ঢাকা ২৩ আষাঢ় ১৪৩৩, মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
মৃত্যুর আগ পর্যন্ত আক্ষেপ থেকেই যাবে! যাত্রীসেবায় আরও যত্নশীল হোক রেলওয়ে বাজেট প্রবৃদ্ধির প্রত্যাশা নাকি সংস্কারের হারানো সুযোগ ঢলে ভাসছে চকরিয়া-পেকুয়া, পাহাড়ধসে শিশুর মৃত্যু ‘বিড়ালের অভিশাপে’ বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে গেছে ব্রাজিল রাঙামাটিতে পাহাড়ধস ও ভূমিধসের শঙ্কা, প্রস্তুত ৪৪ আশ্রয়কেন্দ্র মেসি ও সালাহর সামনে রেকর্ডের হাতছানি জয়পুরহাটে ট্রাক-অটোরিকশা মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ২, আহত ৫ ভূমিরূপ পরিবর্তন অধ্যায়ের ১১টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর, ৩য় পর্ব, এইচএসসির ভূগোল ১ম পত্র সদাচারী জ্ঞানসাধক আবুল কাসেম ফজলুল হক কিনব্রিজের পাদদেশে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০ বছর উদযাপন চট্টগ্রামে দেয়ালধসে নিহত ১, শিশুসহ আহত তিন টানা বৃষ্টির প্রভাব, চট্টগ্রাম–কক্সবাজার রুটে ট্রেন চলাচল ব্যাহত বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক সংস্থার সমাজ উন্নয়ন কার্যক্রম অধ্যায়ের ১টি সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর, ২য় পর্ব, এইচএসসির সমাজকর্ম ২য় পত্র অবিরাম বৃষ্টিতে ঝুঁকিতে বান্দরবান, খোলা হলো ২২০ আশ্রয়কেন্দ্র কারণ জানুন বিশ্ববাজারে ব্যবসা বাড়াতে নতুন রূপে ‘টিপসই’ মিসরের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার জার্সিতে যেভাবে শুরু হয়েছিল মেসি-অধ্যায় এআই ও ডেটা সায়েন্সে স্নাতক প্রোগ্রাম চালু করল আইএসইউ বাংলাদেশি শ্রমিকদের জন্য খুলল মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার: প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী কম্বোডিয়ায় মানবপাচার ও তরুণ নিহতের ঘটনার মূলহোতা গ্রেপ্তার লাকড়ির স্তূপে বিষধর সাপ, প্রাণ গেল নারীর পাবলিক স্পিকিংয়ে মঞ্চ মাতাবেন যেভাবে মহাকাশে পতনশীল সুইফট অবজারভেটরি উদ্ধারে নাসার সফল অভিযান যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপের ঝুঁকির সতর্কবার্তা ব্রাজিলের রাতের রানিতে সেজেছে পেকুয়ার পাহাড় নোয়াখালীর ২ হাসপাতালকে জরিমানা লিবিয়া থেকে দেশে ফিরলেন ১৭৪ বাংলাদেশি ৭৩১ জনকে চাকরি দেবে মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর বিমা খাতকে আইনি কাঠামোয় আনার তাগিদ তথ্যমন্ত্রীর

কিয়ার ভিশন মেটা ট্যুরিজমো ভবিষ্যতের স্পোর্টস কার

প্রকাশ: ২০ মে ২০২৬, ১০:২৪ পিএম
কিয়ার ভিশন মেটা ট্যুরিজমো ভবিষ্যতের স্পোর্টস কার
ছবি: সংগৃহীত

অটোমোবাইল জগতে প্রথাগত বৈদ্যুতিক গাড়ির ধারণা বদলে দিতে নতুন এক কনসেপ্ট কার উন্মোচন করেছে দক্ষিণ কোরীয় প্রতিষ্ঠান কিয়া। সম্প্রতি মিলান ডিজাইন উইকে তারা প্রদর্শন করেছে ‘ভিশন মেটা ট্যুরিজমো’। এটি কেবল একটি গাড়ি নয়, বরং ডিজিটাল প্রযুক্তি ও যান্ত্রিক দক্ষতার এক অনন্য সমন্বয়।

কিয়া এই গাড়িটিকে তাদের ‘অপোজিটস ইউনাইটেড’ দর্শনের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করেছে। প্রতিষ্ঠানটির গ্লোবাল ডিজাইন প্রধান করিম হাবিব জানিয়েছেন, ভিশন মেটা ট্যুরিজমো কিয়ার ভবিষ্যৎ যাত্রার একটি মাইলফলক। এটি মূলত মানুষের আবেগ ও অত্যাধুনিক প্রযুক্তির সংমিশ্রণে তৈরি এক বৈদ্যুতিক বাহন।

বাহিরের নকশা
গাড়িটির বাহ্যিক রূপ দেখতে বেশ গতিশীল। এর নিচু ও চওড়া কাঠামো একে একটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন স্পোর্টস কারের রূপ দিয়েছে। এর পেছনের অংশটি তীক্ষ্ণভাবে কাটা এবং এতে রয়েছে অতি সরু আলোকসজ্জা, যা বাতাসের বাধা কমিয়ে গতি বাড়াতে সাহায্য করে। ডিজাইনাররা জানান, গাড়িটির কাঠামো তৈরিতে তারা যুদ্ধবিমান বা অ্যাভিয়েশন থেকে অনুপ্রেরণা নিয়েছেন।

অভ্যন্তরীণ রূপান্তর
প্রথাগত গাড়ির ভেতরের সজ্জার তুলনায় ভিশন মেটা ট্যুরিজমো অনেক বেশি বৈপ্লবিক। এর কেবিনকে গতিশীল ড্রাইভিং, ডিজিটাল মিথস্ক্রিয়া ও আরামদায়ক বিশ্রামের জন্য তিন ভাগে ভাগ করা হয়েছে। গাড়িটি যখন স্থির অবস্থায় থাকে, তখন এর আসন ১৮০ ডিগ্রি ঘুরিয়ে একে অপরের মুখোমুখি বসা যায়। এমনকি এতে অগমেন্টেড রিয়েলিটি (এআর) প্রযুক্তির মাধ্যমে ভার্চুয়াল জগতের সুবিধাও নেওয়া সম্ভব।

ডিজিটাল প্রযুক্তি ও গেমিং
এই কনসেপ্ট কারের সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক এর স্টিয়ারিং ব্যবস্থা, যা অনেকটা গেমিং কন্ট্রোলারের মতো। এতে স্পিডস্টার, ড্রিমার ও গেমার–তিনটি মোড রয়েছে। চালক চাইলে গাড়িটিকে পারফরম্যান্স মোডে চালাতে পারেন; আবার গেমার মোডে গাড়িটি একটি সামাজিক আড্ডার কেন্দ্রে পরিণত হয়। বৈদ্যুতিক গাড়ি হওয়া সত্ত্বেও এতে কৃত্রিম ইঞ্জিনের শব্দ এবং ভাইব্রেশন যোগ করা হয়েছে, যাতে চালক যান্ত্রিক অনুভব করতে পারেন।

যদিও ভিশন মেটা ট্যুরিজমো এখনই সড়কে নামছে না, তবে এটি ভবিষ্যতের যাতায়াত ব্যবস্থার এক স্পষ্ট ইঙ্গিত। কিয়া প্রমাণ করতে চাইছে, একটি বৈদ্যুতিক গাড়ি কেবল গন্তব্যে পৌঁছানোর মাধ্যম নয়, এটি বিনোদন ও বিশ্রামের একটি বহুমুখী ডিজিটাল স্থান হতে পারে। 

হুন্দাই আনল প্রিমিয়াম ইলেকট্রিক ইনস্টার লাউঞ্জ

প্রকাশ: ০৭ জুলাই ২০২৬, ০৩:১৫ পিএম
হুন্দাই আনল প্রিমিয়াম ইলেকট্রিক ইনস্টার লাউঞ্জ
নতুন মডেলের বৈদ্যুতিক গাড়ি ‘ইনস্টার লাউঞ্জ’ বাজারে এনেছে দক্ষিণ কোরিয়ার গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান হুন্দাই।

ইউরোপের বাজারে ছোট বৈদ্যুতিক গাড়ির চাহিদা মাথায় রেখে নতুন মডেল ‘ইনস্টার লাউঞ্জ’ বাজারে এনেছে দক্ষিণ কোরিয়ার গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান হুন্দাই। এটি তাদের জনপ্রিয় ছোট এসইউভি ‘ইনস্টার’-এর প্রিমিয়াম সংস্করণ। বিলাসবহুল ফিচার যুক্ত করে গাড়িটিকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলা হয়েছে।

হুন্দাইয়ের ইনস্টার ইউরোপের বাজারে প্রতিষ্ঠানটির সবচেয়ে ছোট এবং সাশ্রয়ী বৈদ্যুতিক গাড়ি। পাশাপাশি এটি হুন্দাইয়ের সবচেয়ে জনপ্রিয় ইভি। ২৫ হাজার ইউরো বা ২৮ হাজার ৫০০ ডলারের কমে এটি কেনা যায়। ইউরোপের বাজারে ছোট আকারের বৈদ্যুতিক গাড়ির মধ্যে বিক্রির দিক থেকে ইনস্টার ২০২৫ সালে দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল। চলতি বছরেও গাড়িটি তার এই অবস্থান ধরে রেখেছে।

নতুন ক্রেতাদের আকৃষ্ট করতে হুন্দাই বাজারে এনেছে ইনস্টার লাউঞ্জ নামের ফ্ল্যাগশিপ মডেল। ইনস্টার ক্রস মডেলের গাড়িটি যেখানে রুক্ষ রাস্তার জন্য তৈরি হয়েছিল, সেখানে নতুন লাউঞ্জ মডেলে বিলাসবহুল অভ্যন্তরীণ নকশা করা হয়েছে। এতে বেশ কিছু আধুনিক সুবিধাও যুক্ত করা হয়েছে।

গাড়ির ভেতরে প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতার জন্য হুন্দাই এতে যুক্ত করেছে চামড়ার আসন, কেভলার মেমব্রেন সমৃদ্ধ উন্নত মানের স্পিকার এবং বিশেষ ধরনের হেডলাইনার ও সান ভাইজার। গাড়ির আকার ছোট হলেও ভেতরে জায়গা ব্যবহারের সর্বোচ্চ সুযোগ রাখা হয়েছে। সামনের দিকের আসনগুলো পুরোপুরি ভাঁজ করা যায় এবং দ্বিতীয় সারির আসন প্রয়োজন অনুযায়ী সরিয়ে জায়গা বাড়ানো সম্ভব।

নতুন এই মডেলে দুটি ব্যাটারি ও মোটর অপশন রয়েছে। একটি মডেলে আছে ৪২ কিলোওয়াট-আওয়ারের ব্যাটারি এবং ৯৫ হর্সপাওয়ারের মোটর। অন্যটিতে রয়েছে ৪৯ কিলোওয়াট-আওয়ারের ব্যাটারি ও ১১২ হর্সপাওয়ারের শক্তিশালী মোটর। হুন্দাইয়ের তথ্যানুযায়ী, একবার পূর্ণ চার্জে গাড়িটি প্রায় ৩৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত পথ চলতে সক্ষম। চার্জিং সুবিধার ক্ষেত্রেও গাড়িটি বেশ আধুনিক। ১২০ কিলোওয়াট ডিসি ফাস্ট চার্জার ব্যবহার করে মাত্র ৩০ মিনিটে ব্যাটারি ১০ শতাংশ থেকে ৮০ শতাংশ পর্যন্ত চার্জ করা সম্ভব।

হুন্দাই মোটর ইউরোপের প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মার্তিনেত জানান, ইনস্টার লাউঞ্জ মডেলের মাধ্যমে তারা প্রমাণ করেছেন যে, শহরের উপযোগী এসইউভি গাড়ির নকশা আরামদায়ক যাত্রা এবং নমনীয়তার সঙ্গে এক্সক্লুসিভ বৈশিষ্ট্যের চমৎকার সমন্বয় ঘটাতে পারে।

গাড়িটির বাইরে বিশেষ রং হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে ‘গ্লো মিন্ট’। এছাড়া অ্যাটলাস হোয়াইট, আনব্লিচড আইভরি, টমবয় খাকি এবং অ্যাবিস ব্ল্যাক পার্ল রঙের বিকল্পও থাকছে। ভেতরের অংশে ডার্ক গ্রে ও মিন্ট গ্রিন রঙের সংমিশ্রণ ব্যবহার করা হয়েছে।

জার্মানিতে ৪৯ কিলোওয়াট-আওয়ারের ব্যাটারিযুক্ত হুন্দাই ইনস্টার লাউঞ্জের দাম শুরু হয়েছে ২৯ হাজার ৮৫০ ইউরো থেকে। উল্লেখ্য, দক্ষিণ কোরিয়ায় হুন্দাই এই গাড়িটি ‘ক্যাসপার ইলেকট্রিক’ নামে বিক্রি করে থাকে, যা ইউরোপের বাজারে ইনস্টার নামে পরিচিত।

অস্ট্রিয়ার অটোমোবাইল বাজারে চীনা ইলেকট্রিক গাড়ির জয়জয়কার

প্রকাশ: ০২ জুলাই ২০২৬, ০৩:৫৫ পিএম
আপডেট: ০২ জুলাই ২০২৬, ০৪:৪২ পিএম
অস্ট্রিয়ার অটোমোবাইল বাজারে চীনা ইলেকট্রিক গাড়ির জয়জয়কার
গত বছর অস্ট্রিয়ায় যেকোনো অটোমোবাইল ব্র্যান্ডের তুলনায় বিওয়াইডি’র বিক্রি বৃদ্ধির হার ছিল সর্বোচ্চ।

জ্বালানি তেলের দাম রেকর্ড উচ্চতা থেকে কিছুটা কমলেও ইউরোপের দেশ অস্ট্রিয়ার অটোমোবাইল বাজারে চীনা ইলেকট্রিক গাড়ির চাহিদা বেড়েই চলেছে। প্রতিযোগিতামূলক দাম এবং অত্যাধুনিক প্রযুক্তির কারণে অস্ট্রিয়ার ক্রেতাদের কাছে চীনা ব্র্যান্ডগুলো এখন অত্যন্ত জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।

সম্প্রতি ভিয়েনায় আয়োজিত এক অটো শো-তে অস্ট্রিয়ার সাধারণ মানুষ চীনা ইলেকট্রিক গাড়িগুলোর প্রতি দারুণ কৌতূহল প্রকাশ করেছেন। সেখানে আগত এক দর্শনার্থী বলেন, ‘ইউরোপীয় কোম্পানিগুলোকে তাদের পুরনো ব্র্যান্ড ইমেজ বা ঐতিহ্যের সীমাবদ্ধতায় আটকে থাকতে হয়। কিন্তু চীনা কোম্পানিগুলো নতুন নতুন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার ক্ষেত্রে অনেক বেশি স্বাধীন, যা তাদের এগিয়ে রাখছে।‘

গত বছর অস্ট্রিয়ায় যেকোনো অটোমোবাইল ব্র্যান্ডের তুলনায় বিওয়াইডি’র বিক্রি বৃদ্ধির হার ছিল সর্বোচ্চ। শুধু বিওয়াইডি নয়, আরও অনেক চীনা ব্র্যান্ড এখন দেশজুড়ে তাদের বিক্রয় নেটওয়ার্ক বিস্তৃত করছে।

অস্ট্রিয়ান কার ইম্পোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রধান গুন্থার কার্ল বলেন, ‘অন্যান্য অনেক দেশের তুলনায় অস্ট্রিয়াতে চীনা পণ্য বেশি সফল হচ্ছে। অস্ট্রিয়ার মানুষ নতুন প্রযুক্তির প্রতি বেশ উন্মুক্ত, যার ফলে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই চীনা ব্র্যান্ডগুলো সেখানে শক্ত অবস্থান তৈরি করে নিয়েছে।‘

বাজারে শেয়ার বাড়াতে চীনা ব্র্যান্ডগুলো এখন ইউরোপেই তাদের উৎপাদন কারখানা স্থাপন করছে। এরই অংশ হিসেবে এক্সপেং, জিএসি এবং সিনোট্রাক অস্ট্রিয়াতে গাড়ি উৎপাদন শুরু করেছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের দুই বছর আগে আরোপিত শুল্ক এড়াতে স্থানীয়ভাবে উৎপাদনের এই কৌশল গ্রহণ করেছে চীনা নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলো। সূত্র: সিএমজি

এমআইএসটিতে দেশের প্রথম ফর্মুলা স্টুডেন্ট অ্যান্ড অটোমোটিভ ইঞ্জিনিয়ারিং সামিট

প্রকাশ: ০১ জুলাই ২০২৬, ০৫:২২ পিএম
আপডেট: ০১ জুলাই ২০২৬, ০৫:২৩ পিএম
এমআইএসটিতে দেশের প্রথম ফর্মুলা স্টুডেন্ট অ্যান্ড অটোমোটিভ ইঞ্জিনিয়ারিং সামিট
ছবি: সংগৃহীত

দেশে প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘ফার্স্ট বাংলাদেশ ফর্মুলা স্টুডেন্ট অ্যান্ড অটোমোটিভ ইঞ্জিনিয়ারিং সামিট ২০২৬’। মিলিটারি ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির (এমআইএসটি) মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ফর্মুলা স্টুডেন্ট টিম ‘এমআইএসটি ব্লিটজ’ ও এফএসএই কমিউনিটি অব বাংলাদেশ যৌথভাবে এই সামিটের আয়োজন করে।

নিউ এনার্জি ভেহিকেল (এনইভি) প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান বিওয়াইডির পৃষ্ঠপোষকতায় গত ২৫ জুন ঢাকার মিরপুর সেনানিবাসের এমআইএসটি প্লাজায় শহীদ ইয়ামিন অডিটোরিয়ামে এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

আয়োজকেরা জানান, দেশের অভ্যন্তরীণ অটোমোটিভ ইকোসিস্টেমের বিকাশ ত্বরান্বিত করাই এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য। এই সামিটে শিল্প খাতের নেতা, নীতিনির্ধারক, প্রকৌশলী, গবেষক ও তরুণ উদ্ভাবকেরা এক ছাদের নিচে মিলিত হন। এতে দেশের বিভিন্ন স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী অংশ নেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার (পিএসও) লেফটেন্যান্ট জেনারেল মীর মুশফিকুর রহমান। এ ছাড়া উচ্চপদস্থ সরকারি ও সামরিক কর্মকর্তা, বিশিষ্ট শিল্পপতি ও অটোমোটিভ খাতের পেশাজীবীরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

দিনব্যাপী এই সামিটে টেকনিক্যাল সেশন, ফর্মুলা ফিউচার বিজনেস কেস কম্পিটিশন, আইসি ইঞ্জিন মাস্টারক্লাস ও কুইজ, ফর্মুলা স্টুডেন্ট এক্সিবিশন এবং ইনোভেশন ডিসপ্লের আয়োজন করা হয়। সেশনগুলোতে অটোমোটিভ ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ভবিষ্যৎ, টেকসই মোবিলিটি, বৈদ্যুতিক গাড়ি (ইভি) ও উদীয়মান পরিবহন প্রযুক্তির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে বিওয়াইডি বাংলাদেশের চিফ মার্কেটিং অফিসার ইমতিয়াজ নওশের বলেন, ‘উদ্ভাবন, ইঞ্জিনিয়ারিং দক্ষতা ও পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমেই ভবিষ্যতের মোবিলিটি নির্ধারিত হবে। তরুণ মেধাবীদের অনুপ্রাণিত করা এবং শিক্ষার সঙ্গে শিল্পখাতের সংযোগ স্থাপনের মাধ্যমে বাংলাদেশের অটোমোটিভ ইকোসিস্টেমকে আরও জোরদার করাই আমাদের মূল উদ্দেশ্য।’

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, পরিবহন ও প্রকৌশল খাতের বিশিষ্টজনদের এই সম্মিলন দেশে অটোমোটিভ শিক্ষার প্রসার, উদ্ভাবনের বিকাশ ও প্রযুক্তিনির্ভর টেকসই মোবিলিটি ইকোসিস্টেম গড়ে তোলার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

হোন্ডার নতুন সাশ্রয়ী বৈদ্যুতিক হ্যাচব্যাক গাড়ি

প্রকাশ: ২৮ জুন ২০২৬, ০৯:৫৩ পিএম
হোন্ডার নতুন সাশ্রয়ী বৈদ্যুতিক হ্যাচব্যাক গাড়ি
ছবি: সংগৃহীত

নতুন একটি সাশ্রয়ী বৈদ্যুতিক হ্যাচব্যাক গাড়ি এনেছে জাপানি গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান হোন্ডা। ‘সুপার-এন’ নামের এই গাড়িটির প্রাথমিক দাম ধরা হয়েছে ১৮ হাজার ৯৯৫ পাউন্ড, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৩০ লাখ ৮৬ হাজার টাকা। স্পোর্টি ডিজাইনের এই ছোট আকারের বৈদ্যুতিক গাড়িটি বাজারে বেশ সাড়া ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বাজারে বর্তমানে স্পোর্টি হ্যাচব্যাক বা ‘হট হ্যাচ’ ক্যাটাগরির গাড়ির চাহিদা বাড়ছে। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এই বিভাগে নতুন পরিবেশবান্ধব বৈদ্যুতিক গাড়ি নিয়ে আসছে। হোন্ডা তাদের জাপানি বাজারের জনপ্রিয় কেই কার ‘এন-ওয়ান ই’-এর ওপর ভিত্তি করে এই নতুন সুপার-এন মডেলটি তৈরি করেছে। যুক্তরাজ্যের বাজারে সম্প্রতি গাড়িটির বিক্রি শুরু হয়েছে। হোন্ডা যুক্তরাজ্যের প্রধান মাইকেল ডয়েল বলেন, এটি বাজারে থাকা সবচেয়ে সাশ্রয়ী ছোট বৈদ্যুতিক গাড়িগুলোর একটি। এটি চালানো অত্যন্ত আনন্দদায়ক।

অন্যান্য বৈদ্যুতিক গাড়ির তুলনায় হোন্ডা সুপার-এন বেশ হালকা। এর ওজন মাত্র ১ হাজার ৯৭ কেজি। হোন্ডা দাবি করেছে, হালকা ওজনের কারণে গাড়িটি চালানোর সময় আশির দশকের বিখ্যাত ওয়াইড-বডি সিটি টার্বো-২ হ্যাচব্যাকের মতো অনুভূতি পাওয়া যাবে। গাড়িটির দৈর্ঘ্য মাত্র ৩ হাজার ৩৯৫ মিলিমিটার। ফলে এটি রেনো টুইঙ্গো ই-টেকের চেয়েও আকারে ছোট। হোন্ডার নিজস্ব হালকা ওজনের এন-সিরিজ প্ল্যাটফর্মের ওপর ভিত্তি করে গাড়িটি তৈরি করা হয়েছে। এতে একটিমাত্র ইলেকট্রিক মোটর ব্যবহার করা হয়েছে, যা সামনের চাকা পরিচালনা করে। সাধারণ মোডে এই মোটর থেকে ৬৩ হর্সপাওয়ার এবং ১৬২ নিউটন মিটার টর্ক পাওয়া যায়। তবে গাড়িটিতে একটি বিশেষ ‘বুস্ট মোড’ সুবিধা রয়েছে। এই মোড চালু করলে মোটরের ক্ষমতা বেড়ে ৯৩ হর্সপাওয়ারে পৌঁছায়। বুস্ট মোডে গাড়িটি মাত্র ১০ সেকেন্ডে শূন্য থেকে প্রতি ঘণ্টায় ৬২ মাইল গতি তুলতে পারে। সাধারণ মোডে এই গতি তুলতে ১৪ দশমিক ৫১ সেকেন্ড সময় লাগে। সুপার-এন গাড়িতে ২৯ দশমিক ৬ কিলোওয়াট-আওয়ারের একটি ব্যাটারি ব্যবহার করা হয়েছে। ডব্লিউএলটিপি মানদণ্ড অনুযায়ী, এটি একবার পূর্ণ চার্জে ১২৮ মাইল পথ চলতে সক্ষম। তবে শহরের রাস্তায় এর রেঞ্জ প্রায় ১৯৯ মাইল পর্যন্ত হতে পারে। চার্জিংয়ের জন্য এতে ৫০ কিলোওয়াটের ডিসি ফাস্ট চার্জার ব্যবহার করা যায়। এর মাধ্যমে মাত্র ৩০ মিনিটে ব্যাটারির ৮০ শতাংশ চার্জ করা সম্ভব। 

হুন্দাইয়ের আইওনিক ৫-এন মডেলের মতো হোন্ডার এই গাড়িতেও রয়েছে ‘অ্যাক্টিভ সাউন্ড কন্ট্রোল’ প্রযুক্তি। এটি গাড়ি চালানোর সময় একটি ৭-স্পিড গিয়ার ট্রান্সমিশনের শব্দ এবং ঝাঁকুনি তৈরি করতে পারে। গাড়ির ভেতরে রয়েছে ৭ ইঞ্চির ডিজিটাল ড্রাইভার ডিসপ্লে এবং ৯ ইঞ্চির সেন্ট্রাল ইনফোটেইনমেন্ট স্ক্রিন। এতে অ্যাপল কারপ্লে ও অ্যান্ড্রয়েড অটো ব্যবহারের সুবিধা রয়েছে। বিনোদনের জন্য গাড়িটিতে স্ট্যান্ডার্ড হিসেবে আটটি স্পিকারসহ প্রিমিয়াম বোস সাউন্ড সিস্টেম দেওয়া হয়েছে। যুক্তরাজ্যের বাজারে এটি রেনো ৫ এবং হুন্দাই ইনস্টারের চেয়ে বেশ সাশ্রয়ী। তবে এর বক্সি নকশাটি ক্রেতাদের কাছে কতটা গ্রহণযোগ্য হবে, তা দেখার বিষয়। চমৎকার সব আধুনিক ফিচার আর কম দামের কারণে বাজারে গাড়িটি ভালো সাড়া ফেলবে।

রেকর্ড গড়ে বিশ্ববাজারে আসছে  বিওয়াইডির এসইউভি

প্রকাশ: ২৫ জুন ২০২৬, ১০:১৪ পিএম
রেকর্ড গড়ে বিশ্ববাজারে আসছে  বিওয়াইডির এসইউভি
ছবি: সংগৃহীত

চীনের শীর্ষস্থানীয় বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বিওয়াইডি তাদের তৈরি সবচেয়ে বড় ও বিলাসবহুল স্পোর্টস ইউটিলিটি ভেহিকল বা এসইউভি আন্তর্জাতিক বাজারে ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছে। ‘গ্রেট ট্যাং’ নামের এই ফ্ল্যাগশিপ বৈদ্যুতিক গাড়িটি চীনের বাজারে উন্মোচনের আগেই দেড় লাখেরও বেশি প্রি-অর্ডার বা আগাম বুকিং পেয়ে এক নতুন রেকর্ড তৈরি করেছে। চীনের অভ্যন্তরীণ বাজারে বিপুল সাফল্যের পর প্রতিষ্ঠানটি এবার ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ ইউরোপসহ বিশ্ববাজারে এই বিলাসবহুল গাড়িটি রপ্তানি শুরু করার পরিকল্পনা করছে।

গত ২৪ এপ্রিল চীনের বেইজিং অটো শোতে প্রথম প্রদর্শনের পর মাত্র দুই সপ্তাহের মধ্যে গাড়িটি ১ লাখেরও বেশি অগ্রিম বুকিং পায়। সম্প্রতি আয়োজিত গাড়িটির উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বিওয়াইডি নিশ্চিত করে যে, গ্রেট ট্যাং মডেলটি এ পর্যন্ত ১ লাখ ৫০ হাজারেরও বেশি বুকিং পেয়েছে, যা প্রতিষ্ঠানটির যেকোনো একক মডেলের গাড়ির ক্ষেত্রে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ। চীনের স্থানীয় বাজারে এই বিলাসবহুল গাড়িটি ‘ড্যাটাং’ নামেও বেশ পরিচিত।

বিওয়াইডির তথ্যমতে, ১৭ ফুটের বা ৫ হাজার ২৬৩ মিলিমিটার দৈর্ঘ্যের এই গাড়িটি তাদের ব্র্যান্ডের তৈরি এ যাবৎকালের সবচেয়ে বড় এসইউভি। তিন সারির আসনবিশিষ্ট এই গাড়িটিতে প্রায় ২৯টি বিশ্বমানের আধুনিক প্রযুক্তি প্রথমবারের মতো ব্যবহার করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে চীনের অটোমোবাইল ইতিহাসে প্রথম ২+২+৩ আসন বিন্যাস এবং মাত্র ৫ মিনিটের ফ্ল্যাশ চার্জিং সুবিধা। গাড়িটির উন্নত ব্লেড ব্যাটারি ২.০ এবং ১০০০ ভোল্টের আর্কিটেকচারের কারণে গ্রাহকরা দ্রুত চার্জিংয়ের সুবিধা পাবেন। এর মাধ্যমে মাত্র ৫ মিনিটে ব্যাটারির ১০ শতাংশ থেকে ৭০ শতাংশ পর্যন্ত চার্জ করা সম্ভব।

বিওয়াইডির এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং আন্তর্জাতিক বাজার প্রধান স্টেলা লি সম্প্রতি রোমে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জানান, এই ফ্ল্যাগশিপ এসইউভিটি ২০২৬ সালের শেষ দিকে অথবা ২০২৭ সালের শুরুর দিকে ইউরোপ এবং এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের বাজারে বিক্রির জন্য উন্মুক্ত করা হবে। ইউরোপের বাজারে এটি মার্সিডিজ-বেঞ্জ, বিএমডব্লিউ, ভলভো এবং অডির মতো প্রতিষ্ঠিত বিলাসবহুল ব্র্যান্ডগুলোর সঙ্গে সরাসরি প্রতিযোগিতা করবে।

আন্তর্জাতিক বাজারে গাড়িটির প্রারম্ভিক মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে প্রায় ৩৫ হাজার ৫০০ মার্কিন ডলার, যা চীনা মুদ্রায় প্রায় ২ লাখ ৩৯ হাজার ৯০০ ইউয়ান। গাড়িটি একক ও ডবল মোটরের পাওয়ারট্রেন এবং দুটি ভিন্ন ব্যাটারি প্যাকে পাওয়া যাবে। এর প্রাথমিক ‘প্রিমিয়াম’ মডেলে ১০৫ দশমিক ৭৯ কিলোওয়াট-আওয়ারের ব্যাটারি রয়েছে, যা একবার পূর্ণ চার্জে ৮০০ কিলোমিটার পর্যন্ত পথ চলতে পারে। অন্যদিকে এর উন্নত ‘ফ্ল্যাগশিপ’ সংস্করণে ১৩০ দশমিক ১৫ কিলোওয়াট-আওয়ারের বড় ব্যাটারি ব্যবহার করা হয়েছে, যা গাড়িটির ড্রাইভিং রেঞ্জ ৯৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত বাড়িয়ে দেয়। সাশ্রয়ী দামের হলেও এতে ডুয়াল চেম্বার এয়ার সাসপেনশনসহ বিওয়াইডির নিজস্ব ‘ডাইসাস-এ’ ইন্টেলিজেন্ট কন্ট্রোল সিস্টেম রয়েছে।

বিলাসবহুল এই গাড়িটির ভেতরে আধুনিক প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয় ঘটানো হয়েছে। এর ইনফোটেইনমেন্ট সিস্টেমে চালক এবং সামনের যাত্রীর জন্য তিনটি বড় ডিজিটাল স্ক্রিন রয়েছে। পেছনের সারির যাত্রীদের জন্য ছাদ থেকে ঝোলানো একটি বড় বিনোদন স্ক্রিন রয়েছে, যা সিনেমা বা দাপ্তরিক কাজের জন্য ব্যবহার করা যাবে। গাড়িটির প্রথম ও দ্বিতীয় সারিতে আরামদায়ক জিরো গ্র্যাভিটি বা ক্যাপ্টেন স্টাইলের আসন রয়েছে, যেগুলোতে হিটিং, ভেন্টিলেশন এবং ম্যাসাজ করার সুবিধা যুক্ত করা হয়েছে। এমনকি গাড়িটিতে একটি ইন-বিল্ট কুলারও দেওয়া হয়েছে।

নিরাপত্তার জন্য গাড়িটিতে বিওয়াইডির নিজস্ব ‘গডস আই ৫.০’ চালক সহায়তা ব্যবস্থা বা এডাস প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। উন্নত সেন্সর, ক্যামেরা এবং ছাদে বসানো লিডার প্রযুক্তির সাহায্যে এই ব্যবস্থাটি নেভিগেশন অন অটো পাইলট, রিমোট পার্কিং, অ্যাডাপ্টিভ ক্রুজ কন্ট্রোল এবং ৩৬০ ডিগ্রি ভিউ নিশ্চিত করে। আকার ও আয়তনের দিক থেকে গাড়িটি হুন্দাই আইওনিক ৯ এবং কিয়া ইভি৯-এর চেয়েও বেশ বড়। চীনের বাজারে ঝড় তোলার পর বিশ্ববাজারে বিওয়াইডির এই বিলাসবহুল এসইউভি কতটা প্রভাব ফেলতে পারে, এখন সেটাই দেখার বিষয়।