকরা, এলাকাবাসী তাহলেই কিন্তু এই ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় আমাদের বাংলাদেশের মধ্যে একটা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন, সবুজ, সুন্দর ক্যাম্পাস হিসেবে গড়ে উঠবে।

নেয়ামতউল্লাহ/রিফাত/

জাবির ৩৪৮ কোটি টাকার বাজেট পাস, গবেষণায় বরাদ্দ নেই

প্রকাশ: ২৮ জুন ২০২৬, ০২:৩১ পিএম
আপডেট: ২৮ জুন ২০২৬, ০২:৫০ পিএম
জাবির ৩৪৮ কোটি টাকার বাজেট পাস, গবেষণায় বরাদ্দ নেই
ছবি: খবরের কাগজ

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) ২০২৬-২৭ অর্থবছরের ৩৪৮ কোটি ৭০ লাখ ৫ হাজার টাকার বাজেট অনুমোদন করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট। বাজেটের প্রায় ৯১ শতাংশ বরাদ্দ রাখা হয়েছে বেতন-ভাতা, পেনশন ও সাধারণ প্রশাসনিক ব্যয়ে।

অন্যদিকে, গবেষণা ও উদ্ভাবন খাতে রাখা হয়নি কোনো বরাদ্দ। একই সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব আয় চার বছরের ব্যবধানে অর্ধেকের নিচে নেমে এসেছে। রাজস্ব তহবিলের ক্রমপুঞ্জিত ঘাটতি বেড়ে প্রায় ১০০ কোটি টাকায় পৌঁছেছে।

শনিবার (২৭ জুন) মধ্যরাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের জান্নাতুল ফেরদৌস সিনেট হলে অনুষ্ঠিত ৪৩তম বার্ষিক সিনেট অধিবেশনে সর্বসম্মতিক্রমে বাজেটটি পাস হয়।

কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. আবদুর রব বাজেট উপস্থাপন করেন। গত অর্থবছরের সংশোধিত বাজেট ছিল ৩৪৮ কোটি ২৫ লাখ ৬৪ হাজার টাকা। সে হিসাবে নতুন বাজেট বেড়েছে মাত্র ৪৪ লাখ ৪১ হাজার টাকা।

বাজেট বিশ্লেষণে দেখা যায়, মোট বরাদ্দের ২০১ কোটি ৪৩ লাখ টাকা বা ৫৭ দশমিক ৭৭ শতাংশ রাখা হয়েছে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বেতন-ভাতা খাতে। পণ্য ও সেবা (সাধারণ আনুষাঙ্গিক) খাতে বরাদ্দ ৭৮ কোটি ৩ লাখ ৩৫ হাজার টাকা বা ২২ দশমিক ৩৮ শতাংশ এবং পেনশন ও অবসর-সুবিধা খাতে ৩৭ কোটি ১৪ লাখ টাকা বা ১০ দশমিক ৬৫ শতাংশ। সব মিলিয়ে এ তিন খাতেই ব্যয় হবে মোট বাজেটের প্রায় ৯১ শতাংশ।

অন্যদিকে যন্ত্রপাতি ক্রয়ে ১১ কোটি ৩৭ লাখ টাকা, মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণে ৯ কোটি ৪৭ লাখ টাকা, তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি) খাতে ২ কোটি ৮২ লাখ টাকা, যানবাহন ক্রয়ে ২ কোটি ৪৪ লাখ ২০ হাজার টাকা। প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা সহায়তা খাতে ৭০ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। তবে গবেষণা ও উদ্ভাবন খাতে কোনো বরাদ্দ রাখা হয়নি। গত অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে এ খাতে ৯ কোটি ২৩ লাখ টাকা বরাদ্দ ছিল।

গবেষণা খাতে বরাদ্দ না রাখার বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ কামরুল আহসান বলেন, ‘আগামী অর্থবছর থেকে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা কার্যক্রমে সরাসরি অর্থায়ন করবে। সে কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজস্ব বাজেটে এ খাতে আলাদা বরাদ্দ রাখা হয়নি।

চার বছরে অর্ধেকে নেমেছে নিজস্ব আয়

বাজেটের রাজস্ব আয়ের হিসাব বিশ্লেষণে দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব উৎস থেকে আয় ধারাবাহিকভাবে কমছে। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে এ খাতে প্রকৃত আয় ছিল ৭৪ কোটি ৫ লাখ ৪৪ হাজার টাকা। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তা কমে দাঁড়ায় ৪৬ কোটি ১৮ লাখ ৯৮ হাজার টাকায়। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে নিজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয় ৩২ কোটি টাকা। নতুন অর্থবছরেও একই পরিমাণ আয় ধরা হয়েছে। চার বছরের ব্যবধানে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব আয়ের পরিমাণ প্রায় ৫৭ শতাংশ কমেছে।

চাহিদার তুলনায় কম বরাদ্দ, ঘাটতি প্রায় ১০০ কোটি
কোষাধ্যক্ষের লিখিত বক্তব্য অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয় ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৪৪১ কোটি ১ লাখ ৬১ হাজার টাকার বাজেট চেয়ে ইউজিসিতে প্রস্তাব পাঠিয়েছিল। তবে ইউজিসি অনুমোদন দিয়েছে ৩৪৮ কোটি ৭০ লাখ ৫ হাজার টাকা। অর্থাৎ বিশ্ববিদ্যালয়ের চাহিদার তুলনায় প্রায় ৯২ কোটি ৩২ লাখ টাকা কম বরাদ্দ পেয়েছে।

একই সঙ্গে ২০২৪-২৫ অর্থবছর শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজস্ব তহবিলের ক্রমপুঞ্জিত ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৯৯ কোটি ৭ লাখ ৭০ হাজার টাকা। কোষাধ্যক্ষ বলেন, প্রকৃত চাহিদার তুলনায় বরাদ্দ কম হওয়ায় একটি কল্যাণমুখী বাজেট বাস্তবায়ন কঠিন হয়ে পড়ছে। সরকারি বিধির বাইরে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় স্কুল অ্যান্ড কলেজ পরিচালনা, গবেষণা ভাতা, নৈশ ভাতা, গার্ড বোনাস, স্বাস্থ্য ও গোষ্ঠী বীমায় ভর্তুকি এবং ডাইনিং হলের অস্থায়ী কর্মচারীদের বেতন বহন করাও এ ঘাটতির অন্যতম কারণ।

জাকসুর পরিচালন বাজেট কমানোয় আপত্তি

বাজেটে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জাকসু) ও হল সংসদগুলোর পরিচালন ব্যয় কমানো নিয়ে সিনেটে আপত্তি জানান শিক্ষার্থী প্রতিনিধি সদস্যরা। সংশোধিত বাজেটে জাকসুর পরিচালন ব্যয় ১০ লাখ টাকা থেকে কমিয়ে ৫ লাখ ৩২ হাজার টাকা করা হয়েছে। একইভাবে ২১টি হল সংসদের পরিচালন বরাদ্দ ৬ লাখ ৩০ হাজার টাকা থেকে কমিয়ে ৩ লাখ ৪ হাজার টাকা করা হয়েছে।

শিক্ষার্থী প্রতিনিধি সদস্যরা বলেন, ’একদিকে জাকসু ভবন সংস্কারের জন্য ৪৬ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে, অন্যদিকে ছাত্র সংসদের কার্যক্রম পরিচালনার বরাদ্দ প্রায় অর্ধেকে নামিয়ে আনা হয়েছে। এতে নিয়মিত জাকসু পরিচালনা নিরুৎসাহিত হবে এবং এটি ছাত্র সংসদকে কার্যত অকার্যকর করার ইঙ্গিত দেয়।’

নতুন ইনস্টিটিউট নিয়ে বিতর্ক

সিনেটে প্রস্তাবিত ইনস্টিটিউট অব ইসলামিক স্টাডিজ অ্যান্ড থিওলজির সংবিধি অনুমোদনের বিষয়েও আলোচনা ও বিতর্ক হয়। কয়েকজন সিনেট সদস্য অভিযোগ করেন, একাডেমিক কাউন্সিলে কোরাম সংকটের মধ্যে সম্পূরক এজেন্ডা হিসেবে বিষয়টি উপস্থাপন করা হয়েছিল। পরে আলোচনা শেষে বিষয়টি পুনরায় সিন্ডিকেট হয়ে একাডেমিক কাউন্সিলে পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়।

উপাচার্য তার ভাষণে বিশ্ববিদ্যালয়ে 'জাবিয়ান ট্র্যাক' নামে একটি সমন্বিত ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম চালুর ঘোষণা দেন। পাশাপাশি দীর্ঘদিনের দাবি পূরণে বিশ্ববিদ্যালয়ের পূর্ণাঙ্গ মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়নের জন্য সরকারি বরাদ্দ পাওয়ার তথ্য জানান। তিনি বর্তমান বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনকে পূর্ণাঙ্গ উচ্চশিক্ষা কমিশনে রূপান্তরের দাবিও জানান।

আমানউল্লাহ খান/খাদিজা রুমি/

দৌড়েই সেরে উঠলেন ওয়াসিম

প্রকাশ: ২৮ জুন ২০২৬, ০২:১৫ পিএম
দৌড়েই সেরে উঠলেন ওয়াসিম
ওয়াসিম।

গ্রিন ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের আইন বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী ওয়াসিম। একসময় মার্শাল আর্ট ও ঢাকা ডিভিশন লেভেলে কাবাডি খেলা এই সাবেক অ্যাথলেটের জীবন ২০২৪ সালে হঠাৎ বদলে যায়। ফ্যাটি লিভার গ্রেড-২ এবং পাকস্থলীর ক্ষতের কারণে তার ওজন বেড়ে দাঁড়ায় ৯১ কেজিতে। শারীরিক কষ্টের পাশাপাশি এটি ছিল তার জন্য এক গভীর মানসিক আঘাত।
সুস্থ জীবনে ফেরার তীব্র তাগিদ থেকে জিম ট্রেইনার রনি রাজের হাত ধরে ম্যারাথনের দুনিয়ায় পা রাখেন ওয়াসিম। আগারগাঁওয়ে লায়নস ক্লাবের ৭ দশমিক ৫ কিলোমিটারের দৌড় ৭০ মিনিটে শেষ করার মাধ্যমে তার যাত্রা শুরু হয়। শুরুতে দম ফুরিয়ে যাওয়া ও পায়ে টানের মতো তীব্র শারীরিক যন্ত্রণা হলেও তিনি হাল ছাড়েননি।
মাত্র তিন মাসের নিয়মিত অনুশীলনে তার ওজন ৯১ কেজি থেকে ৭৭ কেজিতে নেমে আসে এবং লিভার ও পাকস্থলীর ক্ষত পুরোপুরি সেরে যায়। বর্তমানে তিনি ৬০ মিনিটের কম সময়ে এই দৌড় সম্পন্ন করতে পারেন। পড়াশোনার পাশাপাশি নিজের সুবিধাজনক সময়ে (সাধারণত সন্ধ্যায়) দৌড়ান ওয়াসিম।
ইতোমধ্যেই তিনি ‘ইন্সপায়ারিং বাংলাদেশ ইন্ডিপেন্ডেন্স রান’, ‘ঢাকা রান ২১কে’সহ প্রায় ৩৫টি ম্যারাথনে অংশ নিয়ে অসংখ্য মেডেল ও সার্টিফিকেট জিতেছেন। পেশাদার রানার হওয়ার লক্ষ্য না থাকলেও সুস্থ থাকার অটুট সংকল্প নিয়ে তরুণদের নিয়মিত দৌড় ও নিয়মতান্ত্রিক জীবনে অনুপ্রাণিত করছেন ওয়াসিম।

স্মৃতির ক্যানভাসে সাগরকন্যা কুয়াকাটা

প্রকাশ: ২৮ জুন ২০২৬, ০২:১০ পিএম
স্মৃতির ক্যানভাসে সাগরকন্যা কুয়াকাটা
কুয়াকাটায় খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির (খুবিসাস) সদস্যরা।

ক্যাম্পাসের চেনা অ্যাসাইনমেন্ট আর খবরের পেছনে ছোটাছুটির যান্ত্রিক ব্যস্ততাকে ছুটি দিয়ে ২৩ এপ্রিল গভীর রাতে শুরু হয়েছিল খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির (খুবিসাস) বার্ষিক ট্যুর। রাতের অন্ধকার চিরে আমাদের গাড়ি ছুটে চলল সাগরকন্যা কুয়াকাটার উদ্দেশে। ২৪ এপ্রিল ভোরে যখন পৌঁছালাম, সমুদ্রের নোনা হাওয়া নিমেষেই দূর করে দিল দীর্ঘ ভ্রমণের ক্লান্তি।

 


হালকা কুয়াশা আর মেঘের আড়ালে লুকানো সূর্যের মায়াবী রক্তিম আভা উপভোগ করতে আমরা প্রথমে ছুটে গেলাম গঙ্গামতির বাঁকে। সূর্যোদয়ের পর ঘুরে দেখলাম গঙ্গামতি সংরক্ষিত বন ও লাল কাঁকড়ার চর। দূর থেকে মনে হচ্ছিল বালুর বুকে যেন লাল ফুল ছড়িয়ে আছে। এরপর মেতে উঠলাম কাঙ্ক্ষিত সমুদ্র স্নানে। সাগরের নীল জলরাশি আর বিশাল ঢেউয়ের সঙ্গে মিতালীতে সমিতির বর্তমান, সাবেক ও অনুজ সদস্যরা যেন শৈশবে ফিরে গিয়েছিলাম।
দুপুরের ভূরিভোজ ও বিশ্রামের পর বিকেলের নরম আলোয় আমরা রওনা হলাম লেবুর চর, ঝাউবন ও তিন নদীর মোহনার উদ্দেশে। একদিকে ঝাউবনের সাঁই সাঁই শব্দ, অন্যদিকে নদীর মোহনায় আছড়ে পড়া ঢেউয়ের মাঝে লাল সূর্যের ডুবে যাওয়ার দৃশ্য এক মায়াবী প্রশান্তি ছড়িয়ে দিয়েছিল। আর রাত নামতেই সমুদ্রের গর্জনকে ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক বানিয়ে আকাশের নিচে শুরু হলো ফিশ বার্বিকিউ পার্টি। কয়লার আগুনে পোড়া মাছের সুবাস, গান আর আড্ডায় রাতটি উৎসবে পরিণত হয়। পরদিন ২৫ এপ্রিল আমরা গেলাম রাখাইন পল্লীতে। 
কুয়াকাটা নামের উৎপত্তির পেছনে থাকা কেরানীপাড়ার সেই ঐতিহাসিক প্রাচীন কুয়া এবং মিশ্রিপাড়ার উপমহাদেশের সবচেয়ে বড় (৩৫ ফুট উচ্চতার) বৌদ্ধ মূর্তিটি ঘুরে দেখলাম। রাখাইন নারীদের নিপুণ হাতের তাঁত বোনা ও তাদের বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতি আমাদের ভ্রমণকে দারুণভাবে সমৃদ্ধ করে।
সব সুন্দর গল্পেরই শেষ থাকে। ২৫ এপ্রিল বিকেলে সাগরের বিশালতাকে বিদায় জানিয়ে আমাদের গাড়ি আবার খুলনার উদ্দেশে রওনা হয়। যান্ত্রিক জীবনে ফিরলেও গঙ্গামতির মেঘলা সকাল, ঝাউবনের হাওয়া আর রাতের বার্বিকিউয়ের স্মৃতি খুবিসাসের সবার মনে জমা থাকবে দীর্ঘকাল।

বিশ্বমঞ্চে ইউআইইউ মার্স রোভার

প্রকাশ: ২৮ জুন ২০২৬, ০২:০৩ পিএম
বিশ্বমঞ্চে ইউআইইউ মার্স রোভার
ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির (ইউআইইউ) ‘ইউআইইউ মার্স রোভার টিম’।

যুক্তরাষ্ট্রের দ্য মার্স সোসাইটি আয়োজিত মর্যাদাপূর্ণ ইউনিভার্সিটি রোভার চ্যালেঞ্জ (ইউআরসি) ২০২৬ প্রতিযোগিতায় বিশ্বমঞ্চে তৃতীয় এবং এশিয়ায় প্রথম স্থান অর্জন করে ঐতিহাসিক মাইলফলক সৃষ্টি করেছে ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির (ইউআইইউ) ‘ইউআইইউ মার্স রোভার টিম’। গত ২৭-৩০ মে ইউটা স্টেটের মার্স ডেজার্ট রিসার্চ স্টেশনে এই চূড়ান্ত প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।
অন-সাইট ইউআরসির ২০ বছরের ইতিহাসে প্রথম এশীয় দল হিসেবে পোডিয়ামে স্থান পাওয়ার পাশাপাশি দলটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘বেস্ট অটোনামাস সিস্টেম’ স্বীকৃতি লাভ করেছে। বিশ্বের ১১৬টি দলের মধ্যে বাছাই করা ১১টি দেশের ৩৮টি দল গ্র্যান্ড ফাইনালে অংশ নেয়। এতে ইউআইইউ মার্স রোভার টিম মোট ৪০৪ দশমিক ৪৪ পয়েন্ট অর্জন করে তৃতীয় স্থান নিশ্চিত করে (যেখানে মিসৌরি ইউনিভার্সিটি অব এস অ্যান্ড টি চ্যাম্পিয়ন এবং মোনাশ নোভা রোভার দ্বিতীয় হয়)। এছাড়া, ২০২২ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত টানা পাঁচবার এশিয়ার প্রথম দল হওয়ার গৌরব ধরে রেখেছে তারা।
ইউআইইউয়ের সেন্টার ফর আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স অ্যান্ড রোবোটিক্স (সিএআইআর) পরিচালিত এই দলটির পরামর্শক ছিলেন প্রফেসর ড. হাসান সারওয়ার ও ড. সুমন আহমেদ এবং মেন্টর ছিলেন প্রভাষক মো. আবিদ হোসাইন। শাইফ আল শাদের নেতৃত্বে ৯ সদস্যের এই শিক্ষার্থী দলটি বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধান, স্বয়ংক্রিয় নেভিগেশন ও ইকুইপমেন্ট সার্ভিসিংসহ চারটি জটিল মিশন সফলভাবে সম্পন্ন করে।