২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ আর্জেন্টিনা এবং লিওনেল মেসির পক্ষে পাতানো হয়েছে—মিশরের এমন বিস্ফোরক দাবিতে ফুটবল বিশ্বে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর এক রোমাঞ্চকর ম্যাচে ০-২ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়েও মিশরকে ৩-২ গোলে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা।
প্রথমার্ধে লিওনেল মেসির একটি পেনাল্টি মিস হলেও, আলবিসেলেস্তেদের এই অবিশ্বাস্য জয়ে তিনি ছিলেন অন্যতম মূল কারিগর। তবে আর্জেন্টিনার এই কামব্যাকের ধরন নিয়েই প্রশ্ন তুলেছে মিশর শিবির। তাদের দাবি, বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ও তাদের অধিনায়ক লিওনেল মেসিকে সুবিধা দিতে পুরো টুর্নামেন্টেই 'কারচুপি' করা হচ্ছে।
ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে মিশরের কোচ হোসাম হাসান অভিযোগ করেন, মাঠের বাইরের 'অদৃশ্য শক্তি' ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে দিয়েছে। তিনি সরাসরি দাবি করেন, ফিফা চায় মেসি যেন টুর্নামেন্টে দীর্ঘদিন টিকে থাকুক, আর সেই কারণেই মাঠের রেফারিদের সিদ্ধান্ত প্রভাবিত করা হয়েছে।
সাংবাদিকদের হোসাম হাসান বলেন, ’আমরা বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের চেয়ে সবদিক থেকে ভালো খেলেছি। কিন্তু মাঠের ভেতরের এবং মাঠের বাইরের কিছু প্রভাব ম্যাচের ফলাফল বদলে দিয়েছে।’
তিনি আরও যোগ করেন, ’সম্ভবত তারা বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের টুর্নামেন্টে টিকিয়ে রাখতে চেয়েছিল। হয়তো তারা চেয়েছিল মেসি যেন রেসে থাকে। ফুটবলে মাঝেমধ্যে কিছু বাইরের প্রভাব চলে আসে যা কৌশলগত খেলার ঊর্ধ্বে। বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা সব স্তর থেকেই সাহায্য পেয়েছে।’
মিশরীয় কোচের অভিযোগ, ম্যাচের ফলাফলের ওপর আর্জেন্টিনার একটা প্রচ্ছন্ন চাপ ছিল। আর্জেন্টিনার পেনাল্টি বক্সের ভেতর মোহাম্মদ সালাহকে ফাউল করার পরও পেনাল্টি না দেওয়া এবং ভিএআর পরীক্ষা না করাসহ বেশ কয়েকটি ঘটনার দিকে আঙুল তোলেন তিনি। এছাড়া মিশরের একটি গোলও বাতিল করা হয়।
ক্ষোভ প্রকাশ করে হাসান বলেন, ’আমরা কোনো সম্মান বা ফেয়ার প্লে দেখিনি। আমাদের একটি নিশ্চিত পেনাল্টি (সালাহকে ফাউল) দেওয়া হয়নি, এমনকি ভিএআর-এ তা চেক পর্যন্ত করা হয়নি। অন্যদিকে আমাদের দ্বিতীয় গোলটি কী কারণে বাতিল করা হলো তা আমাদের বোধগম্য নয়। আমরা সবাই দেখেছি ম্যাক অ্যালিস্টার আমাদের খেলোয়াড়ের জার্সি টেনে ধরেছিলেন, অথচ ভিএআর রেফারি নীরব ছিলেন। সাধারণ জীবনই যখন অন্যায্য, তখন খেলাধুলার মাঝে কেন আমরা ইনসাফ পাব?’
ম্যাচ শেষে বিইন স্পোর্টসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মিশরের কোচ জানান, তিনি রেফারিকে অন্যায্য সিদ্ধান্তের ব্যাপারে সরাসরি চ্যালেঞ্জ করেছিলেন। তিনি বলেন, ’আমি রেফারিকে বলেছি যা হচ্ছে তা মোটেও ঠিক নয়। আর্জেন্টিনার এই জয় কোনোভাবেই প্রাপ্য ছিল না। দেশে ফিরে আমি আর কখনো বিশ্বকাপ দেখব না, কারণ এই প্রতিযোগিতায় কোনো ন্যায়বিচার নেই।’
মিশরীয় কোচের এই কঠোর ও বিতর্কিত মন্তব্যের পর বিশ্ব ফুটবল অঙ্গনে তোলপাড় চলছে। ধারণা করা হচ্ছে, ফিফা এই বিষয়ে দ্রুতই একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেবে এবং কোচ হোসাম হাসানসহ মিশর শিবিরের ওপর বড় ধরনের শাস্তির কোপ পড়তে পারে।
আজহার/