বরগুনার তালতলীতে জনসাধারণের সুবিধাকে তোয়াক্কা না করে ব্যক্তিগত স্বার্থে একটি দুর্যোগকালীন নিরাপদ আশ্রয়স্থল (সাইক্লোন সেল্টার কাম স্কুল) নির্মাণের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় প্রভাবশালী আশ্রাফ সরদারের বিরুদ্ধে। এ ছাড়াও স্কুলের জমির ভুয়া দলিল ও নামজারি তৈরি এবং শিক্ষা কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে খাস জমিতে ওয়াশ ব্লক নির্মাণেরও অভিযোগ রয়েছে।
সোমবার (৬ জুলাই) দুপুরে তালতলী প্রেসক্লাব হলরুমে এ ঘটনার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেন কড়ইবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের ইউপি সদস্য মো. রেদওয়ান সরদার।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে ইউপি সদস্য মো. রেদওয়ান সরদার বলেন, উপজেলার কড়ইবাড়িয়া ইউনিয়নের হেলেঞ্চাবাড়িয়া গ্রামে ৫১নং হেলেঞ্চাবাড়িয়া শের-ই-বাংলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবনটি ঝুকিপূর্ন হওয়ার কারণে নতুন ভবনের প্রস্তাব করা হয়। পরবর্তীতে ৭ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি আধুনিক সাইক্লোন সেল্টার কাম-স্কুল ভবন বরাদ্ধ দেওয়া হয়। কিন্তু জনসাধারণের সুবিধাকে তোয়াক্কা না করে জমিদাতা আশ্রাফ সরদার কেবল নিজের ব্যক্তিস্বার্থ ও সুবিধার জন্য আশ্রয়কেন্দ্রটি তার বাড়ির সীমানা ঘেঁষে স্থাপন করার পাঁয়তারা চালাচ্ছেন।
তিনি বলেন, সাধারণ মানুষের যাতায়াতের সুবিধার্থে সাইক্লোন সেল্টার কাম স্কুলটি গ্রামের লিংকরোড সংলগ্ন স্থানে স্থাপনের দাবি জানালেও বিষয়টি কর্তৃপক্ষ আমলে নেয়নি। এর আগে ১৭ লাখ ২৫ হাজার টাকা সরকারি ব্যয়ে বিদ্যালয়ে একটি ওয়াশ ব্লক নির্মাণ করা হয়। নিয়ম অনুযায়ী এটি স্কুলের নিজস্ব সীমানার ভেতরে নির্মাণ করার কথা থাকলেও, জমিদাতা প্রভাব খাটিয়ে স্কুলের সীমানার বাইরে সরকারি বন্দোবস্তকৃত খাস জমির ওপর নির্মাণ করেন।
তিনি আরও বলেন, স্কুলের নামে অর্পণকৃত জমির দলিলে ৭০ শতাংশ উল্লেখ থাকলেও নামজারি ৫টি দাগে দেখানো হয়েছে মাত্র ৪০ শতাংশ। এর মধ্যে ৩টি দাগের কোনো অস্তিত্ব দলিলে নেই এবং ইউনিয়ন ভূমি অফিসের বালামেও লিপিবদ্ধ নেই। তবে স্কুলের জমি বুঝে নেওয়ার দায়িত্ব প্রধান শিক্ষক ও পরিচালনা কমিটির হলেও সাধারণ সদস্যদের অন্ধকারে রেখে জমিদাতার পুত্রবধূ সুমি আক্তারকে সভাপতি বানিয়ে জমিদাতার চক্রান্ত অনুযায়ী সমস্ত কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন। তাই স্কুলে অর্পণকৃত ৭০ শতাংশ জমির আসল দলিল ও নামজারি সঠিকভাবে যাচাই-বাছাই করে জমি চিহ্নিত করার এবং জনগণের দুর্ভোগ লাঘবে গ্রাম লিংকরোড সংলগ্ন স্থানে আধুনিক সাইক্লোন সেল্টার কাম স্কুলটি নির্মাণের জোর দাবি জানানো হয়।
এ বিষয়ে তালতলী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আবুল বাশার বলেন, নতুন ভবন নির্মাণের জন্য ইতোমধ্যেই স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) মাধ্যমে স্থান নির্বাচন (সাইট সিলেকশন) ও মাটি পরীক্ষা (সয়েল টেস্ট) সম্পন্ন হয়েছে। এখন এলাকাবাসীর দাবি অনুযায়ী নতুন করে কাজ করতে গেলে পুরো প্রক্রিয়াটি আবারও শুরু করতে হবে। তারপরেও জনস্বার্থে এলাকাবাসীর দাবির বিষয়টি ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করা হবে।
তিনি আরও বলেন, বিদ্যালয়ের ওয়াশ ব্লকটি জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর নির্মাণ করেছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ অবগত আছেন। এছাড়া স্কুলের নামে অর্পণকৃত জমি বুঝে নেওয়ার জন্য দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও আশ্বস্ত করেন তিনি।
মহিউদ্দিন/হীরা