ঢাকা ২৪ আষাঢ় ১৪৩৩, বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
জামালপুরে শিশু ধর্ষণের ঘটনায় আসামি গ্রেপ্তার ইরানের বিরুদ্ধে আরও বড় হামলার ঘোষণা ট্রাম্পের উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে মাদরাসায় পাহাড়ধস: নিহত ৮ নয়, চূড়ান্ত সংখ্যা ৫ বিপৎসীমা ছাড়াল মাতামুহুরী, হাহাকার প্লাবিত জনপদে দুর্নীতির মামলায় সাবেক মন্ত্রী মেননকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ রায়পুরায় অতিবৃষ্টিতে মাটির ঘরের দেয়ালধসে শিশুর মৃত্যু চামড়া খাতে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে রোডম্যাপ করছে সরকার ইউরোপের দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেবে যুক্তরাজ্য বজ্রাঘাতে প্রাণহানি কমাতে মাল্টিপারপাস আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগ সংসদে তিন মন্ত্রী অনুপস্থিত থাকায় প্রশ্নোত্তর পর্ব স্থগিত গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির নামে ১৩৭টি ফেসবুক অ্যাকাউন্ট চিহ্নিত: তথ্যমন্ত্রী বঙ্গোপসাগরে দুই ট্রলারডুবি, উদ্ধার ১৬, নিখোঁজ ২ জালিয়াতি করে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় সুবিধাভোগীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে: আজম খান হেয়ার কাট ছাড়াই সুদসহ আমানত ফেরত দেওয়া হবে: অর্থমন্ত্রী মাছের ড্রামে পাচারকালে ৫৩ লাখ টাকার ভারতীয় শাড়ি জব্দ জাতির পথনির্দেশনায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমিকা অনন্য: ডেপুটি স্পিকার আইএআইএলসি প্রেস্টিজ অ্যাওয়ার্ড-২০২৬ সম্মাননা পাবেন বিজয়ী ৫৭ জন ব্যক্তি–প্রতিষ্ঠান হামের উপসর্গে আরও ৩ জনের মৃত্যু ডেঙ্গুতে বাড়ছে উদ্বেগ, আরও ৩ জনের মৃত্যু মানি লন্ডারিং মামলায় আ’লীগ নেতা এনু-রুপনের কারাদণ্ড মনোযোগ ও একাগ্রতা ধরে রাখার সুন্নাতি ফর্মুলা কক্সবাজারে পাহাড়ধসে ৪ দিনে ১৯ জনের মৃত্যু জুলাই একদিনে সংঘটিত হয়নি, আবার আওয়ামী লীগের পতনও একদিনে হয়নি : ডা. জাহেদ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে মাদকের ভয়াবহতা জিরো রিটার্নের গ্যাঁড়াকল ওভারব্রিজ দ্রুত সংস্কার করা হোক ২০২৬ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ইউরোপের আধিপত্য চীনে কাঁঠাল রপ্তানি করতে চায় সরকার: সংসদে প্রধানমন্ত্রী বিএসএফের ঠেলে পাঠানো ৪ ভারতীয় নাগরিক ফিরলেন ভারতে ঘরে জমে থাকা বৃষ্টির পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু

ধৈর্যই আমাদের জয়ের চাবিকাঠি:  স্পেনের কোচ দে লা ফুয়েন্তে

প্রকাশ: ০৭ জুলাই ২০২৬, ০৭:২৩ পিএম
ধৈর্যই আমাদের জয়ের চাবিকাঠি:  স্পেনের কোচ দে লা ফুয়েন্তে
লুইস দে লা ফুয়েন্তে। ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর মহারণে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পর্তুগালকে ১-০ গোলে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে স্পেন। তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ম্যাচে নির্ধারিত সময়ের যোগ করা সময়ের প্রথম মিনিটে মিকেল মেরিনোর একমাত্র গোলে নিশ্চিত হয় লা রোজার জয়। টানটান উত্তেজনার এই ম্যাচে ধৈর্য, কৌশল এবং বদলি খেলোয়াড়দের কার্যকর ভূমিকার প্রশংসা করেছেন স্পেনের কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে। 

ম্যাচ শেষে দে লা ফুয়েন্তে বলেন, শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত নিজেদের পরিকল্পনায় অটল থাকাতেই সাফল্য এসেছে। তাঁর মতে, নকআউট পর্বে অনেক সময় একটি মুহূর্তই ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে দেয়। আমর তেমন একটা সুযোগ পেয়েছিলাম। খেলোয়াড়রা সেই সুযোগটি কাজে লাগাতে পেরেছে। তিনি খেলোয়াড়দের ধৈর্য, শৃঙ্খলা এবং মানসিক দৃঢ়তার প্রশংসা করেন। 

স্পেন কোচ আরও বলেন, এই জয় কেবল কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার নয়, বরং পুরো দলের সম্মিলিত প্রচেষ্টার প্রতিফলন। তাঁর মতে, শুরুর একাদশের পাশাপাশি বেঞ্চের খেলোয়াড়রাও সমান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। বদলি হিসেবে নেমে মিকেল মেরিনোর গোলই তার সবচেয়ে বড় প্রমাণ। 

জয়সূচক গোলের নায়ক মিকেল মেরিনো বলেন, এমন ম্যাচে গোল করে দলকে জেতাতে পারা বিশেষ অনুভূতির। তাঁর ভাষায়, পুরো দল বিশ্বাস রেখেছিল যে সুযোগ আসবে এবং সেই সুযোগ কাজে লাগানোই ছিল সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। 

স্পেনের মিডফিল্ডার রদ্রি ম্যাচ শেষে বলেন, পর্তুগালের মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে জয় সহজ ছিল না। তারা আমাদের বিপক্ষে কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলেছিল। সুযোগ তৈরি করা কঠিন হয়ে পড়েছিল। ফলে পুরো ম্যাচজুড়ে লড়াই করতে হয়েছে এবং শেষ পর্যন্ত দল হিসেবে ঐক্যবদ্ধ থাকাই পার্থক্য গড়ে দিয়েছে। ম্যাচের শেষ দিকে বার্নার্দো সিলভার একটি সুযোগ নষ্ট হওয়ার পর নিজের আবেগপ্রবণ প্রতিক্রিয়ার জন্য পরে ক্ষমাও চান তিনি। 

স্পেনের গোলরক্ষক উনাই সিমোনও দলের রক্ষণভাগের প্রশংসা করেন। তাঁর মতে, পর্তুগালের আক্রমণভাগে অভিজ্ঞ ফুটবলার থাকলেও সবাই পরিকল্পনা অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করায় প্রতিপক্ষকে পরিষ্কার সুযোগ খুব বেশি দেওয়া হয়নি। আমাদের তাদের কঠোর পাহারায় রেখেছিলাম। ফলে তাদের শক্তিশালী আক্রমণভাগ সত্ত্বেও তারা সুবিধা করতে পারেনি।

এই জয়ের ফলে কোয়ার্টার ফাইনালে বেলজিয়ামের মুখোমুখি হবে স্পেন। পর্তুগালের বিপক্ষে কঠিন পরীক্ষায় উতরে যাওয়ার পর স্প্যানিশ শিবিরে এখন আত্মবিশ্বাসের পারদ অনেকটাই উঁচু। তবে কোচ দে লা ফুয়েন্তে সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, নকআউট পর্বে প্রতিটি ম্যাচই আলাদা এবং শেষ আটে আরও কঠিন চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে।

পলাশ/এসএন

২০২৬ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ইউরোপের আধিপত্য

প্রকাশ: ০৮ জুলাই ২০২৬, ০৬:০৯ পিএম
আপডেট: ০৮ জুলাই ২০২৬, ০৬:১১ পিএম
২০২৬ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ইউরোপের আধিপত্য
ছবি:এআই

চলমান ২০২৬ ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপ এখন সবচেয়ে রোমাঞ্চকর পর্যায়ে। দল সংখ্যা ৩২ থেকে বাড়িয়ে ৪৮ করা হয়েছে। তবে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালের চিত্রটি চেনা। বিশ্ব ফুটবলে ইউরোপের আধিপত্য এখনও অটুট রয়েছে।

রাউন্ড অব ১৬-এর উত্তেজনাপূর্ণ লড়াই শেষ হয়েছে। শেষ আটে জায়গা করে নিয়েছে আটটি দল। এরা হলো- ফ্রান্স, স্পেন, বেলজিয়াম, ইংল্যান্ড, নরওয়ে, সুইজারল্যান্ড, মরক্কো ও বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। এই তালিকায় ছয়টি দলই ইউরোপের। একটি আফ্রিকার এবং একটি দক্ষিণ আমেরিকার দল। কোয়ার্টার ফাইনালের মঞ্চে ইউরোপীয় শক্তির আধিপত্য স্পষ্ট।

কিলিয়ান এমবাপ্পের নেতৃত্বে এগিয়ে চলেছে ফ্রান্স। তাদের লক্ষ্য শিরোপা পুনোদ্ধার করা। অন্যদিকে দারুণ ছন্দে রয়েছে স্পেন। তরুণ তারকাদের নিয়ে তারা নান্দনিক ফুটবল খেলছে। স্পেন এবার অন্যতম শিরোপাপ্রত্যাশী। ধারাবাহিক পারফরম্যান্স দেখিয়েছে ইংল্যান্ড, বেলজিয়াম, নরওয়ে ও সুইজারল্যান্ড। তারা শেষ আটে উঠে ইউরোপের অবস্থান আরও দৃঢ় করেছে।

তবে ইউরোপের এই আধিপত্যের মাঝেও আলো ছড়াচ্ছে মরক্কো। তারা আফ্রিকার একমাত্র প্রতিনিধি। ২০২২ বিশ্বকাপে সেমিফাইনালে উঠে মরক্কো ইতিহাস গড়েছিল। এবারও তারা নিজেদের সামর্থ্য প্রমাণ করেছে। পুরো আফ্রিকা মহাদেশের আশা এখন তাদের কাঁধে।

অন্যদিকে দক্ষিণ আমেরিকার একমাত্র প্রতিনিধি আর্জেন্টিনা। ইউরোপীয় শক্তির ভিড়ে একাই লড়ছে আলবিসেলেস্তেরা। বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা শিরোপা ধরে রাখার লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামবে।

বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ইউরোপের আধিপত্য নতুন কিছু নয়। ২০১৮ বিশ্বকাপেও শেষ আটে ছিল ছয়টি ইউরোপীয় দল। সেগুলো ছিল ফ্রান্স, ক্রোয়েশিয়া, বেলজিয়াম, ইংল্যান্ড, রাশিয়া ও সুইডেন। বাকি দুটি দল ছিল ব্রাজিল ও উরুগুয়ে। সেবার কোনো আফ্রিকান দল কোয়ার্টার ফাইনালে উঠতে পারেনি।

একই চিত্র দেখা গিয়েছিল ২০০৬ ও ১৯৯৮ বিশ্বকাপেও। দুটি আসরেই শেষ আটে ছিল ছয়টি ইউরোপীয় ও দুটি দক্ষিণ আমেরিকান দল। ১৯৯৪ বিশ্বকাপে ইউরোপের আধিপত্য ছিল আরও বেশি। সেবার শেষ আটের সাতটি দলই ছিল ইউরোপের। একমাত্র ব্যতিক্রম ছিল ব্রাজিল, যারা পরে শিরোপা জিতেছিল।

পাপ্পু/নাঈম

পেনাল্টি মিসের কষ্ট নিয়ে মুখ খুললেন ব্রুনো গুইমারায়েস

প্রকাশ: ০৮ জুলাই ২০২৬, ০৫:১০ পিএম
আপডেট: ০৮ জুলাই ২০২৬, ০৬:১২ পিএম
পেনাল্টি মিসের কষ্ট নিয়ে মুখ খুললেন ব্রুনো গুইমারায়েস
ব্রুনো গুইমারায়েস। ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে নরওয়ের বিপক্ষে পেনাল্টি মিসের পর মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন ব্রাজিলের মিডফিল্ডার ব্রুনো গুইমারায়েস। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক আবেগঘন বার্তায় তিনি বলেন, এটি ছিল আমার জীবনের সবচেয়ে দুঃখের দিন।

গোলশূন্য সমতায় থাকা ম্যাচে ব্রাজিলের হয়ে স্পট-কিক নিতে এগিয়ে আসেন গুইমারায়েস। তবে তার নেওয়া শটটি নরওয়ের গোলরক্ষক অরজান নাইল্যান্ড দারুণভাবে রুখে দেন। শেষ পর্যন্ত ২-১ গোলে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেয় পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। ১৯৯০ সালের পর এটি ব্রাজিলের সবচেয়ে দ্রুততম বিশ্বকাপ বিদায়।

ইনস্টাগ্রামে দেওয়া পোস্টে গুইমারায়েস লেখেন, ‘এই কথাগুলো লিখতে গিয়ে অসংখ্যবার শুরু করেছি, আবার মুছে ফেলেছি। দলের জয়ের সময় যেমন পাশে ছিলাম, তেমনি পরাজয়ের দায়ও আমার। ফুটবল আমাকে জীবনে অনেক কিছু দিয়েছে, আবার এই খেলাই আমাকে সবচেয়ে বড় কষ্টও দিয়েছে।’

ম্যাচে পেনাল্টি নেওয়ার ক্ষেত্রে গুমারায়েস ছিলেন ব্রাজিলের তৃতীয় পছন্দ। তবে নেইমার বেঞ্চে এবং রাফিনহা মাঠের বাইরে থাকায় ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের আগে তিনিই শট নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। এর মাধ্যমে ১৯৮৬ সালের পর বিশ্বকাপের মূল ম্যাচে পেনাল্টি মিস করা প্রথম ব্রাজিলিয়ান ফুটবলার হন তিনি।

নিজের হতাশার কথা জানিয়ে গুমারায়েস বলেন, ‘পেনাল্টি মিস করা এবং শেষ ষোলোর বাধা পেরোতে না পারা অত্যন্ত কষ্টের। তবে এটিও জীবনের আরেকটি চ্যালেঞ্জ। আমি জানি, সময়ের সঙ্গে এই দুঃসময়ও কেটে যাবে।’

তিনি জানান, কঠিন মুহূর্তে সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা পেয়েছেন নিজের পরিবার থেকে। বাড়ি ফেরার পর সন্তানরা তাকে ফুটবল খেলতে ডাকলে তিনি উপলব্ধি করেন, ভালো কিংবা খারাপ-ফুটবলই তার জীবনের সবচেয়ে বড় ভালোবাসা।

পাপ্পু/নাঈম

আর্জেন্টিনা-মিসর ম্যাচে ভিএআর বিতর্ক: কী বলছে ফিফার নিয়ম?

প্রকাশ: ০৮ জুলাই ২০২৬, ০৩:৪৮ পিএম
আর্জেন্টিনা-মিসর ম্যাচে ভিএআর বিতর্ক: কী বলছে ফিফার নিয়ম?
ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বকাপ ফুটবলের শেষ ষোলোর ম্যাচে আর্জেন্টিনার কাছে ৩-২ গোলে হারের পরও আলোচনায় রয়েছে মিসর-আর্জেন্টিনা লড়াই। ম্যাচে মিসরের একটি গোল বাতিল এবং শেষ মুহূর্তে পেনাল্টির আবেদন নাকচ হওয়াকে ঘিরে তৈরি হয়েছে তীব্র বিতর্ক। মিসরীয় শিবিরের অভিযোগ, রেফারিংয়ের বিতর্কিত সিদ্ধান্তের কারণেই তারা জয় থেকে বঞ্চিত হয়েছে।

তবে আন্তর্জাতিক ফুটবল বিশ্লেষকদের একটি অংশ বলছে, ভিএআর ও ম্যাচ অফিসিয়ালরা ফিফার বিদ্যমান নিয়ম মেনেই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সাবেক সিলেক্ট গ্রুপ রেফারি অ্যান্ডি ডেভিসসহ কয়েকজন বিশেষজ্ঞের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলোতে রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেতেক্সিয়ে এবং ভিএআর টিমের সিদ্ধান্ত ছিল প্রযুক্তিগতভাবে সঠিক।

ম্যাচের ৬২তম মিনিটে মোস্তফা জিকোর গোল বাতিল হওয়াকে ঘিরেই মূল বিতর্কের সূত্রপাত। মোহাম্মদ সালাহর পাস থেকে গোল করে মিসর যখন এগিয়ে যাওয়ার পথে ছিল, তখন ভিএআরের পরামর্শে রেফারি মাঠের মনিটরে গিয়ে আগের আক্রমণটি পর্যালোচনা করেন। পরে তিনি গোলটি বাতিল করে দেন।

পর্যালোচনায় দেখা যায়, গোলের ঠিক আগে মিসরের ডিফেন্ডার মারওয়ান আত্তিয়া আর্জেন্টিনার লিসান্দ্রো মার্তিনেজের জার্সি টানেন এবং পায়ে পা দিয়ে ফাউল করেন। ফুটবল আইনের ১২ নম্বর ধারা অনুযায়ী, প্রতিপক্ষকে জার্সি ধরে টানা বা পায়ে আঘাত করা ফাউল হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। যেহেতু ওই ফাউলের ধারাবাহিক আক্রমণ থেকেই গোলটি হয়েছিল, তাই ভিএআর প্রটোকল অনুযায়ী গোল বাতিলের সুযোগ ছিল।

আইএফএবি ও ফিফার ভিএআর নীতিমালা অনুযায়ী, গোলের আগে আক্রমণকারী দলের কোনো ফাউল, হ্যান্ডবল বা অফসাইড থাকলে সেটি পর্যালোচনা করা যায়। অ্যান্ডি ডেভিসের মতে, আত্তিয়ার চ্যালেঞ্জটি স্পষ্ট ফাউল হওয়ায় রেফারির পক্ষে গোল বহাল রাখা সম্ভব ছিল না।

অন্যদিকে, ম্যাচের শেষ দিকে আর্জেন্টিনার পেনাল্টি বক্সে দুটি ঘটনায় পেনাল্টির দাবি তোলে মিসর। প্রথম ঘটনায় আর্জেন্টিনার আলেক্সিস ম্যাক আলিস্টারের বিরুদ্ধে হামদি ফাতির জার্সি টানার অভিযোগ ওঠে। দ্বিতীয় ঘটনায় মোহাম্মদ সালাহ জুলিয়ান আলভারেজের চ্যালেঞ্জে পড়ে গিয়ে পেনাল্টির আবেদন করেন।

ভিএআর দুটি ঘটনাই পর্যালোচনা করে মাঠের রেফারির সিদ্ধান্ত বহাল রাখে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ম্যাক আলিস্টারের ঘটনায় জার্সি ধরার ঘটনা থাকলেও তা ছিল খুব অল্প সময়ের এবং ফাতির খেলা বা আক্রমণে অংশ নেওয়ার ক্ষেত্রে বড় প্রভাব ফেলেনি। আর সালাহর ঘটনায় আলভারেজের পক্ষ থেকে স্পষ্ট ফাউলের প্রমাণ পাওয়া যায়নি; ঘটনাটি ছিল স্বাভাবিক শারীরিক সংস্পর্শের অংশ।

বিশ্লেষকদের মতে, মিসরের বাতিল হওয়া গোল এবং পেনাল্টির দাবির ঘটনাগুলোর মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। আত্তিয়ার ঘটনায় স্পষ্ট ফাউলের প্রমাণ থাকলেও সালাহর ঘটনায় তেমন কোনো অপরাধ দেখা যায়নি।

তবে প্রযুক্তিগতভাবে ভিএআর ও রেফারির সিদ্ধান্ত নিয়মসম্মত হলেও মিসরীয় শিবির ও অনেক সমর্থকের কাছে বিষয়টি এখনো বিতর্কিত। মাঠের আবেগ, গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত এবং বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে এমন সিদ্ধান্তগুলো স্বাভাবিকভাবেই আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

পাপ্পু/রিফাত/

আর্জেন্টিনার জয়ের মানসিকতা ও নেইমারকে পারেদেসের বার্তা

প্রকাশ: ০৮ জুলাই ২০২৬, ০২:৫৭ পিএম
আর্জেন্টিনার জয়ের মানসিকতা ও নেইমারকে পারেদেসের বার্তা
ছবি: সংগৃহীত

চলমান ২০২৬ বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচে নাটকীয়ভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে মিসরকে ৩-২ গোলে হারিয়েছে আর্জেন্টিনা। ম্যাচের একপর্যায়ে মিসরের দুই গোলে পিছিয়ে পড়ার পর, মাত্র ১৩ মিনিটের ব্যবধানে ৩টি গোল করে কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করে আলবিসেলেস্তেরা।

এই জয়ের পর আর্জেন্টিনার অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার লিয়েন্দ্রো পারেডদস ম্যাচটির কঠিন মুহূর্ত এবং দলের লড়াকু মানসিকতা নিয়ে কথা বলেন। 'কাজেটিভি'- কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘এটি একটি অসাধারণ অনুভূতি। এত কঠিন একটি ম্যাচের পর যেভাবে আমরা জয় ছিনিয়ে এনেছি, তা দলের সবার জন্য দারুণ ফলপ্রসূ।’

বর্তমানে বোকা জুনিয়র্সের হয়ে খেলা এই ফুটবলার আরও বলেন, ‘আমরা সবসময় নিজেদের সেরাটা দিয়ে লড়াই করার চেষ্টা করি, এটাই আমাদের জয়ের মানসিকতা। আমরা এমন একটি দল যা সবসময় আরও বেশি কিছু অর্জন করতে চায়, লড়াই করতে চায় এবং জিততে চায়। বেশ দীর্ঘ সময় ধরেই আমরা মাঠে এর প্রমাণ দিয়ে আসছি।’

নেইমারকে বিশেষ বার্তা
ব্রাজিল জাতীয় দলের আকস্মিক বিদায় নিয়েও কথা বলেন প্যারেডেস। শেষ ১৬ এর ম্যাচে আর্লিং হালান্ডের জোড়া গোলে নরওয়ের কাছে ২-১ গোলে হেরে বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে যায় ব্রাজিল। পিএসজিতে নেইমারের সাবেক সতীর্থ পারেদেস এই ব্রাজিলীয় তারকার উদ্দেশ্যে একটি বার্তা দেন। 

নেইমারকে নিয়ে এই আর্জেন্টাইন তারকা বলেন, ‘গতকালও আমি নেইমারকে নিয়ে কথা বলেছি। সবাই জানে তার প্রতি আমার গভীর ভালোবাসা রয়েছে। আমি তাকে ভীষণ শ্রদ্ধা করি, সে আমার খুব ভালো বন্ধু। ব্রাজিলের এই ফলাফলে আমি মোটেও খুশি হতে পারিনি, তবে এটাই ফুটবল। যাই ঘটুক না কেন, সে সবসময় আমাদের বন্ধুই থাকবে।’

পাপ্পু/রিফাত/

আর্জেন্টিনা ম্যাচে রেফারিং নিয়ে ফিফায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করল মিসর

প্রকাশ: ০৮ জুলাই ২০২৬, ০১:৪৫ পিএম
আর্জেন্টিনা ম্যাচে রেফারিং নিয়ে ফিফায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করল মিসর
ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে রেফারিং নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে ফিফার কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দিয়েছে মিসর। আর্জেন্টিনার কাছে ৩-২ গোলে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায়ের পর ম্যাচের বিতর্কিত সিদ্ধান্তগুলোর তদন্ত দাবি করেছে মিসরীয় ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন।

মিসরের কোচ হোসাম হাসান ম্যাচ শেষে রেফারিং নিয়ে কঠোর সমালোচনা করার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ফিফার কাছে অভিযোগ জমা দেওয়া হয়। সংবাদ সম্মেলনে তিনি ম্যাচের ফল নিয়ে প্রশ্ন তুলে একে ‘পাতানো’ বলেও মন্তব্য করেন। পাশাপাশি ফরাসি রেফারির ওপর আর্জেন্টিনার পক্ষ থেকে আগে থেকেই চাপ প্রয়োগ করা হয়েছিল বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

মিসরীয় ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি হেনি আবু রিদা ফিফার কাছে রেফারি ফ্রাঁসোয়া ল্যাতেক্সিয়ে এবং তার সহকারী প্যানেলকে বিশ্বকাপের বাকি ম্যাচ পরিচালনা থেকে বিরত রাখার অনুরোধ জানিয়েছেন। মিসরের দাবি, রেফারির কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তই ম্যাচের ফল নির্ধারণে বড় ভূমিকা রেখেছে।

মিসরের পক্ষ থেকে বিশেষভাবে দুটি সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। এর মধ্যে প্রথমটি হলো, ভিএআর পর্যালোচনার পর আগের একটি ফাউলের কারণে মিসরের একটি গোল বাতিল করা। দ্বিতীয়টি হলো, আর্জেন্টিনার জয়সূচক তৃতীয় গোলের আগে সংঘটিত সম্ভাব্য ফাউল নিয়ে ভিএআরের হস্তক্ষেপ না করা।

তবে মিসরের অভিযোগের বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বা আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি ফিফা।