টানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে কক্সবাজারের চকরিয়া ও পেকুয়া উপজেলার বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। মাতামুহুরী নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। দুই উপজেলার অন্তত ৩০টি গ্রামের হাজার হাজার মানুষ এখন পানিবন্দি। এমন চরম বিপর্যয়ের মধ্যে চরম দুশ্চিন্তা ও উৎকণ্ঠায় পড়েছেন চলমান এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঢলের পানির তোড়ে পেকুয়া উপজেলার টৈটং ইউনিয়নে বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙে পড়েছে। এতে বিস্তীর্ণ পাহাড়ি ও গ্রামীণ এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। গতকাল সোমবার রাত থেকে বিদ্যুৎ না থাকায় মোমবাতি ও কুপির আলোয় কোনোমতে প্রস্তুতি নেওয়ার চেষ্টা করছেন পরীক্ষার্থীরা। তবে প্রতিকূল আবহাওয়া ও ভ্যাপসা গরমে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া অসম্ভব হয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছেন অনেকেই।
বিদ্যুৎহীনতার পাশাপাশি পরীক্ষার্থীদের বড় দুশ্চিন্তা হয়ে দাঁড়িয়েছে যাতায়াত ব্যবস্থা। চকরিয়া উপজেলার পূর্ব বড় ভেওলা ইউনিয়নের এইচএসসি পরীক্ষার্থী নিলুফা ইয়াসমিন বলেন, ‘চারদিকে শুধু পানি আর পানি। সড়কগুলো তলিয়ে গেছে। পরীক্ষা স্থগিত হবে কি না, তাও জানি না। এই অবস্থায় কাল কীভাবে পরীক্ষা কেন্দ্রে পৌঁছাব, তা ভেবেই বুক কাঁপছে।
পেকুয়ার উজানটিয়া এলাকার আরেক পরীক্ষার্থী সাজ্জাদ হোসেন জানান, অনেক কেন্দ্রের নিচতলায় পানি উঠে গেছে। কেন্দ্রের ভেতরে পানি ঢুকলে বসার জায়গাও থাকবে না। কর্তৃপক্ষ পরীক্ষা নেবে নাকি পেছাবে, তা দ্রুত পরিষ্কার করা দরকার।
আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, আগামী ২৪ ঘণ্টায় এই অঞ্চলে বৃষ্টিপাত কমার কোনো সম্ভাবনা নেই। ফলে নিম্নাঞ্চলের জলাবদ্ধতা আরও বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। পাহাড়ি ঢলের তোড় ও জলমগ্ন সড়কের কারণে পরীক্ষার্থীরা সময়মতো এবং নিরাপদে কেন্দ্রে পৌঁছাতে পারবেন কি না, তা নিয়ে অভিভাবকেরাও গভীর উদ্বেগের মধ্যে রয়েছেন।
পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা বন্যা উপদ্রুত এই অঞ্চলে দ্রুত পরীক্ষা স্থগিতের সিদ্ধান্ত অথবা বিশেষ ব্যবস্থাপনায় পরীক্ষা নেওয়ার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডের জরুরি ও স্পষ্ট নির্দেশনা দাবি করেছেন।
এসএন/