ঢাকা ১৪ আষাঢ় ১৪৩৩, রোববার, ২৮ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
এনসিটি পরিচালনায় বিশ্বমানের অপারেটর 'ডিপি ওয়ার্ল্ড' তাপপ্রবাহে ইউরোপে অতিরিক্ত ১৩০০ জনের বেশি মৃত্যুর রেকর্ড : ডব্লিউএইচও আফ্রিকার জয়জয়কার, হতাশ এশিয়া খবরের কাগজের মহিউদ্দিন পলাশ রানারআপ ঘুষ ছাড়া মিলছে না ধান বিক্রির সুযোগ, বিপাকে কৃষকরা স্বাধীনতা যুদ্ধ আর জুলাই আন্দোলনকে এক কাতারে দেখার সুযোগ নেই: ত্রাণমন্ত্রী নক্ষত্রের পতন হয়নি জিম্বাবুয়েতে বাংলাদেশের ব্যাটিং বিধ্বস্ত রোনালদোকে নিয়ে বেশি ঝুঁকি নিচ্ছে পর্তুগাল? নাঈম হাসানকে থানায় হেনস্তা: তিন পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থার সুপারিশ তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে সরকার দৃঢ় প্রতিজ্ঞ: পানিসম্পদ মন্ত্রী হোন্ডার নতুন সাশ্রয়ী বৈদ্যুতিক হ্যাচব্যাক গাড়ি অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে সর্বোচ্চ দুর্নীতি হয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী চট্টগ্রাম বন্দরে উন্নত সাইবার নিরাপত্তা ব্যবস্থার উদ্বোধন প্রাণী কি মৃত্যু বুঝতে পারে? যেভাবে তৈরি হয়েছিল গিজার গ্রেট পিরামিড ২৭ জুন পর্যন্ত রেমিট্যান্স বেড়েছে ১৭.৩ শতাংশ আঁতুড়ঘর থেকে বিশ্বমঞ্চে তরুণ ফুটবলার গোবিপ্রবির ১৭ শিক্ষককে স্থায়ীভাবে চাকরিচ্যুত করল প্রশাসন দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে হেরে লক্ষ্য পূরণ হলো না জ্যোতিদের অতিরিক্ত আইজি, ডিআইজি ও এসপিসহ ২১ কর্মকর্তার নতুন দায়িত্ব ডেইলি স্টার হামলা মামলায় এনসিপির আনোয়ার রিমান্ডে প্রাথমিক শিক্ষকদের পদমর্যাদা বাড়ানোর ঘোষণা প্রতিমন্ত্রীর ইন্টেল কোর আল্ট্রা প্রসেসরের শক্তি নিয়ে বাজারে এলো লেনোভো আইডিয়াপ্যাড স্লিম ৫ সিরিজ দেশব্যাপী ২৫ হাজার মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম স্থাপনের ঘোষণা শিক্ষামন্ত্রীর একক কোনো মাস্টারমাইন্ড আমরা মানি না: বিরোধীদলীয় নেতা আদ্-দ্বীন হাসপাতালের বাণিজ্যিক আকাঙ্ক্ষা ছিল পুরোপুরি অনৈতিক: স্বাস্থ্যমন্ত্রী দুধকুমার নদীতে ৩ ঘণ্টায় ৫৪ সেন্টিমিটার পানি বৃদ্ধি, নিম্নাঞ্চলে পানি প্রবেশ অপতথ্যের ভিড়ে ‘খবরের ভেতরের খবর’ খুঁজে বের করুন: তথ্য সচিব শ্রীমঙ্গলে বাস-মোটরসাইকেল সংঘর্ষ, নিহত ২

হোন্ডার নতুন সাশ্রয়ী বৈদ্যুতিক হ্যাচব্যাক গাড়ি

প্রকাশ: ২৮ জুন ২০২৬, ০৯:৫৩ পিএম
হোন্ডার নতুন সাশ্রয়ী বৈদ্যুতিক হ্যাচব্যাক গাড়ি
ছবি: সংগৃহীত

নতুন একটি সাশ্রয়ী বৈদ্যুতিক হ্যাচব্যাক গাড়ি এনেছে জাপানি গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান হোন্ডা। ‘সুপার-এন’ নামের এই গাড়িটির প্রাথমিক দাম ধরা হয়েছে ১৮ হাজার ৯৯৫ পাউন্ড, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৩০ লাখ ৮৬ হাজার টাকা। স্পোর্টি ডিজাইনের এই ছোট আকারের বৈদ্যুতিক গাড়িটি বাজারে বেশ সাড়া ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বাজারে বর্তমানে স্পোর্টি হ্যাচব্যাক বা ‘হট হ্যাচ’ ক্যাটাগরির গাড়ির চাহিদা বাড়ছে। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এই বিভাগে নতুন পরিবেশবান্ধব বৈদ্যুতিক গাড়ি নিয়ে আসছে। হোন্ডা তাদের জাপানি বাজারের জনপ্রিয় কেই কার ‘এন-ওয়ান ই’-এর ওপর ভিত্তি করে এই নতুন সুপার-এন মডেলটি তৈরি করেছে। যুক্তরাজ্যের বাজারে সম্প্রতি গাড়িটির বিক্রি শুরু হয়েছে। হোন্ডা যুক্তরাজ্যের প্রধান মাইকেল ডয়েল বলেন, এটি বাজারে থাকা সবচেয়ে সাশ্রয়ী ছোট বৈদ্যুতিক গাড়িগুলোর একটি। এটি চালানো অত্যন্ত আনন্দদায়ক।

অন্যান্য বৈদ্যুতিক গাড়ির তুলনায় হোন্ডা সুপার-এন বেশ হালকা। এর ওজন মাত্র ১ হাজার ৯৭ কেজি। হোন্ডা দাবি করেছে, হালকা ওজনের কারণে গাড়িটি চালানোর সময় আশির দশকের বিখ্যাত ওয়াইড-বডি সিটি টার্বো-২ হ্যাচব্যাকের মতো অনুভূতি পাওয়া যাবে। গাড়িটির দৈর্ঘ্য মাত্র ৩ হাজার ৩৯৫ মিলিমিটার। ফলে এটি রেনো টুইঙ্গো ই-টেকের চেয়েও আকারে ছোট। হোন্ডার নিজস্ব হালকা ওজনের এন-সিরিজ প্ল্যাটফর্মের ওপর ভিত্তি করে গাড়িটি তৈরি করা হয়েছে। এতে একটিমাত্র ইলেকট্রিক মোটর ব্যবহার করা হয়েছে, যা সামনের চাকা পরিচালনা করে। সাধারণ মোডে এই মোটর থেকে ৬৩ হর্সপাওয়ার এবং ১৬২ নিউটন মিটার টর্ক পাওয়া যায়। তবে গাড়িটিতে একটি বিশেষ ‘বুস্ট মোড’ সুবিধা রয়েছে। এই মোড চালু করলে মোটরের ক্ষমতা বেড়ে ৯৩ হর্সপাওয়ারে পৌঁছায়। বুস্ট মোডে গাড়িটি মাত্র ১০ সেকেন্ডে শূন্য থেকে প্রতি ঘণ্টায় ৬২ মাইল গতি তুলতে পারে। সাধারণ মোডে এই গতি তুলতে ১৪ দশমিক ৫১ সেকেন্ড সময় লাগে। সুপার-এন গাড়িতে ২৯ দশমিক ৬ কিলোওয়াট-আওয়ারের একটি ব্যাটারি ব্যবহার করা হয়েছে। ডব্লিউএলটিপি মানদণ্ড অনুযায়ী, এটি একবার পূর্ণ চার্জে ১২৮ মাইল পথ চলতে সক্ষম। তবে শহরের রাস্তায় এর রেঞ্জ প্রায় ১৯৯ মাইল পর্যন্ত হতে পারে। চার্জিংয়ের জন্য এতে ৫০ কিলোওয়াটের ডিসি ফাস্ট চার্জার ব্যবহার করা যায়। এর মাধ্যমে মাত্র ৩০ মিনিটে ব্যাটারির ৮০ শতাংশ চার্জ করা সম্ভব। 

হুন্দাইয়ের আইওনিক ৫-এন মডেলের মতো হোন্ডার এই গাড়িতেও রয়েছে ‘অ্যাক্টিভ সাউন্ড কন্ট্রোল’ প্রযুক্তি। এটি গাড়ি চালানোর সময় একটি ৭-স্পিড গিয়ার ট্রান্সমিশনের শব্দ এবং ঝাঁকুনি তৈরি করতে পারে। গাড়ির ভেতরে রয়েছে ৭ ইঞ্চির ডিজিটাল ড্রাইভার ডিসপ্লে এবং ৯ ইঞ্চির সেন্ট্রাল ইনফোটেইনমেন্ট স্ক্রিন। এতে অ্যাপল কারপ্লে ও অ্যান্ড্রয়েড অটো ব্যবহারের সুবিধা রয়েছে। বিনোদনের জন্য গাড়িটিতে স্ট্যান্ডার্ড হিসেবে আটটি স্পিকারসহ প্রিমিয়াম বোস সাউন্ড সিস্টেম দেওয়া হয়েছে। যুক্তরাজ্যের বাজারে এটি রেনো ৫ এবং হুন্দাই ইনস্টারের চেয়ে বেশ সাশ্রয়ী। তবে এর বক্সি নকশাটি ক্রেতাদের কাছে কতটা গ্রহণযোগ্য হবে, তা দেখার বিষয়। চমৎকার সব আধুনিক ফিচার আর কম দামের কারণে বাজারে গাড়িটি ভালো সাড়া ফেলবে।

রেকর্ড গড়ে বিশ্ববাজারে আসছে  বিওয়াইডির এসইউভি

প্রকাশ: ২৫ জুন ২০২৬, ১০:১৪ পিএম
রেকর্ড গড়ে বিশ্ববাজারে আসছে  বিওয়াইডির এসইউভি
ছবি: সংগৃহীত

চীনের শীর্ষস্থানীয় বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বিওয়াইডি তাদের তৈরি সবচেয়ে বড় ও বিলাসবহুল স্পোর্টস ইউটিলিটি ভেহিকল বা এসইউভি আন্তর্জাতিক বাজারে ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছে। ‘গ্রেট ট্যাং’ নামের এই ফ্ল্যাগশিপ বৈদ্যুতিক গাড়িটি চীনের বাজারে উন্মোচনের আগেই দেড় লাখেরও বেশি প্রি-অর্ডার বা আগাম বুকিং পেয়ে এক নতুন রেকর্ড তৈরি করেছে। চীনের অভ্যন্তরীণ বাজারে বিপুল সাফল্যের পর প্রতিষ্ঠানটি এবার ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ ইউরোপসহ বিশ্ববাজারে এই বিলাসবহুল গাড়িটি রপ্তানি শুরু করার পরিকল্পনা করছে।

গত ২৪ এপ্রিল চীনের বেইজিং অটো শোতে প্রথম প্রদর্শনের পর মাত্র দুই সপ্তাহের মধ্যে গাড়িটি ১ লাখেরও বেশি অগ্রিম বুকিং পায়। সম্প্রতি আয়োজিত গাড়িটির উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বিওয়াইডি নিশ্চিত করে যে, গ্রেট ট্যাং মডেলটি এ পর্যন্ত ১ লাখ ৫০ হাজারেরও বেশি বুকিং পেয়েছে, যা প্রতিষ্ঠানটির যেকোনো একক মডেলের গাড়ির ক্ষেত্রে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ। চীনের স্থানীয় বাজারে এই বিলাসবহুল গাড়িটি ‘ড্যাটাং’ নামেও বেশ পরিচিত।

বিওয়াইডির তথ্যমতে, ১৭ ফুটের বা ৫ হাজার ২৬৩ মিলিমিটার দৈর্ঘ্যের এই গাড়িটি তাদের ব্র্যান্ডের তৈরি এ যাবৎকালের সবচেয়ে বড় এসইউভি। তিন সারির আসনবিশিষ্ট এই গাড়িটিতে প্রায় ২৯টি বিশ্বমানের আধুনিক প্রযুক্তি প্রথমবারের মতো ব্যবহার করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে চীনের অটোমোবাইল ইতিহাসে প্রথম ২+২+৩ আসন বিন্যাস এবং মাত্র ৫ মিনিটের ফ্ল্যাশ চার্জিং সুবিধা। গাড়িটির উন্নত ব্লেড ব্যাটারি ২.০ এবং ১০০০ ভোল্টের আর্কিটেকচারের কারণে গ্রাহকরা দ্রুত চার্জিংয়ের সুবিধা পাবেন। এর মাধ্যমে মাত্র ৫ মিনিটে ব্যাটারির ১০ শতাংশ থেকে ৭০ শতাংশ পর্যন্ত চার্জ করা সম্ভব।

বিওয়াইডির এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং আন্তর্জাতিক বাজার প্রধান স্টেলা লি সম্প্রতি রোমে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জানান, এই ফ্ল্যাগশিপ এসইউভিটি ২০২৬ সালের শেষ দিকে অথবা ২০২৭ সালের শুরুর দিকে ইউরোপ এবং এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের বাজারে বিক্রির জন্য উন্মুক্ত করা হবে। ইউরোপের বাজারে এটি মার্সিডিজ-বেঞ্জ, বিএমডব্লিউ, ভলভো এবং অডির মতো প্রতিষ্ঠিত বিলাসবহুল ব্র্যান্ডগুলোর সঙ্গে সরাসরি প্রতিযোগিতা করবে।

আন্তর্জাতিক বাজারে গাড়িটির প্রারম্ভিক মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে প্রায় ৩৫ হাজার ৫০০ মার্কিন ডলার, যা চীনা মুদ্রায় প্রায় ২ লাখ ৩৯ হাজার ৯০০ ইউয়ান। গাড়িটি একক ও ডবল মোটরের পাওয়ারট্রেন এবং দুটি ভিন্ন ব্যাটারি প্যাকে পাওয়া যাবে। এর প্রাথমিক ‘প্রিমিয়াম’ মডেলে ১০৫ দশমিক ৭৯ কিলোওয়াট-আওয়ারের ব্যাটারি রয়েছে, যা একবার পূর্ণ চার্জে ৮০০ কিলোমিটার পর্যন্ত পথ চলতে পারে। অন্যদিকে এর উন্নত ‘ফ্ল্যাগশিপ’ সংস্করণে ১৩০ দশমিক ১৫ কিলোওয়াট-আওয়ারের বড় ব্যাটারি ব্যবহার করা হয়েছে, যা গাড়িটির ড্রাইভিং রেঞ্জ ৯৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত বাড়িয়ে দেয়। সাশ্রয়ী দামের হলেও এতে ডুয়াল চেম্বার এয়ার সাসপেনশনসহ বিওয়াইডির নিজস্ব ‘ডাইসাস-এ’ ইন্টেলিজেন্ট কন্ট্রোল সিস্টেম রয়েছে।

বিলাসবহুল এই গাড়িটির ভেতরে আধুনিক প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয় ঘটানো হয়েছে। এর ইনফোটেইনমেন্ট সিস্টেমে চালক এবং সামনের যাত্রীর জন্য তিনটি বড় ডিজিটাল স্ক্রিন রয়েছে। পেছনের সারির যাত্রীদের জন্য ছাদ থেকে ঝোলানো একটি বড় বিনোদন স্ক্রিন রয়েছে, যা সিনেমা বা দাপ্তরিক কাজের জন্য ব্যবহার করা যাবে। গাড়িটির প্রথম ও দ্বিতীয় সারিতে আরামদায়ক জিরো গ্র্যাভিটি বা ক্যাপ্টেন স্টাইলের আসন রয়েছে, যেগুলোতে হিটিং, ভেন্টিলেশন এবং ম্যাসাজ করার সুবিধা যুক্ত করা হয়েছে। এমনকি গাড়িটিতে একটি ইন-বিল্ট কুলারও দেওয়া হয়েছে।

নিরাপত্তার জন্য গাড়িটিতে বিওয়াইডির নিজস্ব ‘গডস আই ৫.০’ চালক সহায়তা ব্যবস্থা বা এডাস প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। উন্নত সেন্সর, ক্যামেরা এবং ছাদে বসানো লিডার প্রযুক্তির সাহায্যে এই ব্যবস্থাটি নেভিগেশন অন অটো পাইলট, রিমোট পার্কিং, অ্যাডাপ্টিভ ক্রুজ কন্ট্রোল এবং ৩৬০ ডিগ্রি ভিউ নিশ্চিত করে। আকার ও আয়তনের দিক থেকে গাড়িটি হুন্দাই আইওনিক ৯ এবং কিয়া ইভি৯-এর চেয়েও বেশ বড়। চীনের বাজারে ঝড় তোলার পর বিশ্ববাজারে বিওয়াইডির এই বিলাসবহুল এসইউভি কতটা প্রভাব ফেলতে পারে, এখন সেটাই দেখার বিষয়।

ভোগান্তি থেকে রক্ষা পেতে চাহিদা বাড়ছে ই-বাইকের

প্রকাশ: ২১ জুন ২০২৬, ১১:৩৫ এএম
আপডেট: ২১ জুন ২০২৬, ১১:৫৪ এএম
ভোগান্তি থেকে রক্ষা পেতে চাহিদা বাড়ছে ই-বাইকের
ছবি: এআই

সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারকারীরা খুব কম খরচে দীর্ঘদিন ইলেকট্রিক যানবাহন (ইভি) চালাতে পারেন। এর বিপরীতে জ্বালানিচালিত যানবাহন সম্পূর্ণভাবে আমদানিনির্ভর জ্বালানি পেট্রল ও অকটেনের ওপর নির্ভরশীল। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হলে দেশে জ্বালানিসংকট ভয়াবহ আকার ধারণ করায় ই-বাইকের বিক্রি হঠাৎ বেড়ে যায়।

আগে যেখানে মাসে গড়ে ১ হাজার ই-বাইক বিক্রি হতো, মার্চে তা বেড়ে প্রায় ২ হাজার ২০০টিতে পৌঁছেছে, অর্থাৎ ১০০ শতাংশের বেশি প্রবৃদ্ধি হয়েছে। এরপর থেকেই বিক্রি বাড়ছে। এ ধারা অব্যাহত থাকলে মাসিক বিক্রি ৩ হাজারে পৌঁছাতে পারে। বাংলাদেশে দ্রুত বড় হওয়া বৈদ্যুতিক মোটরসাইকেলের বাজারে ইতোমধ্যে দেশি-বিদেশি বেশ কয়েকটি ব্র্যান্ড প্রবেশ করেছে।

জ্বালানিসংকটের ভোগান্তি থেকে রক্ষা পেতেই ইলেকট্রিক মোটরসাইকেল (ই-বাইক) কিনেছি। দাম তুলনামূলক কম। যাতায়াত খরচও কম। একবার পুরো চার্জ দিতে খরচ পড়ে প্রায় ১৪ থেকে ১৫ টাকা। তাতে ১০০ কিলোমিটারের বেশি যায়। সারা দিনে মাত্র কয়েক টাকা খরচ হয়। জ্বালানির ঝামেলা নেই।’ ই-বাইক কেনার ব্যাপারে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত মিরপুরের মো. শাকিল এভাবে অভিমত প্রকাশ করেন।

অন্য ক্রেতারাও জানান, ই-বাইকের দাম কম। জ্বালানির ঝামেলা নেই। তবে ব্যাটারির কোয়ালিটি আরও ভালো করা দরকার। বিক্রেতারা বলছেন, দামের ব্যাপারে যত না চাহিদা, জ্বালানির ঝামেলা থেকে রক্ষা পেতেই ক্রেতাদের আগ্রহ বাড়ছে বেশি। ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়লে তার সরাসরি ধাক্কা লাগে জ্বালানিতে। জ্বালানি পেতে দুর্যোগ ভয়াবহ আকার ধারণ করে। সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে এই বাহন। বিক্রিও বাড়ছে আমদানি করা এই বাহনের। গতকাল ক্রেতা-বিক্রেতা ও আমদানিকারকদের সঙ্গে কথা বলে এমনই তথ্য পাওয়া গেছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারকারীরা খুব কম খরচে দীর্ঘদিন ইলেকট্রিক যানবাহন (ইভি) চালাতে পারেন। এর বিপরীতে জ্বালানিচালিত যানবাহন সম্পূর্ণভাবে আমদানিনির্ভর জ্বালানি পেট্রল ও অকটেনের ওপর নির্ভরশীল। তাই গত ফেব্রুয়ারির শেষে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হলে দেশে জ্বালানিসংকট ভয়াবহ আকার ধারণ করে। এই জ্বালানি সংকট শুরুর সঙ্গে সঙ্গে ই-বাইকের বিক্রি হঠাৎ বেড়ে যায়।

আগে যেখানে মাসে গড়ে ১ হাজার ই-বাইক বিক্রি হতো, মার্চে তা বেড়ে প্রায় ২ হাজার ২০০টিতে পৌঁছেছে, অর্থাৎ ১০০ শতাংশের বেশি প্রবৃদ্ধি হয়েছে। এরপর থেকেই বিক্রি বাড়ছে। এ ধারা অব্যাহত থাকলে মাসিক বিক্রি ৩ হাজারে পৌঁছাতে পারে। বাংলাদেশে দ্রুত বড় হওয়া বৈদ্যুতিক মোটরসাইকেলের বাজারে ইতোমধ্যে দেশি-বিদেশি বেশ কয়েকটি ব্র্যান্ড প্রবেশ করেছে। বর্তমানে দেশে ১০টির বেশি প্রতিষ্ঠান বৈদ্যুতিক মোটরসাইকেল আমদানি, সংযোজন ও বাজারজাত করছে। বাজারের একটি বড় অংশই রয়েছে চীনা প্রতিষ্ঠান রিভো ও ইয়াদিয়ার দখলে।

নিউ গ্রামীণ মটরস লিমেটেড, রানার মোটরস লিমিটেড, ওয়ালটন এবং প্রাণ-আরএফএল গ্রুপসহ অনেক প্রতিষ্ঠান এর সঙ্গে যুক্ত। ব্র্যান্ডভেদে এসব মোটরসাইকেলের দাম ৫০ হাজার থেকে ৩ লাখ টাকা পর্যন্ত। খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, বৈদ্যুতিক মোটরসাইকেলে প্রতি কিলোমিটারে খরচ পড়ে ১৫ থেকে ২০ পয়সা। অন্যদিকে জ্বালানিচালিত মোটরসাইকেলে খরচ পড়ে ২ থেকে ৩ টাকা। ফলে খরচের দিক থেকে ই-বাইক অনেক বেশি সাশ্রয়ী।

এ কারণে এটির প্রতি তরুণদের আগ্রহ বাড়ছে। তবে এখনও দেশের চার্জিং অবকাঠামো ও ব্যাটারির মান নিয়ে অনেক গ্রাহক উদ্বেগের কথা জানান।চায়না কোম্পানির ‘ইয়াদিয়া’ ব্র্যান্ডের ই-বাইক ডিলার হচ্ছে রানার গ্রুপ। তারা বর্তমানে ১২টি ‘ইয়াদিয়া’ ব্র্যান্ডের ই-বাইক বাজারজাত করছে। যেগুলোর দাম ফিচার অনুযায়ী ৮৫ হাজার টাকা থেকে ২ লাখ ৮৫ হাজার টাকার মধ্যে।

রাজধানীর মোহাম্মদপুরের তিন রাস্তার মোড়ে ইয়াদিয়া ব্র্যান্ডের একটি বিক্রয়কেন্দ্রের নির্বাহী খায়রুল আলম শান্ত খবরের কাগজকে বলেন, ‘বছর দুই হলো এই শোরুম খোলা হয়েছে। আগের তুলনায় বিক্রি বাড়ছে। বিশেষ করে গত মার্চে জ্বালানি সংকট শুরু হলে চাহিদা অনেক বাড়তে থাকে। এর ফলে তাদের বিক্রি বেড়েছে। সংখ্যাটা সঠিকভাবে বলা যাবে না। তবে এটা নিশ্চিত বলা যায় বিক্রি প্রতি মাসে বাড়ছে। বর্তমানে দেশে ইয়াদিয়ার ৮৬টি বিক্রয়কেন্দ্র রয়েছে। প্রতি মাসে বিক্রয় কেন্দ্রও বাড়ছে। ঢাকা শহরের মতো অন্য শহরেও চাহিদা বাড়ায় বিক্রি বাড়ছে।’

রাজধানীর মোহাম্মদপুরের তাজমহল রোডের প্রকৌশলী হাসান আলী খবরের কাগজকে জানান, ‘১৫ থেকে ১৬ বছর ধরে তিনি ভালো ব্র্যান্ডের মোটরসাইকেল ব্যবহার করে আসছেন। কিন্তু গত মার্চের শুরুতে জ্বালানি সংকট ভয়াবহ আকার ধারণ করে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা পেট্রল পাম্পে অপেক্ষা করার মতো ধৈর্য ও সময় ছিল না। জ্বালানি তেল নেওয়ার লাইন দীর্ঘ হতে থাকে। জ্বালানি সংকটের সময় একদিন প্রায় ছয় ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে তেল নিতে হয়েছিল। বাধ্য হয়ে তিনি ১ লাখ ৫৫ হাজার টাকায় চীনের ইয়াদিয়া ব্র্যান্ডের একটি বৈদ্যুতিক মোটরসাইকেল কিনেন। বৈদ্যুতিক মোটরসাইকেলে প্রতি কিলোমিটার যেতে ২০ পয়সারও কম খরচ হয়। প্রতিদিনই টুকটাক কাজে ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় যেতে হয়। আগে প্রতি লিটার জ্বালানিতে ৭-৮ কিলোমিটার যাওয়া যেত। এখন ই-বাইকে এক চার্জে ১০০ কিলোমিটারের বেশি যাওয়া সম্ভব।

অন্য ব্যবহারকারীরাও জানান, শহরে স্বল্প দূরত্বে চলাচলের জন্য বৈদ্যুতিক মোটরসাইকেল একটি উপযোগী বাহন। ব্যাটারির সক্ষমতা অনুযায়ী এসব মোটরসাইকেল ১০০ কিলোমিটারের বেশি চলতে পারে। যেহেতু এতে শুধু মোটর ও ব্যাটারি থাকে, তাই রক্ষণাবেক্ষণ খরচও কম। পাশাপাশি এটি পরিবেশবান্ধব এবং জ্বালানিচালিত মোটরসাইকেলের তুলনায় প্রায় ৮০ শতাংশ কম খরচে চলাচল করা যায়।

আগামী ২ বছরে মোট ব্যবহারের ৩০ শতাংশে পৌঁছবে  

এ ব্যাপারে রানার গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) নজরুল ইসলাম খবরের কাগজকে বলেন, ‘ই-বাইক সাধারণ গাড়ির মতো জটিল না। এতে মূলত শুধু একটি মোটর ও একটি ব্যাটারি থাকে। তাই এর রক্ষণাবেক্ষণের খরচও অনেক কম। অনেক ক্ষেত্রে রক্ষণাবেক্ষণের খরচ প্রায় নেই বললেই চলে। বাংলাদেশে বৈদ্যুতিক যানবাহনে রূপান্তরের ক্ষেত্রে দুই চাকার বাহন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। সাশ্রয়ী মূল্য, সহজ ব্যবহার এবং শহর ও গ্রাম, উভয় জায়গায় চালানোর উপযোগী হওয়ায় ই-বাইক এই পরিবর্তনের মূল চালিকাশক্তি হতে যাচ্ছে।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আগে ই-বাইকের ব্যবহার খুব ধীরে বাড়লেও সম্প্রতি জ্বালানি সংকটের পর হঠাৎ করে চাহিদা বাড়তে থাকে। বর্তমানে মোট মোটরসাইকেলের মধ্যে ৮ থেকে ১০ শতাংশ ই-বাইকের (অংশ) আওতায় এসেছে। আগামী ২ বছরে ২০ থেকে ৩০ শতাংশে পৌঁছে যাবে। ই-বাইকের চার্জিং ব্যবস্থা, ব্যাটারির স্থায়ীত্বের ব্যাপারে এখনো অনেকের উদ্বেগ আছে। এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, এগুলো বড় কোনো সমস্যা না। ই-বাইক চার্জ দেওয়া অনেকটা মোবাইল ফোন চার্জ দেওয়ার মতোই সহজ।

একবার ফুল চার্জ দিতে খরচ পড়ে প্রায় ১৪ থেকে ১৫ টাকা। এটি রাতে সহজেই করে রাখা যায়। তাতে ১০০ কিলোমিটার চলা সম্ভব। নতুন ধরনের ব্যাটারি প্রযুক্তি, বিশেষ করে সলিড-স্টেট ব্যাটারি এসে গেলে ই-বাইকের ব্যবহার আরও দ্রুত বাড়বে। তাই স্পষ্টভাবেই বলা যায় ই-বাইক একটি ভালো ও সুবিধাজনক সমাধান। কারণ ই-বাইকের গতি কম। ব্রেকিং সিস্টেমও ভালো। সড়ক দুর্ঘটনার সংখ্যাও কম।’

রানার গ্রুপের মতো দেশের বড় ইলেকট্রনিকস প্রতিষ্ঠান ওয়ালটনও ‘টাকিয়ন’ ব্র্যান্ডের সাতটি মডেলের ই-বাইক বাজারে বিক্রি করছে। এ ব্যাপারে প্রতিষ্ঠানটির এক শীর্ষ কর্মকর্তা বলেন, মার্চে পাম্পগুলোতে জ্বালানির সংকট তীব্র হলে ই-বাইকের চাহিদা অনেক বেড়ে যায়। কারণ জ্বালানিচালিত মোটরসাইকেলের তুলনায় ই-বাইকে কোনো ঝামেলা নেই। একবার পুরো চার্জে মডেলভেদে ৮০ থেকে ১৩০ কিলোমিটার পর্যন্ত চলা যায়।

দেশে ২০২৪ সাল থেকে বাংলাদেশে চীনের রিভো ব্র্যান্ডের বৈদ্যুতিক মোটরসাইকেলের বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু হয়। বাংলাদেশে তাদের বিক্রয়কেন্দ্র আছে ৬০টি। গত মার্চ ও এপ্রিলে জ্বালানিসংকটে বিক্রি বাড়ায় বড় ভূমিকা রেখেছে। দেশে ‘টাকিয়ন’ নামে বৈদ্যুতিক মোটরসাইকেল তৈরি করে ওয়ালটন গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান ডিজি-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ। তারা বর্তমানে ৭টি মডেলের ই-বাইক তৈরি করছে, যেগুলোর দাম ৮৯ হাজার থেকে ১ লাখ ৭২ হাজার টাকা।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সূত্রও জানায়, সম্প্রতি ই-বাইকের আমদানি বেড়েছে। ২০২৪ সালের জুলাই থেকে ২০২৫ সালের মার্চ পর্যন্ত ৭ হাজার ৬৫৮টি ই-বাইক আমদানি হয়েছে। গত বছরের একই সময়ে আমদানি বেড়ে ১২ হাজার ৩৩০টিতে দাঁড়ায়। এক বছরে আমদানি বেড়েছে ৬১ শতাংশের বেশি। এ বছর আরও বাড়ছে। কারণ গত ফেব্রুয়ারির শেষে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হলে জ্বালানি সংকটে অনেকেই ঝামেলা এড়াতে ই-বাইকের দিকে  ঝোঁকেন। নতুন বাজেটেও ইলেকট্রিক গাড়িতে (ইভি) ছাড় দেওয়া হয়েছে। এর ফলে ব্যবহার আরও বাড়বে।

পরিবেশবান্ধব ইলেকট্রিক বাইক হবে আগামীর স্মার্ট বাহন

প্রকাশ: ২১ জুন ২০২৬, ১১:১৮ এএম
আপডেট: ২১ জুন ২০২৬, ১১:২৪ এএম
পরিবেশবান্ধব ইলেকট্রিক বাইক হবে আগামীর স্মার্ট বাহন
নিউ গ্রামীণ মটরস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বোরহান উদ্দিন তানবীর। ছবি: খবরের কাগজ ইনফোগ্রাফ

নিউ গ্রামীণ মটরস লিমিটেড বাংলাদেশে চীনে তৈরি কিছু মোটরসাইকেল, স্কুটার, বাণিজ্যিক তিন চাকার যান, মোটর গিয়ার এবং মোটর অ্যাকসেসরিজের একটি এক্সক্লুসিভ ডিলার হাউস। কোম্পানিটি চীনা প্রস্তুতকারকদের কাছ থেকে বাংলাদেশে বিভিন্ন ধরনের দুই ও তিন চাকার পণ্য আমদানি ও বিতরণ করে। তারা বিভিন্ন ধরনের মোটরসাইকেল ও স্কুটার মডেল প্রদর্শন করছে। আধুনিক মোটরবাইক নিয়ে নিউ গ্রামীণ মটরস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বোরহান উদ্দিন তানবীরের সাক্ষাৎকারটি নিয়েছে খবরের কাগজ।

খবরের কাগজ: বর্তমানে দেশের বাজারে অনেক সস্তা ই-বাইক পাওয়া যায়। আপনাদের ব্র্যান্ডটি ঠিক কী ধরনের গুণগত মান নিশ্চিত করছে, যা সাধারণ মানুষ আর পাঁচটা সস্তা পণ্যের ভিড়ে আলাদা করে দেখবে?

বোরহান উদ্দিন তানবীর: বর্তমানে বাংলাদেশের বাজারে অনেক ধরনের ই-বাইক পাওয়া যাচ্ছে। আমি বিশ্বাস করি, একটি ই-বাইক বিক্রি করা আর একটি বিশ্বমানের ইলেকট্রিক মোবিলিটি ব্র্যান্ড গড়ে তোলার মধ্যে বড় ধরনের পার্থক্য রয়েছে। ZEEHO সেই পার্থক্যের জায়গাতেই নিজেদের অবস্থান তৈরি করেছে। ZEEHO বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ মোটরসাইকেল উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান CFMOTO Group-এর প্রিমিয়াম ইলেকট্রিক ভেহিকেল ব্র্যান্ড।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে যেভাবে গুণগত মান, প্রযুক্তি, নিরাপত্তা এবং ব্যবহারকারীর অভিজ্ঞতাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়, ZEEHO ঠিক সেই একই দর্শন নিয়েই বাংলাদেশে কাজ করছে। আমরা শুধু একটি বাহন বিক্রি করছি না; আমরা ভবিষ্যতের স্মার্ট মোবিলিটি সলিউশন নিয়ে আসছি। আমাদের AE7 Pro, AE4 এবং EZ3-এর মতো মডেলগুলো উন্নত ব্যাটারি প্রযুক্তি, উচ্চ দক্ষতার মোটর, স্মার্ট কানেকটিভিটি, আধুনিক সেফটি ফিচার এবং আন্তর্জাতিক মানের ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের সমন্বয়ে তৈরি। ফলে একজন ব্যবহারকারী শুধু একটি ই-বাইক নয়, বরং একটি সম্পূর্ণ প্রযুক্তিনির্ভর ও নির্ভরযোগ্য ইকোসিস্টেমের অংশ হচ্ছে।

আমার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো গ্রাহকের আস্থা। একটি পণ্যের প্রকৃত মূল্য শুধু তার ক্রয়মূল্যে নয়; বরং তার দীর্ঘমেয়াদি নির্ভরযোগ্যতা, নিরাপত্তা, বিক্রয়োত্তর সেবা এবং ব্যবহার অভিজ্ঞতার মধ্যে নিহিত থাকে। ZEEHO সেই জায়গাগুলোতেই বিনিয়োগ করছে। বাংলাদেশের বাজারে কম দামের বিকল্প সবসময়ই থাকবে।

কিন্তু যারা প্রযুক্তি, নিরাপত্তা, ডিজাইন, ব্র্যান্ড ভ্যালু এবং দীর্ঘমেয়াদি নিশ্চয়তাকে গুরুত্ব দেন, তাদের জন্য ZEEHO একটি ভিন্ন অভিজ্ঞতার নাম। আমাদের লক্ষ্য শুধু ই-বাইক বিক্রি করা নয়; বরং বাংলাদেশে একটি টেকসই, স্মার্ট এবং বিশ্বমানের ইলেকট্রিক মোবিলিটি সংস্কৃতি গড়ে তোলা। আর সে কারণেই আমরা বিশ্বাস করি, ZEEHO আজ দেশের অন্যতম প্রিমিয়াম ইলেকট্রিক মোবিলিটি ব্র্যান্ড হিসেবে নিজস্ব অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে।

খবরের কাগজ: চার্জিং অবকাঠামো বাংলাদেশে এখনো বড় সীমাবদ্ধতা। আপনাদের ই-বাইকগুলো দূরপাল্লার যাত্রায় বা মফস্বল এলাকায় কতটা কার্যকর? ব্যাটারির স্থায়িত্ব নিয়ে গ্রাহকদের মনে যে শঙ্কা আছে, তা দূর করার জন্য আপনারা কী পদক্ষেপ নিচ্ছেন?

বোরহান উদ্দিন তানবীর: চার্জিং অবকাঠামো নিয়ে যে প্রশ্নটি আসে, সেটি খুবই স্বাভাবিক এবং আমি মনে করি এটি বাংলাদেশের ইলেকট্রিক মোবিলিটি খাতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার বিষয়। তবে বাস্তব চিত্র হলো, বাংলাদেশের অধিকাংশ মোটরসাইকেল ব্যবহারকারীর দৈনিক যাতায়াত ৩০ থেকে ৬০ কিলোমিটারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। ZEEHO-এর মডেলগুলো সেই বাস্তব ব্যবহার প্যাটার্নকে মাথায় রেখেই ডিজাইন ও উন্নয়ন করা হয়েছে। ফলে একজন সাধারণ ব্যবহারকারীর জন্য দৈনন্দিন চলাচলে চার্জিং কোনো বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায় না।

ব্যাটারির স্থায়িত্ব নিয়েও অনেকের মধ্যে প্রশ্ন রয়েছে। আমি সবসময় বলি, একটি ইলেকট্রিক ভেহিকেলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হলো তার ব্যাটারি। তাই ZEEHO-তে আমরা ব্যাটারির নিরাপত্তা, পারফরম্যান্স এবং দীর্ঘমেয়াদি নির্ভরযোগ্যতাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিই। উন্নত Battery Management System (BMS), মাল্টি-লেয়ার সুরক্ষাব্যবস্থা, সেল ব্যালেন্সিং প্রযুক্তি এবং কঠোর আন্তর্জাতিক মান নিয়ন্ত্রণ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ব্যাটারির সর্বোচ্চ কার্যকারিতা নিশ্চিত করা হয়।

আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, আমরা শুধু একটি পণ্য বাজারজাত করছি না; আমরা একটি দীর্ঘমেয়াদি ই-মোবিলিটি ইকোসিস্টেম গড়ে তুলছি। বিক্রয়োত্তর সেবা, প্রযুক্তিগত সহায়তা এবং গ্রাহক আস্থা তৈরির মাধ্যমে আমরা নিশ্চিত করতে চাই যে, একজন ব্যবহারকারী তার ZEEHO ব্যবহারের পুরো যাত্রায় নির্ভরযোগ্য সাপোর্ট পান।

দূরপাল্লার যাত্রা এবং মফস্বল অঞ্চলের বিষয়টি মাথায় রেখেই আমরা ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা করছি। বাংলাদেশে চার্জিং অবকাঠামো এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে থাকলেও সরকার, বেসরকারি খাত এবং প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর সমন্বয়ে আগামী কয়েক বছরে এ খাতে বড় ধরনের অগ্রগতি হবে বলে আমরা বিশ্বাস করি। ZEEHO সেই ভবিষ্যতের জন্য ইতোমধ্যেই প্রযুক্তিগতভাবে প্রস্তুত।

আমার বিশ্বাস, ইলেকট্রিক মোবিলিটির সফলতা শুধু চার্জিং স্টেশনের সংখ্যার ওপর নির্ভর করবে না; বরং নির্ভর করবে নির্ভরযোগ্য প্রযুক্তি, উন্নত ব্যাটারি, শক্তিশালী সেবা নেটওয়ার্ক এবং গ্রাহকের আস্থার ওপর। আর ZEEHO ঠিক সেই ভিত্তিগুলোকে শক্তিশালী করেই বাংলাদেশের ইলেকট্রিক মোবিলিটির ভবিষ্যৎ নির্মাণে কাজ করছে।

খবরের কাগজ: আপনারা কোন ধরনের লিথিয়াম-আয়ন সেল ব্যবহার করছেন? বাংলাদেশের আবহাওয়ার জন্য কতটা উপযোগী?

বোরহান উদ্দিন তানবীর: ZEEHO বিশ্বমানের লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি প্রযুক্তি ব্যবহার করে, যা নিরাপত্তা, স্থায়িত্ব এবং পারফরম্যান্সকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেয়। বাংলাদেশের উচ্চ তাপমাত্রা, আর্দ্রতা এবং বৈচিত্র্যময় সড়ক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে আমাদের ব্যাটারি ও পাওয়ার সিস্টেম আন্তর্জাতিক পরীক্ষার মধ্যদিয়ে যায়। উন্নত থার্মাল ম্যানেজমেন্ট এবং সুরক্ষাব্যবস্থার কারণে ব্যাটারির কর্মক্ষমতা দীর্ঘমেয়াদে স্থিতিশীল থাকে। আমরা সবসময় এমন প্রযুক্তি নির্বাচন করি যা বাংলাদেশের বাস্তব ব্যবহারকারীদের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

খবরের কাগজ: ব্যাটারির আয়ুষ্কাল বাড়ানোর জন্য কী ধরনের Battery Management System ব্যবহার করছেন?

বোরহান উদ্দিন তানবীর: বর্তমান যুগে ব্যাটারির মান নির্ধারণ হয় শুধু সেলের মাধ্যমে নয়, বরং তার ব্যবস্থাপনা প্রযুক্তির মাধ্যমে। ZEEHO-এর স্মার্ট Battery Management System প্রতিনিয়ত ব্যাটারির স্বাস্থ্য, তাপমাত্রা, ভোল্টেজ ব্যালেন্স এবং চার্জিং আচরণ পর্যবেক্ষণ করে। ফলে ব্যাটারির কর্মক্ষমতা দীর্ঘ সময় ধরে স্থিতিশীল থাকে এবং নিরাপত্তা ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পায়। ব্যবহারকারীর জন্য এটি শুধু দীর্ঘ আয়ুষ্কাল নয়, বরং নির্ভরযোগ্যতারও নিশ্চয়তা।

খবরের কাগজ: কন্ট্রোলারের এফিসিয়েন্সি ও মোটর সুরক্ষাব্যবস্থা সম্পর্কে বলুন।

বোরহান উদ্দিন তানবীর: ই-বাইকের প্রকৃত কর্মক্ষমতা অনেকাংশে নির্ভর করে তার কন্ট্রোলারের ওপর। ZEEHO-এর উন্নত কন্ট্রোল সিস্টেম মোটর, ব্যাটারি এবং রাইডিং কন্ডিশনের মধ্যে সর্বোত্তম সমন্বয় তৈরি করে। এটি শক্তির অপচয় কমায়, কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি করে এবং দীর্ঘমেয়াদে সিস্টেমের নির্ভরযোগ্যতা নিশ্চিত করে। আমাদের লক্ষ্য সর্বোচ্চ দক্ষতা এবং নিরাপত্তা বজায় রেখে ব্যবহারকারীদের উন্নত রাইডিং অভিজ্ঞতা প্রদান করা।

খবরের কাগজ: আপনারা কি আন্তর্জাতিক চার্জিং প্রোটোকল অনুসরণ করেন?

বোরহান উদ্দিন তানবীর: প্রযুক্তির ক্ষেত্রে ZEEHO সর্বদা আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করে। চার্জিং নিরাপত্তা, ব্যাটারি সুরক্ষা এবং দীর্ঘমেয়াদি নির্ভরযোগ্যতাকে আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিই। আমাদের উদ্দেশ্য কখনোই গ্রাহককে সীমাবদ্ধ করা নয়; বরং নিরাপদ, কার্যকর এবং মানসম্মত চার্জিং অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করা।

খবরের কাগজ: ফাস্ট চার্জিং কি ব্যাটারির ক্ষতি করে না?

বোরহান উদ্দিন তানবীর: ফাস্ট চার্জিং আধুনিক ই-মোবিলিটির একটি গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা। তবে এটি অবশ্যই স্মার্ট ব্যাটারি ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সমন্বিত হতে হয়। ZEEHO-এর প্রকৌশলীরা চার্জিং গতি, ব্যাটারি স্বাস্থ্য এবং দীর্ঘমেয়াদি স্থায়িত্বের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করেই প্রযুক্তি উন্নয়ন করেন। ফলে ব্যবহারকারী দ্রুত চার্জিং সুবিধা পাওয়ার পাশাপাশি ব্যাটারির দীর্ঘমেয়াদি কর্মক্ষমতাও উপভোগ করতে পারেন।

খবরের কাগজ: বৃষ্টির সময় ইলেকট্রনিক্স কতটা নিরাপদ?

বোরহান উদ্দিন তানবীর: বাংলাদেশের আবহাওয়া এবং রাস্তার বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়েই ZEEHO-এর ইলেকট্রনিক্স ও বৈদ্যুতিক উপাদানগুলো ডিজাইন করা হয়েছে। পানি, ধুলো এবং দৈনন্দিন ব্যবহারের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক মানের সুরক্ষাব্যবস্থা অনুসরণ করা হয়। ফলে সাধারণ বর্ষা মৌসুম, ভেজা রাস্তা কিংবা দীর্ঘ সময়ের দৈনন্দিন ব্যবহারে ব্যবহারকারীরা আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে রাইড করতে পারেন।

খবরের কাগজ: OTA আপডেট সুবিধা আছে কি?

বোরহান উদ্দিন তানবীর: বর্তমান যুগে যানবাহন শুধু হার্ডওয়্যার নয়; এটি একটি সফটওয়্যারভিত্তিক প্রযুক্তি প্ল্যাটফর্মও। ZEEHO-এর স্মার্ট প্রযুক্তি ব্যবহারকারীদের আরও উন্নত, নিরাপদ এবং আপডেটেড অভিজ্ঞতা দেওয়ার লক্ষ্যে ডিজাইন করা হয়েছে। ভবিষ্যতের ই-মোবিলিটি হবে আরও বেশি সংযুক্ত, স্মার্ট এবং সফটওয়্যার-নির্ভর-ZEEHO সেই ভবিষ্যতের অংশ।

খবরের কাগজ: গ্রাহক কি নিজেরাই Error Code দেখতে পারবেন?

বোরহান উদ্দিন তানবীর: আমাদের লক্ষ্য হলো প্রযুক্তিকে ব্যবহারকারীবান্ধব করা। তাই স্মার্ট ডিসপ্লে এবং ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক সুবিধার মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা প্রাথমিক তথ্য জানতে পারেন। একই সঙ্গে ZEEHO-এর প্রশিক্ষিত সার্ভিস টিম এবং প্রযুক্তিগত সহায়তা ব্যবস্থা দ্রুত ও কার্যকর সমাধান নিশ্চিত করে।

খবরের কাগজ: ই-বাইক কি সত্যিই পরিবেশবান্ধব?

বোরহান উদ্দিন তানবীর: আমরা বিশ্বাস করি ভবিষ্যতের টেকসই পরিবহন ব্যবস্থার অন্যতম প্রধান অংশ হবে ইলেকট্রিক মোবিলিটি। এটি কার্বন নিঃসরণ কমায়, শব্দদূষণ হ্রাস করে এবং জ্বালানিনির্ভরতা কমাতে সহায়তা করে। তবে পরিবেশবান্ধব হওয়ার অর্থ শুধু ই-বাইক বিক্রি নয়; দায়িত্বশীল ব্যাটারি ব্যবস্থাপনাও এর অংশ। ZEEHO দীর্ঘমেয়াদে আন্তর্জাতিক মানের রিসাইক্লিং এবং সাসটেইনেবিলিটি নীতিমালা অনুসরণের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

খবরের কাগজ: বিক্রয়োত্তর সেবার নিশ্চয়তা কীভাবে দিচ্ছেন?

বোরহান উদ্দিন তানবীর: যেকোনো প্রিমিয়াম ব্র্যান্ডের প্রকৃত শক্তি তার বিক্রয়োত্তর সেবায় প্রতিফলিত হয়। ZEEHO Bangladesh সারা দেশে শক্তিশালী ডিলার নেটওয়ার্ক, প্রশিক্ষিত টেকনিশিয়ান, পর্যাপ্ত যন্ত্রাংশ সরবরাহ এবং প্রযুক্তিগত সহায়তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কাজ করছে। আমরা মনে করি গ্রাহকের সঙ্গে সম্পর্ক বিক্রয়ের মাধ্যমে শুরু হয়, শেষ হয় না।

খবরের কাগজ: ব্যাটারিতে আগুন লাগার ঝুঁকি নিয়ে আপনারা কতটা আপসহীন?

বোরহান উদ্দিন তানবীর: নিরাপত্তার প্রশ্নে ZEEHO কখনোই আপস করে না। আন্তর্জাতিক মানের ব্যাটারি প্রযুক্তি, উন্নত সুরক্ষাব্যবস্থা, স্মার্ট BMS এবং কঠোর মান নিয়ন্ত্রণ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়। আমাদের কাছে প্রতিটি গ্রাহকের নিরাপত্তা ব্যবসায়িক লক্ষ্য নয়, বরং একটি মৌলিক দায়িত্ব।

খবরের কাগজ: সরকারি নীতিমালা ও রেজিস্ট্রেশন বিষয়ে আপনাদের ভূমিকা কী?

বোরহান উদ্দিন তানবীর: ইলেকট্রিক যানবাহন শিল্পের টেকসই উন্নয়নের জন্য সরকার, শিল্প খাত এবং ব্যবহারকারীদের মধ্যে সমন্বয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমরা সবসময় এমন নীতিমালার পক্ষে কাজ করি যা নিরাপদ, পরিবেশবান্ধব এবং আধুনিক পরিবহনব্যবস্থাকে উৎসাহিত করে। একই সঙ্গে আইন ও বিধিমালা মেনে দায়িত্বশীল ব্যবসা পরিচালনায় আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

খবরের কাগজ: ই-বাইক কি মধ্যবিত্তের জন্য লাভজনক বিনিয়োগ?

বোরহান উদ্দিন তানবীর: আমরা ই-বাইককে কোনো বিলাসী পণ্য হিসেবে দেখি না; বরং এটি ভবিষ্যতের অর্থনৈতিক এবং দক্ষ পরিবহন সমাধান। জ্বালানি খরচ, রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় এবং দৈনন্দিন ব্যবহার বিবেচনায় দীর্ঘমেয়াদে ইলেকট্রিক যানবাহন অনেক ক্ষেত্রেই ব্যবহারকারীর জন্য অর্থনৈতিক সুবিধা তৈরি করে। প্রযুক্তির উন্নয়ন এবং ব্যাটারির স্থায়িত্ব বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে এই সুবিধা আরও বাড়বে।

খবরের কাগজ: বাংলাদেশে নিজস্ব R&D করার পরিকল্পনা আছে কি?

বোরহান উদ্দিন তানবীর: বাংলাদেশে ই-মোবিলিটির ভবিষ্যৎ অত্যন্ত সম্ভাবনাময়। ZEEHO Bangladesh শুধু একটি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান হিসেবে নয়, বরং প্রযুক্তিগত সক্ষমতা গড়ে তোলার অংশীদার হিসেবে কাজ করতে চায়। ভবিষ্যতে স্থানীয় পর্যায়ে গবেষণা, প্রযুক্তি উন্নয়ন, দক্ষ জনবল তৈরি এবং শিল্প সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়ে আমরা ইতিবাচকভাবে কাজ করছি।

খবরের কাগজ: আগামী ৫ বছরে বাংলাদেশের পরিবহন খাতে ই-বাইকের ভূমিকা কী হবে বলে আপনি মনে করেন? আপনাদের কি বড় ধরনের কোনো ফ্লিট পরিবর্তনের পরিকল্পনা আছে?

বোরহান উদ্দিন তানবীর: আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, আগামী পাঁচ বছরে বাংলাদেশের পরিবহন খাতে সবচেয়ে বড় প্রযুক্তিগত পরিবর্তনগুলোর একটি হবে ইলেকট্রিক মোবিলিটির ব্যাপক বিস্তার।

আজ যে ই-বাইক খাতকে অনেকেই একটি নতুন সম্ভাবনা হিসেবে দেখছেন, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে সেটিই দেশের অন্যতম প্রধান ব্যক্তিগত ও বাণিজ্যিক পরিবহন বিকল্প হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে। বাংলাদেশে জ্বালানি ব্যয় ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে, নগরায়ণ দ্রুত হচ্ছে এবং পরিবেশগত সচেতনতা আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় অনেক বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। এ বাস্তবতায় ইলেকট্রিক দুই চাকার যানবাহন আর কোনো বিকল্প প্রযুক্তি নয়, বরং ভবিষ্যতের মূলধারার পরিবহনব্যবস্থার অংশ হয়ে উঠবে।

বিশেষ করে শহর ও উপশহরভিত্তিক দৈনন্দিন যাতায়াত, করপোরেট পরিবহন, লাস্ট-মাইল কানেকটিভিটি, ডেলিভারি সার্ভিস, ই-কমার্স লজিস্টিকস এবং শেয়ার্ড মোবিলিটি খাতে ই-বাইকের ব্যবহার বহু গুণ বৃদ্ধি পাবে বলে আমরা মনে করি।

বর্তমানে আমরা এমন একটি সময় পার করছি, যেটি অনেকটা মোবাইল ফোন শিল্পের শুরুর সময়ের মতো। একসময় যেমন মোবাইল ফোন ছিল সীমিত মানুষের জন্য, কিন্তু অল্প কয়েক বছরের মধ্যেই সেটি সবার দৈনন্দিন জীবনের অংশ হয়েছে; আমি মনে করি ইলেকট্রিক যানবাহনের ক্ষেত্রেও বাংলাদেশ একই ধরনের পরিবর্তনের মধ্যদিয়ে যাবে।

তবে এই সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দিতে হলে সরকার, শিল্প খাত এবং বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। চার্জিং অবকাঠামো সম্প্রসারণ, স্থানীয় অ্যাসেম্বলি ও উৎপাদন সুবিধা বৃদ্ধি, প্রযুক্তি স্থানান্তর, দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়ন, পরিবেশবান্ধব যানবাহনের জন্য কর ও নীতিগত সুবিধা এবং সহজ রেজিস্ট্রেশন ব্যবস্থা নিশ্চিত করা গেলে বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম সম্ভাবনাময় ই-মোবিলিটি বাজারে পরিণত হতে পারে।

ZEEHO Bangladesh এই পরিবর্তনের দর্শক নয়, বরং অংশীদার হতে চায়। আমাদের লক্ষ্য শুধু আন্তর্জাতিক মানের ইলেকট্রিক স্কুটার বা মোটরসাইকেল বাজারে আনা নয়; বরং একটি পূর্ণাঙ্গ ই-মোবিলিটি ইকোসিস্টেম গড়ে তোলা। আমরা ভবিষ্যতে স্মার্ট কানেকটেড ভেহিকেল, উন্নত চার্জিং সল্যুশন, ডিজিটাল সার্ভিস প্ল্যাটফর্ম, করপোরেট ফ্লিট সল্যুশন এবং গ্রাহককেন্দ্রিক বিক্রয়োত্তর সেবার মাধ্যমে দেশের ইভি খাতকে আরও এগিয়ে নিতে কাজ করতে চাই।

আমার প্রত্যাশা, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে বাংলাদেশের দুই-চাকার যানবাহন বাজারে ইলেকট্রিক সেগমেন্ট একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান তৈরি করবে এবং সেই রূপান্তরের অন্যতম নেতৃত্বদানকারী ব্র্যান্ড হিসেবে ZEEHO নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করবে। আমরা বিশ্বাস করি, ভবিষ্যতের পরিবহন হবে স্মার্ট, সংযুক্ত, পরিবেশবান্ধব এবং বিদ্যুৎনির্ভর–আর সেই ভবিষ্যৎ খুব দূরে নয়, বরং ইতোমধ্যেই শুরু হয়েছে।

খবরের কাগজ: আপনাকে ধন্যবাদ।

বোরহান উদ্দিন তানবীর: খবরের কাগজ এগিয়ে যাক, এই কামনা রইল।

পিটারসেন অটোমোটিভ মিউজিয়াম অটোমোবাইল ডেস্ক

প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬, ০৯:১৮ পিএম
পিটারসেন অটোমোটিভ মিউজিয়াম
অটোমোবাইল ডেস্ক
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার লস অ্যাঞ্জেলেসে অবস্থিত পিটারসেন অটোমোটিভ মিউজিয়াম বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ও সমৃদ্ধ গাড়ির জাদুঘর। গাড়ির ইতিহাস, প্রযুক্তিগত অগ্রগতি ও ভবিষ্যতের নকশা দিয়ে সাজানো এই জাদুঘর গাড়িপ্রেমীদের জন্য এক বিস্ময়কর অভিজ্ঞতার সূচনা করে।

১৯৯৪ সালে রবার্ট ই. পিটারসেন ও মার্জি পিটারসেন জাদুঘরটি প্রতিষ্ঠা করেন। রবার্ট ছিলেন একজন বিখ্যাত ম্যাগাজিন প্রকাশক, যিনি মোটরগাড়ি শিল্পের প্রতি খুব আগ্রহী ছিলেন। তাঁদের উদ্দেশ্য ছিল এমন একটি জায়গা তৈরি করা, যেখানে মানুষ গাড়ির প্রতি তাদের ভালোবাসা প্রকাশ করতে পারবে এবং এই শিল্পের ইতিহাস সম্পর্কে জানতে পারবে। মূলত গাড়ির সংস্কৃতি ও প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনের ইতিহাস সংরক্ষণের লক্ষ্যে এটি গড়ে তোলা হয়েছে।

২০১৫ সালে ১২৫ মিলিয়ন ডলার ব্যয়ে এটি আধুনিকায়ন করা হয়, ফলে জাদুঘরটির নকশায় আসে বৈপ্লবিক পরিবর্তন। বর্তমানে এর স্টেইনলেস স্টিলের ঢেউখেলানো বাহ্যিক নকশা গতির প্রতীক হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। এখানে ১০ হাজারের বেশি গাড়ির সংগ্রহ রয়েছে, যা ক্ল্যাসিক গাড়ি থেকে শুরু করে আধুনিক ডিজাইন পর্যন্ত বিস্তৃত।

পিটারসেন অটোমোটিভ মিউজিয়ামে বিভিন্ন ধরনের গাড়ি প্রদর্শন করা হয়, যা অটোমোবাইল শিল্পের ইতিহাস তুলে ধরে। এতে ক্ল্যাসিক গাড়ি, রেসিং কার, মোটরসাইকেল ও কনসেপ্ট কার রয়েছে। এ ছাড়া এখানে বেশ কয়েকটি ইন্টার‌্যাক্টিভ প্রদর্শনীর ব্যবস্থা রয়েছে, যা দর্শকদের অটোমোবাইল শিল্পের বিজ্ঞান সম্পর্কে জানতে সাহায্য করে। এখানে সিনেমা ও টেলিভিশন শো-তে ব্যবহৃত গাড়িগুলো প্রদর্শিত হয়। বিশ্বের বিখ্যাত কিছু রেসিং কার এখানে দেখা যায়। এ শিল্পের একদম শুরুর দিকের ক্ল্যাসিক গাড়িগুলো এখানে রয়েছে। ভবিষ্যৎ গাড়িগুলোর ডিজাইন এখানে প্রদর্শন করা হয়।

পিটারসেন অটোমোটিভ মিউজিয়াম জনসাধারণের মধ্যে অটোমোবাইল শিল্পের ইতিহাস সম্পর্কে শিক্ষা বিস্তারে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। জাদুঘরটি শিশু ও বয়স্কদের জন্য বিভিন্ন শিক্ষামূলক প্রোগ্রাম পরিচালনা করে। এ ছাড়া এখানে একটি গবেষণা গ্রন্থাগার রয়েছে, যা জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত।

বছরজুড়ে পিটারসেন অটোমোটিভ মিউজিয়ামে মাঝে মধ্যে বিশেষ প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে কার শো, লেকচার ও ওয়ার্কশপ। এ ছাড়া এখানে কিছু বিশেষ প্রদর্শনী হয়, যা সীমিত সময়ের জন্য দেখানো হয়।

জাদুঘরের সবচেয়ে আকর্ষণীয় অংশ ‘দ্য ভল্ট’, যেখানে ২৫০টিরও বেশি ক্ল্যাসিক, দুর্লভ ও ঐতিহাসিক গাড়ি সংরক্ষিত আছে। গাড়ির অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎকে একত্রে উপস্থাপন করে পিটারসেন অটোমোটিভ মিউজিয়াম বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ গাড়ি সংগ্রহশালা হিসেবে স্বীকৃত। পিটারসেন অটোমোটিভ মিউজিয়াম সপ্তাহের সাত দিনই জনসাধারণের জন্য খোলা থাকে। এটি লস অ্যাঞ্জেলেসের ৬০৬ উইলশায়ার বুলেভার্ডে অবস্থিত।

বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া সিরিজে ইলেকট্রিক বাইক পার্টনার ভি মটো বাংলাদেশ

প্রকাশ: ১২ জুন ২০২৬, ০৩:৫৩ পিএম
বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া সিরিজে ইলেকট্রিক বাইক পার্টনার ভি মটো বাংলাদেশ
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যকার চলমান দ্বিপক্ষীয় ক্রিকেট সিরিজে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) অফিশিয়াল ইলেকট্রিক বাইক পার্টনার হিসেবে যুক্ত হয়েছে ভি মটো বাংলাদেশ। মাঠে ক্রিকেটের রোমাঞ্চের পাশাপাশি দেশে পরিবেশবান্ধব ই-মবিলিটি বা বৈদ্যুতিক যানবাহনের ধারণাকে ছড়িয়ে দিতে এই যৌথ উদ্যোগ নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

সিরিজে মাঠের পারফরম্যান্স ও ক্রিকেটারদের অদম্য স্পৃহাকে সম্মান জানাতে বিশেষ পুরস্কারের ঘোষণাও দিয়েছে ভি মটো বাংলাদেশ। চলমান এই সিরিজে বল হাতে দুর্দান্ত নৈপুণ্য দেখিয়ে যে বাংলাদেশি বোলার সর্বোচ্চ উইকেট শিকার করবেন, তাঁকে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে একটি আকর্ষণীয় ইলেকট্রিক বাইক পুরস্কার দেওয়া হবে।

সম্প্রতি এক আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দুই পক্ষের মধ্যে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে ভি মটো বাংলাদেশের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন ভি মটো গ্রুপের দক্ষিণ এশীয় অঞ্চলের কান্ট্রি ডিরেক্টর মীর ফয়সাল, ভি মটো বাংলাদেশ ও সিমবা মটরস লিমিটেডের চেয়ারম্যান সোহেল বিন আজাদ এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) রাজীব নূর।

অন্যদিকে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন বিসিবির ক্রিকেট অপারেশনস ইনচার্জ ও সাবেক জাতীয় ক্রিকেটার শাহরিয়ার নাফীস এবং মার্কেটিং ও কমার্শিয়াল বিভাগের মো. আসিফুল ইসলাম।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, এই অংশীদারত্বের মাধ্যমে ক্রিকেট মাঠের উৎকর্ষ উদযাপনের পাশাপাশি প্রযুক্তির নিত্যনতুন উদ্ভাবন ও পরিবেশবান্ধব চেতনাকে এগিয়ে নেওয়ার অভিন্ন লক্ষ্য প্রতিফলিত হয়েছে। বাংলাদেশ ক্রিকেটের এই গৌরবময় যাত্রার সঙ্গী হতে পেরে এবং একটি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ও স্মরণীয় সিরিজ উপহার দেওয়ার আশা প্রকাশ করেছে ভি মটো বাংলাদেশ।