ঢাকা ২৪ আষাঢ় ১৪৩৩, বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
পাহাড় উজাড় ও বিরূপ আবহাওয়ায় সংকটে আলীকদমের মৌচাষিরা ভারী বর্ষণে চবির সব ক্লাস-পরীক্ষা স্থগিত দেশের সব সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত বাহুবলে দুই যাত্রীবাহী বাসের সংঘর্ষে চালক নিহত, আহত ২০ মিসরের গোল বাতিলে যা বললেন সাবেক রেফারি মানবপাচার রোধে বাংলাদেশ-ভিয়েতনাম স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ে বৈঠক ভিএআর সমালোচনায় সাবেক ফুটবলার, কোচ ও বিশ্লেষক পাকিস্তানের কার্গো বিমান নিখোঁজ খুলনায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ২ ইতালিতে সড়ক দুর্ঘটনায় মাদারীপুরের যুবকের মৃত্যু টুয়েলভ ক্লদিংয়ে চলছে ইনস্ট্যান্ট ভাউচার হুমকিতে সিরিয়া, ম্যাক্রোঁর দামেস্ক সফরকালীন হামলার নেপথ্যে কারা? ইরানে নতুন করে হামলা জরুরি ছিল: ন্যাটোপ্রধান মিসরীয় কোচের ফিফার বর্ণবাদ-বিরোধী অঙ্গভঙ্গি ভারতে পাচারের শিকারদের জন্য বেনাপোলে চালু হলো হাফওয়ে শেল্টার হোম মেসির পেনাল্টি আটকে দেওয়া কে এই গোলরক্ষক? ৮ জুলাই মুদ্রা বাজার: বেড়েছে কানাডিয়ান ডলার, ইন্ডিয়ান রুপির দাম কুমিল্লায় আর্জেন্টিনা-মিশর ম্যাচ নিয়ে সংঘর্ষ, ব্রাজিল সমর্থক নিহত বিশ্বকাপ বিতর্ক: কে এই ফরাসি রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেটেক্সিয়ার? দিনাজপুরে স্বামীর শাবলের আঘাতে স্ত্রীর মৃত্যু, স্বামী আটক মার্কিন-ইরান সংঘাতে আফ্রিকার ভূ-রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সমীকরণে পরিবর্তনের হাওয়া পূর্বাচল প্রবাসী পল্লী আবাসন প্রকল্পে শতাধিক গাছের চারা কর্তন, শাস্তি দাবি কাপ্তাই লেকের পানি বৃদ্ধি: বেড়েছে বিদ্যুৎ উৎপাদন রাঙামাটিতে বৃষ্টিপাতে জনজীবন বিপর্যস্ত, পাহাড়ধসের শংকা কোয়ার্টার ফাইনালের কার প্রতিপক্ষ কে? আইশোস্পিডকে বর্ণবাদী আচরণের অভিযোগ, তদন্তে ফিফা ভারতে সাজাভোগ শেষে ফেরত আসলেন ১০ বাংলাদেশি ভারী বর্ষণে ও জোয়ারের পানিতে প্লাবিত সেন্টমার্টিন যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাবে বাহরাইন ও কুয়েতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা মেহেরপুরে চুরি হওয়া প্রায় ৩০ লাখ টাকার স্বর্ণালঙ্কার উদ্ধার

মরক্কোর বিস্ময় উনাহির উত্থানের গল্প

প্রকাশ: ০৮ জুলাই ২০২৬, ০৭:০০ এএম
মরক্কোর বিস্ময় উনাহির উত্থানের গল্প
আজ্জেদিন উনাহি। ছবি: সংগৃহীত

‘তাদের ৮ নম্বর জার্সিধারীকে দেখে আমি সত্যিই আনন্দদায়কভাবে বিস্মিত হয়েছিলাম। হে ঈশ্বর, ছেলেটা কে?’, মরক্কোর কাছে টাইব্রেকারে হেরে স্পেন যখন ফিফা বিশ্বকাপ কাতার ২০২২ থেকে বিদায় নিয়েছিল, তখন কিছুটা বিস্মিত কণ্ঠেই প্রশ্ন করেছিলেন লুইস এনরিকে। যার কথা তিনি বলছিলেন, তিনি আর কেউ নন, মাত্র ২২ বছর বয়সী আজ্জেদিন উনাহি। তখন তিনি লিগ ওয়ানের ক্লাব অ্যাঞ্জার্সের হয়ে খেলতেন এবং ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চে অভিষেক হওয়া একজন তরুণ ফুটবলারের স্বাভাবিক নির্ভার আত্মবিশ্বাস নিয়েই খেলছিলেন।

এনরিকে আরও বলেছিলেন, ‘ম্যাচজুড়ে সে এক মুহূর্তের জন্যও দৌড়ানো থামায়নি। আমার মনে হয়, ম্যাচ শেষে তার দাঁড়িয়ে থাকার শক্তিও থাকার কথা নয়। সে অসাধারণ খেলেছে। মরক্কো সত্যিই ভাগ্যবান যে এমন একজন খেলোয়াড় তাদের দলে আছে।’ সাবেক স্পেন কোচই তার একমাত্র ভক্ত ছিলেন না। নতুন এই তারকার নিরলস দৌড়, কৌশলগত বুদ্ধিমত্তা এবং চোখধাঁধানো কারিগরি দক্ষতা সব মহল থেকেই প্রশংসা কুড়িয়েছিল।

২০১০ সালের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেনকে হারানোর পর মরক্কো আরও এক ধাপ ইতিহাস গড়ে কোয়ার্টার ফাইনালে পর্তুগালকে ১-০ গোলে হারায়। তবে সেমিফাইনালে ক্লিনিক্যাল ফ্রান্সের বিপক্ষে তাদের অভিযান থেমে যায়। ফ্রান্স ২-০ ব্যবধানে জিতে ফাইনালে ওঠে। চার বছর পর আবারও বিশ্বমঞ্চে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে ফ্রান্স ও মরক্কো। এবার বোস্টন স্টেডিয়ামে সেমিফাইনালে ওঠার লড়াই।

আফ্রিকান ফুটবলের অন্যতম শক্তিধর মরক্কো এখন নিয়মিতভাবেই বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করছে এবং তারা আবারও গৌরব ছুঁতে মুখিয়ে। তবে তিনবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার লক্ষ্য নিয়ে নামা ফ্রান্সকে হারাতে হলে মরক্কোর সবচেয়ে প্রভাবশালী মিডফিল্ডার উনাহিকে খেলতে হবে নিজের সেরা খেলাটা। উনাহির ক্যারিয়ারের শুরু থেকে তাকে দেখে আসা মরক্কো ফুটবল ফেডারেশনের টেকনিক্যাল ডিরেক্টর নাসের লারগুয়ে বলেন, ‘সত্যি বলতে, ২০২২ সালে সে যতটা ভালো খেলেছিল, আমি তাতে বিস্মিত হয়েছিলাম। কারণ অ্যাঞ্জার্সে খেলা আর বিশ্বের সেরা খেলোয়াড়দের বিপক্ষে খেলার মধ্যে বিশাল পার্থক্য রয়েছে, বিশেষ করে যখন আপনি তরুণ। তবে সবাই বুঝতে পেরেছিল, সে একজন অসাধারণ ফুটবলার।’

মোহাম্মদ ওয়াহবির অধীনে উনাহি এখন আগের চেয়ে আরও আক্রমণাত্মক ভূমিকায় খেলেন। ওয়ালিদ রেগরাগুইয়ের সময় যেখানে তিনি রক্ষণাত্মক মিডফিল্ডে খেলতেন, এখন তিনি প্রতিপক্ষের গোলের আরও কাছাকাছি অবস্থান নেন। সহ-আয়োজক কানাডাকে শেষ ষোলোতে ৩-০ গোলে হারানোর ম্যাচে প্রথম গোলটি করেছিলেন উনাহি। ফ্রি-কিকের পরিকল্পিত মুভ থেকে তিনি দুর্দান্ত এক শটে গোল করেন। পরে দ্রুতগতির পাল্টা আক্রমণ থেকে শক্তিশালী ফিনিশে নিজের জোড়া গোলও পূর্ণ করেন। ম্যাচ শেষে তার তরুণ মিডফিল্ড সতীর্থ সামির এল মুরাবেত বলেন, ক্যাসাব্লাঙ্কায় জন্ম নেওয়া এই পাসিং মাস্টার তার ক্যারিয়ারে সবচেয়ে বেশি প্রভাব বিস্তারকারী খেলোয়াড়দের একজন।

উনাহির বড় সমর্থকদের একজন লারগুয়ে মার্চে ওয়াহবি দায়িত্ব নেওয়ার পর জাতীয় দলে তার পরিবর্তন নিয়ে বলেন, ‘মাঠের ভেতরে তার গুণাবলি একই আছে। তবে গত চার বছরে অর্জিত পরিপক্বতা থেকে আসা আত্মবিশ্বাস এখন তার বড় শক্তি। ওয়াহবি তাকে আরও সামনে উঠে প্রতিপক্ষের গোলের কাছাকাছি যাওয়ার স্বাধীনতা দিয়েছেন। ২০২২ সালে সে রক্ষণ ও আক্রমণের মধ্যে সংযোগ তৈরি করত এবং অ্যাসিস্ট দিত। আর এখন সে নিজেই গোল করছে।’

চার বছর আগে বিশ্বকে নিজের পরিচয় দেওয়ার পর থেকে ক্লাব ক্যারিয়ারে উনাহির পথচলা খুব একটা মসৃণ ছিল না। কাতারে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পুরস্কার হিসেবে ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে তিনি মার্সেইয়ে যোগ দেন। কিন্তু লিগ ওয়ানের শক্তিশালী এই ক্লাবে নিয়মিত খেলার সুযোগ পাননি। ফলে পরের বছরের সেপ্টেম্বরে তাকে ধারে পাঠানো হয় গ্রিসের ঐতিহ্যবাহী ক্লাব পানাথিনাইকোসে। গত আগস্টে তিনি নতুন ঠিকানা খুঁজে স্পেনের ক্লাব জিরোনার সঙ্গে স্থায়ী চুক্তি করেন। যদিও গত মৌসুমে ক্লাবটি স্পেনের দ্বিতীয় বিভাগে নেমে গেছে।

ক্লাব পর্যায়ে নানা উত্থান-পতন থাকলেও জাতীয় দলে তিনি নিয়মিত মুখ। ২০২৩ ও ২০২৫ সালের আফ্রিকা কাপ অব নেশন্সেও তিনি মরক্কোর গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলেন। লারগুয়ের কথায়, ‘দেশের হয়ে খেললে তার জার্সির প্রতি ভালোবাসা স্পষ্ট বোঝা যায়। দলে জায়গার জন্য তীব্র প্রতিযোগিতাও তাকে আরও ভালো খেলতে সাহায্য করে। সে এমন একজন খেলোয়াড়, যার ভালোবাসা দরকার এবং যার প্রাপ্য দায়িত্ব তাকে দিতে হয়। আমার একমাত্র আফসোস, ক্লাবগুলো সব সময় তার ওপর পুরোপুরি আস্থা রাখেনি।’

ফ্রান্সকে হারিয়ে এবারও ইতিহাস গড়ার স্বপ্ন দেখছে আটলাস লায়ন্স। সে লক্ষ্য পূরণে তাদের ভরসা থাকবে সেই মিডফিল্ড পরিচালক উনাহির ওপর। ম্যাচের গতি নিয়ন্ত্রণ করা, আক্রমণ সাজানো এবং ফরোয়ার্ডদের জন্য সুযোগ তৈরি করার দায়িত্ব থাকবে তার কাঁধে। সাবেক অ্যাঞ্জার্স তারকা বরাবরই বড় ম্যাচের খেলোয়াড়। চার বছর আগে দিদিয়ের দেশমের ফ্রান্সের বিপক্ষে হারের ম্যাচেও তিনি ছিলেন মরক্কোর অন্যতম সেরা পারফর্মার।

লারগুয়ে স্মৃতিচারণ করে বলেন, ‘ওর বয়স যখন মাত্র ১০ বা ১২ বছর, তখনই ক্যাসাব্লাঙ্কায় আমরা তাকে প্রথম দেখি। ওই বয়সেই নিজেদের এলাকায় আয়োজিত টুর্নামেন্টে ছোটরা বড়দের বিপক্ষে খেলত। সেসব ম্যাচে খেলতে খেলতেই সে পরিণত হয়েছে এবং নিজের ওপর বিশ্বাস তৈরি করেছে। নিজের সামর্থ্য সম্পর্কে তার বাস্তবসম্মত আত্মবিশ্বাস রয়েছে। সে প্রয়োজনের সময় নিজের পারফরম্যান্স আরও উঁচুতে নিতে পারে, কিন্তু কখনো বাড়াবাড়ি করে না।’

এখন পিএসজির কোচ লুইস এনরিকে নিশ্চয়ই বোস্টনের ম্যাচটির দিকে গভীর নজর রাখবেন। তবে এবার আর তাকে বা অন্য কাউকেই মরক্কোর ৮ নম্বর জার্সিধারী কে, সেই প্রশ্ন করতে হবে না।

মিসরের গোল বাতিলে যা বললেন সাবেক রেফারি

প্রকাশ: ০৮ জুলাই ২০২৬, ১২:২৬ পিএম
আপডেট: ০৮ জুলাই ২০২৬, ১২:৩৫ পিএম
মিসরের গোল বাতিলে যা বললেন সাবেক রেফারি
ছবি: সংগৃহীত

মিসর ও আর্জেন্টিনার ম্যাচে বিতর্কিত ভিএআর সিদ্ধান্ত নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছেন সাবেক বিশ্বকাপ রেফারি ফার্নান্দো গুয়েরেরো। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপের ফাইনালে ভিএআর দলের সদস্য থাকা এই মেক্সিকান রেফারি দাবি করেছেন, ঘটনাটিতে মাঠের রেফারি ও ভিএআর-দুই পক্ষের সিদ্ধান্তেই ভুল ছিল।

নিজের এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক বিশ্লেষণে গুয়েরেরো বলেন, আর্জেন্টিনার ডিফেন্ডারের বিরুদ্ধে যে ফাউলের অভিযোগে মিসরের গোলের মুহূর্তটি পর্যালোচনা করা হয়েছে, সেখানে আসলে কোনো ফাউলই ছিল না।

তিনি আরও ব্যাখ্যা করেন, ধরেও নেওয়া হয় যে সেখানে ফাউল হয়েছিল, তবুও ভিএআর প্রোটোকল অনুযায়ী ওই আক্রমণ পর্যালোচনার আওতায় পড়ার কথা নয়। কারণ ‘অ্যাটাকিং পজিশন ফেজ’ তৈরির পর্যায়ের নিয়ম অনুযায়ী, গোলের আগে আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়দের কাছে বল পুনরুদ্ধারের যথেষ্ট সুযোগ ছিল।

গুয়েরোর মতে, ওই সময়ে আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়দের সামনে পর্যাপ্ত জায়গা, সময় এবং প্রতিপক্ষকে থামানোর সুযোগ ছিল। এমনকি বল ফিরে পাওয়ার জন্য তারা একাধিকবার সুযোগও পেয়েছিল। তাই ঘটনাটিকে গোলের বৈধতা বাতিলের মতো পরিষ্কার ভিএআর হস্তক্ষেপের বিষয় হিসেবে বিবেচনা করা ঠিক হয়নি।

সাবেক এই বিশ্বকাপ রেফারির মন্তব্য অনুযায়ী, ভিএআর ব্যবহারের মূল উদ্দেশ্য হলো স্পষ্ট ও গুরুতর ভুল সংশোধন করা। কিন্তু যেখানে বল হারানো দল পুনরায় বল দখলে নেওয়ার বাস্তব সুযোগ পায়, সেখানে আগের ঘটনাকে টেনে এনে গোল বাতিল করা ভিএআর নীতিমালার সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে।সূত্র: আহরাম অনলাইন

পাপ্পু/রিফাত/

ভিএআর সমালোচনায় সাবেক ফুটবলার, কোচ ও বিশ্লেষক

প্রকাশ: ০৮ জুলাই ২০২৬, ১২:১৯ পিএম
ভিএআর সমালোচনায় সাবেক ফুটবলার, কোচ ও বিশ্লেষক
ছবি: সংগৃহীত

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের শেষ-১৬ এর আর্জেন্টিনা-মিসর ম্যাচে ভিএআর ব্যবহারের ধারাবাহিকতা নিয়ে আন্তর্জাতিক ফুটবল অঙ্গনে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। খেলার নিয়মের প্রযুক্তিগত ব্যাখ্যা নিয়ে ভিন্নমত থাকলেও, ভিএআর-এর অসঙ্গতিপূর্ণ প্রয়োগই ম্যাচের ফলাফলে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলেছে বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন গণমাধ্যমে মত দিয়েছেন একাধিক সাবেক ফুটবলার, কোচ ও বিশ্লেষক।

ইংল্যান্ডের সাবেক স্ট্রাইকার অ্যালান শিয়ারার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) লিখেছেন, ‘হয় দুটিই ফাউল ছিল, না হয় কোনোটিই নয়। কিন্তু আমাদের তো বলা হয়েছিল তারা বারবার রি-রেফারিং করবে না।’ তার মন্তব্যে একই ধরনের দুটি ঘটনার ক্ষেত্রে ভিন্ন সিদ্ধান্ত নেওয়ার বিষয়টি প্রশ্নবিদ্ধ করা হয়েছে।

রিয়াল মাদ্রিদের কোচ জোসে মরিনহো রেফারিংকে ‘দিনের আলোতে ডাকাতি’ বলে আখ্যায়িত করেন। তার অভিযোগ, আর্জেন্টিনার ক্ষেত্রে প্রতিটি ঘটনা খতিয়ে দেখা হলেও মিসরের বেলায় একই মানদণ্ড অনুসরণ করা হয়নি।

মরিনহো বলেন, ‘এই আর্জেন্টিনা দলের বিরুদ্ধে যখন আপনি ২-০ গোলে এগিয়ে থাকবেন, তখনও তা যথেষ্ট নয়। কারণ মাঠে আপনি শুধু ১১ জন খেলোয়াড়ের বিরুদ্ধে খেলছেন না। আপনাকে লড়তে হচ্ছে রেফারির বাঁশি, ভিএআর রুম এবং টুর্নামেন্টের পুরো স্ক্রিপ্টের বিরুদ্ধে।’

দাবার গ্র্যান্ডমাস্টার ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক গ্যারি কাসপারভও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান। তিনি লেখেন, ‘অনেক দূরের এক ফাউলের অজুহাতে মিসরের অবিশ্বাস্য গোলটি বাতিল করা হলো, অথচ ঠিক তার কয়েক মিনিট পর একই রকম পরিস্থিতিতে আর্জেন্টিনার গোলটি বাতিল করা হলো না।’ ফিফাকে ‘দুর্নীতিগ্রস্ত তামাশা’ আখ্যা দিয়ে তিনি অভিযোগ করেন, সংস্থাটি তাদের সবচেয়ে বড় তারকাদের সুবিধা করে দিচ্ছে।

এদিকে, বিবিসির ফুটবল সংবাদদাতা ডেল জনসন বলেন, মিসরের গোল বাতিলের সিদ্ধান্তটি ‘এই টুর্নামেন্টে যেভাবে রেফারিং করা হয়েছে তার সম্পূর্ণ পরিপন্থী।’ তার মতে, পুরো ম্যাচে হালকা শারীরিক সংঘর্ষকে উপেক্ষা করা হলেও একটি সাধারণ জার্সি টানার ঘটনাকে কেন্দ্র করে গোল বাতিলের সিদ্ধান্ত গ্রহণে ধারাবাহিকতার অভাব স্পষ্ট হয়েছে।

ইংল্যান্ড ও আর্সেনালের সাবেক স্ট্রাইকার ইয়ান রাইটও মিসরের হতাশার প্রতি সমর্থন জানিয়ে বলেন, দলের ক্ষুব্ধ হওয়ার ‘শতভাগ অধিকার রয়েছে’ এবং ম্যাচের শেষ মুহূর্তে নেওয়া বিতর্কিত সিদ্ধান্তগুলো মেনে নেওয়া সত্যিই কঠিন।

তবে ম্যাচের বিতর্কিত সিদ্ধান্ত এবং ভিএআর ব্যবহারের সমালোচনা নিয়ে ফিফার পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।

পাপ্পু/রিফাত/

মিসরীয় কোচের ফিফার বর্ণবাদ-বিরোধী অঙ্গভঙ্গি

প্রকাশ: ০৮ জুলাই ২০২৬, ১১:৫৯ এএম
মিসরীয় কোচের ফিফার বর্ণবাদ-বিরোধী অঙ্গভঙ্গি
ছবি: সংগৃহীত

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের শেষ-১৬ পর্বে নাটকীয় প্রত্যাবর্তনে মিসরকে ৩-২ গোলে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করেছে আর্জেন্টিনা। ম্যাচের ৭৯ মিনিট পর্যন্ত ২-০ গোলে পিছিয়ে থাকা আলবিসেলেস্তেরা শেষ মুহূর্তে টানা তিন গোল করে অবিশ্বাস্য জয় তুলে নেয়।

তবে ম্যাচের শেষ দিকে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে মাঠে। পরাজয় মেনে নিতে না পেরে মিসরের খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফের মধ্যে ক্ষোভ দেখা যায়। এ সময় সাইডলাইনের কাছে আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসির সঙ্গে মিসরের প্রধান কোচ হোসাম হাসানের বাকবিতণ্ডার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

ভিডিওতে দেখা যায়, তর্কের একপর্যায়ে হাসান ফিফার নির্ধারিত বর্ণবাদ-বিরোধী অঙ্গভঙ্গি প্রদর্শন করেন। ঘটনাটি মুহূর্তেই আলোচনার জন্ম দেয়। এ সময় মেসিকে কিছুটা বিস্মিত ও থমকে যেতে দেখা যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দ্রুত হস্তক্ষেপ করেন ম্যাচ কর্মকর্তারা। পরে আর্জেন্টিনার কয়েকজন খেলোয়াড় মেসিকে সেখান থেকে সরিয়ে নিয়ে গিয়ে খেলা স্বাভাবিক করতে সহায়তা করেন।

ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে স্পষ্ট ক্ষোভ প্রকাশ করেন হোসাম হাসান। তিনি দাবি করেন, তার দলের সঙ্গে অন্যায় করা হয়েছে।

হাসান বলেন, ‘আর্জেন্টিনার এই জয় সম্পূর্ণ অন্যায্য। আমি আপনাদের কথা দিচ্ছি, আজ ফিরে গিয়ে আমি এই বিশ্বকাপের আর কোনো ম্যাচই দেখব না, কারণ এখানে কোনো ন্যায়বিচার নেই। আমার ব্যক্তিগত প্রতিবাদ হলো, আমি আর এই বিশ্বকাপ দেখবই না। দেশে ফিরে যাওয়ার পর আমি আর টিভি অন করব না।’

তিনি আরও বলেন, ‘হয়তো তারা বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের টুর্নামেন্টে টিকিয়ে রাখতে চেয়েছিল। হয়তো তারা চেয়েছিল মেসি যেন রেসে টিকে থাকে। ফুটবলে মাঝে মাঝে এমন কিছু বাহ্যিক প্রভাব কাজ করে, যা টেকনিক্যাল বা কৌশলগত বিষয়ের ঊর্ধ্বে। বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা সব মহল থেকেই সমর্থন পেয়েছে।’

বক্তব্যের শেষাংশে হাসান বলেন, ‘আমি সুন্দর ভাষায় বলতে পারতাম যে আমাদের ভাগ্য খারাপ ছিল। কিন্তু সত্য এটাই যে আমাদের সঙ্গে অন্যায় করা হয়েছে এবং এটি চরম অবিচার।’

মেসির পেনাল্টি আটকে দেওয়া কে এই গোলরক্ষক?

প্রকাশ: ০৮ জুলাই ২০২৬, ১১:৫৪ এএম
আপডেট: ০৮ জুলাই ২০২৬, ১২:০২ পিএম
মেসির পেনাল্টি আটকে দেওয়া কে এই গোলরক্ষক?
ছবি: সংগৃহীত

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে আটলান্টায় শেষ-১৬ এর ম্যাচে লিওনেল মেসির পেনাল্টি রুখে দিয়ে ফুটবল বিশ্বে হইচই ফেলে দিয়েছেন মিশরের গোলরক্ষক মোস্তফা শোবের। বাম দিকে ঝাঁপিয়ে পড়ে মেসির শটটি প্রতিহত করেন তিনি। চলমান বিশ্বকাপে এটি মেসির মিস করা দ্বিতীয় পেনাল্টি।

চলতি বিশ্বকাপে এটি শোবেরের দ্বিতীয় পেনাল্টি সেভ। এর আগে গ্রুপ পর্বে ইরানের মেহেদি তারেমির একটি স্পট কিকও দারুণ দক্ষতায় আটকে দিয়েছিলেন তিনি। এর মাধ্যমে বিশ্বকাপের একটি একক আসরে দুটি পেনাল্টি ঠেকানো ইতিহাসের চতুর্থ এবং প্রথম আফ্রিকান গোলরক্ষক হিসেবে অনন্য এক রেকর্ড গড়লেন শোবের।

তবে কেবল পেনাল্টি সেভই নয়, পুরো ম্যাচ জুড়েই বীরত্ব দেখিয়েছেন এই মিশরীয় দেয়াল। প্রথমার্ধে আলেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার এবং আলভারেজের অত্যন্ত কাছ থেকে নেওয়া দুটি নিশ্চিত গোলের শট রুখে দিয়ে মিসরকে ম্যাচে টিকিয়ে রাখেন তিনি।

ক্লাব ও আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার:

২৬ বছর বয়সী মোস্তফা শোবের ২০২০ সাল থেকে মিসরের ক্লাব আল আহলির হয়ে খেলছেন এবং ক্লাবটির হয়ে ইতিমধ্যে ৬৩টি ম্যাচে মাঠে নেমেছেন। অন্যদিকে জাতীয় দলের জার্সি গায়ে এখন পর্যন্ত ১৪টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছেন তিনি।

পারিবারিক ঐতিহ্য:

ফুটবল মোস্তফা শোবেরের রক্তেই রয়েছে। তিনি মিশরের কিংবদন্তি গোলরক্ষক আহমেদ শোবেরের ছেলে, যিনি ১৯৯০ সালের বিশ্বকাপে মিসরের হয়ে খেলেছিলেন। সেবার গ্রুপ পর্বে নেদারল্যান্ডস এবং আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে মিশরের দুটি গুরুত্বপূর্ণ ড্রয়ের পেছনে আহমেদ শোবেরের অনবদ্য অবদান ছিল। বাবার সেই গৌরবময় উত্তরাধিকার এবার যেন আরও বড় মঞ্চে টেনে নিলেন ছেলে মোস্তফা শোবের।

পাপ্পু/রিফাত/

কুমিল্লায় আর্জেন্টিনা-মিশর ম্যাচ নিয়ে সংঘর্ষ, ব্রাজিল সমর্থক নিহত

প্রকাশ: ০৮ জুলাই ২০২৬, ১১:৪৮ এএম
আপডেট: ০৮ জুলাই ২০২৬, ১১:৫৯ এএম
কুমিল্লায় আর্জেন্টিনা-মিশর ম্যাচ নিয়ে সংঘর্ষ, ব্রাজিল সমর্থক নিহত
ছবি: সংগৃহীত

কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলায় ফুটবল খেলা নিয়ে ট্রল করাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষে এক ব্রাজিল সমর্থক নিহত হয়েছেন।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) রাত সাড়ে ১০টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত ব্যক্তি মো. শরিফুল ইসলাম (৩২) নীলফামারী জেলার জলঢাকা উপজেলার উত্তর চেরাংগা গ্রামের বাসিন্দা। তার বাবার নাম মো. মতিউর রহমান। শরীফ কুমিল্লা নগরীর ২৩নং ওয়ার্ডের মঠপুস্করনী এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। 

কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানার আওতাধীন ক্যান্টনমেন্ট পুলিশ ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক (এসআই) শংকর কান্তি দাস জানান, মঙ্গলবার (৭ জুলাই) রাতে আর্জেন্টিনা–মিশরের ফুটবল ম্যাচ চলাকালে আর্জেন্টিনা প্রথম গোল হজম করার পর ব্রাজিল সমর্থক শরিফুল ইসলাম উল্লাস প্রকাশ করেনন। আর্জেন্টিনা সমর্থকদের উদ্দেশ্যে করে ট্রল ও কটাক্ষ করেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে কয়েকজন আর্জেন্টিনা সমর্থক শরিফুলের ওপর হামলা চালিয়ে তাকে মারধর করেন।

মারধরের একপর্যায়ে শরিফুল গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে স্থানীয়রা তাকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে দায়িত্বরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল আনোয়ার বলেন, খেলা নিয়ে বাগবিতণ্ডার একপর্যায়ে মারামারির ঘটনা ঘটে। এতে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় সকাল পর্যন্ত নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও আটকের চেষ্টা চলছে।

জহির শান্ত/খাদিজা রুমি/