ঢাকা ২৩ আষাঢ় ১৪৩৩, মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ প্রায় ৩৮ বিলিয়ন ডলার ধৈর্যই আমাদের জয়ের চাবিকাঠি:  স্পেনের কোচ দে লা ফুয়েন্তে জবি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে স্থানীয়দের সংঘর্ষ, সাংবাদিকসহ আহত ১৩ বিরতি ভেঙে ফিরছেন বুবলি নামাজের শেষ মুহূর্তের এক মহামূল্যবান সুযোগ তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে সমীক্ষা সম্পন্ন: পানিসম্পদ মন্ত্রী কলকাতার নন্দনে নন্দিত বাংলাদেশের ‘সম্পর্ক’ মহাকালের পটে এক ঋজু পদচ্ছাপ: আবুল কাসেম ফজলুল হক ও বাঙালির মননবিশ্বের বিবর্তন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ৫৪ গবেষকের পিএইচডি-এমফিল ডিগ্রি অর্জন এআই অ্যান্ড ডেটা সায়েন্সে বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং প্রোগ্রাম চালু করল আইএসইউ মির্জা শরফউদ্দীন বেগ (রহ.)-এর স্মরণে বরিশালে দোয়া মাহফিল মৃত্যুর আগ পর্যন্ত আক্ষেপ থেকেই যাবে! যাত্রীসেবায় আরও যত্নশীল হোক রেলওয়ে বাজেট প্রবৃদ্ধির প্রত্যাশা নাকি সংস্কারের হারানো সুযোগ ঢলে ভাসছে চকরিয়া-পেকুয়া, পাহাড়ধসে শিশুর মৃত্যু ‘বিড়ালের অভিশাপে’ বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে গেছে ব্রাজিল রাঙামাটিতে পাহাড়ধস ও ভূমিধসের শঙ্কা, প্রস্তুত ৪৪ আশ্রয়কেন্দ্র মেসি ও সালাহর সামনে রেকর্ডের হাতছানি জয়পুরহাটে ট্রাক-অটোরিকশা মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ২, আহত ৫ ভূমিরূপ পরিবর্তন অধ্যায়ের ১১টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর, ৩য় পর্ব, এইচএসসির ভূগোল ১ম পত্র সদাচারী জ্ঞানসাধক আবুল কাসেম ফজলুল হক কিনব্রিজের পাদদেশে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০ বছর উদযাপন চট্টগ্রামে দেয়ালধসে নিহত ১, শিশুসহ আহত তিন টানা বৃষ্টির প্রভাব, চট্টগ্রাম–কক্সবাজার রুটে ট্রেন চলাচল ব্যাহত বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক সংস্থার সমাজ উন্নয়ন কার্যক্রম অধ্যায়ের ১টি সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর, ২য় পর্ব, এইচএসসির সমাজকর্ম ২য় পত্র অবিরাম বৃষ্টিতে ঝুঁকিতে বান্দরবান, খোলা হলো ২২০ আশ্রয়কেন্দ্র কারণ জানুন বিশ্ববাজারে ব্যবসা বাড়াতে নতুন রূপে ‘টিপসই’ মিসরের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার জার্সিতে যেভাবে শুরু হয়েছিল মেসি-অধ্যায় এআই ও ডেটা সায়েন্সে স্নাতক প্রোগ্রাম চালু করল আইএসইউ

মৃত্যুর আগ পর্যন্ত আক্ষেপ থেকেই যাবে!

প্রকাশ: ০৭ জুলাই ২০২৬, ০৬:২৩ পিএম
মৃত্যুর আগ পর্যন্ত আক্ষেপ থেকেই যাবে!

একটি ফেসবুক আইডি চিরতরে কেড়ে নেওয়া মানে শুধু একটি সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট বন্ধ করা নয়; এটি একজন লেখকের কণ্ঠরোধ করা, তার বছরের পর বছর ধরে বুনে যাওয়া সৃষ্টিশীলতাকে এক নিমেষে পুড়িয়ে ছাই করে দেওয়া।

২০২৪ সালের আগস্ট। মেটা নামক এক পরাশক্তি করপোরেট জায়ান্টের খেয়ালি রোবোটিক অ্যালগরিদম আমার মূল ফেসবুক আইডিটি চিরতরে সাসপেন্ড করে দেয়। আজ পর্যন্ত সেই আইডি আমি আর ফেরত পাইনি। অথচ সেই আইডিতে জমা ছিল আমার জীবনের সেরা সময়গুলোর সাক্ষী-লাখ লাখ শব্দ, অজস্র লেখা, গল্প, কবিতা আর চিন্তাভাবনা। একজন লেখকের কাছে তার লেখার চেয়ে মূল্যবান আর কী হতে পারে? প্রতিটি লেখা একেকটি সন্তানের মতো, যা বহু বিনিদ্র রজনী আর মানসিক শ্রমের ফসল। মেটা কোনো মানবিক পূর্বাবাস ছাড়াই, কোনো প্রকৃত মানুষের রিভিউ ছাড়াই, কেবল তাদের যান্ত্রিক নীতিমালার অজুহাতে আমার সেই অমূল্য সঞ্চয়কে চিরদিনের জন্য ডিলিট করে দিল। মেটা কোনো সাধু প্রতিষ্ঠান নয়, এটি মুনাফালোভী করপোরেট জায়ান্ট। নিজেদের ব্যবসা এবং কোটি কোটি ডলারের বিজ্ঞাপন বাণিজ্য টিকিয়ে রাখতে তারা স্ব স্ব দেশের সরকারের রাজনৈতিক বা আইনি চাপের কাছে মাথা নত করে। সুতরাং, যারা বলেন যে 'সরকার মেটাকে নিয়ন্ত্রণ করে'-তাদের কথা পুরোপুরি অমূলক নয়। আমার আইডিটি হারানোর পেছনেও হয়তো মেটার ত্রুটিপূর্ণ রোবটের পাশাপাশি কোনো মহলের সুনির্দিষ্ট রিপোর্ট বা সরকারি কোনো সাইবার উইংয়ের পরোক্ষ অনুরোধ বা চাপ কাজ করে থাকতে পারে। সুতরাং, এনিয়ে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত আমার আক্ষেপ থেকেই যাবে!

লিয়াকত হোসেন খোকন
রূপনগর, ঢাকা
[email protected]

মৃত্যুর আগ পর্যন্ত আক্ষেপ থেকেই যাবে!

প্রকাশ: ০৭ জুলাই ২০২৬, ০৬:২৩ পিএম
মৃত্যুর আগ পর্যন্ত আক্ষেপ থেকেই যাবে!

একটি ফেসবুক আইডি চিরতরে কেড়ে নেওয়া মানে শুধু একটি সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট বন্ধ করা নয়; এটি একজন লেখকের কণ্ঠরোধ করা, তার বছরের পর বছর ধরে বুনে যাওয়া সৃষ্টিশীলতাকে এক নিমেষে পুড়িয়ে ছাই করে দেওয়া।

২০২৪ সালের আগস্ট। মেটা নামক এক পরাশক্তি করপোরেট জায়ান্টের খেয়ালি রোবোটিক অ্যালগরিদম আমার মূল ফেসবুক আইডিটি চিরতরে সাসপেন্ড করে দেয়। আজ পর্যন্ত সেই আইডি আমি আর ফেরত পাইনি। অথচ সেই আইডিতে জমা ছিল আমার জীবনের সেরা সময়গুলোর সাক্ষী-লাখ লাখ শব্দ, অজস্র লেখা, গল্প, কবিতা আর চিন্তাভাবনা। একজন লেখকের কাছে তার লেখার চেয়ে মূল্যবান আর কী হতে পারে? প্রতিটি লেখা একেকটি সন্তানের মতো, যা বহু বিনিদ্র রজনী আর মানসিক শ্রমের ফসল। মেটা কোনো মানবিক পূর্বাবাস ছাড়াই, কোনো প্রকৃত মানুষের রিভিউ ছাড়াই, কেবল তাদের যান্ত্রিক নীতিমালার অজুহাতে আমার সেই অমূল্য সঞ্চয়কে চিরদিনের জন্য ডিলিট করে দিল। মেটা কোনো সাধু প্রতিষ্ঠান নয়, এটি মুনাফালোভী করপোরেট জায়ান্ট। নিজেদের ব্যবসা এবং কোটি কোটি ডলারের বিজ্ঞাপন বাণিজ্য টিকিয়ে রাখতে তারা স্ব স্ব দেশের সরকারের রাজনৈতিক বা আইনি চাপের কাছে মাথা নত করে। সুতরাং, যারা বলেন যে 'সরকার মেটাকে নিয়ন্ত্রণ করে'-তাদের কথা পুরোপুরি অমূলক নয়। আমার আইডিটি হারানোর পেছনেও হয়তো মেটার ত্রুটিপূর্ণ রোবটের পাশাপাশি কোনো মহলের সুনির্দিষ্ট রিপোর্ট বা সরকারি কোনো সাইবার উইংয়ের পরোক্ষ অনুরোধ বা চাপ কাজ করে থাকতে পারে। সুতরাং, এনিয়ে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত আমার আক্ষেপ থেকেই যাবে!

লিয়াকত হোসেন খোকন
রূপনগর, ঢাকা
[email protected]

জন-আকাঙ্ক্ষার বাইরে ক্ষমতায় থাকা যায় না

প্রকাশ: ০৬ জুলাই ২০২৬, ০৬:৫৬ পিএম
জন-আকাঙ্ক্ষার বাইরে ক্ষমতায় থাকা যায় না

ইতিহাসের পাতায় মাঝে মাঝেই এমন কিছু ক্ষণ আসে, যা একটি জাতির আত্মপরিচয়কে নতুন করে সংজ্ঞায়িত করে। মানুষ যখন অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে বুক চিতিয়ে দাঁড়ায়, তখন ক্ষমতার সমস্ত সমীকরণ বদলে যায়। রাষ্ট্রবিজ্ঞানের তত্ত্ব থেকে ইতিহাসের বাস্তবতায় এই সত্য বারবার প্রমাণিত হয়েছে যে, একটি স্বাধীন দেশের ক্ষমতার মূল মালিক আপামর জনসাধারণ। গত চব্বিশের ৫ জুলাইয়ের ঘটনাপ্রবাহ বিশ্ববাসীকে আরও একবার মনে করিয়ে দিয়েছে যে, গণ-আকাঙ্ক্ষার চেয়ে বড় কোনো শক্তি রাষ্ট্রে হতে পারে না। জনগণের সম্মতি ও সমর্থন ছাড়া কোনো শাসনব্যবস্থাই চিরস্থায়ী বা প্রশ্নাতীত হতে পারে না।

কোনো দেশের জনগণকে আড়ালে রেখে বা তাদের মৌলিক অধিকার ও মতামতকে উপেক্ষা করে দীর্ঘমেয়াদি শাসন পরিচালনা করা অসম্ভব। একটি প্রগতিশীল রাষ্ট্রে জনগণের ইচ্ছাকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দেওয়া কেবল আইনি বাধ্যবাধকতা নয়, বরং নৈতিক দায়িত্ব। প্রকৃত উন্নয়ন তখনই সার্থক হয়, যখন তা প্রতিটি নাগরিকের জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করে। সাধারণ মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণ না হলে মেগা প্রজেক্টের জৌলুসও ফিকে হয়ে যায়। জনআকাঙ্ক্ষার প্রতি শ্রদ্ধাবোধ থেকেই সরকারের প্রতি জনআস্থার জন্ম হয়, যা সম্পূর্ণভাবে নির্ভর করে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির ওপর। চব্বিশের ঐতিহাসিক শিক্ষা আমাদের এই বার্তাই দেয় যে, ক্ষমতার অহংকার বা জনবিচ্ছিন্নতা কোনো শুভ ফল বয়ে আনে না। টেকসই দেশ গঠনে প্রতিটি নাগরিকের অধিকার রক্ষা এবং তাদের কণ্ঠস্বরকে গুরুত্ব দেওয়া অপরিহার্য।

ওসমান গনি 
সাংবাদিক ও কলামিস্ট
[email protected]

প্রথম দৃষ্টিতেই ফুটে উঠুক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের মর্যাদা

প্রকাশ: ০৬ জুলাই ২০২৬, ০৬:৪৪ পিএম
প্রথম দৃষ্টিতেই ফুটে উঠুক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের মর্যাদা

একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সৌন্দর্য, ঐতিহ্য ও স্বকীয়তার প্রথম পরিচয় বহন করে তার প্রধান ফটক। একজন শিক্ষার্থী, অভিভাবক কিংবা অতিথি ক্যাম্পাসে প্রবেশের আগেই বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কে প্রথম ধারণা পান এই প্রবেশদ্বার দেখেই। তাই প্রধান ফটক শুধু একটি স্থাপনা নয়, এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি, রুচিবোধ ও মর্যাদার প্রতীক। দুঃখজনক হলেও সত্য, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক ও এর আশপাশের পরিবেশ বর্তমানে সেই পরিচয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। বিভিন্ন সময়ের স্লোগান, রং ও দেয়াললিখনের কারণে ফটকটির স্বাভাবিক সৌন্দর্য অনেকটাই ম্লান হয়েছে। আন্দোলন ও প্রতিবাদের ইতিহাস অবশ্যই সংরক্ষণ করা উচিত, তবে তার জন্য নির্দিষ্ট স্থান থাকা প্রয়োজন। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান প্রবেশদ্বারকে দীর্ঘদিন অপরিচ্ছন্ন অবস্থায় রাখা একটি স্বনামধন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তির সঙ্গে মানানসই নয়। শুধু ফটক নয়, এর আশপাশের এলাকাও আরও পরিচ্ছন্ন, সুশৃঙ্খল ও দৃষ্টিনন্দন করা জরুরি। সবুজায়ন, উন্নত আলোকসজ্জা, নিয়মিত পরিচর্যা ও সৌন্দর্যবর্ধনের মাধ্যমে এ স্থানকে আরও আকর্ষণীয় করা সম্ভব। একই সঙ্গে পর্যাপ্ত নিরাপত্তাকর্মী, সিসিটিভি ক্যামেরা ও নিয়মিত তদারকির ব্যবস্থা জোরদার করা দরকার, যাতে ভবিষ্যতে অনুমতি ছাড়া কেউ ফটক বা আশপাশের সৌন্দর্য নষ্ট করতে না পারে। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় দেশের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান। তাই প্রধান ফটক ও এর আশপাশের পরিবেশকে আরও আধুনিক, পরিচ্ছন্ন, নিরাপদ ও নান্দনিক করে তুলতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দ্রুত ও কার্যকর উদ্যোগ এখন সময়ের দাবি।

মোসা. সাদিয়া আক্তার 
শিক্ষার্থী, কমিউনিকেশন অ্যান্ড মাল্টিমিডিয়া জার্নালিজম বিভাগ
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া
[email protected]

সড়ক সংস্কারে দুর্নীতি বন্ধ করুন

প্রকাশ: ০৫ জুলাই ২০২৬, ০৭:৪০ পিএম
সড়ক সংস্কারে দুর্নীতি বন্ধ করুন

দেশের উন্নয়নের ক্ষেত্রে সড়ক অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই দেশের সড়ক সংস্কার ও উন্নয়নে তৎপর থাকা জরুরি। সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন স্থানে ছোটবড় সড়ক সংস্কারের কাজ কিছু সম্পন্ন হয়েছে এবং কিছু চলমান। অত্যন্ত দুঃখের বিষয় যে, কিছু কিছু সড়ক সংস্কার করা হয়েছে কেবল কাদামাটি দিয়ে লেপন করার মতো। চার-ছয় ইঞ্চির স্থলে দুই ইঞ্চি ঢালাই এবং এক দিন না যেতেই উঠে পড়ছে ঢালাইয়ের স্তর। অপরদিকে ১০ ইঞ্চির স্থলে পাঁচ ইঞ্চি এবং পাঁচ ইঞ্চির স্থলে দেড় থেকে দুই  ইঞ্চি সুতা রডের ব্যবহার একটি শীর্ষ পর্যায়ের দুর্নীতি। অনেক ক্ষেত্রে বাঁশের ব্যবহারও পরিলক্ষিত। দেখা যায় যে, বাজেটের এক অংশও কাজ সম্পন্ন হয় না। অতএব, সরকার কর্তৃক বাজেটের প্রতিটি খাত যথাযথভাবে ব্যবহার নিশ্চিত করার পাশাপাশি সড়ক সংস্কারে সব দুর্নীতি দমনে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য বিনীত অনুরোধ করছি।

আবদুর রশিদ
শিক্ষক, উত্তর সাতকানিয়া দারুল আরকাম একাডেমি, সাতকানিয়া, চট্টগ্রাম
[email protected]

নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চাই

প্রকাশ: ০৫ জুলাই ২০২৬, ০৭:৩৮ পিএম
নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চাই

গত ২৫ জুন লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলায় সংঘটিত মা ও তিন মেয়ে সায়মা আক্তার, ইকরা আক্তার এবং শিফা আক্তারকে নৃশংসভাবে হত্যা করার ঘটনা পুরো দেশকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে। একটি নিরীহ পরিবারের চার সদস্যকে নিজ বাসায় নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করা শুধু একটি অপরাধ নয়, এটি মানবিকতা ও সভ্যতার প্রতি এক ভয়াবহ আঘাত। প্রাথমিকভাবে অন্তর মজুমদার নামের এক যুবকের বিরুদ্ধে এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার তথ্য সামনে এলেও ঘটনার প্রকৃত কারণ ও পেছনের রহস্য এখনো পুরোপুরি উন্মোচিত হয়নি। অভিযুক্ত ব্যক্তি গণপিটুনিতে নিহত হওয়ায় তদন্ত আরও জটিল হয়ে পড়েছে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে–এটি কি এককভাবে সংঘটিত অপরাধ, নাকি এর পেছনে আরও কেউ জড়িত? কী কারণে একটি পরিবারের চারজন নিরপরাধ সদস্যকে এত নির্মমভাবে প্রাণ দিতে হলো। এর উত্তর দেশবাসী জানতে চায়।

এ অবস্থায় নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও পেশাদার তদন্তের কোনো বিকল্প নেই। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সর্বোচ্চ আন্তরিকতার সঙ্গে ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন করতে হবে। তদন্তে যদি অন্য কারও সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া যায়, তবে তাকেও দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিত্তিহীন তথ্য, গুজব বা অপপ্রচার ছড়িয়ে তদন্তকে প্রভাবিত না করার বিষয়েও সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। বর্তমান সময়ে অনেক ঘটনাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ক্ষণস্থায়ী আলোচনার ভিড়ে হারিয়ে যায়। কিন্তু রায়পুরের এই হৃদয়বিদারক হত্যাকাণ্ড যেন সেই পরিণতির শিকার না হয়। আমরা চাই, ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটিত হোক, অপরাধীরা আইনের সর্বোচ্চ শাস্তি পাক এবং নিহতদের পরিবার ন্যায়বিচার লাভ করুক। এটাই আজ দেশবাসীর প্রত্যাশা।

তানহা খানম
শিক্ষার্থী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় 
[email protected]